24/09/2026
অপরাধ করবে বড়লোকের পোলা, আর বলির পাঁঠা হবে গরিব ড্রাইভার?! 🙂
ঘটনাটা বারিধারার.... ফুটপাতে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। কথা বলতে পারতেন না, কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে নিজের জীবন চালাতেন।
ইন্টার পরীক্ষা শেষ করে মাত্র আগের দিন মঙ্গলবারই ঢাকায় কাজে ফিরেছিলেন। আর গতকাল বিকেলে একটা বেপরোয়া প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে পি--ষে দিলো এই নিরপরাধ ছেলেটাকে। রাস্তার পিলার আর গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই শেষ মিমের জীবন! 💔
ঘটনাস্থলেই জনতা ধাওয়া করে গাড়ির চালককে ধরে পুলিশের হাতে দেয়।
চালক হচ্ছে বিরাট বড়লোকের পোলা আজান আলী শরীফ জনৈক বিমান পাইলটের ছেলে। বিত্তবান ঘরের সোনার ছেলে!
সিসিটিভি ফুটেজে একদম পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, গাড়ির ডান পাশের ড্রাইভিং সিট থেকে নামছে এই আজান আলী। আর বাম পাশের সিট থেকে নামছে তাদের ভাড়াটে ড্রাইভার আকাশ মারাক। প্রত্যক্ষদর্শীরাও চিৎকার করে বলছেন, গাড়ি ওই কিশোর আজানই চালাচ্ছিলো!
কিন্তু আমাদের আইনের কী চমৎকার লীলাখেলা! প্রভাবশালী আর বিত্তবান পরিবার হওয়ায় আসল খু**কে আড়াল করার ধুম পড়ে গেছে।
মামলায় মূল আসামি বানানো হয়েছে পাশের সিটে বসে থাকা গরিব ড্রাইভার আকাশ মারাককে! মানে টাকার জোরে আসল অপরাধীকে বাঁচিয়ে, গরিব ড্রাইভারকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে!
গুলশান থানা পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, তারা নাকি 'প্রাথমিক তদন্ত আর বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে' ড্রাইভারকে আসামি করেছে! ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও ওনাদের ভয়!
সিসিটিভি ফুটেজের চেয়েও ওনাদের কাছে কোন অদৃশ্য 'অভিযোগ' বেশি ভারী হলো, সেটা আমরা খুব ভালো করেই বুঝি। আর একজন কিশোর কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া বা বেপরোয়াভাবে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালানোর সুযোগ পায়? এই দায় কি শুধু ওই কিশোরের, নাকি তাকে গাড়ি ক্রয়ের বা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া অভিভাবকদেরও?
গতকাল দুপুর থেকে আজানের মা-সহ পুরো পরিবার গা ঢাকা দিয়েছিল। আজ বুধবার বিকেলে নাকি পুলিশ আবার আজানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হেফাজত কি তাকে বাঁচানোর সেফ প্যাসেজ, নাকি আসলেই বিচার হবে?
বাকপ্রতিবন্ধী মিম তো কথা বলতে পারতো না, কিন্তু আমরা তো পারি! এই ক্ষমতার জোর আর টাকার গরমে একটা গরিবের জীবন এভাবে পিষে দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া চলবে না।😤