18/08/2026
পেটের আলসারে (গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসার) পাকস্থলীর ভেতরের প্রাচীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় কিছু খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বা ক্ষতস্থানে সরাসরি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
আলসার নিরাময়ে বাধা দেয় এবং উপসর্গ তীব্র করে তোলে—এমন ৩০টি খাবার নিয়ে আজকে কথা বলবো।
🔰 মশলাদার ও তীব্র স্বাদের খাবার
কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচ: এতে থাকা ক্যাপসাইসিন ক্ষতস্থানে সরাসরি তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
✔️ অতিরিক্ত মরিচের গুঁড়া: পাকস্থলীর প্রাচীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
✔️ গোলমরিচ / কালো মরিচ: পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।
✔️ অতিরিক্ত গরম মশলা: লবঙ্গ, দারুচিনি বা অতিরিক্ত এলাচ যুক্ত রান্না ক্ষতের ক্ষতি করে।
🔰 ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
ডুবোতেলে ভাজা স্ন্যাক্স (সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি ইত্যাদি): তেল হজম হতে দেরি হয় এবং গ্যাস্ট্রিকের চাপ বাড়ায়।
✔️ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ ও আলুর চিপস: অতিরিক্ত তেল ও লবণের কারণে পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি হয়।
✔️ চর্বিযুক্ত লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস): হজম প্রক্রিয়া ধীর করে অ্যাসিড নিঃসরণ বহুগুণ বাড়ায়।
✔️ প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, বেকন, সালামি ইত্যাদি): প্রিজারভেটিভ ও লবণ আলসারের ক্ষত বাড়িয়ে তোলে।
✔️ ফাস্ট ফুড (বার্গার, পিৎজা ইত্যাদি): অতিরিক্ত চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত উপাদান পেটের প্রদাহ বাড়ায়।
🔰 অম্লীয় বা টক জাতীয় খাবার ও ফল
লেবু ও কাগজি লেবু: উচ্চমাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিড আলসারের ক্ষতস্থানে জ্বালা ধরায়।
✔️ কমলা ও মাল্টা: অতিরিক্ত অম্লীয় উপাদান পাকস্থলীর পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট করে।
✔️ কাঁচা টমেটো ও টমেটো সস/কেচাপ: টমেটোর উচ্চ অম্লতা পেটে তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স ঘটায়।
✔️ কাঁচা আম ও অতিরিক্ত টক বরই: টক ফলের অ্যাসিড ক্ষতস্থানের নিরাময় বিলম্বিত করে।
✔️ তেঁতুল: অতিরিক্ত টক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
✔️ আচার ও চাটনি: তেল, অতিরিক্ত ঝাল ও ভিনেগারের মিশ্রণ আলসারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
✔️ ভিনেগার / সিরকা: তীব্র অম্লতার কারণে পাকস্থলীর আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
🔰 উত্তেজক ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
কালো কফি (ব্ল্যাক কফি) ও রেগুলার কফি: ক্যাফেইন সরাসরি পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসরণ বাড়ায়।
✔️ কড়া দুধ-চা বা লিকার চা: ট্যানিন ও ক্যাফেইনের কারণে বুক জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়।
✔️ কার্বনেটেড কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস / সোডা): পেটে গ্যাস সৃষ্টি করে আলসারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।
✔️ এনার্জি ড্রিংক: উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন ও চিনি পাকস্থলীকে উত্তেজিত করে।
✔️ অ্যালকোহল বা মদ: পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক মিউকাস স্তর ধ্বংস করে ক্ষতকে গভীর করে তোলে।
✔️ অতিরিক্ত বরফযুক্ত বা তীব্র ঠান্ডা পানি: পাকস্থলীর স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
🔰 মিষ্টি, ডেইরি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
✔️ চকলেট ও কোকো পাউডার: খাদ্যনালীর নিচের ভাল্বকে শিথিল করে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দেয়।
✔️ ফুল-ক্রিম বা ঘন দুধ: সাময়িক আরাম দিলেও পরবর্তীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড রিবাউন্ড ঘটায়।
✔️ অতিরিক্ত মাখন, ঘি ও পনির: অতিরিক্ত স্নেহজাতীয় খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে।
✔️ অতিরিক্ত মিষ্টি ও শিরাযুক্ত মিষ্টি (জিলাপি, চমচম ইত্যাদি): পেটে গাঁজন (fermentation) সৃষ্টি করে গ্যাস বাড়ায়।
✔️ প্যাকেটজাত অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার: আলসারের ক্ষত নিরাময়ে বাধা দেয়।
✔️ মেয়োনিজ ও ভারী সালাদ ড্রেসিং: উচ্চ চর্বিযুক্ত হওয়ায় পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ ফেলে।
✔️ বেকারি আইটেম (পেস্ট্রি, কেক, ডোনাট): অতিরিক্ত চিনি ও ডালডা পাকস্থলীতে প্রদাহ বাড়ায়।
(পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন এবং কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন)
Abdur Rahman
Bachelor of Unani Medicine and Surgery (DU)
DGHS Reg No: U-495
Acupuncturist & Integrative Physician-
Chinese Neuro Acupuncture Center, Sylhet
EX Consultant-
American Wellness Center Sylhet