16/08/2026
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে—ঠিক যেন সাদা ক্যানভাসে হঠাৎ এক ফোঁটা রং। তাদের আসা আমাদের জীবনটাকে বদলে দেয়, অথচ আমরা বুঝতেই পারি না কখন সেই মানুষটা আমাদের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হয়ে গেছে।
মায়া এমনই একজনকে ভালোবেসেছিল।
তার চাওয়া খুব বেশি ছিল না। দামি উপহার নয়, বড় কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়। শুধু চেয়েছিল—দিনের শেষে কেউ একজন বলুক, “আজ কেমন ছিল তোমার দিন?”
আর রায়ানের চাওয়াও ছিল খুব ছোট। সে চেয়েছিল, মায়া যেন তার নীরবতাগুলোও বুঝতে শেখে।
তাদের ভালোবাসায় হাসি ছিল, অভিমান ছিল, অপেক্ষা ছিল। কখনো দুজন পাশাপাশি থেকেও কথা বলত না, আবার কখনো রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যেত গল্প করতে করতে।
কিন্তু জীবনের ক্যানভাসে সব রং তো এক থাকে না।
একদিন রায়ানকে দূরে চলে যেতে হলো। যাওয়ার আগে মায়ার হাতটা ধরে সে বলেছিল, “আমি ফিরে আসব।”
মায়া মৃদু হেসে বলেছিল, “আমি অপেক্ষা করব।”
তারপর কেটে গেল অনেকগুলো ঋতু।
মায়া প্রতিদিন জানালার পাশে বসে থাকত। বৃষ্টি হলে মনে হতো—রায়ান বুঝি এই বৃষ্টির পথ ধরে ফিরে আসবে। শরতের সাদা কাশফুল দেখলে মনে হতো—ওর দেওয়া সেই সাদা শাড়িটা পরে একদিন রায়ানের সামনে দাঁড়াবে।
অপেক্ষা ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেল।
একদিন হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
মায়া দরজা খুলে থমকে গেল।
সামনে রায়ান।
চোখে আগের সেই মায়া, হাতে ছোট্ট একটা বাক্স।
রায়ান বাক্সটা খুলে বলল, “তোমার জন্য কিছু এনেছি।”
ভেতরে ছিল একটা সাদা ক্যানভাস আর রংতুলি।
মায়ার চোখ ভিজে উঠল।
রায়ান বলল, “জীবন আমাদের অনেক রং দিয়েছে—কখনো আনন্দের, কখনো কষ্টের। এবার চলো, বাকি রংগুলো আমরা নিজেরাই আঁকি।”
মায়া কিছু বলল না। শুধু চোখের জল মুছে রায়ানের হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,
“আমি এতদিন শুধু তোমার অপেক্ষা এঁকেছি… আজ থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ আঁকব।”
সেদিন তাদের ক্যানভাসে প্রথম যে রংটা উঠেছিল, তার নাম ছিল—ভালোবাসা।
তার পাশে ছিল—অপেক্ষা, অভিমান, চাওয়া, পাওয়া আর অগণিত অনুভূতি।
কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো নিখুঁত ছবি নয়।