16/08/2026
একটা চিঠি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা-
হযরত শাহজালাল রঃ এর মাজারের দান বাক্সে একজন মহিলা একটা চিঠি ফেলেছেন যাতে লেখা ছিল- "ইয়া আল্লাহ",
"আমি তোমার ওলির মাজারে আমার মনের কষ্টগুলা ব্যাক্ত করছি। যারা আমার স্বামীকে কুপথে নিছে, আল্লাহ তুমি বিচার করিও এবং তাদের হেদায়েত করিও। আমার মতো কষ্ট যেন কেউ না পায়। আল্লাহ তুমি মাদকদ্রব্য পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দাও।" নাম
চিঠিটা ছোট কিন্তু এর মধ্যে অন্তর্নিহিত অর্থ, অন্তর জ্বালা ব্যাপক। বোঝাই যায়, মাদকদ্রব্য এই মহিলার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। আমি আশ্চর্য হয়েছি অন্য জায়গায়-চিঠির শালীনতা এবং আবেদন, অসাধারণ!
সহীহ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারীদের জাহান্নামে বেশি দেখেছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি অতিরিক্ত অভিশাপ দেওয়া এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা বা অবুঝ আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ এই মহিলা এত কষ্ট নিয়েও কাউকে অভিযোগ করেন নাই, অভিশাপ দেন নাই, এমনকি মাজারে যেয়েও সরাসরি আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন। আল্লাহর ওলির কাছে না। বোঝাই যায় স্বামী মাদকাসক্ত কিন্তু স্বামীর বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন নাই তার বিচার চান নাই, দোষারোপও করেন নাই বরং যাদেরকে দোষারোপ করেছেন তাদের হেদায়েতও চেয়েছেন।
একবার আমিরুল মোমেনীন ওমর রাঃ-এর মজলিসে একজন মহিলা এসে বললেন, হে আমিরুল মোমেনীন আমার স্বামী সারারাত্র এবাদত করে আর দিনে রোজা রাখে এই কথা বলে উনি চলে গেলেন। আমিরুল মোমেন বললেন দেখো এই মহিলা তার স্বামীর প্রশংসা করে গেলেন। আলী ( রাঃ) বললেন, এই মহিলা তার হকের ব্যাপারে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গেলেন।
কত সুন্দর অভিযোগের ভাষা। শালীনতা ভিতরগত সৌন্দর্য বোধের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে অশালীনতা, অস্রাব্য ভাষা এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে এটাকে শিক্ষিত সমাজও নিজস্ব স্টাইল মনে করে। যারা বলে তাদের কাছেও স্বাভাবিক, যারা শোনে তাদের কাছেও স্বাভাবিক।
হে আল্লাহ তুমি এই বোনের সমস্ত সমস্যাকে সমাধান করে দাও এবং তার দোয়াকে তুমি কবুল করো। কাউকে কষ্ট দিও না। দুনিয়ার সমস্ত মা-বোনদেরকে সুখে রাখো। দুনিয়া থেকে মাদকদ্রব্য সহ সমাজ-পরিবার ধ্বংসকারী সমস্ত খারাপ জিনিস নিশ্চিহ্ন করে দাও। আমীন।