তওহীদের বার্তা

তওহীদের বার্তা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from তওহীদের বার্তা, Grocers, Mymensingh.

সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য কেন প্যারেডের মত? #সংক্ষেপে_হেযবুত_তওহীদ      প্রশ্ন হচ্ছে সমগ্র মানবজাতির জীবনব্যবস্থা পাল্টে দেও...
01/02/2025

সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য কেন প্যারেডের মত?
#সংক্ষেপে_হেযবুত_তওহীদ
প্রশ্ন হচ্ছে সমগ্র মানবজাতির জীবনব্যবস্থা পাল্টে দেওয়ার মত এত বিরাট কঠিন কাজ যে জাতি করবে তাদের এই চরিত্র সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। ইসলামে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়? আমরা পূর্বে বলে এসেছি, দীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ রসুলকে একাকী ছেড়ে দেননি, দীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হিসাবে জেহাদ করতে বলেছেন এবং সেই জেহাদ করার জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচিও তিনিই দান করেছেন।
কিন্তু কর্মসূচি মোতাবেক কাজ করার জন্য লাগবে তার উপযোগী চরিত্র লাগবে। সেই চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ হিসাবে আল্লাহ সালাহ, যাকাত, হজ ও সওম ইত্যাদি আমলের ব্যবস্থা দিয়েছেন। সুতরাং সালাহ হচ্ছে মো’মেনের কাঙ্ক্ষিত চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ। এ কারণেই সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য সেনাবাহিনীর প্যারেড বা কুচকাওয়াজের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল। একটি সেনাবাহিনীর যে কাজ অর্থাৎ সংগ্রাম, উম্মতে মোহাম্মদীরও সেই একই কাজ। তাই সালাহ একটি ছাঁচ বা ডাইসের মত বিভিন্ন চরিত্রের মানুষকে জেহাদের উপযোগী চরিত্র দান করে। এ কারণেই রসুলাল্লাহ বলেছেন, ইসলাম একটি ঘর, সালাহ হচ্ছে খুঁটি, জেহাদ তার ছাদ (হাদিস- মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে ইবনে মাজাহ, মেশকাত)।
পৃথিবীর যাবতীয় খুঁটির একটাই উদ্দেশ্য- ছাদকে ধরে রাখা। তেমনি সালাতেরও একমাত্র উদ্দেশ্য হল জেহাদকে সমুন্নত রাখা অর্থাৎ জেহাদ করতে যে শারীরিক ও চারিত্রিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা লাগে সেটা মো’মেনের চরিত্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা। এজন্যই বলা হয়েছে সালাহ কায়েম অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা করতে। সালাতের মূল কাজ মো’মেনের মধ্যে উল্লিখিত পাঁচ দফার গুণাবলি সৃষ্টি করা।
যখন সালাতে এসে বিভিন্ন চরিত্র, বয়স, শিক্ষাদীক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায় তখন তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকে না; তাদের মধ্যে ঐক্য, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা সঞ্চারিত হয় যা কর্মসূচির প্রথম দফা। সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল মিলিয়ে শতাধিক নিয়ম কানুন পালন করতে হয়, যা মো’মেনকে শৃঙ্খলার শিক্ষা দান করে।
যখন তারা ইমামের তাকবিরের সাথে একত্রে একটি দেহের ন্যায় ওঠবস করে তারা সামষ্টিকভাবে নেতার প্রশ্নহীন শর্তহীন দ্বিধাহীন আনুগত্য চর্চা করে। এছাড়া রুকু ও সেজদার মাধ্যমে তারা আল্লাহর প্রতি সমর্পণ ও আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়। কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তারা তাদের লক্ষ্যের ঐক্য প্রকাশ করে।
এছাড়াও সালাহ মো’মেনের চরিত্রে সময়ানুবর্তিতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ অগণিত গুণাবলির সমাবেশ ঘটায়। এই সালাতের মাধ্যমেই উম্মতে মোহাম্মদীর চরিত্রে একাধারে বিশ্বজয়ী যোদ্ধার পাশাপাশি অনন্য আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সালাতের এই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা হয়েছে এবং একে নিছক উদ্দেশ্যহীন প্রার্থনা, উপাসনায় পরিণত করা হয়েছে। ফলে সালাতের উপর মহা গুরুত্ব আরোপ করা হলেও এর দ্বারা আর সেই বিশ্বজয়ী মহান জাতি সৃষ্টি হচ্ছে না।

01/02/2025
আকিদা ভুল হলে ঈমান ও আমল অর্থহীন #সংক্ষেপে_হেযবুত_তওহীদ - ৩এই দীনের সমস্ত আলেম ও ফকিহদের অভিমত হচ্ছে এই যে, আকিদা সঠিক ন...
30/01/2025

আকিদা ভুল হলে ঈমান ও আমল অর্থহীন
#সংক্ষেপে_হেযবুত_তওহীদ - ৩
এই দীনের সমস্ত আলেম ও ফকিহদের অভিমত হচ্ছে এই যে, আকিদা সঠিক না হলে ঈমানের কোনো দাম নেই। নামায, রোযা, হজ, যাকাত, ইত্যাদি এবং তাছাড়াও আরও হাজারো রকমের ইবাদতের পূর্বশর্ত হচ্ছে ঈমান; আল্লাহ, রসুল, মালায়েক, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম, তকদীর ইত্যাদির ওপর ঈমান। ঈমান অর্থহীন হয়ে গেলে স্বভাবতই এই নামায, রোযা, হজ, যাকাত এবং অন্যান্য সমস্ত রকমের ইবাদতও অর্থহীন। যে জিনিস সঠিক না হলে ঈমান এবং ঈমানভিত্তিক সমস্ত ইবাদত অর্থহীন সেই মহা গুরুত্বপূর্ণ আকিদা কী? আকিদা হচ্ছে কোনো জিনিস দিয়ে কী হয়, সেটার উদ্দেশ্য কী সে সম্বন্ধে সম্যক ধারণা বা Comprehensive concept হচ্ছে আকিদা। যে কোনো জিনিস বা ব্যাপার সম্বন্ধে এই ধারণা পূর্ণ ও সঠিক না হলে সেই জিনিসটি অর্থহীন। আল্লাহ তাঁর রসুলদের মাধ্যমে মানবজাতিকে দীন অর্থাৎ জীবনব্যবস্থা দিয়েছেন। তিনি কি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই এই দীন দিয়েছেন? অবশ্যই নয়। নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য আছে। যদি আমরা সেই উদ্দেশ্য না বুঝি বা যদি সেই উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ভুল ধারণা করি, তবে ঐ দীন অর্থহীন হয়ে যাবে। এ জন্যই ফকিহরা, ইমামরা সকলেই একমত যে আকিদা অর্থাৎ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ধারণা সঠিক না হলে ঈমান ও সমস্ত ইবাদত, আমল নিষ্ফল।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য একটি উদাহরণ দিই। ধরুন, কেউ আপনাকে একটি গাড়ি উপহার দিল। কিন্তু আপনি জানেন না যে, গাড়ির উদ্দেশ্য (আকিদা) কী? তখন আপনি কি করবেন? আপনি হয়তো গাড়ির আরামদায়ক সিটে বসে, এসি চালিয়ে গান শুনবেন এবং ভাববেন, গাড়িটা এজন্যই দেওয়া হয়েছে। এটা হলে আপনাকে গাড়ি উপহার দেওয়াটা অর্থহীন হল। এবং সেক্ষেত্রে আপনার কাছে গাড়ির বিভিন্ন অংশের গুরুত্বও বদলে যাবে। আপনি হয়তো গাড়ির গদিওয়ালা সিট, মিউজিক সিস্টেম, এসি ইত্যাদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাববেন আর গাড়ির ইঞ্জিন, ব্রেক সিস্টেম, স্টিয়ারিং সিস্টেম, টায়ার, জ্বালানি সিস্টেম ইত্যাদি হয়ে যাবে অতি তুচ্ছ। একই কথা ইসলামের বেলায়ও প্রযোজ্য। ইসলামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আমার রসুলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে’ (সুরা হাদিদ ২৫)। সংক্ষেপে ইসলামের আকিদা হচ্ছে- আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন, দীনুল হক জেহাদ ও কেতালের মাধ্যমে মানবজীবনে প্রতিষ্ঠা করে সমস্ত রকমের অন্যায়, যুদ্ধ রক্তপাত বন্ধ করে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং এর মাধ্যমে ইবলিসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে বিজয়ী করা। এটা হল দীনের মুখ্য উদ্দেশ্য, বাকি সব কিছু হচ্ছে এই উদ্দেশ্য অর্জনের পরিপুরক।
ইসলামের উদ্দেশ্য বোঝায় যায় নির্যাতিত সাহাবি খাব্বাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে। মক্কী যুগে যখন সাহাবিদেরকে কাফেররা নির্মমভাবে নির্যাতন করছিল, সে সময় তিনি এসে রসুলাল্লাহকে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আর সহ্য হচ্ছে না, আপনি দোয়া করেন যেন এরা সব ধ্বংস হয়ে যায়। রসুলাল্লাহ তখন কাবা শরিফের দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসলেন। বললেন, কী বললে? তখন খাব্বাব (রা.) আবারও একই আরজ করলেন। তখন রসুল (সা.) বললেন, শোনো, সময় আসছে একটা সুন্দরী মেয়ে একা সানা থেকে হাদরামাউত যাবে। তার মনে এক আল্লাহ আর বন্য জীবজন্তু ছাড়া আর কোনো ভয় থাকবে না (বোখারি)। দেখুন, এখানে আল্লাহর রসুল কী বললেন? তিনি এমন একটি সমাজের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যেখানে একজন সুন্দরী যুবতী অলঙ্কার পরিহিতা নারীও সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। কেউ তার কোনো ক্ষতি করবে না, তার সম্পদ সম্ভ্রম হারানোর আশঙ্কা থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বময় এমন নিরাপদ একটি মানবসমাজ গঠন করাই ইসলামের উদ্দেশ্য, বিশ্বনবীর আগমনের উদ্দেশ্য। আজকে ইসলামের এই উদ্দেশ্যটি নেই। ইসলামকে এখন একটি উপাসনাসর্বস্ব ধর্মবিশ্বাসে পরিণত করা হয়েছে। অগণিত জাঁকমকমপূর্ণ মসজিদে কোটি কোটি মুসল্লি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছেন, বহু আমল করছেন কিন্তু তাদের জীবন ঘোর অশান্তিতে পূর্ণ। ইসলামের আকিদা ভুল হওয়ার কারণে তারা সংগ্রাম করে আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠা করছেন না, ফলে সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তিও আসছে না।
আমরা যখন ইসলামের আগমনের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে জানতে পারব তখনই আমরা বুঝতে সক্ষম হব যে, আমাদের এখন এই দীনটাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নাহলে ঐ শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব হবে না। ইসলামের সমস্ত আমল একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত ঠিক যেভাবে একটি গাড়ির প্রতিটি যন্ত্রাংশ একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজন্য আক্দ শব্দ থেকে আকিদার উৎপত্তি যার অর্থ গ্রন্থি বা গেরো। কতগুলো ফুল আলাদা আলাদা একটি সুতা দিয়ে গাঁথলে সেটা মালা হয়। তেমনি ইসলামের আমলগুলোকেও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে। যেমন সামাজিক শান্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হল ইসলামের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রক্রিয়া হচ্ছে জেহাদ। জেহাদের জন্য প্রয়োজন পাঁচদফা কর্মসূচি। কর্মসূচি হচ্ছে মো’মেনের চরিত্র। এই চরিত্র অর্জনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণ হচ্ছে সালাহ, সওম ইত্যাদি। এই চরিত্র অর্জনের পর মো’মেন জেহাদ করে দীন প্রতিষ্ঠা করবে যার ফল হবে শান্তি। শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসাবে তার দায়িত্ব পূর্ণ করবে। এভাবে যখন আমরা ইসলামের সকল আমলের যোগসূত্র জানতে পারব তখন ইসলাম সামগ্রিক রূপে আমাদের সামনে ধরা দেবে। এই সামগ্রিক রূপটি জানার নামই হচ্ছে আকিদা।

30/01/2025
21/01/2025
21/01/2025
20/01/2025
17/01/2025

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তওহীদের বার্তা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category