01/02/2025
সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য কেন প্যারেডের মত?
#সংক্ষেপে_হেযবুত_তওহীদ
প্রশ্ন হচ্ছে সমগ্র মানবজাতির জীবনব্যবস্থা পাল্টে দেওয়ার মত এত বিরাট কঠিন কাজ যে জাতি করবে তাদের এই চরিত্র সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। ইসলামে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়? আমরা পূর্বে বলে এসেছি, দীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ রসুলকে একাকী ছেড়ে দেননি, দীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হিসাবে জেহাদ করতে বলেছেন এবং সেই জেহাদ করার জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচিও তিনিই দান করেছেন।
কিন্তু কর্মসূচি মোতাবেক কাজ করার জন্য লাগবে তার উপযোগী চরিত্র লাগবে। সেই চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ হিসাবে আল্লাহ সালাহ, যাকাত, হজ ও সওম ইত্যাদি আমলের ব্যবস্থা দিয়েছেন। সুতরাং সালাহ হচ্ছে মো’মেনের কাঙ্ক্ষিত চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ। এ কারণেই সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য সেনাবাহিনীর প্যারেড বা কুচকাওয়াজের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল। একটি সেনাবাহিনীর যে কাজ অর্থাৎ সংগ্রাম, উম্মতে মোহাম্মদীরও সেই একই কাজ। তাই সালাহ একটি ছাঁচ বা ডাইসের মত বিভিন্ন চরিত্রের মানুষকে জেহাদের উপযোগী চরিত্র দান করে। এ কারণেই রসুলাল্লাহ বলেছেন, ইসলাম একটি ঘর, সালাহ হচ্ছে খুঁটি, জেহাদ তার ছাদ (হাদিস- মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে ইবনে মাজাহ, মেশকাত)।
পৃথিবীর যাবতীয় খুঁটির একটাই উদ্দেশ্য- ছাদকে ধরে রাখা। তেমনি সালাতেরও একমাত্র উদ্দেশ্য হল জেহাদকে সমুন্নত রাখা অর্থাৎ জেহাদ করতে যে শারীরিক ও চারিত্রিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা লাগে সেটা মো’মেনের চরিত্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা। এজন্যই বলা হয়েছে সালাহ কায়েম অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা করতে। সালাতের মূল কাজ মো’মেনের মধ্যে উল্লিখিত পাঁচ দফার গুণাবলি সৃষ্টি করা।
যখন সালাতে এসে বিভিন্ন চরিত্র, বয়স, শিক্ষাদীক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায় তখন তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকে না; তাদের মধ্যে ঐক্য, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা সঞ্চারিত হয় যা কর্মসূচির প্রথম দফা। সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল মিলিয়ে শতাধিক নিয়ম কানুন পালন করতে হয়, যা মো’মেনকে শৃঙ্খলার শিক্ষা দান করে।
যখন তারা ইমামের তাকবিরের সাথে একত্রে একটি দেহের ন্যায় ওঠবস করে তারা সামষ্টিকভাবে নেতার প্রশ্নহীন শর্তহীন দ্বিধাহীন আনুগত্য চর্চা করে। এছাড়া রুকু ও সেজদার মাধ্যমে তারা আল্লাহর প্রতি সমর্পণ ও আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়। কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তারা তাদের লক্ষ্যের ঐক্য প্রকাশ করে।
এছাড়াও সালাহ মো’মেনের চরিত্রে সময়ানুবর্তিতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ অগণিত গুণাবলির সমাবেশ ঘটায়। এই সালাতের মাধ্যমেই উম্মতে মোহাম্মদীর চরিত্রে একাধারে বিশ্বজয়ী যোদ্ধার পাশাপাশি অনন্য আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সালাতের এই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা হয়েছে এবং একে নিছক উদ্দেশ্যহীন প্রার্থনা, উপাসনায় পরিণত করা হয়েছে। ফলে সালাতের উপর মহা গুরুত্ব আরোপ করা হলেও এর দ্বারা আর সেই বিশ্বজয়ী মহান জাতি সৃষ্টি হচ্ছে না।