11/08/2026
আমার জন্ম ১৯৮৪-তে। তাই ছোটবেলাটা কেটেছে সেই অসামান্য ৮০ আর ৯০-এর দশকের সন্ধিক্ষণে। আজ পেছনে তাকালে মনে হয়, সময়টা কত ধীরস্থির ছিল! আতিশয্য কম ছিল, অথচ সেই কমের মধ্যেই কী অদ্ভুত এক প্রাচুর্য ছিল। আমরা তখন একটা ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। তাকে 1BHK-ও বলা যাবে না। একটা বড় bedroom, ছোট্ট একটা attached Indian toilet; বাড়িতে ঢুকলেই বাঁদিকে একফালি রান্নাঘর আর ডানদিকে একফালি বসার জায়গা—যেখানে বড়জোর দুটো চেয়ার পাতা যাবে। আমাদের শোয়ার ঘরটাতে ছিল দুটো জানলা। জানলার ঠিক ধারেই একটা ডোবার মতো ছোট্ট পুকুর, তার পাশেই বস্তি। সেই বস্তির মানুষগুলোর অনেকেই আশেপাশের মধ্যবিত্ত বাড়িগুলোতে কাজ করতেন। আমাদের জীবন আর তাঁদের জীবন তখন কত স্বাভাবিকভাবেই পাশাপাশি বয়ে যেত। এই বাড়িটার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা ছিল দরজা দিয়ে বেরোলেই একরত্তি উঠোন, তারপর বিরাট একটা বাগান। সুপারি, নারকেল, আম, পেয়ারা, সজনে, নিম—কী ছিল না সেখানে! কত রকম ফুলের গাছ। একপাশে একটা handpump কল। বাড়ির সব ভাড়াটেই সেখান থেকে জল নিয়ে নিজেদের কাজ করত। আমার যখন আট মাস বয়স তখন নাকি আমরা ওই বাড়িতে এসেছিলাম। আমার নিজের মনে থাকা সবচেয়ে পুরনো স্মৃতিগুলোর একটা অবশ্যই রোববার গুলোর। রোববার মানেই মাংস। আলু দিয়ে মাংসের ঝোলের গন্ধে সারা বাড়ি ম' ম করত। ঝোল নামার আগেই বাটি করে মা দুটুকরো মাংস আর আলু চেখে দেখতে দিত। এই চেখে দেখার স্বাদ আসল মাংসের থেকেও দ্বিগুণ ভালো। তারপর ঠিক সকাল দশটা বাজলেই আমাদের ঘরের ওই জানলা দুটো মৌমাছির চাকের মতো ভরে যেত। বস্তির লোকজন এসে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে Doordarshan-এ B. R. Chopra-র Mahabharat দেখত। আমি তখন চার কি পাঁচ বছর। কী বুঝতাম জানি না। কিন্তু সেই দৃশ্যগুলো আজও আশ্চর্য রকম পরিষ্কার। জানলার ওপারে মানুষের ভিড়। ঘরের মধ্যে Mahabharat-এর আওয়াজ। রবিবার সকাল। একেবারে জমজমাট। '৯১ সালে আমরা চলে এলাম আমাদের East Road-এর বাড়িতে। বাবা নিজের বাড়ি করল। ভাড়া বাড়িটা ছিল তখনকার Santoshpur-এর একেবারে প্রাণভোমরা—মিনিবাস stand-এর কাছে। বাজার, দোকান, বাস, গাড়ি—সব হাতের কাছে। নতুন বাড়িটা ছিল একটু ভেতরে। চারপাশে বাঁশবন, সবুজ, দু-একটা খড়ের চালের বাড়ি। বেশ একটা গ্রাম-গ্রাম পরিবেশ। বর্ষায় বাড়ির সামনে জল জমত। রাস্তা তখনও পাকা হয়নি—মেঠো, এঁদো একটা রাস্তা। কতদিন সকালে উঠে দেখেছি পাশের জমিতে কে যেন বড় বড় গর্ত খুঁড়ে রেখে গেছে। পরে শুনেছি, শিয়াল। সন্ধে নামলেই এলাকা কেমন তাড়াতাড়ি নিঝুম হয়ে যেত। ওই মিশমিশে অন্ধকারে করপোরেশনের টিমটিমে ল্যাম্পপোস্ট হার মানত। খুব চুরিও হত। একবার আমরা ঘরে বসে আছি। বাবা তখন মাঝে মাঝেই JU-এর খাতা দেখতো, সেদিনও তাই। আমি পাশে বসে পড়ছি, মা রান্না করছে। এমন সময় একজন অপরিচিত লোক সাইকেল নিয়ে জানলার কাছে এসে একটা জায়গার ঠিকানা জিজ্ঞেস করল। বাবা খুব স্বাভাবিকভাবেই বুঝিয়ে দিল। লোকটা চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর মা পাশের ঘরে গিয়ে দেখল—বিছানার পুরো চাদরটাই নেই! বুঝলাম ওই লোকটা আমাদের কথা বলে কিছুক্ষণের জন্য ব্যস্ত রেখেছিল। আজও ভাবলে অবাক লাগে। আবার এই বাড়িতেই ছিল আমাদের কত ছোট ছোট আনন্দ। টিভিতে চিত্রহার চলছে, হঠাৎ ছবি ঝিকঝিক করছে। ব্যস—বাবা ছুটল ছাদে antenna ঠিক করতে। একটু ঝড় উঠলে, বৃষ্টি পড়লে, বা কাক-শালিক antenna-র ওপর বসে সেটাকে এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে দিলে আবার ছবি চলে যেত। এ প্রায় রোজকার ঘটনা। আরেকটা অনবদ্য জিনিস আমাদের বাড়িতে ছিল tape recorder।
মা আমাকে ছোটবেলায় ছোট ছোট আবৃত্তি শেখাত। আমি বলতাম, বাবা সেগুলো tape recorder-এ record করে cassette বানিয়ে রাখত। ওরকম করে মায়ের গান গাওয়ার ক্যাসেটও বানানো ছিল। কত যত্ন করে বাবা সেগুলো রেখে দিত! নতুন বাড়িতে এসেও সেই সব cassette চলেছে কতবার। মা অসম্ভব রবীন্দ্রসঙ্গীত ভালোবাসত। এখনও বাসে। বাড়িতে কত সেসব গানের cassette ছিল! আর tape জড়িয়ে গেলে রবিবারে বাবার সেই tape recorder খুলে cleanser দিয়ে পরিষ্কার করার একটা আলাদা ritual-ই ছিল। আমার মা দারুণ cake বানাত। আমার জন্মদিনে, যেকোনো ছুটিতে প্রতিবছর মা কেক বানাতো। একটা electric oven ছিল আমাদের। মা cake বানালেই গোটা বাড়ি জুড়ে একটা মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। আর সেই cake mould-এর মাঝখানে একটা লম্বাটে গোল অংশ তৈরি হত— আরেকটা ছোট্ট cake-এর মতো। আমার কাছে সেটাই ছিল আসল attraction। ওটা খাওয়ার আনন্দটাই যেন আলাদা।
এখন ভাবি, তখনকার জীবনটায় কত সামান্য জিনিসের মধ্যেই কতখানি excitement ছিল। আমরা কেউ কোনোদিনই বুঝিনা, এইসবই একদিন আমাদের কাছে luxury হয়ে যাবে। সময় এগিয়ে যায়। বাড়ি বদলায়। শহর বদলায়। মানুষ বড় হয়। জিনিসপত্র বদলে যায়। শুধু কিছু কিছু দুপুর, কিছু রবিবার সকাল, কিছু গন্ধ আর কিছু শব্দ—কোথাও একটা জায়গায় ঠিক আগের মতোই থেকে যায়। মাথার ভিতর, মনের ভিতর লেপ্টে থাকে। আজ এই পোস্ট টা করতে করতে হঠাৎ খুব ইচ্ছে করছে সেই পুরনো বাড়িটার দরজা খুলে একবার ঢুকি। দেখি, উঠোনটা এখনও আছে কি না। বাগানের নারকেল গাছটা আছে কি না। দুটো জানলার সামনে দাঁড়ালে এখনও কি সকাল দশটার Mahabharat-এর ভিড়টা চোখে পড়বে? শুনেছি, সে বাড়ি ভেঙে এখন বিরাট অট্টালিকার মতো ফ্ল্যাট তৈরি হয়ে গেছে। সমাজের এই খামখেয়ালি নিয়ম ভাঙার যে কোনো রাস্তাই নেই!
যদি সত্যিই সময়ের একটা reverse gear থাকত -- আমি খুব বেশি পিছনে যেতাম না। শুধু একটা অমন রবিবার সকাল। সকাল দশটা। ব্যস! তারপর আবার ফিরে আসতাম।
নীচে আজকে নিউটাউন থেকে তমালিকার অর্ডার। মেনুতে ছিল --
কাজু বেরেস্তা পোলাও
মোরগ পোলাও
মাটন কালোভুনি
কাতলা রেজালা
ছানার পাতুরি
বেগুন সোহিনী
এরকম খাবার আপনারও যদি খেতে, বা খাওয়াতে ইচ্ছে করে তাহলে আমাকে সরাসরি whatsap এ যোগাযোগ করে নেবেন। আর আমার কিচেন এর সব updates একদম নখদর্পণে রাখতে নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলেই সোজা পৌঁছে যাবেন সেই ঠিকানাতেও।
https://whatsapp.com/channel/0029VbD9eYT8fewwOwFwvi2Z
খুব শিগগিরি প্রতিবারের মতো রাখিবন্ধন আর জন্মাষ্টমীর অর্ডার নেওয়া শুরু করব। যারা নিতে ইচ্ছুক, পোস্টগুলো খেয়াল রাখবেন শুধু।
📞 090383 26001