28/09/2022
কবুতরের গ্রিট কি এবং কেন খাওয়াতে হয়,সঠিক উপায়ে গ্রিট তৈরির পদ্ধতি
Update 24/6/2022
Kobutor-grit
গ্রিট কবুতরের হজম শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বীজ বা শস্যদানার খোলস কবুতরের হজমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গ্রিট এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবং হজমে সাহায্য করে। গ্রিট কবুতরের বহুমুখি উপকার করে থাকে। কবুতররের হজম শক্তি ঠিক রাখা কবুতর সুস্থ রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।
গ্রিট সাধারণত দুই ধরনের মিশ্রণে তৈরী করা হয়ঃ
১) দ্রবণীয়
২) অদ্রবণীয়
দ্রবণীয়ঃ
বিট লবণ,কাঠকয়লা, সুমুদ্রের ফেনা(Cat fish), পোড়া মাটি, ইত্যাদি দ্রবণীয় উপাদান শরীরে হজম হয়ে যাই।
অদ্রবণীয়ঃ
ইটের গুরা(গমের সমান),
(লাইম স্টোন) ইত্যাদি। অদ্রবণীয় উপাদান পড়ে টয়লেটের সাথে বের হয়ে যায়।
সতর্কতাঃ
ইটের গুড়া, কাঠকয়লা, সুমুদ্রের ফেনা(Cat fish), জীবাণু থাকতে পারে, তাই এগুলো মিক্স করার আগে ১/২ ঘণ্টা ভাল করে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে ।
গ্রিট তৈরির পদ্ধতিঃ
প্রথমে ইটের গুড়া তিন ধরনের চালনি দিয়ে ভাল করে চেলে নিতে হবে। একটি পাত্রে ইটের গুড়া এবং পানি মিশিয়ে চুলার আগুনে এক থেকে দেড় ঘন্টা জাল দিতে হবে। একইভাবে কাঠ কয়লাও পানির সাথে চুলার আগুনে ফুঁটিয়ে নিবেন। এর পর রোদে শুকিয়ে নিতে হবে যাতে কোন ভিজা ভাব না থাকে।
কড়া রোদে শুকানোর পর কাঠকয়লা, সুমুদ্রের ফেনা
(Cat fish), একসাথে ভেঙ্গে মিশাতে হবে। এরপর সেগুলোকে ছোট করে ভেঙ্গে নিতে হবে যাতে গমের মত আকার হয়। পরে পোড়া মাটি, DCP, বিট লবণ মেশাতে হবে।
নিম্নে কোন উপাদান কি পরিমান মেশাতে হবে বর্ণনা করা হলোঃ
পরিমাণঃ
১) চালনি দিয়ে চলার পর ইটের গুড়ো ২০ কেজি।
সুমুদ্রের ফেনা(Cat fish) ১.৫ কেজি(দেড় কেজি)।
২) Dcp ১ কেজি।
(দানাদার USA টা নিবেন)।
৩)পোড়া মাটি ২ কেজি(ঐচ্ছিক বিষয়)।
৪) লাইম স্টোন ৫-৭ কেজি
(অবশ্যই কড়া রোদে ২-৩ দিন শুকিয়ে নিবেন)
৫) বিট লবণ ৫ গ্রাম
৬) কাঠ কয়লা ৪০০ গ্রাম।
পরিমান'টি পছন্দ মত ঠিক করে নিতে পারেন কমবেশি করে।
গ্রিট কিনতে ও পাওয়া যায়।
গ্রিট নিজে তৈরী করে নেয়াই ভালো।
কবুতরকে প্রতিদিন প্রতিবেলা খাবারের পর গ্রিট সরবরাহ করা উচিত। গ্রীট মাঝে মাঝে রোদে শুকাতে দিবেন ( ৫-১০ দিন পর পর ) যাতে পাঙ্গাস বা ছত্রাক না পড়ে।
সতর্কতাঃ
কবুতরকে স্লো পয়জনিং স্যালমোনেলা জীবাণু খাওয়াচ্ছেন নাকি অন্য কিছু
একটি প্রচলিত প্রথা/ধারণা আছে ডিমের খোসা ঝিনুকের গুড়া হাড়ভাঙ্গা গুড়ায় ক্যালসিয়াম থাকে। যেটা কবুতরকে খাওয়ালে কবুতরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়/ ডিম সুন্দর হয়।
তিনটি পদ্ধতিতে ডিমের খোসা বা ঝিনুকের গুড়া হাড়ের গুড়া কে প্রসেসিং করা হয় কবুতরকে খাওয়ানোর উপযোগী করার জন্য।
প্রথমতঃ
কড়া রোদে শুকিয়ে।
ডিম যখন ভাঙ্গা হয় তখন ডিমের সাদা অংশ অর্থাৎ ক্যালসিয়াম অংশ ডিমের খোসায় লেগে থাকে। ডিম ভাঙার সাথে সাথে ডিমের খোসায় ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে।
ডিমের খোসা যতই কড়া রোদে রাখেননা কেন একটি ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াও মারা যাবে না।
দ্বিতীয়তঃ
গরম পানির মাধ্যমে চুলার আগুনে ফুঁটিয়ে।
ধরে নিলাম চুলার আগুনে জাল দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়েছেন অর্থাৎ চুলার আগুনে ফুটন্ত পানিতে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া মারা গেল।
যেহেতু ডিমের খোসায় খুবই সামান্য সুপ্ত অবস্থায় ক্যালসিয়াম থাকে।
যখন জাল দেওয়া ডিমের খোসা রোদে শুকোতে দিবেন ডিমের খোসায় লেগে থাকা পানি শুকিয়ে যাওয়া মাত্র সাথে সাথে পুনরায় ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটবে। কারণ ডিমের খোসায় সুপ্ত অবস্থায় ও খোলা অবস্থায় ক্যালসিয়াম থাকে।
তৃতীয়তঃ
পটাশ পানি দিয়ে সিদ্ধ করে।
পটাশ কি খাওয়ার যোগ্য
না পটাশ কখনোই খাওয়ার যোগ্য না। এটা শরীরের বাহিরে চর্ম রোগের জন্য জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
পটাশ এক ধরনের স্লোপয়জনিং
কবুতর যখন পটাশ পানি দিয়ে সেদ্ধ করা ডিমের খোসা ঝিনুকের খোসা বা হাড়ের গুড়া খাবে তখন শরীরের মধ্যে টক্সিন বা বিষ ছড়িয়ে পড়বে এবং ধীরে ধীরে কবুতরের শরীরে তা জমা হতে থাকবে।
কবুতরের ব্রেন এ বা স্নায়ুতন্ত্রে একটা অংশ আছে যে অংশের মাধ্যমে কবুতরের ডানা, পা, ঠোট, গলা এবং পুরো শরীর মুভমেন্ট করে। ব্রেনের সেই অংশের নাম
নিউরো মোটরসাইট।
একটা সময় যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে
Neuron এ Toxin ছড়িয়ে পড়বে
তখন ব্রেনের Motor Site ড্যামেজ হয়ে যাবে।
ফলশ্রুতিতে কবুতর যেকোনো সময় Neck paralysis অর্থাৎ গলা বেঁকে যাওয়া বা টাল রোগ হবে।
শুধু তাই না একটি বা দুইটি ডানা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে
কবুতরের একটি বা উভয় পা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে।
নিয়মিত কবুতরকে ডিমের খোসা খাওয়ালে
অনেক সময় নিজের ডিম ভেঙ্গে ডিমের খোসা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে।
ডিমের খোসা, ঝিনুকের গুড়া, হাড়ভাঙ্গা গুড়া'য় যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে তা না খাওয়ালে কবুতর ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুকবে না বা এর জন্য কোন রোগ বালাই হবে না।
বরঞ্চ এগুলো নিয়মিত খাওয়ালে কবুতর Neck paralysis
সহ Salmonella রোগেও আক্রান্ত হতে পারে যেমন
চুনা পায়খানা,
সবুজ পায়খানা,
সাথে বমি করতে পারে।
এমনকি কবুতর আপনাকে কোন প্রকার পূর্বাভাস বা লক্ষণ
Syndrome না দিয়েই হুট করে মারা যেতে পারে।
যত ভালো মানের গ্রিট প্রস্তুতকারক হোক না কেন যদি ডিমের খোসা, ঝিনুকের গুড়া, বোন পাউডার বা হাড়ভাঙ্গা থাকে তাহলে উল্লেখিত প্রসেসিং সিস্টেম একই রকম হবে।
কবুতরের ভালো মানের খাবারের দোকানে ডিমের খোসা ঝিনুকের গুড়া ও হাড় ভাঙ্গা গুড়া বাদে কবুতরের গ্রিট তৈরীর জন্য নানারকম উপকরণ পাওয়া যায়। ওগুলো সংগ্রহ করে নিজেই তৈরি করে খাওয়াতে পারেন।
আমার মতে,
কবুতরের দুইটি হৃদযয়
একটি ফ্লাইংজোন
অন্যটি গ্রিট।
কবুতর আমাদের প্রাণের জিনিস ভালোবাসার জিনিস
কবুতরকে ক্যালসিয়ামের নামে কোন প্রকার স্লো পয়জনিং Slow poisoning ও স্যালমোনেলা Salmonella রোগের জীবাণু পরিবেশন করবেন না।
Loft