15/05/2025
পক্স কি ?
পক্স হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস দ্বারা ঘটে। এটি মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণভাবে চিকেন পক্স নামে পরিচিত। তবে এটি প্রাপ্তবয়স্কদেরও আক্রমণ করতে পারে।
লক্ষণ:
শরীরে ফুসকুড়ি বা লালচে ফোস্কা দেখা দেয়।
জ্বর।
মাথাব্যথা।
ক্লান্তি।
ক্ষুধামন্দা।
পক্স মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক। সাধারণত একবার হলে দ্বিতীয়বার হয় না, কারণ শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
পক্স থেকে সেরে উঠতে সাধারণত ১-২ সপ্তাহ সময় লাগে এবং ফোসকা শুকিয়ে গিয়ে দাগ ফেলে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পক্স জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে, যেমন নিউমোনিয়া বা এনসেফালাইটিস।
পক্স কত প্রকার ?
পক্স মূলত দুটি প্রধান প্রকারে বিভক্ত:
চিকেন পক্স (Chickenpox বা Varicella):
এটি ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস (Varicella-Zoster Virus) দ্বারা সৃষ্ট। এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং অত্যন্ত সংক্রামক। শরীরে ছোট ছোট ফোসকা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
স্মলপক্স (Smallpox বা Variola):
এটি ভ্যারিওলা ভাইরাস (Variola Virus) দ্বারা সৃষ্ট এবং এটি অতীতে একটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ ছিল। স্মলপক্সের কারণে শরীরে বড় বড় ফোসকা এবং তীব্র জ্বর হয়। তবে ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্মলপক্সকে পৃথিবী থেকে নির্মূল করেছে, এবং এখন আর এটি দেখা যায় না।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য পক্স:
মাঙ্কিপক্স (Monkeypox): মাঙ্কিপক্স ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা সাধারণত পশু থেকে মানুষে ছড়ায় এবং শারীরিক উপসর্গ চিকেনপক্সের মতো।
কাউপক্স (Cowpox): এটি কাউপক্স ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা গরু এবং অন্যান্য পশুর মধ্যে দেখা যায় এবং মানুষে সংক্রমিত হতে পারে।
এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পক্স ভাইরাস আছে যা নির্দিষ্ট প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় এবং মাঝে মাঝে মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে।
পক্স কি ভাবে ছড়ায় ?
পক্স সাধারণত ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি বিভিন্ন উপায়ে ছড়াতে পারে। পক্সের ধরন অনুযায়ী ছড়ানোর পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ পদ্ধতি দেওয়া হলো:
1. শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে:
চিকেন পক্স খুব সহজেই শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি থেকে নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় এবং এটি অন্য মানুষের দেহে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
2. সরাসরি সংস্পর্শে আসা:
আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের ফুসকুড়ি বা ফোস্কার সংস্পর্শে আসলে ভাইরাস ছড়াতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ফোসকা ফেটে গেলে সেই তরল দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে।
3. দূষিত বস্তু বা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসা:
কোনো পৃষ্ঠ বা বস্তুর সাথে সরাসরি সংস্পর্শে আসলে যেখানে ভাইরাস উপস্থিত রয়েছে, সেই ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। যেমন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে বা বিছানাপত্রে ভাইরাস থেকে থাকতে পারে।
4. প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমণ:
কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির পক্স, যেমন মাঙ্কিপক্স বা কাউপক্স, পশু থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। সংক্রামিত প্রাণীর কামড়, আঁচড়, বা তাদের শরীরের কোনো নিঃসরণ থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
5. গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের সময়:
গর্ভাবস্থায় মা যদি পক্সে আক্রান্ত হন, তাহলে সেই ভাইরাস শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া প্রসবের সময়ও সংক্রমণ হতে পারে।
এই কারণে, পক্স থেকে সুরক্ষিত থাকতে সঠিকভাবে হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
পক্স হলে করনীয় ?
পক্স হলে কিছু বিশেষ সতর্কতা এবং যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পক্স হলে করণীয় কিছু সাধারণ পদক্ষেপ দেওয়া হলো:
1. বিশ্রাম:
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। এতে শরীর দ্রুত সেরে ওঠে।
2. তরল গ্রহণ:
শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পানি, ফলের রস, এবং তরল খাবার খাওয়া উচিত। এটি জ্বর এবং ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
3. চুলকানি কমানো:
পক্সে চুলকানি একটি সাধারণ উপসর্গ। চুলকানি কমানোর জন্য ঠান্ডা পানির ভেজানো কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চুলকানি কমানোর ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন ক্যালামাইন লোশন।
4. ত্বকের যত্ন:
ফোসকা বা ফুসকুড়ি খুঁটবেন না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং দাগ পড়তে পারে। পরিচ্ছন্ন এবং ঢিলেঢালা কাপড় পরুন, যা ত্বকের উপর চাপ তৈরি করে না।
5. সংক্রমণ প্রতিরোধ:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, বিশেষ করে যারা আগে কখনো পক্সে আক্রান্ত হননি। সাধারণত পক্স খুব সংক্রামক হয়, তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
6. পুষ্টিকর খাবার খাওয়া:
সঠিক পুষ্টি পেতে সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এতে শরীর দ্রুত সুস্থ হতে পারে।
7. ডাক্তারের পরামর্শ:
জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ খুব বেশি হলে বা যদি রোগটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কখনো কখনো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
8. হাইজিন বজায় রাখা:
ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং নিজের ব্যবহার করা জিনিসপত্র আলাদা রাখা প্রয়োজন। কাপড়, তোয়ালে, এবং বিছানাপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
9. ব্যথা ও জ্বর নিয়ন্ত্রণ:
ব্যথা বা জ্বর থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসপিরিন এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, কারণ এটি রেই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই সব পদক্ষেপ অনুসরণ করলে পক্স থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
পক্স হলে কি খাবার খাওয়া যাবে ।
পক্স হলে খাদ্যাভ্যাসের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাবার খেলে শরীর দ্রুত সেরে উঠতে পারে, অন্যদিকে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যা উপসর্গকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। নিচে কী খাওয়া উচিত এবং কী এড়িয়ে চলা উচিত সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হলো:
পক্স হলে যা খাওয়া উচিত:
পুষ্টিকর তরল খাবার:
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
ফলের রস (যেমন কমলার রস), নারকেলের পানি, এবং স্যুপ খেতে পারেন।
ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইটস বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ফল এবং শাকসবজি:
নরম এবং সহজপাচ্য ফল যেমন কলা, আপেল, পাকা পেঁপে, আঙ্গুর ইত্যাদি খেতে পারেন।
শাকসবজি যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া, এবং লাউ খাওয়া ভালো।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার:
ডিমের সাদা অংশ, মুরগির স্যুপ, এবং মাছের স্যুপ খাওয়া যেতে পারে।
পক্সের সময় শরীরের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দই এবং দুধ খেতে পারেন।
কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার:
ভাত, ওটমিল, এবং খিচুড়ি খাবার হিসেবে ভালো।
হালকা ভাত বা নরম রুটি খাওয়া যেতে পারে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পক্স থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সহায়ক হয়। এ সময়ে হালকা, সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
পক্স হলে কি খাওয়া যাবে না ?
পক্স হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো উপসর্গকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বা শরীরের সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। নিচে পক্স হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয় তা উল্লেখ করা হলো:
1. মসলাযুক্ত এবং ঝাল খাবার:
ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার শরীরে জ্বালা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ফোসকা বা ফুসকুড়ির কারণে চুলকানি বাড়তে পারে। এ ধরনের খাবার হজমেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
2. অম্লীয় (অ্যাসিডিক) খাবার:
লেবু, টমেটো, আনারস, এবং অন্যান্য অ্যাসিডিক ফল এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো মুখের ঘা বা গলা ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা পক্সের সময়ে সাধারণ সমস্যা।
3. তেলযুক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার:
ভাজাপোড়া এবং তেলযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং শরীরের দুর্বলতা বাড়াতে পারে। এ সময় হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উত্তম।
4. প্রক্রিয়াজাত খাবার:
প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড, এবং চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এ ধরনের খাবারে পুষ্টি কম এবং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে।
5. ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়:
কফি, চা, এবং সফট ড্রিংকসের মতো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পান করা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে এবং সেরে ওঠার প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে।
6. দুগ্ধজাত খাবার (কিছু ক্ষেত্রে):
কিছু মানুষের জন্য পক্সের সময় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে শ্লেষ্মা বা কফ বাড়তে পারে, যা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যদি এমন হয়, তাহলে দুধ বা দুধজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
7. অ্যালকোহল:
অ্যালকোহল পান করা একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। এটি শরীরকে ডিহাইড্রেট করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে রোগ সেরে উঠতে সময় বেশি লাগে।
কি টেস্ট এর মাধ্যমে পক্স বুঝাজায় ?
পক্স নির্ণয়ের জন্য সাধারণত চিকিৎসক রোগীর শারীরিক উপসর্গ এবং রোগের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত যদি উপসর্গগুলি পরিষ্কার না হয় বা নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হয়, তখন নিচের কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে পক্স নির্ণয় করা যেতে পারে:
1. ভাইরাল কালচার (Viral Culture):
এই পরীক্ষায় রোগীর শরীরের ফোসকা বা ফুসকুড়ি থেকে তরল সংগ্রহ করা হয় এবং ল্যাবরেটরিতে ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এটি ভাইরাস সনাক্ত করার একটি সরাসরি পদ্ধতি।
2. পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (PCR) টেস্ট:
পিসিআর একটি উচ্চ-সংবেদনশীল পরীক্ষা যা ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল (ডিএনএ) সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস (চিকেন পক্স) বা ভ্যারিওলা ভাইরাস (স্মলপক্স) এর উপস্থিতি নির্ণয় করতে সহায়ক।
3. ডাইরেক্ট ফ্লুরোসেন্ট অ্যান্টিবডি (DFA) টেস্ট:
এই পরীক্ষা ফোসকার স্যাম্পল বা স্ক্র্যাপিং থেকে ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের ধরন নিশ্চিত করা যায়।
4. সেরোলজিকাল টেস্ট:
এই পরীক্ষায় রোগীর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি (IgM এবং IgG) সনাক্ত করা হয়। এটি রোগের সময়কাল এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, IgM অ্যান্টিবডি উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে রোগটি বর্তমানে সক্রিয়।
5. ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি:
এই পরীক্ষায় ফোসকা থেকে সংগৃহীত তরল বা স্ক্র্যাপিং থেকে ভাইরাসের সরাসরি সনাক্তকরণ করা হয় ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে। এটি সাধারণত গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়।
পক্সের ভেকছিন কি ?
পক্সের জন্য কিছু ভ্যাকসিন উপলব্ধ আছে যা এই রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। নিচে পক্সের ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
1. চিকেন পক্স (Varicella) ভ্যাকসিন:
ভ্যাকসিনের নাম: Varicella Vaccine
ব্র্যান্ড নাম: Varivax (USA), Varilrix (UK) ইত্যাদি।
বিবরণ: এই ভ্যাকসিনটি ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, যা চিকেন পক্সের কারণ। সাধারণত এটি শিশুদের জন্য দেওয়া হয়, তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও এটি নেওয়া যেতে পারে যারা আগে কখনও চিকেন পক্সে আক্রান্ত হননি বা যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন।
ডোজ: সাধারণত ১২-১৫ মাস বয়সের প্রথম ডোজ এবং ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও এটি দুটি ডোজে দেওয়া হয়, যার মধ্যে অন্তত ৪ সপ্তাহের ব্যবধান থাকে।
কার্যকারিতা: এই ভ্যাকসিন ৯০% থেকে ৯৮% কার্যকরী, অর্থাৎ যারা এটি গ্রহণ করেন তাদের চিকেন পক্স হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।
2. শিঙ্গলস (Shingles) ভ্যাকসিন:
ভ্যাকসিনের নাম: Herpes Zoster Vaccine
বিবরণ: শিঙ্গলস ভ্যাকসিন মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহৃত হয় যারা পূর্বে চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। শিঙ্গলস হলো ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি ব্যথাযুক্ত ফুসকুড়ি। Shingrix নামক ভ্যাকসিনটি বর্তমানে শিঙ্গলস প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডোজ: Shingrix সাধারণত দুই ডোজে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২ থেকে ৬ মাসের ব্যবধান থাকে। এটি ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য প্রস্তাবিত।
কার্যকারিতা: Shingrix ভ্যাকসিনটি প্রায় ৯৭% কার্যকর, বিশেষ করে ৫০-৬৯ বছর বয়সী মানুষের জন্য।
3. স্মলপক্স (Smallpox) ভ্যাকসিন:
ভ্যাকসিনের নাম: Vaccinia Vaccine
বিবরণ: স্মলপক্স একটি মারাত্মক এবং অতীতে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ছিল, যা ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দ্বারা পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হয়েছে। এজন্য এখন স্মলপক্স ভ্যাকসিন সাধারণ জনসাধারণের জন্য আর প্রয়োজন হয় না, তবে এটি বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন গবেষণা বা সামরিক কর্মীদের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
ডোজ: এক ডোজ ভ্যাকসিনই সাধারণত পর্যাপ্ত ছিল।
কার্যকারিতা: স্মলপক্স ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর ছিল এবং স্মলপক্স নির্মূলের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম।
Farsi Pharma & Care Corner