19/06/2023
মর্যাদাপূর্ণ চার মাসের অন্যতম হলো জিলহজ মাস। এটি হজের মাস। ত্যাগের মহিমায় আলোকিত মাস জিলহজ্জ।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে বলেন,
‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর বিধানে মাস গণনায় ১২টি। এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। অতএব তোমরা এ মাসগুলোতে দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণ করে নিজেদের ক্ষতি সাধন করো না। (সূরা তাওবা-৩৬)।
এই মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম । মাস হিসেবে যেমন রামাদান ব রমজানের মাসের গুরুও ,দিন হিসেবে জিলহজ্জ মাসের এই ১০ দিন খুবই গ্রুত্বপূর্ণ ।
আর এই দিনগুলোর যেকোনো নেক আমল আল্লাহর বেশি পছন্দনীয়। মহানবী (সা.) বলেন, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর কাছে যত প্রিয়, অন্য কোনো দিনের আমল তাঁর কাছে তত প্রিয় নয়। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি এর মতো প্রিয় নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া, যে নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়ে গেছে আর কোনো কিছুই ফিরে আসেনি (যে শহীদ হলো)। (বুখারি : ১/৩২৯)
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, এমন কোনো দিন নেই যে দিনগুলোতে ইবাদত আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের ইবাদত থেকে অধিক প্রিয়। জিলহজের প্রথম দশকের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য। আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য (তিরমিজি)
কি কি আমল করবোঃ
আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল জিলহজের প্রথম ১০ দিনের। ইবন ওমর রা: বর্ণনা করেন, রাসূল সা: বলেছেন, আল্লাহর কাছে কোনো দিনই প্রিয় নয়, আর না তাতে আমল করা, এ ১০ দিনের তুলনায়। সুতরাং তোমরা তাতে (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠ করো’ (তাবারানি)।
জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত দিনে রোজা পালন করা, রাতে বেশি বেশি নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ তাহলিল, দোয়া-দরূদ, তওবা, ইস্তিগফার ইত্যাদি ইবাদত করার যথাসম্ভব চেষ্টা কর উচিৎ।
এ মাসের নবম দিন ও রাত আল্লাহ তায়লার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ দিনটি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন। আর রাতটি হলো মুজদালিফায় অবস্থানের রাত।
যারা কোরবানি করার ইচ্ছা করবে তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত নখ-চুল ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন জিলহজের প্রথম দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)
তবে কোরবানি করতে অক্ষম ব্যক্তি ঈদের পর নখ-চুল ইত্যাদি কাটলে তার পূর্ণ একটি কোরবানির সওয়াবের কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮৯)
বিশেষ করে ৯ জিলহজ রোজা আদায়ের ব্যাপারে রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে আরাফার দিনে রোজা রাখল অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তার এক বছর পূর্বের এবং এক বছর পরের তথা দুই বছরের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন’ (মুসলিম)। তবে যারা হজ আদায়ে ওইদিন আরাফায় থাকবেন, তাদের জন্য এই বিধান নয়।
যারা কোরবানি করার ইচ্ছা করবে তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত নখ-চুল ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন জিলহজের প্রথম দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)
তবে কোরবানি করতে অক্ষম ব্যক্তি ঈদের পর নখ-চুল ইত্যাদি কাটলে তার পূর্ণ একটি কোরবানির সওয়াবের কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮৯)
জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তকবির বলা ওয়াজিব। পুরুষেরা স্বাভাবিক স্বরে, আর নারীরা নিম্ন স্বরে এই তকবির বলবেন। একে তাকবিরে তাশ্রিক বলা হয় । তকবির হলো ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’। (ইলাউস সুনান, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা: ১৪৮)।
জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে যেকোনো সময়, কারও মালিকানায় নিসাব পরিমান সম্পদ থাকলে ,মানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। পুরুষ ও মহিলা সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য। (ইবনে মাজাহ: ২২৬)।
আসুন সম্মানিত মাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করি । দ্বীনের পরিপন্থি কাজ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকার চেষ্টা করি । আমরা মানুষ ভুল হবেই । কায়োমনে আল্লাহতা’লার কাছে মাফ চাই , তাঁর প্রশংসা করি । আল্লাহ যেন আমাদের সহায় হন । আমিন ।