11/07/2026
সবর মানে দ্রুত পাওয়া, তাড়াহুড়ো মানে দেরি
আমরা সাধারণত ভাবি, তাড়াহুড়ো করলে জিনিসটা দ্রুত পাওয়া যায়, আর ধৈর্য ধরলে দেরি হয়। বাস্তবে ঘটে ঠিক উল্টোটা।
খেয়াল করে দেখুন, যে মানুষ তাড়াহুড়ো করে, সে ভাবে এক মাসেই ফল পেয়ে যাবে। শর্টকাট খোঁজে, অর্ধেক প্রস্তুতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তারপর ভুল হয়, আবার শুরু করে। এভাবে এক বছর পার হয়ে যায়, তবু ফল আসে না। অন্যদিকে যে সবর করে, সে হয়তো তিন মাসের একটা পরিকল্পনা করে, ধীরে ধীরে ঠিকঠাক কাজটা করে যায়, আর তিন মাস পর সত্যিই ফলটা হাতে পায়।
এখানে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা সময়ে নয়, নিশ্চয়তায়। সবরের পথে আপনি প্রথম দিনেই জানেন কতদিন লাগবে, কারণ পথটা পরিষ্কার। আর তাড়াহুড়োর পথে আপনি কখনোই জানেন না কতদিন লাগবে, শুধু মনে হতে থাকে এই তো এসে গেল। এই মনে হওয়াটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। আজালা বা তাড়াহুড়ো তাই আসলে দ্রুত পথ নয়, এটা এমন একটা দীর্ঘ পথ যার শেষ কোথায় কেউ জানে না, কিন্তু অনুভব হয় দ্রুত।
ইসলাম এই কারণেই তাড়াহুড়োকে সতর্কতার সাথে দেখে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন - التَّأَنِّي مِنَ اللَّهِ، وَالْعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ অর্থাৎ, ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।
শয়তান কখনো আপনাকে কাজ থেকে থামায় না, সে শুধু আপনাকে তাড়া দেয়, যাতে আপনি ভেবেচিন্তে না করে ভুল করে বসেন আর মূল কাজটা দেরি হয়েই যায়।
মানুষ যখন তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকে, তার চিন্তা সংকীর্ণ হয়ে আসে, ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গবেষকরা একে বলেন প্ল্যানিং ফ্যালাসি, মানে আমরা প্রায় সবসময়ই ধরে নিই কাজটা যত সময় লাগবে ভাবছি তার চেয়ে কম লাগবে। ফলে ভুল হিসাব করি, তারপর বারবার পিছিয়ে পড়ি। ধৈর্যশীল মানুষ এই ফাঁদে পড়ে না, কারণ সে শুরুতেই বাস্তব হিসাব করে নেয়।
তাই কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে সময় দিন, একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা করুন, তারপর ধীরে ধীরে লেগে থাকুন। আবার সময়ের নেয়ার চক্করে কাজটা শুরুই হবে না - এটাও যেন না হয়।
সবর মানে বসে থাকা নয়, সবর মানে ঠিক পথে স্থিরভাবে হাঁটা। আর এই স্থির হাঁটাই আপনাকে সবচেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
মাআ'স সালাম
জাহিদ হাসান মিলু, প্রফেটিক প্রোডাক্টিভিটি কোচ