28/08/2026
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) নদীতে যেভাবে এসব নৌকা আয়োজন ও উৎসবের দৃশ্য দেখলাম, যার কারনে বিষয়টি তুলে ধরলাম।
আনন্দ-উৎসব মানুষের জীবনেরই একটি অংশ, তাই আয়োজনের বিপক্ষে আমি নই। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এই বিপুল অর্থের একটি অংশ যদি আমাদের সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করা হতো, তাহলে সেই আনন্দের অর্থ আরও বেশি মহৎ হয়ে উঠত।
আমাদের কুষ্টিয়া জেলায় এখনো অনেক মানুষ আছেন, যারা অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। কেউ অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না, কেউ দু'বেলা খাবারের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। আবার অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। কারও হয়তো একটি ছোট সহায়তাই তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে, কারও চিকিৎসার খরচ বহন করলে একটি জীবন বাঁচতে পারে।
তাই আমার মনে হয়, আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি যদি আমরা সমাজের এসব মানুষের কথাও একটু ভাবি, তাহলে আমাদের আয়োজনগুলো আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। কিছু অর্থ যদি অসহায় মানুষের চিকিৎসা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের খাদ্য বা কর্মসংস্থানের জন্য ব্যয় করা যায়—তাহলে সেই অর্থের সুফল অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে।
আমরা আনন্দ করব, উৎসব করব—এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের আনন্দের সঙ্গে যদি একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটে, একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চলতে থাকে কিংবা একজন অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পায়—তাহলে সেই আনন্দের মূল্য নিঃসন্দেহে আরও অনেক বেশি।
এটা কারও আয়োজনকে ছোট করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং আমাদের সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমার ব্যক্তিগত মতামত। ❤️