13/08/2026
যিকিরের আগ্রহ না এলে একটা কাজ করুন — জানার পর না করাটাই কঠিন হয়ে যাবে
অনেকে বলেন, মন থেকে যিকিরের আগ্রহ আসে না, তসবিহ হাতে নিলেও মনোযোগ ঘুরে বেড়ায় অন্য কোথাও। শায়খ উসামা আল-শুরাফা এই সমস্যার একটা সহজ সমাধান দিয়েছেন।
যিকিরের আগ্রহ না আসলে প্রতিদিন একটি কাজ করো, যিকিরের ফজিলতের একটি হাদিস পড়ো। যখন জানবে কী পাচ্ছো, না করাটাই কঠিন হয়ে যাবে। ইলম আমলকে জ্বালিয়ে তোলে, জানলে ভালোবাসো, ভালোবাসলে করো। এভাবেই একটি আমল অভ্যাস থেকে ইশকে পরিণত হয়।
— শায়খ উসামা আল-শুরাফা
চলুন আজ এমনই একটা হাদিস জানি, যা যিকিরের মজলিসে বসার প্রকৃত ফজিলত বলে দেয়।
مَا مِنْ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا حَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
উচ্চারণ: মা মিন কাওমিই ইয়াযকুরুনাল্লাহা ইল্লা হাফফাতহুমুল মালাইকাতু ওয়া গাশিয়াতহুমুর রাহমাতু ওয়া নাযালাত আলাইহিমুস সাকীনাতু ওয়া যাকারাহুমুল্লাহু ফীমান ইন্দাহ।
অর্থ: যে কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর যিকির করার জন্য বসে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখেন, রহমত তাদের ছেয়ে ফেলে, তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, আর আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭০০]
এই একটা হাদিসেই যিকিরের চারটা উপহারের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, ফেরেশতারা ঘিরে রাখেন, অর্থাৎ যিকিরের মুহূর্তে আপনি একা নন। দ্বিতীয়ত, রহমত ছেয়ে ফেলে, অন্তরের কঠোরতা নরম হতে থাকে। তৃতীয়ত, সাকীনা নাযিল হয়, যে প্রশান্তি দুনিয়ার আর কিছু দিয়ে কেনা যায় না। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর, আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে আপনার নাম উল্লেখ করেন। এত কিছু জানার পর যিকির এড়িয়ে যাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে যায়।
শায়খ যে কথা বলেছেন, ইলম আমলকে জ্বালিয়ে তোলে, তার প্রমাণ এখানেই। যতক্ষণ যিকিরের এই ফজিলত অজানা থাকে, ততক্ষণ যিকির শুধু একটা কাজ মনে হয়। কিন্তু যখন জানা যায় ফেরেশতারা ঘিরে রাখছেন, আল্লাহ নাম নিচ্ছেন, তখন একই আমল অন্তরে ভিন্ন এক তাগিদ তৈরি করে।
এখানে একটা ভুল ধারণা স্পষ্ট করা দরকার। অনেকে মনে করেন, যিকির মানে শুধু তসবিহ গুনে নির্দিষ্ট সংখ্যা পূরণ করা, কোনো অনুভূতি ছাড়াই। কিন্তু শায়খের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে ফজিলত জেনে অন্তরে ভালোবাসা তৈরি করাটাই আসল কাজ, তারপর যিকির নি