17/04/2025
✊২০২০ সালে এই মডেল দিয়েছিলাম এখন কিছুটা পরিমার্জিত করা হয়েছে।
#কার্প_ফ্যাটেনিং_বা_কার্প(রুই,কাতল,মৃগেল, কালিবাউশ,সিলভার,ঘার্স কার্প,কার্পিও) মোটাতাজাকরন চাষ পদ্ধতি”
👉কার্প ফ্যাটেনিং কিঃ
সহজভাবে কার্প জাতীয় মাছকে নির্দিষ্ট ঘনত্বে,পানির গুণাগুণ রক্ষা করে এবং সুষম খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে দ্রুত বড় করার পদ্ধতিকেই কার্প ফ্যাটেনিং বলা হয়।
👉কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যঃ
• এ পদ্ধতিতে পোনা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
• পুকুরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা(সম্ভব হলে এরেটর ব্যবহার করা)।
• প্রাকৃতিক খাবারের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা।
• ৮-১২ মাস বয়সি একই সাইজ/ওজনের পোনা নিশ্চিত করা এবং পোনাগুলি অবশ্যই ৫০০গ্রাম-১ কেজি ওজনের হওয়া জরুরি।
• ২৬-২৮% (২২-২৫%)প্রোটিন যুক্ত সুষম খাবার নিশ্চিত করা।
• নিয়ম মাফিক চুন,লবন(৪৫ দিনে একবার), জীবানুনাশক প্রয়োগ এবং এমোনিয়া পরিমাপ করে এমোনিয়া নাশক প্রয়োগ করা।
• প্রতি ৪৫ দিনে পরজীবি নাশক প্রয়োগ করা।
• ভাল মানের প্রোবায়োটিক(সয়েল এবং ওয়াটার) এবং চিটাগুড় এর ব্যবহার(১৫-২১ দিন পরপর) নিশ্চিত করা।
👉পুকুরের আয়তন এবং গভীরতাঃ
এক্ষেত্রে আমি মনে করি পুকুরের আয়তন ১০০ শতাংশ/১ একর থেকে ৫ একর পর্যন্ত হওয়া আদর্শ। পুকুরের পানির গভীরতা ৬-৮ ফুট থাকা সবচেয়ে ভাল ।
👉পুকুর প্রস্তুতিঃ
অন্যান্য চাষের ন্যায় একইভাবে পুকুর প্রস্তুত করতে হবে।
👉মজুদকালীন সময়ঃ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মজুদকালীন সময়। অভিজ্ঞতায় বলে এপ্রিলে মাঝামাঝি সময়ে পোনা মজুদ করতে পারলে ডিসেম্বর এর আগেই মাছ কাঙ্খিত(রুই ২-২.৫ কেজি,কাতল ৪ কেজির, সিলভার,বিগহেড, ৪.৫-৫ কেজির উপর,মৃগেল, কালিবাউশ ১.৫-১.৮ কেজি) গ্রোথে চলে আসে।
👉মজুদ ঘনত্বঃ
ফ্যাটেনিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ মজুদ ঘনত্ব। আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি শতাংশে ১৪-১৭ টি বা একরে ১৪০০-১৭০০ টি করে তিন স্তরের মাছ মজুদ করাই কার্প ফ্যাটেনিং এর জন্য সবচেয়ে আদর্শ মজুদ ঘনত্ব। মজুদকালীন মাছের ওজন ৫০০ গ্রাম – ১ কেজির মধ্যে হতে হবে।
তিন স্তরের মাছের মধ্যে-
উপরের স্তরের জন্যঃ
কাতল=২ টি/শতাংশ, সিলভার=১ টি/শতাংশ এবং বিগহেড/ঘার্স কার্প=১ টি/শতাংশ
মধ্যম স্তরের জন্যঃ
রুই= ৬-৭ টি/শতাংশ
নিচের স্তরের জন্যঃ
মৃগেল= ২-৪ টি/শতাংশ, কালিবাউশ= ২-৩ টি/শতাংশ
এছাড়া সাথি ফসল হিসেবে কার্পিও/মাগুর বা শোল মাছ অল্প পরিমাণে মজুদ করা যেতে পারে।
👉সুষম খাবারঃ
এ ক্ষেত্রে কার্প অথবা তেলাপিয়ার জন্য তৈরী ২৪-২৬% প্রোটিন যুক্ত ডুবন্ত বা ভাসমান(এ খাদ্য ব্যবহার করলে সাথে মৃগেল ও কালিবাউশ এর জন্য ডুবন্ত খাদ্য ব্যবহার করতে হবে) সুষম পিলেট খাবারের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরী।
⚠️বর্তমান তাপমাত্রায় ২২-২৫% প্রোটিন যুক্ত খাবার ব্যবহার করলেও ভাল ফলাফল পাওয়া যায়/রোগবালাই কম হয়, কারন অতিরিক্ত তাপের কারনে কার্প মাছ তার হজম শক্তি অনেকাংশে হারিয়ে ফেলে ফলশ্রুতিতে রোগাক্রান্ত হয়।
*** চাইলে শুধুমাত্র ডুবন্ত/ভাসমান খাদ্যের অভ্যস্ত করাতে পারেন।
মজুদকালীন সময় থেকে বিক্রি পর্যন্ত মাছের খাবারের চাহিদা অনুযায়ী খাবার প্রয়োগ করা সবচেয়ে ভাল তবে তাদের দৈহিক ওজনের ২.৫-৪% খাদ্য দৈনিক দু – বেলা করে প্রয়োগ করলেও কাংখিত ফলাফল আশা করা যায়।
**প্রতি ১৫ দিন পরপর খাবারের সাথে গাট প্রোবায়োটিক(৩-৪গ্রাম/কেজি খাদ্য) বা এনজাইম(৩-৪ গ্রাম/কেজি খাদ্য) বা চিটাগুড়(১০-১৫গ্রাম/কেজি খাদ্য)।
*** কার্প ফ্যাটেনিং কোন আহামরি পদ্ধতির মাছ চাষ নয়,যে কেও সহজেই এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারবেন। এ পদ্ধতিতে মাচ চাষে গতানুগতিক এর চেয়ে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং বাজারে বড় মাছের চাহিদা ও দামের জন্য অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়।
**** মনে রাখা ভাল চাষ ব্যাবস্থাপনায় চাষির দক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম, মাটি-পানি এবং আবহাওয়ার তারতম্যের সাথে রেজাল্টের পরিবর্তন হওয়াটাও স্বাভাবিক।
লেখক :- মৎস্যবিদ মাসুম বিল্লাহ (তমাল)