13/05/2026
প্রিয় দেশবাসী,
সাঈদ ভাইয়ের মৃত্যুর ১৪-১৫ ঘণ্টা আগে আমি বেশ কিছুক্ষণ তাঁর পাশে বসেছিলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলাম। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল নিজ হাতে তাঁর মুখে দুই টুকরো পেঁপে তুলে দেওয়ার; তিনি খেয়েছিলেন, আমিও আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। তবে অবাক হয়ে শুধু দেখেছিলাম সাঈদ ভাইয়ের বাঁচার আকুতি।
সাঈদ ভাই হয়তো জানতেন তিনি আর বেশিক্ষণ বেঁচে থাকবেন না, টাকা দিয়েও তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর পাশে বসে থাকার সময় একপর্যায়ে তিনি আমাকে বলছিলেন, "ভাই, আপনি আগামীকাল একটু আসবেন। আমি আপনার ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইব এবং ক্ষমা চাইব।" যদিও তিনি সেই সময়টুকু পাননি, তার আগেই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নিয়ে গেছেন। তাই আমি সাঈদ ভাইয়ের হয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি; আপনারা সবাই তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন।
আর তাঁর সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগেও তিনি প্রিয় সন্তানদের কথা ভোলেননি। আমার কাছে অসিয়ত করে গেছেন যেন আমি সন্তানগুলোকে মাদ্রাসায় পড়াই। তখন আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ছিল—এত কষ্ট করে টাকা সংগ্রহ করলাম সাঈদ ভাইকে বাঁচানোর জন্য, আর তিনি আমাকে বিদায়ী বক্তব্য শোনাচ্ছেন!
আসল সত্য হলো, সৃষ্টিকর্তা তাঁকে ডাক দিয়ে ফেলেছেন, আমাদের পক্ষে আর তাঁকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। আমি ও আপনারা অনেকেই পরিশ্রম করেছেন সাঈদ ভাইকে বাঁচিয়ে রাখতে, কিন্তু সবশেষে তিনি পৃথিবী ত্যাগ করেছেন।
সবাই দোয়া করবেন সাঈদ ভাইয়ের তিনটি সন্তানকে যেন তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী আমি মাদ্রাসায় পড়াতে পারি। আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দান করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখার শক্তি দেন। আমি নিজেও বেশ কিছুটা অসুস্থ, তারপরও সাঈদ ভাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সাঈদ ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ফান্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে আমার আচার-আচরণে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তবে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
পরিশেষে, সবাই সাঈদ ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।