সহিহ আকিদা

সহিহ আকিদা “আক্বিদাহ যদি সঠিক না হয়, তাহলে সমস্ত কথা ও কাজ বাতিল।”

14/09/2026

রাসুলুল্লাহ ﷺ যেসব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন কিছু কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, যেগুলো মানুষের দ্বীন, চরিত্র, পবিত্রতা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর।

হাদিসের ভাষায় যখন বলা হয়—

نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ

“রাসুলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন”

তখন একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো—সেই নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিষেধ থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা।

নিচে “نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ” শব্দসম্বলিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস একত্রে তুলে ধরা হলো।

▪️১. জানাজার সঙ্গে বিলাপ করা নিষিদ্ধ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُتْبَعَ جَنَازَةٌ مَعَهَا رَانَّةٌ

রাসুলুল্লাহ ﷺ এমন জানাজার পেছনে চলতে নিষেধ করেছেন, যার সঙ্গে কোনো বিলাপকারী বা উচ্চস্বরে ক্রন্দনকারী নারী থাকে।
—সহীহ ইবনে মাজাহ: ১৫৮৩

▪️২. জীবন্ত প্রাণীকে নিশানা বানিয়ে হত্যা নিষিদ্ধ

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُصْبَرَ الْبَهَائِمُ

রাসুলুল্লাহ ﷺ গৃহপালিত পশুকে বেঁধে রেখে হত্যা করতে বা তীর-অস্ত্রের নিশানা বানাতে নিষেধ করেছেন।
—সহীহ মুসলিম: ১৯৫৬

▪️৩. বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।
—সহীহ মুসলিম: ২৮১

▪️৪. গোসলের স্থানে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ فِي مُسْتَحَمِّهِ

নবী ﷺ মানুষকে তার গোসলের স্থানে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ আল-জামি: ৬৮১৫

▪️৫. পুরুষের জাফরান ব্যবহার নিষিদ্ধ

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَزَعْفَرَ الرَّجُلُ

নবী ﷺ পুরুষদের জাফরান ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ বুখারী: ৫৮৪৬

▪️৬. পানির পাত্রে শ্বাস বা ফুঁ দেওয়া নিষিদ্ধ

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَنَفَّسَ فِي الإِنَاءِ، أَوْ يُنْفَخَ فِيهِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ পান করার পাত্রে শ্বাস ফেলতে অথবা ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ আবু দাউদ: ৩৭২৮

▪️৭. এক কাপড়ে অশালীনভাবে বসা নিষিদ্ধ

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ، وَأَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ

রাসুলুল্লাহ ﷺ এক কাপড়ে পুরো শরীর এমনভাবে পেঁচিয়ে রাখা এবং এক কাপড় পরিহিত অবস্থায় এমনভাবে বসা, যাতে লজ্জাস্থান ঢাকা না থাকে—নিষেধ করেছেন।
—সহীহ বুখারী: ৩৬৭

▪️৮. শিশুর মাথায় ক্বাযা করা নিষিদ্ধ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْقَزَعِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ ‘ক্বাযা’ করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ শিশুর মাথার কিছু অংশের চুল মুণ্ডানো এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়া।—সহীহ মুসলিম: ২১২০

▪️৯. হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট প্রাণীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ

আবু ছালাবা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ হিংস্র পশুর মধ্যে সুচালো দাঁতবিশিষ্ট প্রাণীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ বুখারী: ৫৫৩০

▪️১০. ফজর ও আসরের পর নির্দিষ্ট সময়ে নফল সালাত নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلاَتَيْنِ: بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ

রাসুলুল্লাহ ﷺ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
—সহীহ বুখারী: ৫৮৮

▪️১১. বিরতিহীনভাবে রোজা রাখা নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْوِصَالِ فِي الصَّوْمِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ দিন-রাত খাবার গ্রহণ না করে টানা রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ বুখারী: ১৯৬৫

▪️১২. ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ الأَضْحَى

▪️রাসুলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ মুসলিম: ১১৪০

▪️১৩. শুধু শুক্রবারের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، إِلاَّ بِيَوْمٍ قَبْلَهُ، أَوْ يَوْمٍ بَعْدَهُ

রাসুলুল্লাহ ﷺ শুধু শুক্রবারের দিন এককভাবে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন; তবে তার আগের দিন অথবা পরের দিনসহ রোজা রাখলে তা ভিন্ন।
—সহীহ ইবনে মাজাহ: ১৪১০

▪️১৪. স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা রাখা নিষিদ্ধ

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّسَاءَ أَنْ يَصُمْنَ إِلاَّ بِإِذْنِ أَزْوَاجِهِنَّ

রাসুলুল্লাহ ﷺ নারীদের স্বামীদের অনুমতি ছাড়া (নফল) রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
—সহীহ ইবনে মাজাহ: ১৪৩৮

▪️১৫. সালাতে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ فِي الصَّلاَةِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে কোনো পুরুষের মুখ ঢেকে রাখা নিষেধ করেছেন।—সহীহ ইবনে মাজাহ: ৭৯৮

▪️১৬. সালাতে কোমরে হাত রাখা নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الاِخْتِصَارِ فِي الصَّلاَةِ

অর্থ: রাসুলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে ‘ইখতিসার’ করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ কোমরের ওপর হাত রাখা।
—সহীহ আবু দাউদ: ৯৪৭

▪️১৭. একই সময়ে নারী ও তার ফুফু/খালাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا أَوْ خَالَتِهَا

রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো নারীকে তার ফুফু অথবা খালার সঙ্গে একই ব্যক্তির বিবাহবন্ধনে যুক্ত করতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ বুখারী: ৫১০৮

▪️১৮. ‘শিগার’ বা বিনিময় বিবাহ নিষিদ্ধ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الشِّغَارِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ ‘শিগার’ বা বিনিময় বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন।

শিগার: এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সঙ্গে এভাবে বিবাহের বিনিময় করা যে, “তুমি তোমার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দাও, আমি আমার মেয়েকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দেব”—ইত্যাদি।—সহীহ মুসলিম: ১৪১৬

▪️১৯. দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে মসজিদে আসা নিষিদ্ধ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ

এরপর তিনি বলেন—

مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ، فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى، مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الإِنْسُ

রাসুলুল্লাহ ﷺ পেঁয়াজ ও দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ খেয়ে মসজিদের কাছে আসতে নিষেধ করেছেন। কারণ মানুষ যে জিনিসে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট পান।
—সহীহ মুসলিম: ৫৬৩

▪️২০. পুরুষের সোনার আংটি পরা নিষিদ্ধ

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّخَتُّمِ بِالذَّهَبِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ (পুরুষদেরকে) সোনার আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ ইবনে মাজাহ: ২৯৫৩

▪️২১. তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে গোপনে কানাকানি নিষিদ্ধ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দুজনের গোপনে কানাকানি বা ফিসফিস করে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ ইবনে মাজাহ: ৩০৫৮

▪️২২. নির্দিষ্ট কিছু পাত্রে পানীয় প্রস্তুত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الْحَنْتَمِ، وَهِيَ الْجَرَّةُ، وَعَنِ الدُّبَّاءِ، وَهِيَ الْقَرْعَةُ، وَعَنِ الْمُزَفَّتِ، وَهُوَ الْمُقَيَّرُ، وَعَنِ النَّقِيرِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ ‘হানতাম’, ‘দুব্বা’, ‘মুযাফফাত’ ও ‘নাকির’—এ ধরনের পাত্রে পানীয় প্রস্তুত করতে নিষেধ করেছিলেন।—সহীহ মুসলিম: ১৯৯৭

গুরুত্বপূর্ণ নোট: পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে। তাই এসব পাত্রকে বর্তমানে সর্বাবস্থায় হারাম বলা সঠিক নয়; মূল বিষয় হলো—নেশাজাতীয় পানীয় থেকে বেঁচে থাকা।

▪️২৩. মুখে আঘাত ও মুখে দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ، وَعَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ মুখে আঘাত করতে এবং মুখে দাগ বা সিল মারতে নিষেধ করেছেন।—সহীহ মুসলিম: ২১১৬

12/09/2026

🔖 প্রশ্ন : এলাকায় ২টি জামে মসজিদ আছে। উক্ত দুই মসজিদের ইমামই তাবীয ব্যবহার জায়েয আছে বলে জুমু‘আর খুতবায় আলোচনা করেছেন এবং তারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রোগের জন্য মানুষকে তাবীয দিয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় ঐ ইমামদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি?

✍ উত্তর : এ ধরনের ইমামদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। কারণ তাবীয ব্যবহার শরী‘আত বিরোধী ও শিরকী কাজ; যা একজন মুমিনের ঈমানকে নিমিষেই বরবাদ করে দেয়। হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায়, সে শিরকের কাজ করল’ (আহমাদ, হা/১৭৪৫৮, সনদ শক্তিশালী)। সুতরাং কোন মসজিদের ইমাম যদি তাবীয ব্যবহার করেন, একে বৈধ মনে করেন এবং সেটা অন্যকে দেন, তবে তার পিছনে ছলাত আদায় করা যাবে না (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়েমা, ৩/৬৫ পৃ.)।

ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ইমামের ব্যাপারে জানা যায় যে, সে ফাসেকী কাজ, বিদ‘আত বা এজাতীয় কিছুর সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে তার পিছনে ছালাত আদায় না করাই ভালো’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৩/৩৫১)। আর তাবীযের মত শিরকী কাজের সাথে জড়িত হলে তো আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

12/09/2026

আলহামদুলিল্লাহ!!

12/09/2026

প্রশ্ন (৩/৪৪৩) : সূরা বাক্বারাহ ২৫৬ আয়াতে উল্লেখ আছে ধর্মের ব্যাপারে কোন যবরদস্তি নেই। তাহ’লে ইসলামী আইনে ধর্মত্যাগীদের যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, সেটা উক্ত আয়াতের সাথে কিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে?
উত্তর : এ দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’ (বাক্বারাহ ২/২৫৬) আয়াতটি কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য না করার নীতি বর্ণনা করে। আর মুরতাদের শাস্তি হ’ল এমন ব্যক্তির ব্যাপারে, যে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলাম ত্যাগ করেছে। তাই বিষয় দু’টি ভিন্ন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২১/২৩১-২৩৪)। বিষয় দু’টি হ’ল : (১) ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোন অমুসলিমকে বাধ্য করা যাবে না। (২) ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেলে একজন মুসলিম যেমন একদিকে আল্লাহদ্রোহী হয়, অপরদিকে সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক চুক্তি লঙ্ঘন করে। যা ধর্মদ্রোহ এবং দেশদ্রোহিতার শামিল, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তোমরা তাকে হত্যা করো’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৫৩৩)।

উক্ত আয়াতের তাফসীরে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, দ্বীনে প্রবেশ করার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। কারণ এই দ্বীন অত্যন্ত স্পষ্ট। এর প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ অতিশয় প্রকট। সুতরাং এতে প্রবেশের জন্য কাউকে বাধ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইসলামের দিকে হেদায়াত দান করেন, যার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেন, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এতে প্রবেশ করে। আর আল্লাহ যার অন্তরকে অন্ধ করে দিয়েছেন এবং তার কান ও চোখের উপর আবরণ টেনে দিয়েছেন, তাকে বাধ্য বা যবরদস্তি করে দ্বীনে প্রবেশ করালে সে অন্তরে মুনাফিকই থেকে যাবে, যা কোন উপকারে আসে না (তাফসীর ইবনু কাছীর)।

আর মুরতাদের শাস্তির পেছনে মূল হিকমত হ’ল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করা। যদি ধর্মত্যাগের কোন শাস্তি না থাকত, তবে লোকেরা সহজে ইসলামে প্রবেশ করত এবং পরক্ষণেই বের হয়ে যেত। এতে দ্বীনের ভাবমূর্তি নষ্ট হ’ত এবং মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন তৈরী হ’ত। সুতরাং এই আইনটি মূলত একটি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’, যা মানুষকে দ্বীন নিয়ে খামখেয়ালী কর্ম করতে বাধা দেয় এবং মুসলিম সমাজের সংহতি রক্ষা করে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) এ বিষয়ে বলেন, মুরতাদ ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা না হ’ত, তবে লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে আবার তা থেকে ইচ্ছামত বের হয়ে যেত। সুতরাং তাকে হত্যা করার বিধান মূলত দ্বীন এবং দ্বীনদারদের হেফাযত করার মাধ্যম। কারণ এই বিধান দ্বীনের মধ্যে কোন ঘাটতি বা ভাঙন তৈরী হওয়া রোধ করে এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বের হয়ে যেতে বাধা দেয়। তবে যে ব্যক্তি আদৌ দ্বীনে প্রবেশই করেনি, তার বিষয়টি এর বিপরীত অর্থাৎ তাকে বাধ্য করা হয় না’ (মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/১০২)। মোটকথা ইসলামী শরী‘আতে কাউকে মুসলিম হ’তে বাধ্য করার বিধান যেমন নেই, তেমনি মুসলিম হওয়ার পর কাউকে ইসলামের ভিত্তি ও সমাজ কাঠামোকে ভেঙে ফেলার কোন অধিকারও দেওয়া হয় না।

উল্লেখ্য যে, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’-এর অর্থ এই নয় যে, মুসলিমরা দ্বীন প্রচারে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। বরং এর অর্থ হ’ল দ্বীন গ্রহণে কাউকে জোর করা যাবে না; তবে যুক্তি, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে ইসলামী সত্যতার দাওয়াত পৌঁছানোর কাজ সবসময় জারী রাখতে হবে।

11/09/2026

🔖 প্রশ্ন : বিবাহিত মেয়ে কর্তৃক অবিবাহিত ছেলের সাথে কথা বলার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কী?
📖 উত্তর : ফেসবুক, ইমো, টুইটারসহ যেকোনো উপায়ে, পরোক্ষ এবং অপরোক্ষ কোনোভাবেই বেগানা যুবক-যুবতীর মাঝে নিষ্কাম বন্ধুত্ব হারাম। তাদের আপোসে পত্রালাপ ও রসালাপ হারাম। ইনগেইজমেন্ট (বাগদান) হয়ে গেলেও বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেমন তাদের মাঝে দেখা-সাক্ষাৎ হারাম তেমনি চিঠি, মেসেজের মাধ্যমে কথা বলা, হৃদয়ের আদান-প্রদানও হারাম। যেহেতু তাতে ফিতনার আশষ্কা রয়েছে। আর ফিতনা ও দাজ্জাল থেকে মুমিনকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে (আহমাদ, ৪/৪৩১, ৪৪১; আবূ দাঊদ, হা/৪৩১৯)।

রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় শিরায় চলাচল করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৮১)। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও (ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে আকর্ষণধর্মী ভঙ্গিতে কথা বল না, যাতে যাদের মাঝে যৌনলিপ্সা আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে, জাহেলি যুগের মেয়েদের মত নিজেদের প্রকাশ করো না...’ (আল-আহযাব: ৩২-৩৩)।

অন্য হাদীছে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন পুরুষ যেন কোন (বেগানা) নারীর সাথে মাহরাম ব্যতীত একত্রে না থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৩৫)। উমার (ﷺ) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন পুরুষ অপর (মাহরাম তথা বিবাহ বৈধ এমন) নারীর সাথে নিঃসঙ্গে দেখা হলেই শয়তান সেখানে তৃতীয় জন হিসাবে উপস্থিত হয়’ (তিরমিযী, হা/১১৭১; মিশকাত, হা/৩১১৮)।

09/09/2026

প্রশ্ন (২০/৪৬০) : ফজরের জামা‘আত শুরু হয়ে যাওয়ার পর সুন্নাত আদায়ের বিষয়ে ফক্বীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, জামা‘আতে এক রাক‘আত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আগে সুন্নাত আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।
উত্তর : ফজরের জামা‘আত শুরু হয়ে গেলে প্রথমে জামা‘আতে শরীক হওয়াই কর্তব্য। জামা‘আত ছেড়ে ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করা উচিত নয়, বিশেষত যদি এতে তাকবীরে তাহরীমা বা জামা‘আতের অংশ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন ফরয ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া আর কোন ছালাত নেই’ (মুসলিম হা/৭১০; মিশকাত হা/১০৫৮)। একদা ফজরের ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হ’ল। তখন রাসূল (ছাঃ) এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, মুওয়াযি্যন যখন ইক্বামত দিচ্ছে, তখন সে সুন্নাত ছালাত আদায় করছে। ছালাত শেষে রাসূল (ছাঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি ফজরের ছালাত চার রাক‘আত আদায় করেছ? (মুসলিম হা/৭১১)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করবে যখন ইমাম ফজরের ফরয ছালাত শুরু করে দিয়েছেন, তার জন্য ওয়াজিব হ’ল সে ইমামের সাথে ছালাতে শরীক হয়ে যাবে। ছুটে যাওয়া সুন্নাতকে ফরয ছালাতের পর অথবা সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৩৭১)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, ‘আর ছালাতের ইক্বামত হয়ে যাওয়ার পর কারো জন্যই নতুন করে কোন সুন্নাত ছালাত শুরু করা হালাল নয়। সুতরাং কেউ যদি তা করে, তবে সে রাসূল (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা করল। কোন মুছল্লী যদি তা করেই ফেলে, তবে ঐ ছালাত বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১০১)।

04/09/2026

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي لُبَابَةَ وَسَلْمَانَ وَأَبِي ذَرٍّ وَسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ وَأَوْسِ بْنِ أَوْسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যেসব দিনে সূর্য উদয় হয় তাঁর মধ্যে জুমু’আর দিনই উত্তম। এ দিনেই আদম (আঃ) -কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনই তাঁকে জান্নাত হতে বের করা হয়েছে। আর জুমু’আর দিনেই ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে।

-সহীহ্‌। সহীহাহ্‌- (১৫০২), সহীহ্‌ আবূ দাঊদ- (৯৬১), মুসলিম, তা’লীক সহীহ্‌ ইবনু খুজাইমাহ- (৩/১১৬)।

এ অনুচ্ছেদে আবূ লুবাবা, সালমান, আবূ যার, সা’দ ইবনু ‘উবাদা ও আওস ইবনু আওস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং : হাদিস নং : ৪৮৮ হাদিসের মান : সহিহ হাদিস
সোর্স : সালাফী অ্যাপ

28/08/2026

প্রশ্ন : জান্নাতে সব পুরুষ কি ৭২ হুর পাবে? জান্নাতে নারীরা কি পাবে?

উত্তর : মুসলিমদের মধ্যে একটা ভুল ধারনা গেথে আছে, সেটা হলো তারা মনে করে সব জান্নাতি পুরুষ ৭০ বা ৭২ টা হুর পাবে। আসলে সঠিক তথ্য হলো যারা যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে তারাই শুধু ৭০ বা ৭২ টা হুর পাবে (১) আর সব জান্নাতি ৭২ জন হুর পাবে মর্মে বর্ণিত হাদিস গুলো একটিও সহীহ নয় (২) কুরআন হাদীস পড়লে বোঝা যায় সাধারন জান্নাতি পুরুষদের জন্য দুজন করে হুর থাকবে (৩) অবশ্য কোনো কোনো বর্ণনায় এর থেকেও বেশি হুরের কথা এসেছে (৪)

জান্নাতে নারীরা কি পাবে? জান্নাতিরা আল্লাহর কাছে যা চাইবে তাই পাবে (৫) জান্নাতে কোন নারী অবিবাহিত থাকবে না (৬) সাধারনত স্বামী-স্ত্রী এক সাথে জান্নাতে থাকতে পারবে যদি তারা দুজনই জান্নাতি হয় (৭) কিন্তু যদি পৃথিবীতে স্বামী মারা যাওয়ার কারনে স্ত্রী একের অধিক বিবাহ করে, আর সব স্বামীই যদি জান্নাতি হয় তাহলে সেই নারী শেষের ঘরের স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকবে (৮)

আর তালাক প্রাপ্ত নারী জান্নাতে সেই স্বামীর সাথে থাকবে যে স্বামী তার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে, আরেক বর্ণনায় পাওয়া যায় তালাকপ্রাপ্ত নারীকে সুযোগ দেয়া হবে যাকে ইচ্ছে বাছাই করে নেওয়ার (৯) আর যদি পৃথিবীতে কোন মহিলা বিবাহ না করে অর্থাৎ অবিবাহিত অবস্থায় মারা যায় আল্লাহ তাকে জান্নাতি পুরুষ সাথে বিবাহ দিয়ে দিবেন।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: যে মহিলার বিয়ে হয়নি, সে ইচ্ছে করলে জান্নাতি কোন পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে। আর না চাইলে পুরুষ হুর আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করে তার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন (১০) যদিও নারীদের একাধিক স্বামী চাওয়া ফিতরাত বর্হিভূত কাজ অর্থাৎ নারীদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত, তারা সাভাবিক ভাবেই এমনটা চাই না।

অনেকেই ভাবতে পারেন স্বামী স্ত্রী জান্নাতী হওয়া সত্ত্বেও স্বামী বা স্ত্রী উভয়-ই যদি আল্লাহর কাছ থেকে হুর চায় বা বিবাহ করতে চাই তাহলে তো স্বামী বা স্ত্রীর হিংসা হতে পারে ও উভয়-ই কষ্ট পেতে পারে। আসলে এ ধারণা সঠিক না। কারণ মহান আল্লাহ জান্নতে প্রবেশের আগে থেকেই জান্নাতী মানুষের মন থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা, শক্রতা, ঘৃণা, দুঃক্ষ, কষ্ট, ক্লান্তি ইত্যাদি দূর করে দেবেন (১১)

যার ফলে তাদের মনে কোনদিনও হিংসা বিদ্বেষ জাগবে না আর তারা কষ্ট ও পাবে না। মূলত জান্নাতে মানুষ চিরদিন সুস্থ থাকবে, কখনো রোগাক্রান্ত হবে না, চিরদিন জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না। চিরদিন সুখী থাকবে কখনো দুৰ্দশাগ্ৰস্ত হবে না এবং চিরদিন যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না, নিয়ামত প্রাপ্ত হবে, হতভাগা হবে না, জান্নাতী দের যৌবন কখনও ফুরাবে না, পোষাকও কখনো পুরাতন হবে না (১২) পরিবারের লোকজন ও তাদের যেসব বন্ধু জান্নাতী হবে তারা তাদের সাথে জান্নাতে চিরস্থায়ী ভাবে বসবাস করবে (১৩)

তথ্য সুত্র :
[১] তিরমিযী ১৬৬৩, ইবনে মাজাহ ২৭৯৯, সহীহাহ ৩২১৩, আহমাদ ০৪/১৩১
[২] ইবনে মাজাহ ৪৩ ৩৭, তিরমিজী ২৫৬২, মিশকাত ৫৬৪৮, মুসনাদে আহমাদ ১১৭৪১, আবূ ইয়ালা ১৪০৪, হিদয়াতুর রুওয়াত ০৫/২১৪
[৩] বুখারী ৩২৫৪, মুসলিম ২৮৩৪, ১৮৮, ৭০৩৯, তিরমিজি ২৫৩৭
[৪] সিলসিলাতুস সহীহা ৩৬৭, ৩৩৫১
[৫] সুরা ফুরকান ১৬
[৬] মুসলিম ৭০৩৯
[৭] সুরা যুখরুফ ৭০, সুরা রাদ ২৩
[৮] ত্বাবরানী, আল আওসাত ০৩/২৭৫, ৩১৩০, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ০৪/২৭০, তারিখে ইবনে আসাকির ১৯/১৯৩, বাইহাকী, কুবরা ০৭/৬৯, ০৭/৭০, তারিখে বাগদাদ ০৯/৩২৮, ইতহাফুল খিয়ারাতুল মাহারাহ ০৪/৩৭, ৩২৬৪, আল মাতালিবুল আলিয়া ০২/১১০, জামে ছাগীর ৬৬৯১, সাহীহা ০৩/২৭৫
[৯] মুজামুল কাবীর ২৩/২২২, ৩৬৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ০৭/১১৯ সনদ যঈফ, রুহুল মা'আনী ২৫/১৩৬, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ০৩/৪৩০
[১০] মাজমূ ফতোয়া ১৫/০৩
[১১] সূরা হিজর ৪৭, সুরা আরাফ ৪৩, সূরা ফাতির ৩৪-৩৫, বুখারী ২৪৪০
[১২] মুসলিম ২৮৩৭, আহমাদ ০২/৩০৪, ৩০৫, ইবনু হিব্বান ১৬/৩৯৬, দারেমী ২০/২৮৬৪
[১৩] সূরা তূর ২১, সূরা যুখরুফ ৭০

─ যেসব লেখকদের লেখা থেকে তথ্য গুলো সংগ্রহ করেছি : সুলাইমান ইবনু সালেহ আল খারাশী, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ, আশরাফুল নাফিজ ভাই।

Salafi scholars সালাফি স্কলার্স

26/08/2026

বাহনে আরোহণের দো‘আ

بِسْمِ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ، وَاِنَّآ اِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، اَللّٰهُ اَكْبَرُ، اَللّٰهُ اَكْبَرُ، اَللّٰهُ اَكْبَرُ، سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ اِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ، فَاِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّآ اَنْتَ

বিস্‌মিল্লা-হি, আলহাম্‌দু লিল্লা-হি, সুব্‌হা-নাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন, আলহামদুলিল্লা-হ, আলহামদুলিল্লা-হ, আলহামদুলিল্লা-হ, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফির লী। ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা

আল্লাহ্‌র নামে; আর সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। পবিত্র মহান সেই সত্তা, যিনি একে আমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন, অন্যথায় আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করবো আমাদের রব্বের দিকে। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র-মহান; আমি আমার নিজের উপর যুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে মাফ করে দিন। কেননা, আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।

আবু দাঊদ ৩/৩৪, ২৬০২; তিরমিযী ৫/৫০১, নং ৩৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৫৬। আর আয়াত দু’টি হচ্ছে, সূরা আয-যুখরুফের ১৩-১৪

24/08/2026

📌 বিষয়ঃ বিদআত — ভুল ধারণার অবসান👇

অনেকদিন ধরে একটি ভুল কথা প্রচলিত
“মাইক বিদআত, মোবাইল বিদআত,এসি বিদআত, লাইট ফ্যান বিদআত ,গাড়ি বিদআত, ঘড়ি বিদআত কারণ এগুলো সাহাবায়ে কেরাম ব্যবহার করেননি!”

❌ এভাবে বিদআতের সংজ্ঞা দেওয়া সঠিক নয়।
চলুন, সহজভাবে বিষয়টি বুঝি

১️⃣ বিদআত কী?
শরিয়তের পরিভাষায় বিদআত হলো—দ্বীনের অংশ বা সওয়াবের ইবাদত মনে করে এমন কোনো নতুন আমল, পদ্ধতি, সময়, সংখ্যা বা ধর্মীয় আয়োজন চালু করা, যার পক্ষে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর কোনো শরয়ি দলিল নেই।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন প্রবর্তন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
📚সহিহ বুখারি: ২৬৯৭; 📚সহিহ মুসলিম: ১৭১৮

আর রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন—
“প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”
📚সহিহ মুসলিম: ৮৬৭

২️⃣ তাহলে কখন কোনো কাজ বিদআত হয়?
কোনো কাজকে শরিয়তি বিদআত বলতে হলে দেখতে হবে
🔹 সেটিকে কি দ্বীনের অংশ বা ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে?
🔹 এর মাধ্যমে কি বিশেষ সওয়াব পাওয়ার বিশ্বাস করা হচ্ছে?
🔹 এর জন্য কি নির্দিষ্ট সময়, দিন, সংখ্যা বা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে?
🔹 অথচ এসবের পক্ষে কি কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর দলিল নেই?
তাহলে সেটি বিদআতের আওতায় পড়তে পারে।

৩️⃣ উদাহরণ দিয়ে বুঝুন
কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় নফল নামাজ পড়ে—এটি বিদআত নয়।
কিন্তু কেউ যদি এমন একটি নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ম বানায় অমুক রাতে অমুক সংখ্যক রাকাত পড়তেই হবে এবং এর বিশেষ ফজিলত আছে”, অথচ এর কোনো শরয়ি দলিল নেই তাহলে সমস্যা তৈরি হয়।
অর্থাৎ নতুন হওয়াটাই একমাত্র সমস্যা নয়; দ্বীনের মধ্যে দলিলহীনভাবে নতুন ইবাদত বা ধর্মীয় পদ্ধতি সংযোজন করাটাই মূল সমস্যা।

৪️⃣ তাহলে মাইক কি বিদআত?
❌ মাইক নিজে বিদআত নয়।
মাইক একটি দুনিয়াবি মাধ্যম/প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াত, আজান, খুতবা বা দ্বীনের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সাহাবায়ে কেরাম মাইক ব্যবহার করেননি এটা সত্য।
কিন্তু সাহাবারা ব্যবহার করেননি এটাই কোনো জিনিসকে বিদআত প্রমাণ করার যথেষ্ট দলিল নয়।
কারণ সাহাবায়ে কেরাম বিমান, গাড়ি, মোবাইল, কম্পিউটার, লাউডস্পিকার এসবও ব্যবহার করেননি। এগুলো ইবাদত হিসেবে আবিষ্কার করা হয়নি; বরং প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি উপকারের মাধ্যম।

৫️⃣ মোবাইল কি বিদআত?
❌ মোবাইল নিজে বিদআত নয়।
মোবাইল দিয়ে কুরআন পড়া, হাদিস শেখা, দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া এসব কাজের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ব্যবহার করা আর মোবাইলকে ইবাদত বানানো এক বিষয় নয়।
তবে মোবাইল দিয়ে হারাম কাজ করলে সেটি হারাম হওয়ার কারণ হলো ব্যবহার, মোবাইলের নতুন হওয়া নয়।

৬️⃣ তাহলে “সাহাবারা করেননি”—এই কথার অবস্থান কী?
সাহাবারা কোনো কাজ করেননি—এটি সব ক্ষেত্রে বিদআতের প্রমাণ নয়।

কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন—
“তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো...”
📚সুনান আবু দাউদ: ৪৬০৭; তিরমিজি: ২৬৭৬

অতএব দ্বীনের ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ ও সাহাবাদের সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে। আর দুনিয়াবি উপকরণ ও মাধ্যমকে শুধু নতুন হওয়ার কারণে বিদআত বলা যাবে না।

৭️⃣ “ভালো বিদআত” প্রসঙ্গে
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।”
📚সহিহ মুসলিম: ৮৬৭

তাই শরিয়তের পরিভাষায় “ভালো বিদআত” বলে কোনো নতুন ইবাদতকে সুন্নাহ বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে নতুন দুনিয়াবি উপকরণ, প্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনাকে শরিয়তি বিদআত বলা যাবে না যতক্ষণ সেটিকে স্বতন্ত্র ইবাদত বা দ্বীনের নতুন বিধান হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

🔴 শেষ কথা
মাইক নতুন—তাই বিদআত ❌
মোবাইল নতুন—তাই বিদআত ❌
গাড়ি নতুন—তাই বিদআত ❌
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
👉 এটাকে কি দ্বীনের নতুন ইবাদত বানানো হয়েছে?
👉 এর নির্দিষ্ট ধর্মীয় পদ্ধতি বা ফজিলতের কোনো দলিল আছে কি?

📌 দুনিয়ার নতুন জিনিসকে শুধু নতুন হওয়ার কারণে বিদআত বলবেন না।
আবার দ্বীনের মধ্যে দলিল ছাড়া নতুন ইবাদত সংযোজন করেও “ভালো কাজ” বলে চালিয়ে দেবেন না।
ইবাদতের ক্ষেত্রে দলিল চাই।
দ্বীনের বিষয়ে সুন্নাহ চাই।
আর দুনিয়াবি উপকরণের ক্ষেত্রে শুধু নতুন হওয়াই বিদআতের প্রমাণ নয়।
🤲 আল্লাহ আমাদেরকে বিদআত থেকে বেঁচে থেকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
✍️ আবদুস সোবাহান বিন ইসমাইল

Address

Rajshahi
6000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সহিহ আকিদা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category