19/01/2025
ইসলামে বক্তৃতা বা দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অর্থ গ্রহণ করা বৈধ কি না, তা নির্ভর করে পরিস্থিতি এবং উদ্দেশ্যের ওপর। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে সরাসরি হাদিস থেকে সহীহ প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
১. কুরআনের দিকনির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"বলুন, আমি তোমাদের কাছে এর (দাওয়াতের) বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এটি তো শুধুমাত্র সারা বিশ্বের জন্য উপদেশ।"
(সূরা আল-আনআম: ৯০)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামী দাওয়াত বা শিক্ষার কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা উচিত, এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাওয়া অনুত্তম।
২. হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি
নিম্নে সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ উল্লেখ করা হলো:
(ক) হাদিস:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সে, যে কুরআন শিক্ষা দেয় এবং শেখে।"
(সহীহ বুখারি: ৫০২৭)
এই হাদিসে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে শিক্ষার কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
(খ) পারিশ্রমিক নেওয়ার অনুমতি:
কোনো ব্যক্তি যদি সময়, শ্রম, এবং অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করে ইসলামী দাওয়াত বা বক্তৃতা প্রদান করেন, তবে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হতে পারে। সহীহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে:
"কোনো ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তার বিনিময়ে অন্যদের থেকে উপকার গ্রহণ করে (যেমন খাদ্য গ্রহণ) তা বৈধ।"
(সহীহ বুখারি: ৫৭৩৭)
এই হাদিসের ভিত্তিতে বোঝা যায়, ইসলামী শিক্ষার জন্য পরিশ্রম করলে এর বিনিময়ে উপার্জন করা বৈধ।
সারসংক্ষেপ
১. দাওয়াত বা বক্তৃতার কাজ মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা উচিত।
২. বক্তৃতা বা ইসলামী শিক্ষার বিনিময়ে সরাসরি উপার্জন বা পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হতে পারে, যদি তা সময়, শ্রম এবং প্রয়োজনীয় খরচের অংশ হিসেবে হয়।
৩. তবে পারিশ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে, উদ্দেশ্যটি হতে হবে ইসলামের প্রচার ও কল্যাণ সাধন, শুধুমাত্র দুনিয়াবি লাভ নয়।
আল্লাহ উত্তম জানেন।
আপনার কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট করুন