05/07/2026
চোখ ভিজে গেলো লেখাটা পড়ার পর
রসুল ﷺ–এর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.) মারা যাওয়ার আগে রসুল ﷺ–এর দুটো হাত ধরে বললেন,
“আমাকে কথা দিন, আপনার গায়ের জোব্বা দিয়ে আমার কাফনের কাপড় বানাবেন আর নিজ হাতে আমাকে কবরে নামিয়ে দিয়ে আমার সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি কবরের পাশেই থাকবেন। আমাকে একা ফেলে যাবেন না।”
রসুল ﷺ অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন,
“হে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী, আমি কথা দিচ্ছি...।”
খাদিজা (রা.) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। গোসল, জানাজা শেষ করে রসুল ﷺ তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিজেই কবরে শুইয়ে দিলেন এবং কবরের পাশে অশ্রুসজল চোখে দাঁড়িয়ে রইলেন। হাবীবের এমন বিমর্ষ মানসিক অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)–কে পাঠালেন।
জিবরাইল (আ.) এসে সালাম দিয়ে জানতে চাইলেন,
“হে আল্লাহর রসুল ﷺ, আপনি এভাবে আপনার স্ত্রীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”
রসুল ﷺ বললেন,
“হে জিবরাইল, আমি প্রিয়তমা স্ত্রীকে কথা দিয়েছি, তাঁর সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বো না।”
জিবরাইল (আ.) বললেন,
“হে আল্লাহর রসুল ﷺ, আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— খাদিজা (রা.)–কে করা মুনকার-নাকীরের সওয়ালের জওয়াব আল্লাহ আরশে আযীম থেকে নিজেই দিয়ে দেবেন।”
সুবহানাল্লাহ!
এই সেই খাদিজা (রা.), যাকে মহান আল্লাহ সালাম দিয়েছেন। যেখানে তিনিই কবরের সওয়াল-জবাবকে ভয় পেয়েছেন, সেখানে আমরা কবরের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তাই করি না। আল্লাহু আকবার!
খাদিজা (রা.)–এর মৃত্যুর পর প্রায় প্রতি রাতেই আয়েশা (রা.)–এর ঘুম ভেঙে গেলে উঠে এসে দেখতেন, রসুল ﷺ কান্নারত অবস্থায় আল্লাহর কাছে মিনতি করছেন,
“হে আল্লাহ! যখন শেষ বিচারের দিন ছেলে বাবাকে চিনবে না, বাবা ছেলেকে চিনবে না, স্বামী স্ত্রীকে আর স্ত্রী স্বামীর চেহারা দেখে বিস্মৃত হবে, তখন যেন আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজাকে চিনতে পারি এবং তাঁকে দেখে যেন বিস্মৃত না হই।”
খাদিজা (রা.) গোশত খেতে পছন্দ করতেন। যদিও খুব কম সুযোগ হতো। কিন্তু কখনো হঠাৎ কোনো উট, দুম্বা কিংবা খাসির গোশতের ব্যবস্থা হলে তিনি তৃপ্তি করে খেতেন। উনার মৃত্যুর পর রসুল ﷺ যখনই কোনো গোশত হাদিয়া পেতেন কিংবা কোনোদিন হঠাৎ কোনো পশু জবাই হতো, তখন রসুল ﷺ খুব যত্নে এক ভাগ মাংস সরিয়ে রাখতেন।
সেটা একটা পোটলায় ভরে মদিনার রাস্তায় চোখ মুছতে মুছতে হাঁটতেন— প্রিয়তমা খাদিজা (রা.)–এর কোনো পুরোনো বান্ধবীর দেখা পান কি না, সেই আশায়। কোনো বান্ধবীকে দেখলে পোটলাটা দিয়ে দিতেন।
লেখার সময় কেঁদেছি। আল্লাহ সকল হালাল সম্পর্কের বরকত দান করুন এবং প্রত্যেক সংসারকে ভালোবাসা ও স্নেহের আঁচলে আবৃত রাখুন। আমিন।