21/07/2026
খনার চিকিৎসা বচন (১ থেকে ২৯ পর্যন্ত)
“মাংসে মাংস বৃদ্ধি, ঘিতে বৃদ্ধি বল
দুধে বীর্য বৃদ্ধি, শাকে বৃদ্ধি মল”
অর্থ:
মাংস খেলে মাংস বাড়ে,
ঘি খেলে শরীরে বল আসে।
দুধ খেলে বীর্য বৃদ্ধি হয়,
আর শাক খেলে পেট পরিষ্কার থাকে।
খনার চিকিৎসা বচন (২)
“রসুনে রক্ত, আদায় গতি,
হলুদের গুণ ধরে না স্মৃতি।
তুলসী পাতায় কাশি যায়,
পেঁয়াজ খেলে যৌবন চায়।”
অর্থ:
রসুন রক্ত পরিষ্কার করে, আদা হজম বাড়ায়,
হলুদ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর, তুলসী কাশি সারায়।
পেঁয়াজ খেলে যৌনশক্তি বাড়ে।
খনার চিকিৎসা বচন (৩)
“কাঁচা আমে পেটের শান্তি,
পাকা আমে রসের ভাঁড়।
বেলের শাঁসে পেটের জাদু,
তেঁতুল খেলে মুখে ছাঁদ।”
অর্থ:
কাঁচা আম হজমে সহায়ক, পাকা আম শক্তি দেয়,
বেল পেট পরিষ্কার করে,
তেঁতুল মুখে স্বাদ বাড়ায়।
খনার চিকিৎসা বচন (৪)
“ধনে পাতা গরম কমায়,
পুদিনা মুখ ঠান্ডা চায়।
লেবুতে মল, কচুতে রক্ত,
এই সবজিতে জীবন শক্ত।”
অর্থ:
ধনে গরম কমায়, পুদিনা ঠান্ডা দেয়,
লেবু হজমে সহায়, কচু রক্ত বাড়ায়।
খনার চিকিৎসা বচন (৫)
“তেঁতুল দিলে মুখে রস,
পাকা কলায় চলে গস।
নিম পাতা করে শোধন,
তুলসী পাতায় হয় রোগ ক্ষয়ন।”
অর্থ:
তেঁতুল মুখে টক-মিষ্টি স্বাদ আনে,
পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
নিম পাতা রক্ত পরিশোধ করে,
তুলসী রোগ প্রতিরোধে সহায়।
খনার চিকিৎসা বচন (৬)
“আদায় গরম, রসুনে বল,
মেথি খেলে কমে কল।
চিরতা জলে পিত্ত ধোয়,
তেতো কাহার কভু ক্ষয়?”
অর্থ:
আদা গরম, রসুন শক্তিদায়ক,
মেথি গ্যাস-অম্বল কমায়।
চিরতা পিত্ত দূর করে,
আর তেতো শরীরের রোগ কমায়।
খনার চিকিৎসা বচন (৭)
“কচুতে রক্ত, চাল কুমড়ো ঠান্ডা,
তালের রসে শীতল ফাঁদা।
আনারসে গ্যাসে শান্তি,
দুধে খেলে শরীর ভারী।”
অর্থ:
কচু রক্ত বাড়ায়, চাল কুমড়ো ঠান্ডা দেয়,
তালের রস ঠান্ডা রাখে, আনারস গ্যাস কমায়।
দুধ শরীর মজবুত করে।
খনার চিকিৎসা বচন (৮)
“মধু মুখে দিলে জ্বালা যায়,
তিলের তেলে চুলে আয়।
লাউয়ে জ্বর, করলাতে পিত্ত,
জ্বরের দিনে করো না হিত।”
অর্থ:
মধু মুখ ঠান্ডা রাখে,
তিলের তেল চুলে দিলে উজ্জ্বল হয়।
লাউ জ্বর কমায়, করলা পিত্ত দূর করে,
তবে জ্বরে করলা খাওয়া ঠিক নয়।
খনার চিকিৎসা বচন ( ২০ থেকে ৪০ পর্যন্ত)
৯.নুনে আছে শক্তি, ঘিয়ে আসে বল,
কাঁচা রসুন খেলে কাটে শত ছল।
ব্যাখ্যা: খাবারে নুন, ঘি ও রসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
১০.খনার চিকিৎসা বচন
বিকেলে দুধ, সকালে জল,
রাতে মধু খেলে রোগে নেই বল।
ব্যাখ্যা: সঠিক সময়ে সঠিক খাদ্য সুস্থতার চাবিকাঠি।
১১. খনার চিকিৎসা বচন
তিতা খাও, পেট বাঁচাও,
দেহে বিষ জমলে বিপদ বাড়াও।
ব্যাখ্যা: করলা, চিরতা, নিম - শরীরের ভেতরের বিষ অপসারণে সহায়ক।
১২.খনার চিকিৎসা বচন
আদা, হলুদ, লবণ খাটি,
রোগ কাটে, ঘর রাখে ঝাঁটি।
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক উপাদানে সহজেই চিকিৎসা সম্ভব।
১৩. খনার চিকিৎসা বচন
দিনে ঘামো, রাতে ঘুম,
এই নিয়মেই কমে বিষাক্ত জম।
ব্যাখ্যা: ঘাম ও ঘুম—দেহের প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
১৪. খনার চিকিৎসা বচন
বছরে খাও আঠারো তিতা,
রোগ করবে না কখনো রিতা।
ব্যাখ্যা: বছরে কিছুদিন তিতা খেলে রোগ প্রতিরোধ হয়।
১৫.খনার চিকিৎসা বচন
পেট ভরা হলে মুখ করে বাজে,
গ্যাস জমে সব কিছু আজে।
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত খাওয়া হজমে বিঘ্ন ঘটায়, শরীর খারাপ করে।
১৬. খনার চিকিৎসা বচন
তিনবেলা খাও, দুইবেলা হজমাও,
হজম না হলে রোগ ডাকাও।
ব্যাখ্যা: খাবারের পর হজম জরুরি, নইলে রোগ বাড়ে।
১৭.খনার চিকিৎসা বচন
রাতে দুধ, দিনে রোদ,
এতে শরীর হয় সোনার খোদ।
ব্যাখ্যা: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড়ের শক্তি বাড়ায়।
১৮.খনার চিকিৎসা বচন
পেটেতে বিষ, মুখেতে কালো,
পেট পরিষ্কার থাকলে শরীর ভালো।
ব্যাখ্যা: পেট পরিষ্কার থাকলে দেহ-মন দুইটাই ভালো থাকে।
১৯.খনার চিকিৎসা বচন
খাওয়ার লাগি মুখ চলাইও,
হজম না হলে দোষ গুনাইও।
ব্যাখ্যা: শুধু খাওয়াই নয়, হজমও দরকার, নয়তো সবই ক্ষতি।
২০. খনার চিকিৎসা বচন
কাজের পর বিশ্রাম চাই,
নাহলে শরীর ব্যাধি পায়।
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত পরিশ্রম করে বিশ্রাম না নিলে শরীর ভেঙে পড়ে।
২১.খনার চিকিৎসা বচন
ভরা পেটে জল খেও না,
অঙ্গতন্ত্রে ক্ষতি হয় না বুঝে না।
ব্যাখ্যা: ভরা পেটে পানি খেলে হজমে সমস্যা হয়।
২২.খনার চিকিৎসা বচন
মধু দুধ আর রসুন খাঁটি,
বীর্য বাড়ায়, শরীর রাখে ঝাঁটি।
ব্যাখ্যা: এই তিন উপাদান যৌন স্বাস্থ্য ও শক্তিতে উপকারী।
২৩.খনার চিকিৎসা বচন
সকালে ফল, রাতে দুধ,
সারা দিনে থাকবে সুস্থ মূখ।
ব্যাখ্যা: সকালের ফল আর রাতের দুধ – নিখুঁত খাদ্যচক্র।
২৪. খনার চিকিৎসা বচন
গরম পানিতে আছে জাদু,
সকাল বেলা খেলে কাটে সাধু।
ব্যাখ্যা: গরম পানি দেহের টক্সিন দূর করে।
২৫.খনার চিকিৎসা বচন
ভাত কম, শাক বেশি,
এই নিয়মে চলে সবার রেসি।
ব্যাখ্যা: শাক-সবজি বেশি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
২৬. খনার চিকিৎসা বচন
আধঘণ্টা হাঁটো দিনে,
রোগ থাকবে না চিন্তায় মুছে।
ব্যাখ্যা: প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি শরীর ও মনের জন্য উপকারী।
২৭.খনার চিকিৎসা বচন
রাতে দেরি, ঘুমে ব্যাঘাত,
তাতে বাড়ে শরীরের আঘাত।
ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমালে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৮. খনার চিকিৎসা বচন
তেলে ভাজা খাবার বর্জন করো,
অল্পে খাও, সুস্থ থাকো।
ব্যাখ্যা: বেশি তেল, ভাজাভুজি রোগ ডেকে আনে।
২৯. খনার চিকিৎসা বচন
ভূখা পেটে ঔষধ খেও না,
না বুঝে শরীর হারায় পনা।
ব্যাখ্যা: সঠিক সময়ে, পরিমিত ঔষধ গ্রহণ না করলে শরীরের ক্ষতি হয়।