17/06/2025
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধে কে জিতবে তা বলা অত্যন্ত জটিল, কারণ উভয় দেশেরই নিজস্ব সামরিক ক্ষমতা এবং দুর্বলতা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষক এবং প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলো:
ইরানের সামরিক শক্তি:
* বিশাল সামরিক বাহিনী: ইরানের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা ইসরায়েলের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার বনাম ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০)। তাদের স্থল বাহিনী বেশ বড়।
* ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি: ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তারা প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে বলে জানা গেছে।
* প্রক্সি বাহিনী: ইরান হেজবুল্লাহ এবং হামাসের মতো প্রক্সি বাহিনীর উপর নির্ভর করে, যা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ায় এবং বহুমুখী আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দেয়।
* স্বদেশীয় উৎপাদন: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে জোর দিয়েছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক শক্তি:
* প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: ইসরায়েল সামরিক প্রযুক্তিতে অত্যন্ত উন্নত, বিশেষ করে বিমান বাহিনীতে। তাদের কাছে অত্যাধুনিক F-35, F-16 এবং F-15 যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা ইরানের পুরোনো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে থাকা বিমানগুলির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
* বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইসরায়েলের কাছে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন আয়রন ডোম, ডেভিডের স্লিং, এবং অ্যারো রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিরোধে সক্ষম। তবে, কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলায় ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্ষম নাও হতে পারে।
* গোয়েন্দা সক্ষমতা: ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ইরানের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম বলে জানা গেছে, যা তাদের অপারেশনাল পরিকল্পনায় সহায়তা করে।
* মার্কিন সমর্থন: ইসরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পায়, যা তাদের সামরিক শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
* পারমাণবিক সক্ষমতা: ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, যা একটি চূড়ান্ত প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কেমন হতে পারে:
* ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়: সম্ভবত উভয় পক্ষই প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালাবে। ইরান ব্যাপক সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অভিভূত করার চেষ্টা করতে পারে।
* বিমান হামলা: ইসরায়েল তার উন্নত বিমান শক্তি ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচির স্থানগুলিতে আঘাত হানতে চাইবে।
* প্রক্সি যুদ্ধ: ইরান তার প্রক্সি বাহিনীকে ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক ফ্রন্ট থেকে হামলা চালাতে পারে।
* ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: উভয় পক্ষের পক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে, বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং জীবনহানি। ইসরায়েল একটি ছোট দেশ হওয়ায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কে জিতবে?
নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন:
* ইসরায়েল: ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, বিমান শক্তি, এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা তাদের একটি সামরিক সুবিধা দেয়। তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিলম্বিত করতে সক্ষম।
* ইরান: ইরানের বিশাল সামরিক আকার, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এবং প্রক্সি বাহিনীর নেটওয়ার্ক ইসরায়েলের জন্য একটি বড় হুমকি। তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম।
যদি যুদ্ধ সীমিত থাকে, তবে ইসরায়েলের সামরিক শক্তি এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা তাদের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে, যদি এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকে, তবে ইরানের বিশাল জনশক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা একটি ভিন্ন চিত্র তৈরি করতে পারে।
তবে, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ উভয় দেশের জন্যই বিপর্যয়কর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। কোনো পক্ষই সম্পূর্ণভাবে "জেতা" নাও হতে পারে, বরং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হতে পারে।