সহিহ আকিদা

সহিহ আকিদা “আক্বিদাহ যদি সঠিক না হয়, তাহলে সমস্ত কথা ও কাজ বাতিল।”

21/08/2026

প্রশ্ন (৩৪/৩৫৪) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কোন এলাকার ইমামদের বেতন দিয়েছেন কি? ইমামগণ বেতন নিলে গুণাহগার হবেন কি? আল্লাহ বলেন, কুরআনকে স্বল্প মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় কর না। এর দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?
উত্তর : কুরআন শিক্ষা দিয়ে, ইমামতি করে, আযান দিয়ে, দ্বীনী তা‘লীম দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয আছে। তবে অর্থ গ্রহণ যেন উদ্দেশ্য না হয়। উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে বস্ত্তর উপর তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে সেগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী হকদার হচ্ছে আল্লাহ্র কিতাব (বুখারী, মিশকাত হা/২৯৮৫)। উক্ত হাদীছে সূরা ফাতিহা পাঠ করে ঝাড়ফুঁক করে ছাহাবীগণ খাদ্য হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করেছেন সে কথাও উল্লেখ রয়েছে।

রাসূল (ছাঃ) আবূ মাহ্যূরাকে আযান শেষে একটি রূপার থলি প্রদান করে তার জন্য বরকত কামনা করে দো‘আ করেন (নাসাঈ হা/৬৩২; ইবনু মাজাহ হা/৭০৮)। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) আযানের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না তাকে মুয়াযযিন হিসাবে গ্রহণ করতে বলেছেন (নাসাঈ হা/৬৭২; তিরমিযী হা/২০৯)। এর অর্থ হচ্ছে, যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করার শর্ত দিবে। যেমন বলল, এ পরিমাণ টাকা না দিলে আমি ইমামাতি করব না, আযান দিব না, কুরআন পড়াবো না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছায় প্রদান করলে তাতে কোন দোষ নেই (শানক্বীত্বী, শারহু যাদুল মুসতাক্বনি‘ ৯/১৪৯)।

এগুলিতে বিনিময় গ্রহণ করা কুরআনকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়। ইহুদী-নাছারা ধর্মনেতারা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাদের কিতাবের শব্দ বা অর্থ পরিবর্তন করে ফেলত এবং তার বিনিময়ে লোকদের নিকট থেকে অর্থ উপার্জন করত। আল্লাহ একে তাচ্ছিল্যভরে ‘স্বল্পমূল্যে বিক্রয়’ বলে অভিহিত করেছেন (তাফসীর কুরতুবী, উক্ত আয়াতের বাখ্যা দ্রঃ)। অতএব ইসলামী শারী‘আতের কোন বিধানকে পরিবর্তন করার লক্ষ্যে যদি কেউ ঘুষের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে তাহলে তা এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

21/08/2026

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، وَإِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنْ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏ وَقَالَ عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ دَاوُدَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।

(৬৪৮৪; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং : হাদিস নং : ১০ হাদিসের মান : সহিহ হাদিস
সোর্স : সালাফী অ্যাপ

20/08/2026


ইবন ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি।
১. আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা।
২. সলাত কায়িম করা।
৩. যাকাত আদায় করা।
৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং
৫. রমযানের সিয়ামব্রত পালন করা (রোজা রাখা)।

(৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৮

📋কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাদের এই ‘আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজি’আহ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত ‘আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।📕

19/08/2026

মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকার খতম পড়ার বিধান❓

খতমে তাহলীল, খতমে তাসমিয়া, খতমে জালালী, খতমে খাজেগান, খতমে ইউনূস ইত্যাদি সকল প্রকার ‘খতম’ পরবর্তী কালে বানানো। এ বিষয়ে হাদীস নামে প্রচলিত বানোয়াট কথার মধ্যে রয়েছে: ‘‘হাদীস শরীফে আছে, হযরত (ﷺ) ফরমাইয়াছেন, যখন কেহ নিম্নোক্ত কলেমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার পড়িয়া কোন মৃত ব্যক্তির রূহের উপর বখশিশ করিয়া দিবে, তখন নিশ্চয়ই খোদাতাআলা উহার উছিলায় তাহাকে মার্জনা করিয়া দিবেন ও বেহেশ্তে স্থান দিবেন।’’[1]
এগুলো সবই বানোয়াট কথা।
[1] গোলাম রহমান, মোকছুদোল মো'মেনীন, পৃ. ৪০৭।
*২২. মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম*

আমাদের দেশের অতি প্রচলিত কর্ম কারো মৃত্যু হলে তার জন্য কুরআন খতম করা। এ কর্মটি কোনো হাদীস ভিত্তিক কর্ম নয়। কোনো মৃত মানুষের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীগণ কখনো কুরআন খতম করেন নি। এছাড়া কারো জন্য কুরআন খতম করলে তিনি সাওয়াব পাবেন এরূপ কোনো কথাও কোনো সহীহ বা গ্রহণযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয় নি।

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, কুরআন ও হাদীসে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সন্তানগণকে মৃত পিতামাতার জন্য দান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ, সিয়াম পালন, হজ্জ ও উমরা পালনের কথাও হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন খতম, তাসবীহ তাহলীল পাঠ ইত্যাদি ইবাদতের কোনো নির্দেশনা হাদীসে বর্ণিত হয় নি। তবে অধিকাংশ আলিম বলেছেন যে, যেহেতু দান, সিয়াম, হজ্জ, উমরা ও দোয়ার দ্বারা মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেহেতু আশা করা যায় যে, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ তাহলীল ইত্যাদি ইবাদত দ্বারাও তারা উপকৃত হবেন। তবে এজন্য আনুষ্ঠানিকতা, খতম ইত্যাদি সবই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
*(গ) আমল-তদবীর ও খতম*

হাদীসের নামে যে সকল বানোয়াট ‘আমল’ বা ‘তদবীর’ আমাদের দেশে প্রচলিত কোনো কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
‼️১. লা হাওলা .... দারিদ্র্য বিমোচনের আমল

(লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) এ যিক্রটির ফযীলতে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ বাক্যটিকে বেশিবেশি করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বাক্যটি জান্নাতের অন্যতম ধনভান্ডার, গোনাহ মাফের ও অফুরন্ত সাওয়াব লাভের অসীলা বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। এ বিষয়ক কিছু সহীহ হাদীস আমি ‘রাহে বেলায়াত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। কিন্তু আমাদের দেশে প্রচলিত বিভিন্ন গ্রন্থে হাদীস হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যটি প্রত্যহ ১০০ বার পাঠ করবে সে কখনো দরিদ্র থাকবে না।’ কথাটি দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত।[1]

অনুরূপভাবে অন্য একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম’ ৯৯ টি রোগের প্রতিষেধক, সেগুলোর সহজতম রোগ দুশ্চিন্তা।’’[2]

♦️২. ঋণমুক্তির আমলঃ

আলী (রা) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিম্নের বাক্যটি বললে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তা পরিশোধ করাবেন:

‎اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
‘‘হে আল্লাহ, আপনি আপনার হালাল প্রদান করে আমাকে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার দয়া ও বরকত প্রদান করে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সকলের অনুগ্রহ থেকে বিমুক্ত করে দিন।’’
হাদীসটি সহীহ।[3]

কিন্তু কোনো বিশেষ দিনে বা বিশেষ সংখ্যায় দোয়াটি পাঠ করার বিষয়ে কোনো নির্দেশ কোনো হাদীসে দেওয়া হয়নি। প্রচলিত কোনো কোনো গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘‘হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি শুক্রবার দিনে ৭০ বার এ দোয়া পড়বে, অল্প দিনের মধ্যে আল্লাহ তাকে ধনী ও সৌভাগ্যশালী করে দিবেন। হযরত আলী (রা) বলেছেন: শুক্রবার দিন জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ও পরে ১০০ বার করে দরুদ পড়ে এ দোয়া ৫৭০ বার পাঠ করলে পাহাড় পরিমান ঋণ থাকলেও তাহা অল্প দিনের মধ্যে পরিশোধ হয়ে যাবে।’’
এ বর্ণনাগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রতীয়মান হয়।

৩. সূরা ফাতিহার আমল

সূরা ফাতিহার ফযীলতে বলা হয় :
‎اَلْفَاتِحَةُ لِمَا قُرِئَتْ لَهُ
‘‘ফাতিহা যে নিয়েতে পাঠ করা হবে তা পুরণ হবে।’’

‼️এ কথাটি ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা। আরেকটি কথা বলা হয়:
‎فَاتِحَةُ الْكِتَابِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ

‘‘সূরা ফাতিহা সকল রোগের আরোগ্য বা শেফা।’’
এ কথাটি একটি যয়ীফ হাদীসে বর্ণিতহয়েছে।[4]

🔰৪. বিভিন্ন প্রকারের খতমঃ

বিভিন্ন প্রকারের ‘খতম’ প্রচলিত আছে। সাধারণত, দুটি কারণে ‘খতম’ পাঠ করা হয়:
(১) বিভিন্ন বিপদাপদ কাটানো বা জাগতিক ফল লাভ ও
(২) মৃতের জন্য সাওয়াব পাঠানো।
উভয় প্রকারের খতমই ‘বানোয়াট’ ও ভিত্তিহীন। এ সকল খতমের জন্য পঠিত বাক্যগুলো অধিকাংশই খুবই ভাল বাক্য। এগুলো কুরআনের আয়াত বা সুন্নাত সম্মত দোয়া ও যিক্র। কিন্তু এগুলো এক লক্ষ বা সোয়া লক্ষ বার পাঠের কোনো নির্ধারিত ফযীলত, গুরুত্ব বা নির্দেশনা কিছুই কোনো সহীহ বা যয়ীফ হাদীসে বলা হয় নি। এ সকল ‘খতম’ সবই বানোয়াট। উপরন্তু এগুলোকে কেন্দ্র করে কিছু হাদীসও বানানো হয়েছে।

‘বিসমিল্লাহ’ খতম, দোয়া ইউনুস খতম, কালেমা খতম ইত্যাদি সবই এ পর্যায়ের। বলা হয় ‘সোয়া লাখ বার বিসমিল্লাহ পড়লে অমুক ফল লাভ করা যায়’ বা ‘সোয়া লাখ বার দোয়া ইউনূস পাঠ করলে অমুক ফল পাওয়া যায়’ ইত্যাদি। এগুলো সবই বুযুর্গদের অভিজ্ঞতার আলোকে বানানো এবং কোনোটিই হাদীস নয়। তাসমিয়া বা (বিসমিল্লাহ), তাহলীল বা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও দোয়া ইউনুস-এর ফযীলত ও সাওয়াবের বিষয়ে সহীহ হাদীস রয়েছে।[5] তবে এগুলি ১ লক্ষ, সোয়া লক্ষ ইত্যাদি নির্ধারিত সংখ্যায় পাঠ করার বিষয়ে কোনো হাদীস বর্ণিত হয় নি। খতমে খাজেগানের মধ্যে পঠিত কিছু দোয়া মাসনূন ও কিছু দোয়া বানানো। তবে পদ্ধিতিটি পুরোটাই বানানো।

এখানে আরো লক্ষণীয় যে, এ সকল খতমের কারণে সমাজে এ ধরনের ‘‘পুরোহিততন্ত্র’’ চালু হয়েছে। ইসলামের নির্দেশনা হলো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ইউনূস (আ)-এর মতই নিজে ‘‘দুআ ইউনূস’’ বা অন্যান্য সুন্নাত সম্মত দুআ পড়ে মনের আবেগে আল্লাহর কাছে কাঁদবেন এবং বিপদমুক্তি প্রার্থনা করবেন। একজনের বিপদে অন্যজন কাঁদবেন, এমনটি নয়। বিপদগ্রস্ত মানুষ অন্য কোনো নেককার আলিম বা বুজুর্গের কাছে দুআ চাইতে পারেন। তবে এখানে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে:

(১) অনেকে মনে করেন, জাগতিক রাজা বা মন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে যেমন মধ্যস্থতাকারী বা সুপারিশকারীর প্রয়োজন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেও অনুরূপ কিছুর প্রয়োজন। আলিম-বুজুর্গের সুপারিশ বা মধ্যস্থতা ছাড়া আল্লাহর কাছে দুআ বোধহয় কবুল হবে না। এ ধরনের চিন্তা সুস্পষ্ট শিরক। আমি ‘‘কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা’’ গ্রন্থে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। জাগতিক সম্রাট, মন্ত্রী, বিচারক বা নেতা আমাকে ভালভাবে চিনেন না বা আমার প্রতি তার মমতা কম এ কারণে তিনি হয়ত আমার আবেদন রাখবেন না বা পক্ষপাতিত্ব করবেন। কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে কি এরূপ চিন্তা করা যায়? ইসলামের বিধিবিধান শিখতে, আত্মশুদ্ধির কর্ম শিখতে, কর্মের প্রেরণা ও উদ্দীপনা পেতে বা আল্লাহর জন্য মহববত নিয়ে আলিম ও বুজুর্গগণের কাছে যেতে হয়। প্রার্থনা, বিপদমুক্তি ইত্যাদির জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইতে হয়।

(২) কুরআন কারীম ও বিভিন্ন সহীহ হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, যে কোনো মুমিন নারী বা পুরুষ যে কোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজের মনের আবেগ প্রকাশ করে দুআ করলে ইবাদত করার সাওয়াব লাভ করবেন। এছাড়া আল্লাহ তার দুআ কবুল করবেন। তিনি তাকে তার প্রার্থিত বিষয় দান করবেন, অথবা এ প্রার্থনার বিনিময়ে তার কোনো বিপদ কাটিয়ে দিবেন অথবা তার জন্য জান্নাতে কোনো বড় নিয়ামত জমা করবেন। ‘‘রাহে বেলায়াত’’ গ্রন্থে আমি এ বিষয়ক হাদীসগুলো সনদ-সহ আলোচনা করেছি।

(৩) নিজে দুআ করার পাশাপাশি জীবিত কোনো আলিম-বুজুর্গের কাছে দুআ চাওয়াতে অসুবিধা নেই। তবে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নিজের জন্য নিজের দুআই সর্বোত্তম দুআ। এছাড়া দুআর ক্ষেত্রে মনের আবেগ ও অসহায়ত্বই দুআ কবুলের সবচেয়ে বড় অসীলা। আর বিপদগ্রস্ত মানুষ যতটুকু আবেগ নিয়ে নিজের জন্য কাঁদতে পারেন, অন্য কেউ তা পারে না।

(৪) অনেকে মনে করেন, আমি পাপী মানুষ আমার দুআ হয়ত আল্লাহ শুনবেন না। এ চিন্তুা খুবই আপত্তিকর ও আল্লাহর রহমত থেকে হতাশার মত পাপের পথ। কুরআনে একাধিক স্থানে বলা হয়েছে যে, কাফির-মুশরিকগণও যখন অসহায় হয়ে মনের আবেগে আল্লাহর কাছে দুআ করত, তখন আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করতেন। কুরআন ও হাদীসে বারংবার বলা হয়েছে যে, পাপ-অন্যায়ের কারণেই মানুষ বিপদগ্রস্ত হয় এবং বিপদগ্রস্ত পাপী ব্যক্তির মনের আবেগময় দুআর কারণেই আল্লাহ বিপদ কাটিয়ে দেন।

(৫) হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, ‘‘দুআ ইউনূস’’ পাঠ করে দুআ করলে আল্লাহ কবুল করবেন। (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন) অর্থ- আপনি ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, আপনি মহা-পবিত্র, নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছি।
এর মর্মার্থ হলো: ‘‘বিপদে ডাকার মত, বিপদ থেকে উদ্ধার করার মত বা বিপদে আমার ডাক শুনার মত আপনি ছাড়া কেউ নেই। আমি অপরাধ করে ফেলেছি, যে কারণে এ বিপদ। আপনি এ অপরাধ ক্ষমা করে বিপদ কাটিয়ে দিন।’’ আল্লাহর একত্বের ও নিজের অপরাধের এ আন্তরিক স্বীকারোক্তি আল্লাহ এত পছন্দ করেন যে, এর কারণে আল্লাহ বিপদ কাটিয়ে দেন।

(৬) ‘‘খতম’’ ব্যবস্থা চালু করার কারণে এখন আর বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে দুআ ইউনূস পাঠ বা খতম করে কাঁদেন না। বরং তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যক আলিম-বুজুর্গকে দাওয়াত দেন। যারা সকলেই বলেন: ‘‘নিশ্চয় আমি যালিম বা অপরাধী’’। আর যার অপরাধে আল্লাহ তাকে বিপদ দিয়েছেন তিনি কিছুই বলেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, দাওয়াতকৃত আলিমগণ প্রত্যেকেই যালিম বা অপরাধী, শুধু দাওয়াতকারী বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিই নিরপরাধ! মহান আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবনের তাওফীক প্রদান করুন।

#রেফারেন্সঃ
📚✍️
[1] মুনযিরী, আত-তারগীব ২/২৯৫; আলবানী, যায়ীফুত তারগীব ১/২৪৬
[2] হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/২৭২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১০/১২০; আলবানী, যায়ীফুত তারগীব ১/২৪৩, ২৮৬; সাহীহাহ ৪/১০২ (নং ১৫২৮ প্রসঙ্গে) [3] সুনানুত তিরমিযী ৫/৫৬০, নং ৩৫৬৩, মুসতাদরাক হাকিম ১/৭২১।
[4] সাখাবী, আল-মাকাসিদ, পৃ: ৩০৫, নং ৭৩৪, মুল্লা আলী কারী, আল-আসরার, পৃ: ১৬৫, নং ৬৩৩, ৬৩৪, আলবানী, যায়ীফুল জামিয়িস সাগীর, পৃ: ৫৭৬, নং ৩৯৫১।
[5] দেখুন, লেখকের অন্য বই: রাহে বেলায়াত, পৃ. ৮১-৯৩, ১৩৩-১৩৪।

#তথ্য_সূত্রঃ ড.খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) প্রণীত-
#হাদীসের_নামে_জালিয়াতী_বই থেকে।

18/08/2026

হঠাৎ মৃত্যু; ভালো নাকি খারাপ?

প্রশ্নঃ একজন মুসলিমের জন্য হঠাৎ মৃত্যু ভালো না কি খারাপ?

উত্তরঃ হঠাৎ মৃত্যু ভালো ও মন্দ উভয়টাই হতে পারে। তা নির্ভর করছে ব্যক্তির অবস্থার উপরে।

➤ সে যদি দ্বীনদার, সৎকর্মশীল ও তাকওয়াবান হয় তাহলে যে অবস্থায়ই মৃত্যু হোক না এটি তার জন্য কল্যাণকর। বরং হঠাৎ মৃত্যু (যেমন: দুর্ঘটনা বশত: মৃত্যু) তার জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। কারণ এতে তাকে মৃত্যুর যন্ত্রণা ও কষ্ট পোহাতে হল না, রোগ-ব্যাধিতে পড়ে বিছানায় কাতরাতে হল না, অবস্থা নাজেহাল হল না, কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হল না। এতে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, গুনাহ মোচন হয় এবং দুনিয়ার সকল কষ্ট-ক্লেশকে বিদায় জানিয়ে সে রবের সন্তুষ্টি ও জান্নাতের দিকে এগিয়ে যায়।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا،

“মুমিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে এখন সে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পায়।”
[সুনানে নাসাঈ, অধ্যায়: জানাযা, অনুচ্ছেদ: মৃত্যুতে মুমিনের নিষ্কৃতি প্রাপ্তি. হা/১৯৩০-সহিহ]

➤ পক্ষান্তরে সে যদি আল্লাহর নাফরমান ও পাপিষ্ঠ হয় তাহলে যে অবস্থায় মৃত্যু হোক কেন তা তার জন্য মহা বিপদের কারণ। বিশেষ করে হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সে পাপাচার থেকে তওবা করার সুযোগ পেলো না, নিজের অবস্থা সংশোধন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল, মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারলো না এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের দিকে ধাবিত হল।

আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত আছে তারা বলেন,

أسف على الفاجر وراحة للمؤمن

“(হঠাৎ মৃত্যু) পাপীর জন্য আফসোস আর মুমিনের জন্য নিষ্কৃতির কারণ।”
[মুসাননাফে ইবনে আবি শায়বা ৩/৩৭০ ও বায়হাকী ৩/৩৭৯]

উল্লেখ্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ মৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন মর্মে বর্ণিত হাদিসের সনদ সহিহ নয়।

ফিরোযাবাদি রহ. বলেন, “এ বিষয়ে কোন সহিহ হাদিস নেই।”
[সাফারুস সাআদাহ, পৃষ্ঠা নাম্বার: ৩৫৩]

উল্লেখ্য যে, হঠাৎ মৃত্যু কিয়ামতের একটি আলামত।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي -صلى الله عليه وسلم- قال : (إن من أمارات الساعة أن يظهر موت الفجأة)، رواه الطبراني وحسّنه الألباني.

আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কিয়ামতের একটি আলামত হল, ‘হঠাৎ মৃত্যু’ প্রকাশ পাওয়া।”
[ত্বাবারানী, শাইখ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন] আ্ল্লাহু আলাম।

পরিশেষে আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন, আমাদেরকে এমন ঈমান ও আমলের উপর মৃত্যু দান করেন যা দ্বারা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন করতে পারি। নিশ্চয় তিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় ক্ষমাশীল।

উত্তর প্রদানেঃ
[আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদিআর

18/08/2026

আবূ সুহাইল ইবনু মালিক থেকে তার পিতার হতে বর্ণিত

তিনি ত্বালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, উষ্কখুস্ক চুল বিশিষ্ট নাজদের জনৈক অধিবাসী রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট আসল। তখন তার মুখ হতে গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু কথাগুলো বোঝা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ (ইসলাম হচ্ছে) দিবা-রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করা। লোকটি বললো, এছাড়া আরও (সলাত) আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে তুমি নফল (সলাত) আদায় করতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উদ্দেশে রমাযান মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ করলেন। লোকটি বলল, আমার উপর এছাড়া আরও (সিয়াম) আছে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে তুমি নফল (সিয়াম) পালন করতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে যাকাতের কথাও বললেন। লোকটি বলল, আমাকে এছাড়াও কোন দান করতে হবে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল হিসেবে (দান) করতে পার। অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে চলে যেতে লাগল যে, আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশীও করব না কমও করব না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই সফলকাম হয়ে গেল।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং : ৩৯১

সমকামিতা: মানববিধ্বংসী পদক্ষেপহঠাৎ হিরো বনে যাওয়া এমন কিছু লোক আজ এলজিবিটি (LGBT)-কে সমতন্ত্র, বন্ধু ওয়েলফেয়ার, ট্রান্সজ...
17/08/2026

সমকামিতা: মানববিধ্বংসী পদক্ষেপ

হঠাৎ হিরো বনে যাওয়া এমন কিছু লোক আজ এলজিবিটি (LGBT)-কে সমতন্ত্র, বন্ধু ওয়েলফেয়ার, ট্রান্সজেন্ডার, ইনক্লুসিভ ইত্যাদি বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাতকরণে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই মূলত মানবতার মোড়কে মানববিধ্বংসী ব্যক্তিত্ব। এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা মানুষ সৃষ্টির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করে। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا﴾ ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১৩)।
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা নারী-পুরুষের স্বাভাবিক জৈবিক কাঠামোতে পরিবর্তনকারী, যা একটা সমাজকে ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ‏ ‘নারীর সাদৃশ্য ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারিণী নারীর উপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন’।[1] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণনায় আরও এসেছে, তিনি বলেন, ‘নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের বেশ ধারণকারিণী নারীর উপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ করেছেন আর বলেছেন, “তোমাদের ঘর থেকে তাদেরকে বের করে দাও”। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোককে বের করে দিয়েছিলেন এবং উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুও এক ব্যক্তিকে বের করে দিয়েছিলেন’।[2]
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এরা পৃথিবীর বুকে নারী-পুরুষকে ট্রান্সজেন্ডার, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্য, নারী অধিকার, আমার পোশাক আমার অধিকার ইত্যাদি নানাবিধ চটকদার স্লোগানে অতীব ঘৃণ্য আচরণ ও জঘন্যতম অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে চায়। মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ‘নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের ভিতরে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাতে চায়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ৷ আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না’ (আন-নূর, ২৪/১৯)।
এরা মানববিধ্বংসী, কারণ এদের শিকড় গেঁথে রয়েছে ক্বওমে লূতের সাথে, যাদেরকে মহান আল্লাহ সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম। তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “তোমরা কি এমন খারাপ কাজ করে যাচ্ছ, যা তোমাদের আগে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি? তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়”। উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল, এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কার কর, এরা তো এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়। অতঃপর আমরা তাকে ও তার পরিজনদের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম, তার স্ত্রী ছাড়া, সে ছিল পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমরা তাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। কাজেই দেখুন, অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৮০-৮৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন,فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ - مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ‘অতঃপর যখন আমাদের ফয়সালা আসল, তখন আমরা সেটার উপরিভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করে দিলাম এবং তাদের উপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম পোড়ামাটির পাথর, যা আপনার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। আর এটা যালেমদের থেকে দূরে নয়’ (হূদ, ১১/৮২-৮৩)। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর একটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ ثَلاَثاً ‘আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক তার উপর, যে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক তার উপর, যে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়’। একথা তিনি তিনবার বললেন।[3] ইবনুল হাজ্জ আল-মালেকী রাহিমাহুল্লাহ সমকামিতার আলোচনা করতে গিয়ে এর তিনটি পর্যায় উল্লেখ করেছেন।[4]
১ম পর্যায়:
طَائِفَةٌ تَتَمَتَّعُ بِالنَّظَرِ وَهُوَ مُحَرَّمٌ لِأَنَّ النَّظْرَةَ إلَى الْأَمْرَدِ بِشَهْوَةٍ حَرَامٌ إجْمَاعًا. بَلْ صَحَّحَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ أَنَّهُ مُحَرَّمٌ وَإِنْ كَانَ بِغَيْرِ شَهْوَةٍ.
অর্থাৎ এই পর্যায়ভুক্ত লোকেরা নিজেদের দৃষ্টি দ্বারা উপভোগ করে, যা মূলত হারাম। কেননা আলেমদের ঐকমত্যে দাড়িবিহীন ব্যক্তির দিকে কামনাসহ দৃষ্টি দেওয়া হারাম কাজ। এমনকি কিছু আলেম কামবাসনা না জাগলেও দৃষ্টি দেওয়া হারাম হওয়ার মতকে সঠিক বলেছেন।
মহান আল্লাহ পুরুষদেরকে বলেছেন,قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ‘মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য অধিক পবিত্রতার বিষয়, নিশ্চয়ই তারা যা করে, সে বিষয়ে তিনি সবিশেষ অবহিত’ (আন-নূর, ২৪/৩০)।
নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ ‘মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’ (আন-নূর, ২৪/৩১)। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلَا تَنْظُرُ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ، وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ، وَلَا تُفْضِي المَرْأَةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ». ‘কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে দৃষ্টি দেবে না এবং কোনো নারীও অপর কোনো নারীর গুপ্তাঙ্গে দৃষ্টি দেবে না। কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষের সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান না করে এবং কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীর সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান না করে’।[5]
২য় পর্যায়:
وَالطَّائِفَةُ الثَّانِيَةُ يَتَمَتَّعُونَ بِالْمُلَاعَبَةِ وَالْمُبَاسَطَةِ وَالْمُعَانَقَةِ وَغَيْرِ ذَلِكَ عَدَا فِعْلِ الْفَاحِشَةِ الْكُبْرَى.
অর্থাৎ এই ২য় পর্যায়ের লোকেরা বড় অশালীন কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত না হয়ে পরস্পর খেলাধুলা, হাতাহাতি, আলিঙ্গন প্রভৃতি কাজের মাধ্যমে উপভোগ করে। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ‘আর অশালীনতার ধারেকাছেও যাবে না, হোক তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য’ (আল-আন‘আম, ৬/১৫১)।
৩য় পর্যায়:
فِعْلُ الْفَاحِشَةِ الْكُبْرَى.
অর্থাৎ বড় অশ্লীল কাজ (ব্যভিচার) সম্পাদন। আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,إِذَا اسْتَحَلَّتْ أُمَّتِي سِتًّا فَعَلَيْهِمُ الدَّمَارُ: إِذَا ظَهَرَ فِيهِمُ التَّلَاعُنُ، وَشَرِبُوا الْخُمُورَ، وَلَبِسُوا الْحَرِيرَ، وَاتَّخَذُوا الْقِيَانَ، وَاكْتَفَى الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ، وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ ‘যখন আমার উম্মত পাঁচটি বিষয়কে হালাল মনে করবে, তখন তাদের উপর ধ্বংস আপতিত হবে— (১) যখন পরস্পরকে অভিশাপ করার বিষয় প্রকাশ পাবে, (২) মদপান করবে, (৩) রেশমি বস্ত্র পরিধান করবে, (৪) গায়িকাদের গ্রহণ করবে এবং (৫) পুরুষ পুরুষকে এবং নারী নারীকে (জৈবিক চাহিদা পূরণে) যথেষ্ট করে নেবে’।[6]
এছাড়াও আরও একটি কাজ রয়েছে, যাকে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট পর্যায়ের সমকামিতা বলে উল্লেখ করেছেন। আমর ইবনু শুআইব রাহিমাহুল্লাহ তার পিতা ও তার দাদা হতে বর্ণনা করেন,أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا هِيَ اللُّوطِيَّةُ الصُّغْرَى ‘স্ত্রীর পিছন দিকে গমনের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এটা ছোট পর্যায়ের সমকামিতা’।[7] ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই পুরুষের দিকে দৃষ্টি দিবেন না, যে অন্য পুরুষের কাছে (জৈবিক চাহিদা পূরণে) গমন করে কিংবা স্ত্রীর পায়ুপথে গমন করে’।[8]
সমকামিতা থেকে যে তওবা করতে চায়:
মহান আল্লাহ বলেন,وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا ‘আর যে কোনো মন্দ কর্মে জড়িয়ে পড়ে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করে ফেলে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময় হিসেবে পাবে’ (আন-নিসা, ৪/১১০)। আব্দুল আ়যীয ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আপনার উপর এটা আবশ্যক যে, আপনি সমকামিতা ও হস্তমৈথুন থেকে দৃঢ়ভাবে সত্যনিষ্ঠ তওবা করবেন। এই দুটিই হারাম কাজ। সমকামিতা বেশি গুরুতর জঘন্য কাজ, কারণ এটা বড় পাপসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সবচেয়ে বড় অপরাধসমূহের একটি’।[9]
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাস্তি:
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ ‘তোমরা যাকে ক্বওমে লূতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অবস্থায় পাবে, তবে সমকামী এবং যার সাথে সমকামিতা করা হয়, উভয়কে হত্যা করবে’।[10] মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, وَقَدْ أَجْمَعَ الصَّحَابَةُ عَلَى قَتْلِ اللُّوطِيِّ لَكِنِ اخْتَلَفُوا فِي طَرِيقَةِ قَتْلِهِ অর্থাৎ ‘ছাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, সমকামীকে হত্যা করতে হবে। তবে তার পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে মতপার্থক্য আছে’।[11] যেমন আবূ নাযরাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা সমকামিতার শাস্তি কী হবে, সে ব্যাপারে বলেন, ‘তাকে নগরের সবচেয়ে উঁচু কোনো কিছুর উপর থেকে অধোমুখে ফেলে দিয়ে উপর্যুপরি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে’।[12] ইয়াযীদ ইবনু ক্বায়েস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, أَنَّ عَلِيًّا رَجَمَ لُوطِيًّا অর্থাৎ ‘আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু সমকামীকে রজম করেছেন’।[13]
প্রায় একই কথা অন্যান্য সালাফদের থেকেও এসেছে। যেমন ইবনু শিহাব আয-যুহরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, اللُّوطِيُّ يُرْجَمُ أُحْصِنَ أَوْ لَمْ يُحْصَن؟ অর্থাৎ ‘সমকামীদের রজম করতে হবে সে অবিবাহিত হোক কিংবা বিবাহিত’।[14] ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যদি কাউকে দুইবার রজম করা সমীচীন হতো, তবে সমকামী ব্যক্তিকে (দুইবার) রজম করা হতো’।[15] হাসান ও মুগীরা q উভয়েই ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ থেকে আরও বর্ণনা করেন, حَدُّ اللُّوطِيِّ حَدُّ الزَّانِي অর্থাৎ ‘সমকামিতার শাস্তি যেনার শাস্তির অনুরূপ’।[16] অর্থাৎ বিবাহিত হলে রজম আর বিবাহিত না হলে ১০০ বেত্রাঘাত।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সমাজবিধ্বংসী, ঘৃণ্য ও অশালীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
মেরাজুল ইসলাম প্রিয়
ধলপুর লিচুবাগান জামে মসজিদ গেইট, বউ বাজার, সায়েদাবাদ, ঢাকা।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫।
[2]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৮২।
[3]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯১৩।
[4]. ইবনুল হাজ্জ, আল মাদখাল, ২/৮-৯।
[5]. তিরমিযী, হা/২৭৯৩।
[6]. ছহীহ আত-তাগরীব ওয়াত তারহীব, হা/২৯৮৬।
[7]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯৬৭।
[8]. ছহীহ আত-তাগরীব ওয়াত তারহীব, হা/২৪২৪।
[9]. binbaz.org
[10]. তিরমিযী, হা/১৪৫৬।
[11]. Islamqa.info
[12]. সুনান আছ-ছগীর লি-বায়হাক্বী, হা/২৫৭২।
[13]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৬।
[14]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৭।
[15]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৮।
[16]. শুআবুল ঈমান, বায়হাক্বী, হা/৫০০৯।

Daftar Ibcbet di situs terpercaya menggunakan form atau livechat. Bonus rollingan besar akan membuat anda betah bermain game judi bola, poker, togel Indonesia

13/08/2026

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য সাইকেল, মোটর সাইকেল বাইক, স্কুটি অথবা গাড়ি চালানো কি যায়েজ?

উত্তর : ইসলামি বিধান মেনে মহিলাদের জন্য একক চালিত যানবাহন যেমন: সাইকেল, বাইক, স্কুটি ইত্যাদি চালানো যায়েজ। নবী ﷺ এর যুগে কিছু নারী কৃষি কাজ করতেন উট, গাধা ও ঘোড়া হাঁকাতেন (১) এছাড়াও সিফফিনের যুদ্ধে আয়িশা রাঃ হাওদায় বসে অথবা নৌ যুদ্ধে মহিলা সাহাবি উম্মু হারাম রাঃ সহ আরও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে থেকে বোঝা যায় যে সেযুগে মহিলারা ঘোড় সাওয়ার করতেন (২)

অনেকেই বলতে পারেন মহিলাদের গাড়ি চালানো পুরুষ ওয়ালী ভাব, তাছাড়া রাস্তা ঘাটে পুরুষের অবস্থান তো ফিতনার সৃষ্টি করবে। এর উত্তরে বলব: গাড়ি চালানো যদি পুরুষ ওয়ালী ভাব দেখায়, তাহলে নবী ﷺ ও সাহাবি'দের যুগের নারীরা উট ঘোড়া গাধা চালিয়েও সেটা দেখিয়েছে। ফিতনা পুরুষদের অবাধ দৃষ্টিপাত থেকেও সৃষ্টি হতে পারে এজন্য পুরুষদের আল্লাহ তাআলা দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজতের কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: মুমিন পুরুষদের কে বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত (৩)

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী রহিমাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হয় যে, মহিলাদের জন্য কি গাড়ি চালানো বৈধ? তিনি বললেন: মহিলারা গাধা চালাতে পারলে গাড়িও চালাতে পারবে। প্রশ্নকারী বললো: গাধা ও গাড়ির মধ্যে তো পার্থক্য আছে।

আলবানী রহিমাহুল্লাহ বললেন: কোনটা পর্দার জন্য বেশি উপযোগী? গাধায় ওঠা না কি গাড়িতে ওঠা? (৪) অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, রাসুল ﷺ এর যুগে মহিলা সাহাবিগণ উট, গাধা, ঘোড়া ইত্যাদিতে চড়তে পারলে বর্তমান যুগে মহিলারা গাড়িতে চড়তে পারবে না কেন?

বরং গাধা ঘোড়ার চেয়ে বর্তমান যুগে গাড়ি তার পর্দার জন্য আরও বেশি উপযোগী। নারীদের জন্য উট, গাধা ও ঘোড়ায় চড়া সে-যুগে যেমন হারাম ছিল না, তেমনি আজকের যুগে নারীর সাইকেল, বাইক ও কার চালানোও হারাম নয়। বরং নারী পুরুষ সংমিশ্রিত গণপরিবহনে ঘেষাঘেষি করে পর-পুরুষের গায়ে গা না লাগিয়ে পরিপূর্ণ পর্দা করে সাইকেল, বাইক বা কার চালিয়ে যাওয়াই উত্তম।

মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আল আলবানী রহিমাহুল্লাহ এর মতে, ভদ্র, সচ্চরিত্র ও পবিত্র নারীদের জন্য রাস্তায় পায়ে হেঁটে বের হওয়ার চেয়ে নিজের গাড়িতে বের হওয়াই তাঁর জন্য বেশি নিরাপদ (৫)

তবে বর্তমানে মেয়েদের উচিৎ সেসব গাড়িতে চলাচল করা যেখানে শুধু মহিলারা থাকে। অথবা মাহরাম কে সাথে নিয়ে আলাদা গাড়ি ভাড়া করে যাতায়াত করা। উল্লেখ্য, একদল আলেমদের মতে, যেসব অঞ্চলে সফরের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে এবং নারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, সেসব ক্ষেত্রে মাহরাম ছাড়া নারীর সফর করা জায়েয (৬)

তথ্য সুত্র :
[১] সহীহ মুসলিম, ২১৮২, ৬৩৫২ মুসনাদে আহমাদ ২৭০০৩ সহীহ বুখারী ৫২২৪। [২] সহীহ বুখারী ২৭৮৯, ২৭৮৮ বুখারী ২৬৬১ দ্র. সিরাতে আয়েশা, পৃ. ১৮৫। [৩] সুরা আন-নূর ৩৩। [৪] সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, টেপ নং ৬২১। [৫] নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ: حكم قيادة وركوب المرأة السيارة بدون محرم؟، رحلة النور، شريط: 92। [৬] সহীহ বুখারী ৩৫৯৫ শুআবূল ঈমান ১২০১ মিশকাত ৫৭৫৮ আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১০৪২৫ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শাইখ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসমারি এর লেখা: حكم سفر المرأة من غير محرم صيد الفوائد Saaidডটorg

12/08/2026

প্রশ্ন: আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে পায়ে হেঁটে হজ্জ করতে যাওয়া যাবে কি?
উত্তর: وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্জ ফরয করা হ’ল ঐ লোকদের উপর, যাদের এখানে আসার সামর্থ্য রয়েছে (আলে ইমরান ৩/৯৭)।

সুতরাং যার উপরে হজ্জ ফরয হয়নি, তার জন্য কষ্টকর উপায়ে যেমন পদেব্রজে সঊদী আরব গমন করে এই ইবাদত করা উচিত নয়। কেননা এ ব্যাপারে ছাহাবী-তাবেঈ ও সালাফে ছালেহীনের কোন আমল পাওয়া যায় না যে, সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও তারা এভাবে কষ্ট করে হজ্জ সমাপন করেছেন।

07/08/2026

ইমাম আল-বারবাহারী (রহি.) তাঁর বিখ্যাত আকিদা ও মানহাজের গ্রন্থ ‘শারহুস সুন্নাহ’ (شرح السنة)-এ বিদআতের ভয়াবহতা বোঝাতে সালাফদের বিভিন্ন উক্তি ও কাব্যগাথা উদ্ধৃত করেছেন।

কোনো পাপী (ফাসিক) সুন্নির সঙ্গ দেওয়া বা তার সাথে চলাফেরা করা আমার কাছে একজন বিদআতী ইবাদতকারীর সঙ্গ দেওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তিনি গুনাহ বা পাপকে তুচ্ছ করে দেখাচ্ছেন বরং তিনি এটা পরিষ্কার করতে চেয়েছেন যে বিদআত হলো গুনাহের চেয়েও বেশি ভয়াবহ।

সুতরাং সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তি—সে যদি পাপ কাজও করে থাকে—বিদআতী ব্যক্তির চেয়ে অনেক উত্তম।

Address

Rajshahi
6000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সহিহ আকিদা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category