05/07/2025
“যে ব্যক্তি তাবিজ (তামিমাহ) ঝুলায়, সে শিরক করেছে।”
— (মুসনাদ আহমাদ: 17440, সুনান আবু দাউদ: 3883, সহীহ)
অন্য বর্ণনায় এসেছে:
> من تعلق تميمة فقد وكل إليه
“যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলায়, আল্লাহ তাকে সেই তাবিজের উপর সোপর্দ করে দেন।”
— (মুসনাদ আহমাদ: 17422, সহীহ)
ব্যাখ্যা:
“তামিমাহ” বলতে বোঝানো হয়েছে সেইসব তাবিজ যা মানুষ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য, বা রোগ-ব্যাধি দূর করার জন্য গলায় ঝুলায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ একে শিরক বলেছেন, কারণ এতে আল্লাহর পরিবর্তে তাবিজের উপর ভরসা করা হয়।
“আল্লাহ তাকে তার উপর সোপর্দ করে দেন” অর্থাৎ আল্লাহ তাকে নিজের হেফাজত থেকে সরিয়ে দিয়ে তাবিজের কোনো প্রভাব থাকলে তার উপর নির্ভরশীল করে দেন, যা আসলে কোনো কাজে আসে না।✅ ১ম মতামত: সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ (এটাই সালাফি উলামাদের মত)
যদি কুরআনের আয়াত, হাদীসের দোয়া, অথবা কোনো যিকরও তাবিজে লেখা হয় এবং তা গলায় ঝুলানো হয়, তাও ঠিক নয়।
কারণ:
রাসূল ﷺ “যে তাবিজ ঝুলায় সে শিরক করেছে” বলেছেন—এতে কোনো ব্যতিক্রম করেননি।
কুরআন তো নাজিল হয়েছে পড়ার জন্য ও আমলের জন্য, গলায় ঝুলানোর জন্য নয়।
গলায় ঝুলালে মানুষের মনে হতে পারে এটা কোনো বস্তুগত শক্তি রাখে, যা শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
📌 দলীল – আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন:
> “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি, তাবিজ, ঝাড়ফুঁক ও টিকটিকি ঝুলানো শিরক।”
— (মুসনাদ আহমদ: 3672)
🤲 ২য় মতামত: যদি কুরআন/দোয়া থাকে, তাহলে অনুমোদিত
হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি মাজহাবের কিছু আলিম বলেন:
যদি তাবিজে শুধু কুরআনের আয়াত বা সহীহ দোয়া লেখা থাকে এবং তাতে শিরক বা হারাম কোনো জিনিস না থাকে, তাহলে এটি নিষিদ্ধ নয়, বরং মুবাহ (অনুমোদিত)।
তবে তার উপর ভরসা করা চলবে না, ভরসা হবে আল্লাহর উপরই।
📌 দলীল – আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
> “রাসূলুল্লাহ ﷺ মুসলিম শিশুর জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ দ্বারা রুকিয়া করার অনুমতি দিতেন।”
— (সহীহ বুখারী: 5738, সহীহ মুসলিম: 2192)
তারা বলেন, রুকিয়া যেহেতু জায়েজ, তাই লেখা আয়াতও ঝুলানো জায়েজ হতে পারে।
📌 সালাফি উলামাদের (যেমন ইবনে বায, শাইখ আল-উসাইমিন) মত
তাবিজ কুরআনের হোক বা অন্য কিছু হোক—সবই বর্জনীয়।
কারণ এতে মানুষের মন তাবিজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যা তাওহীদের পরিপন্থী।