13/09/2026
দুই রাকাত নামাজের জন্য...
আল্লাহর যমীনে আল্লাহ কত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। এক মানুষকেই আল্লাহ কত রূপে, কত বর্ণে, কত অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। কত মানুষ এলো গেলো, কত মানুষের সঙ্গে দেখা হল, কথা হল, পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হল, কিন্তু কাউকে আপন করা হল না। নিবিড়ভাবে একটু কাছে যাওয়ার, গভীরভাবে একটু ভালোবাসার সুযোগ হল না। কিন্তু তুমি নিশ্চয় জানো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। সত্যিই তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি। কিন্তু জানো না, কেন আমি তোমাকে এত ভালোবাসি? সেই অজানা কথাগুলোই আজ তোমাকে বলবো বলে কলমহাতে বসেছি।
তোমার কি মনে পড়ে, একসফরে তুমি সপরিবারে ঢাকা এসেছিলে। সেই সফরে আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম। পথে যখন নামাযের সময় হল চালককে তুমি অনুরোধ করলে, দুই রাকাত নামাজের জন্য পাঁচ মিনিট সময় দিতে। কিন্তু সে রাজি হল না। হওয়ার কথাও নয়। কারণ, যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও যাত্রীদের কোন মাথা ব্যথা থাকে না। অথচ নামাজের কথা বললে কারোই মাথা ঠিক থাকে না। তো বেচারা চালক সম্মত হল না। যখন নামাযের সময় খুব সামান্য বাকী তখন তুমি ছোট্ট কোলের সন্তানসহ অসহায় স্ত্রীকে আল্লাহর হাওলা করে এই বলে নেমে গেলে যে, তোমরা অমুক স্টেশনে নেমে আমার জন্য অপেক্ষা করো। আমি নামায পড়ে পরের গাড়িতে আসছি। হয়ত তোমার সামর্থ্য কম ছিল। তাই দুইজনের ভাড়া দুইবার দেয়া সম্ভব ছিল না।
ধিক্, শত ধিক্ আমাকে, নিরব দর্শক হয়ে আমি সেদিন দেখেছি শুধু, অন্য সবার তামাশা, আর আল্লাহর উপর তোমার ভরসা দেখেছি আর ভেবেছি, এমন বাবার সন্তান কখনোই নামায কাযা করতে পারে না এবং বাবার মৃত্যুর পর কোনোভাবেই তাকে ভুলে থাকতে পারে না। তোমার সেই কোলের শিশু এখন অনেক বড় হয়েছে। যদ্দুর জানি তার জীবনে এক ওয়াক্ত নামাযও কাযা নেই, হয়ত তাহাজ্জুদও। তোমার জীবনে আর কোনো অর্জন যদি নাও থাকে তবুও তুমি ধনী, তোমার জীবন ধন্য। তোমাকে আমি কত বছর হল ভালোবাসি, কিন্তু কোনদিন বলিনি, কেন তোমাকে এত ভালোবাসি.!! আজ তো....