আদিবাসী বার্তা

আদিবাসী বার্তা Adibasi barta is the Fastest growing , popular & unprejudiced Vlogger

গোদাগাড়ীতে ৩৬ বছর আগে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিও দখলে, অন্যের আশ্রয়ে বাবুলাল।। শান্ত পাহান, আঞ্চলিক প্রতিনিধি ।। সরকারের কাছ থ...
15/08/2026

গোদাগাড়ীতে ৩৬ বছর আগে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিও দখলে, অন্যের আশ্রয়ে বাবুলাল

।। শান্ত পাহান, আঞ্চলিক প্রতিনিধি ।। সরকারের কাছ থেকে ৩৬ বছর আগে ১৬ কাঠা জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন ভূমিহীন বাবুলাল টুডু। কাগজপত্রে জমিটি এখনো তাঁর নামেই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই জমিতে বসবাস করছে অন্য দুটি পরিবার। জমির কিছু অংশ ফাঁকা থাকলেও নিজের বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে ঘর তুলে বসবাসের সুযোগ হয়নি বাবুলালের। ফলে নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহালাল গ্রামের এক আত্মীয়ের জমিতে ছোট ছোট তিনটি মাটির ঘরে পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে বসবাস করেন বাবুলাল টুডু। অথচ পাশের চাত্রাপুকুর গ্রামে তাঁর নামে রয়েছে সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া জমি। বর্তমানে ওই জমিতে বসবাস করছেন অন্যরা।

নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮৯-৯০ সালে গোদাগাড়ীর ১৩৭ নম্বর নন্দাপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ২৯৮ নম্বর দাগে ২৬ শতক জমি ভূমিহীন বাবুলাল টুডুর নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ২৯৭ নম্বর হোল্ডিংও চালু করা হয়।

তবে বাবুলাল বাড়ি নির্মাণের আগেই জমিটি বেদখল হয়ে যায়। নিজের বন্দোবস্ত পাওয়া জমির দখল ফিরে পেতে ২০২৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তিনি। পরে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বাবুলাল টুডুর নামে জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর নামে কবুলিয়ত দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এরপরও জমির দখল বুঝে পাননি বাবুলাল। এ কারণে গত বছর তিনি আবারও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে জমিটির বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রোববার উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান নন্দাপুর মৌজায় গিয়ে নকশা ও জমির অবস্থান সরেজমিনে যাচাই করেন। এ সময় বাবুলাল টুডু ও তাঁর ছেলে সুধীর টুডু উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে নকশা ও জমির অবস্থান মিলিয়ে দেখা যায়, ২৯৮ নম্বর দাগের দক্ষিণ অংশে রয়েছে শহিদুল ইসলামের বাড়ি। কিছুটা উত্তরে ফাঁকা জায়গার পর রয়েছে বেনজিন রহমান সুমনের বাড়ি।

সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান বলেন, নকশা ও জমির অবস্থান যাচাই করে দেখা গেছে, দুইটি বাড়ি এবং মাঝের ফাঁকা জায়গাসহ পুরো অংশই বাবুলাল টুডুর নামে বন্দোবস্ত দেওয়া জমির মধ্যে পড়েছে। জমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫৫ ফুট এবং প্রস্থ ৭৫ ফুট। বন্দোবস্তের পর থেকে জমিটি বাবুলাল টুডুর নামেই রয়েছে। বর্তমানে অন্যরা সেখানে দখলে আছেন।

নিজের জমিতে ঘর তুলতে না পারার আক্ষেপ করে বাবুলাল টুডু বলেন, সরকার তাঁকে বসবাসের জন্য জমি দিয়েছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই অন্যরা বাড়ি নির্মাণ করে জমি দখলে নেয়। তাঁর নামে ১৬ কাঠা জমি থাকার পরও অন্যের জায়গায় বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি নিজের জমি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
এদিকে ওই এলাকায় আরও একটি খাসজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বেনজিন রহমান সুমনের বাড়ির উত্তরে খাসজমির পাশে বলরাম কর্মকারের পরিবার বসবাস করে। বলরামের স্ত্রী কল্পনা রানীর অভিযোগ, তাঁদের বাড়িসহ পাশের ফাঁকা জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বেনজিন রহমান সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর চাচা হারুন-অর-রশিদ বলেন, বলরাম কর্মকারের পরিবারকে তাঁর ভাই ওই জায়গায় বাড়ি করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
হারুন-অর-রশিদ একটি খতিয়ান দেখিয়ে ওই জমি তাঁর বাবা আমিনউদ্দীনের বলে দাবি করেন। পরে সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান খতিয়ান যাচাই করে জানান, আমিনউদ্দীনের জমি ২৯৭ নম্বর দাগে। আর তাঁদের বাড়িটি রয়েছে ২৯৮ নম্বর দাগে। এই ২৯৮ নম্বর দাগের জমিই ৩৬ বছর আগে বাবুলাল টুডুর নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় হারুন-অর-রশিদ বলেন, বাড়িটি যদি সত্যিই বাবুলাল টুডুর বন্দোবস্ত পাওয়া জমির মধ্যে পড়ে, তাহলে তাঁর সঙ্গে আপস-মীমাংসা করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রতিবেদনে বাবুলাল টুডুর বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে অন্যের বাড়ি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর আইন অনুযায়ী অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে বাবুলালকে তাঁর বন্দোবস্ত পাওয়া জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে কাগজে নিজের নামে থাকা জমির দখল ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবুলাল টুডু। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

সেলাই মেশিনে বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী নারী সিমা মিনজির জীবন ।।শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।।একসময় সংসার...
15/08/2026

সেলাই মেশিনে বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী নারী সিমা মিনজির জীবন

।।শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।।
একসময় সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রতিদিন অন্যের জমিতে শ্রম দিতে হতো ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী নারী সীমা মিনজিকে। কখনো ধানের জমিতে, কখনো ফসলের মাঠে রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে দিনভর কাজ করতেন তিনি। দিন শেষে পাওয়া মজুরিই ছিল পাঁচ সদস্যের সংসারের অন্যতম ভরসা। কোনো দিন কাজে যেতে না পারলে সংসারে নেমে আসত অনিশ্চয়তা।

তবে সেই দিন এখন বদলে গেছে। অন্যের জমিতে কাজের জন্য ছুটতে হয় না সীমাকে। নিজের ঘরেই তৈরি করেছেন কর্মস্থল। সামনে সেলাই মেশিন, পাশে কাপড়ের স্তূপ। মাপ নেওয়া, কাপড় কাটা, সেলাই করা থেকে শুরু করে পোশাক তৈরির পুরো কাজই করছেন নিজ হাতে। বর্তমানে সেলাইয়ের কাজ করে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের একটি আদিবাসী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী সীমা মিনজির এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সহায়তায় রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে বদলে গেছে তাঁর জীবন-জীবিকা।

সীমার বিয়ে হয় ২০২১ সালে একই এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ মেকানিক উজ্জ্বল ওরাওয়ের সঙ্গে। তাঁদের এক সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্য পাঁচজন। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের সব খরচ চালানো কঠিন হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই সংসারের পাশে দাঁড়াতে মাঠে কাজ শুরু করেন সীমা।

ধান রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, ফসল কাটা—যে কাজই পাওয়া যেত, সেটিই করতেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্যের জমিতে কাজ করে পাওয়া মজুরি দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতেন। কিন্তু এই কাজ ছিল অনিয়মিত ও শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য।।এরই মধ্যে একটি কমিউনিটি আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগের কথা জানতে পারেন সীমা। পরে রেইজ প্রকল্পের আওতায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি।

প্রশিক্ষণে সীমা বেছে নেন ‘ফ্যাশন গার্মেন্টস ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং’ ট্রেড। তাঁর প্রশিক্ষক ছিলেন মোছা. হাসনা বানু ময়না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই, কাপড়ের মাপ নেওয়া, কাটিং ও পোশাক তৈরির বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে সংগঠনের ঋণ সহায়তায় একটি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতেই কাজ শুরু করেন সীমা। ধীরে ধীরে তাঁর কাজের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের মানুষও এখন তাঁর কাছ থেকে পোশাক তৈরি ও সেলাইয়ের কাজ করাচ্ছেন।

সীমা মিনজি বলেন, “একদিন কমিউনিটি আউটরিচের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারি, প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের কাজ করা যায়। তখন মনে হলো, আমি যদি একটি কাজ ভালোভাবে শিখতে পারি, তাহলে হয়তো আর প্রতিদিন মাঠে কাজ করতে হবে না। সেই ইচ্ছা থেকেই প্রশিক্ষণে ভর্তি হই।”

তিনি বলেন, “ছয় মাসের প্রশিক্ষণে অনেক কিছু শিখেছি। শুরুতে সেলাইয়ের কাজ কঠিন মনে হলেও পরে ধীরে ধীরে শিখে ফেলি। এখন নিজের হাতে কাজ করে মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারি। এই আয় দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি এবং সন্তানের জন্যও খরচ করতে পারছি।”
সীমার স্বামী উজ্জ্বল ওরাও বলেন, “আগে সীমাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করতে হতো। অনেক কষ্ট করেও সেই আয় ছিল অনিশ্চিত। প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার পর সীমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সেলাই শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। এখন সে নিজের ঘরে বসেই কাজ করে আয় করছে। এতে আমি খুবই খুশি।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘরের কাজ সামলে আদিবাসী নারীদের নিয়মিত বাইরে গিয়ে কাজ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সীমা সেলাইয়ের কাজ শিখে ঘরে বসে আয় করার সুযোগ তৈরি করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য নারীদেরও উৎসাহিত করছে।
সংগঠনটির কোঅর্ডিনেটর সামসুত তাবরিজ বলেন, “সীমা মিনজির মতো নারীদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই রেইজ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা যেন সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন, সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিই।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ ও আদিবাসী নারীরা ঘরে বসে আয় করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তাঁদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে এবং পরিবারের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমরা চাই, সীমার মতো আরও নারীরা প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন।”

সীমা এখন শুধু নিজের সংসারে আর্থিক সহযোগিতাই করছেন না, বরং তাঁর সাফল্যের মাধ্যমে আশপাশের অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাঁর হাতে থাকা সেলাই মেশিন যেন হয়ে উঠেছে নতুন জীবনের প্রতীক।

গুইমারায় সড়ক দূ'র্ঘট'নায় নি'হত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। নি'হত ব্যক্তির নাম শুদ্ধ অং মারমা (৪০), পিতা- রুইচাই মারমা, গ্...
15/08/2026

গুইমারায় সড়ক দূ'র্ঘট'নায় নি'হত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। নি'হত ব্যক্তির নাম শুদ্ধ অং মারমা (৪০), পিতা- রুইচাই মারমা, গ্রাম: পাগলাপাড়া, পাতাছড়া ইউনিয়ন, রামগড় উপজেলা।

১৫ আগস্ট: শোকের পাশাপাশি আদিবাসীদের না-বলা ইতিহাসের কথাও মনে রাখা দরকার১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গভীর বেদনার দিন...
15/08/2026

১৫ আগস্ট: শোকের পাশাপাশি আদিবাসীদের না-বলা ইতিহাসের কথাও মনে রাখা দরকার

১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গভীর বেদনার দিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব, পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তবে একটি রাষ্ট্রের ইতিহাস কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইতিহাস নয়; রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ইতিহাস, অবদান, বেদনা ও অধিকারও সেই ইতিহাসের অংশ। তাই ১৫ আগস্টের শোকের দিনে বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কথাও স্মরণ করা প্রয়োজন।

১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি—এই অভিযোগ আজও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরং রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কাঠামোয় একক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বহু জাতিগোষ্ঠী নিজেদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত বোধ করেছে।

অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল একটি জনগোষ্ঠীর অর্জন নয়। পাহাড়ের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, খিয়াংসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং সমতলের অসংখ্য আদিবাসী মানুষও মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাভাবে অবদান রেখেছেন। কেউ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, কেউ খাদ্য ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আবার কেউ নিজের জীবন পর্যন্ত হারিয়েছেন। তাঁদের অবদান বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে আরও বেশি দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অনেকেই ভূমি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি নিয়ে নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ও পরিচয়ের প্রশ্ন আজও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি শান্তির প্রত্যাশা তৈরি করলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—একসময় যাদের বলা হয়েছিল, “বাঙালি হয়ে যাও”, আজও তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়েও আদিবাসীদের পরিচয়কে সংকুচিত করার বক্তব্য নতুন করে সেই পুরোনো ক্ষতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিচয় বদলে ফেলার পরামর্শ কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না; বরং তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ায়।

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে বাঙালি তার বাঙালি পরিচয় নিয়ে গর্ব করবে, আর চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, সাঁওতাল, গারো, হাজংসহ প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীও তাদের নিজস্ব পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সমান মর্যাদায় বাঁচবে।

দেশপ্রেমের অর্থ কারও পরিচয় মুছে ফেলা নয়; বরং ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে সমান মর্যাদায় আপন করে নেওয়া। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর তাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি সংঘাত নয়, স্বীকৃতি; বিভাজন নয়, সমঅধিকার; অবজ্ঞা নয়, মর্যাদা।

১৫ আগস্টের শোক আমাদের ইতিহাসের বেদনাকে স্মরণ করুক। একই সঙ্গে এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দিক—বাংলাদেশের ইতিহাসে যাদের কণ্ঠ বহুদিন প্রান্তে পড়ে আছে, তাদের কথাও জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্রে স্থান দিতে হবে।

যে স্বাধীনতার জন্য এত মানুষ রক্ত দিয়েছেন, সেই স্বাধীনতার বাংলাদেশ যেন কোনো নাগরিকের পরিচয় অস্বীকার করার বাংলাদেশ না হয়। বরং এটি হোক এমন একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র—যেখানে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী বলতে পারে: এই দেশ আমারও, এই স্বাধীনতা আমারও, এই বাংলাদেশের ইতিহাসে আমারও সমান অধিকার আছে।

কলমে ✍️
Valentina Tripura

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সাধনাটিলা বন বিহারে ভান্তেদের জন্য সুস্বাদু খাবার উপহার দিয়েছে বিজিবির বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)
14/08/2026

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সাধনাটিলা বন বিহারে ভান্তেদের জন্য সুস্বাদু খাবার উপহার দিয়েছে বিজিবির বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)

আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।। শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে।।বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার ম...
14/08/2026

আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

।। শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে।।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের পরিচয়, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের লেখক ও রাণীশংকৈল উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সহ-সভাপতি শান্ত পাহান। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের ঐতিহাসিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই।” অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক।” এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের অধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শান্ত পাহান বলেন, “আমাদের নিজেদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতিগত পরিচয়। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে আসছি। তাই আমাদের আত্মপরিচয়কে অস্বীকার বা প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি বলেন, “আমরা মানছি যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। রাষ্ট্রীয় নথিতে আমাদের অনেককে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো একটি পরিভাষা দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের জাতিগত পরিচয়, ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করা যায় না।”
শান্ত পাহান আরও বলেন, বাংলাদেশের সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁওসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছেন এবং দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং জাতিগত পরিচয় এক বিষয় নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজস্ব জাতিসত্তার পরিচয় বহন করতে পারেন। নাগরিকত্বের জায়গায় আমরা সবাই সমান, কিন্তু জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জায়গায় প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।”

কোনো জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় নিয়ে মন্তব্য করার আগে সেই জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন শান্ত পাহান। তিনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংবেদনশীল, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতিগত পরিচয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই মতপার্থক্য যেন কোনো জনগোষ্ঠীর মানুষের মর্যাদা, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে খাটো করার কারণ না হয়। এ বিষয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে জানিয়ে শান্ত পাহান বলেন, “আমরা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতিগত পরিচয়ের মর্যাদাও চাই। সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জাতিগত পরিচয়ের মর্যাদার কোনো বিরোধ নেই।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যই দেশের অন্যতম শক্তি। বিভিন্ন জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে সম্মান ও সংরক্ষণ করা হলে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। পরিচয় নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
শান্ত পাহান আরও বলেন, কোনো জাতিসত্তার পরিচয়কে অস্বীকার বা প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের মতামত ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, ভাষা, সংস্কৃতি ও বাস্তবতার আলোকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।

সবশেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের অনুভূতি, মর্যাদা ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান শান্ত পাহান।
তিনি বলেন, “কোনো জাতিসত্তার পরিচয় অস্বীকার নয়—বরং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করেই সমঅধিকার, মর্যাদা ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের অংশ, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক; একই সঙ্গে আমরা আমাদের নিজস্ব জাতিসত্তার মানুষ। এই দুই পরিচয় পাশাপাশি বহন করাই আমাদের বাস্তবতা।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রতিটি জাতিসত্তার মানুষের আত্মপরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। কোনো জনগোষ্ঠীকে অবজ্ঞা বা হেয় না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
শান্ত পাহান বলেন, “আমরা চাই না জাতিগত পরিচয় নিয়ে কোনো ধরনের বিভাজন বা উত্তেজনা সৃষ্টি হোক। আমরা চাই যুক্তি, ইতিহাস, গবেষণা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ বিষয়ে আলোচনা হোক। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতাকেও সেই আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দেশের সব জাতিসত্তার মানুষের মর্যাদা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার গরুকাটা এলাকায় গতকাল রাতে (১৩ আগস্ট ২০২৬) এক সেটলার বাঙালির গোয়ালঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটন...
14/08/2026

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার গরুকাটা এলাকায় গতকাল রাতে (১৩ আগস্ট ২০২৬) এক সেটলার বাঙালির গোয়ালঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার পর থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর ৮টি ও বিজিবির ২টি গাড়ির উপস্থিতির পাশাপাশি মোটরসাইকেলযোগে প্রায় ২০০ জনের মতো সেটলার বাঙালি এসে অবস্থান নিয়েছে। এই বিপুল জমায়েত ও থমথমে পরিস্থিতিতে স্থানীয় নিরীহ জুম্ম জনগণ নতুন করে হামলা বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মশা-মাছির উপদ্রব থেকে গবাদিপশুদের রক্ষা করতে গোয়ালঘরে ধোঁয়া সৃষ্টির জন্য আগুন দেয়া হয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে সেখান থেকেই মূলত এই আগুনের সূত্রপাত। তবে স্থানীয়রা গভীরভাবে আশঙ্কা করছেন যে, এই দুর্ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য কোনো অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এবং পাহাড়িদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তথ্যসূত্র: Paharkontho

🌿 সকল আদিবাসী ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আমন্ত্রণ 🌿ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আমাদের শিকড়কে উদযাপন করতে আসুন সবাই একসাথে মিলিত হই ...
14/08/2026

🌿 সকল আদিবাসী ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আমন্ত্রণ 🌿

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আমাদের শিকড়কে উদযাপন করতে আসুন সবাই একসাথে মিলিত হই ৭ম ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব ২০২৬-এ।

আপনাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণেই উৎসবটি হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও সফল। 🙏🌺

বাঘাইছড়ি ও সাজেকে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃ’ত্যু, এলাকায় শোকের ছায়ারাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ও সাজে...
14/08/2026

বাঘাইছড়ি ও সাজেকে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃ’ত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ও সাজেক ইউনিয়নে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে অনুষ্কা চাকমা (৫) ও আন্দারা চাকমা (১২) নামে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এতে এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খেদারমারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজিত বিকাশ চাকমার ৫ বছরের মেয়ে অনুষ্কা চাকমা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত জমে থাকা পানির ডোবায় পড়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"

অন্যদিকে, সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় কাচালং নদীতে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যায় আন্দারা চাকমা (১২)। নিহত শিশুর বাবা লক্ষিরঞ্জন চাকমা জানান, গত ১১ আগস্ট দুপুরে তার ছেলে নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ৩ দিন পর আজ দুপুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুরছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জুলফিকার ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে গোসল করতে গিয়ে শিশুটি তলিয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান তাৎক্ষণিকভাবে নিহিতা অনুষ্কার বাড়িতে ছুটে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

কোমলমতি শিশুদের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় সচেতন মহল শিশুদের জলাশয়ের আশেপাশে খেলাধুলা ও চলাফেরার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জেসি ডেইজি মারাক বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায়ের প্রথম কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে...
14/08/2026

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জেসি ডেইজি মারাক বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায়ের প্রথম কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তিনি ৩৩ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি সেই চাকরি করেন নি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্ম জেসি ডেইজির। পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই শিক্ষক হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বড় হয়েছেন। নেত্রকোনার বিরিশিরি মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকার হলি ক্রস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেছিলেন তিনি।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করায় তার লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়া। কিন্তু মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে না পারায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। শুরুতে এই সিদ্ধান্ত ছিল অনেকটা বাধ্য হয়েই নেওয়া। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার নতুন এক জগৎ তার সামনে উন্মোচিত হয়।

প্রথম বর্ষেই নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। নিয়মিত ক্লাস, মনোযোগী অধ্যয়ন এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুতই বিভাগে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ভাষাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি স্প্যানিশ ও জার্মান ভাষাও শেখেন।

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েন জেসি ডেইজি। তিনি গারো সম্প্রদায়ের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে ওঠেন। একই সময়ে ৩৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তিনি সরকারি প্রশাসনের চাকরির পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকেই বেছে নেন।

শিক্ষকতা বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার গভীর আগ্রহ। তিনি বিশেষভাবে মান্দি (গারো) ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী।
দেশের আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণ ও ভাষাবৈচিত্র্য নিয়ে তার কাজ ইতোমধ্যেই শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আদিবাসী বার্তা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আদিবাসী বার্তা:

Shortcuts

Share