26/07/2026
(*ইসলামে বহু বিবাহঃ হিকমত ও বিধান*)
(*মুফতী:লুৎফুর রহমান ফরায়েজী সাহেব*)
ইসলাম একটি স্বভাবজাত দ্বীন। রব্বে কারীম যেহেতু স্রষ্টা। তাই তিনি ভালো করেই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও চাহিদা পরিপূর্ণ জানেন। জানেন তার চাহিদা পূর্ণ করার সঠিক পদ্ধতিও।
মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমিত। তাই সে অনেক সময় আল্লাহর প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্ত অনুধাবন করতে অক্ষমতার পরিচয় দেয়। না বুঝে আল্লাহর যৌক্তিক ও যথার্থ বিধানের বিরোধিতা করে থাকে।
এর মাঝে একটি বিধান হল, একাধিক বিবাহ করা।
আশ্চর্যের বিষয় হল, যে পশ্চিমা সমাজ মাথা থেকে পা পর্যন্ত চরিত্রহীনতার অতলে নিমজ্জিত। বৈধ স্ত্রীকে রেখে অবৈধ বহুগামিতা যাদের কাছে কোন দোষণীয় নয়। সেসব নীতিহীন লোকগুলোই ইসলামের একাধিক বিয়ের বৈধতা বিষয়ে আঙ্গুলি তুলে থাকে বেশি।
এর চেয়ে অবাক করা বিষয় কী হতে পারে যে, অবৈধ বহুগামিতাকে স্বাভাবিক ও প্রশ্নাতীত ধরে বৈধ ও নিয়মসিদ্ধ একাধিক বিয়েকে করা হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।
অথচ অবৈধ বহুগামিতায় নেই কোন দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেবলি জৈবিক চাহিদা পূরণই উদ্দেশ্য। ‘নারীকে ভোগ কর এবং ছুঁড়ে ফেলে দাও’ এ মানসিকতাই হল পশ্চিমা নষ্ট মানসিকতা।
পক্ষান্তরে ইসলামের বহুবিবাহের বিধানে রয়েছে প্রতিটি স্ত্রীর প্রতি অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব, কর্তব্য এবং যিম্মাদারী।
একাধিক বিয়ের কিছু হেকমত
১
মুমিনের নিকট তাক্বওয়া পরহেযগারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পুরুষকে আল্লাহ তাআলা যৌন শক্তি অধিক দান করেছেন। এমন ব্যক্তিদের জন্য এক স্ত্রী যথেষ্ঠ নয়।
মহিলাদের বিভিন্ন প্রকার উজর পেশ হয়। যার ফলে স্বামীরা স্ত্রীদের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে পারে না। যেমন প্রতি মাসে ঋতুস্রাব হয়। অন্ত্বসত্বাকালীন সময়ে শিশু বাচ্চার সাস্থ্য সুরক্ষায় স্বামীকে স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে হয়। প্রসবের পর নেফাসের কারণে মাসাধিক সময় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হয়।
এছাড়া বয়সের সাথে নারীরা পুরুষের তুলনায় খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
তাই অধিক যৌন শক্তিসম্পন্ন পুরুষদের একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা না হলে উক্ত পুরুষের গোনাহে লিপ্ত হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়ে যায়। বাস্তবে এর নজীরও অনেক।
২
বিবাহের একটি উদ্দেশ্য সন্তানলাভও। পুরুষ একই সময়ে একাধিক স্ত্রীর মাধ্যমে একাধিক সন্তানের বাবা হতে পারে। একাধিক বিবাহের মাধ্যমে বিবাহের উদ্দেশ্য পূর্ণতায় সহায়ক।
৩
একাধিক নারীর প্রতি আসক্তি পুরুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাই এটাকে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে সীমিত করাটাই যৌক্তিক।
৪
অনেক সময় স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনের মিল থাকে না। কিন্তু সন্তানদের দিকে তাকিয়ে সংসার করে যেতে হয়। তখনো দ্বিতীয় বিয়ে করা ছাড়া গত্যান্তর থাকে না।
৫
প্রথম স্ত্রী অনেক সময় বন্ধ্যা হয়ে থাকে। তখন উক্ত স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে উত্তম পদ্ধতি এটাই যে, আরেকটি বিয়ে করে নেয়া। হতে পারে আল্লাহর রহমাতে সন্তানের নেয়ামত অর্জিত হবে।
৬
মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া হাদীসের আলোকে এবং বাস্তবতার নিরিখে প্রমাণিত। এছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, কিংবা শারিরীক সৌন্দর্য বিষয়ে দোষত্রুটির কারণেও অনেক মেয়ের বিবাহ হয় না।
একাধিক বিবাহের মাধ্যমে এসব মেয়েদেরও একটি আশ্রয়স্থল পাওয়া সম্ভব হয়।
একাধিক বিয়ের অনুমতি না থাকলে এসব নারীদের অনেকেই অভিভাবকহীন কষ্টের জীবন অতিবাহিত করতে হয়।
৭
অনেক সময় সমাজপতি, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের জন্য একাধিক বিয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই একাধিক বিয়ের অনুমোদন না থাকলে রাজনৈতিক অনেক সমস্যা ঘনিভূত হতো, যার সমাধান পাওয়া মুশকিল।
৮
একাধিক বিবাহ করা সহজ ও অনুমোদিত হলে যিনা, ব্যভিচার কমে আসবে। এ কারণেই দেখা যায়, যেসব রাষ্ট্রে একাধিক বিবাহ আইনত নিষিদ্ধ, কিংবা একাধিক বিবাহকে খারাপ চোখে দেখা হয়, সেসব রাষ্ট্রে ও সমাজে যিনা ও ব্যভিচার ব্যাপক ও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
[ *রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআ শরহে হুজ্জাতিল্লাহিল বালেগাহ, মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহঃ কৃত:৫/৯৮-৯৯, পৃষ্ঠা*)
(*আলমাসালিহুল আকলিয়্যাহ লিলআহকামিন নক্বলিয়্যাহ, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ কৃত:১৯৪-২০৩, পৃষ্ঠা*)
( *আলফিক্বহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু:৭/১৭৩-১৭৬, পৃষ্ঠা*]
উপরোক্ত হেকমত ও অন্যান্য হেকমতের কারণে ইসলাম একাধিক বিবাহের অনুমতি প্রদান করেছে।
*فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ*
*﴿النساء: ٣)*
নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় বিবাহ কর, দুই-দুইজন, তিন-তিনজন, অথবা চার-চারজনকে।
* *[সূরা নিসা:৩]*
(*একাধিক বিয়ের শর্তাবলী*)
একাধিক বিবাহ করা শর্তহীনভাবে ইসলামে বৈধতা দেয়নি। বরং বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে একাধিক বিবাহের বৈধতা প্রদান করেছে। যেমন-
১
সকল স্ত্রীদের সাথে বাহ্যিক সকল বিষয়ে সাম্যতা বজায় রাখা আবশ্যক। রাত্রিযাপন, কাপড় চোপড়, বাসস্থান, খাবার দাবার ইত্যাদি বিষয়ে সব স্ত্রীদের সাথে সমান রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কারো সাথে কমবেশি করা যাবে না।
[ *ফাতাওয়া শামী:৪/৩৭৮, পৃষ্ঠা*]
যদি ইনসাফ ও সাম্যতা রক্ষা করতে অক্ষম মনে হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি নেই।
*فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً*
*﴿النساء: ٣)*
অবশ্য যদি আশংকা বোধ কর যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীতে (ক্ষান্ত থাক)।
*[সূরা নিসা-৩]*
২
একাধিক স্ত্রীর মাঝে এক স্ত্রীর প্রতি অধিক আগ্রহ, আরেক স্ত্রীকে একদম অগ্রাহ্য করা *জায়েজ নেই*।
*وَلَن تَسْتَطِيعُوا أَن تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِن تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا*
*﴿النساء: ١٢٩)*
তোমরা চাইলেও স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে সক্ষম হবে না। তবে (কোনও একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে অন্যজনকে মাঝখানে ঝুলন্ত বস্তুর মত ফেলে রাখবে। তোমরা যদি সংশোধন কর ও তাকওয়া অবলম্বন করে চল, তবে (জেনে রেখ), আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
*[সূরা নিসা:১২৯]*
অর্থাৎ মোহাব্বত ও ভালোবাসায় স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়। কেননা মনের উপর কোন মানুষের হাত থাকে না। কাজেই এক স্ত্রী অপেক্ষা অন্য স্ত্রীর উপর যদি ভালোবাসা বেশি হয়, সে কারণে আল্লাহ তাআলা পাকরাও করবেন না।
কিন্তু বাহ্যিক আচার-আচরণে সমতা রক্ষা করা জরুরী। অর্থাৎ একজনের কাছে যত রাত থাকবে, অন্যজনের কাছেও তত রাতই থাকতে হবে। একজনকে যে পরিমাণ খরচ দিবে, অন্যজনকেও তাই দিতে হবে। এমনিভাবে একজনের প্রতি আচরণ এমন করবে না, যদ্দরুণ অন্যজনের মনে আঘাত লাগতে পারে এবং সে ধারণা করতে পারে, তাকে বুঝি মাঝখানে লটকে রাখা হয়েছে।
* *[তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, মুফতী তাকী উসমানী কৃত]*
লটকে রাখা বা ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার অর্থ হল, যে স্ত্রীর প্রতি মনের আকর্ষণ কম থাকে তার দাবী পূর্ণ করেও দেয়া হয় না আবার তাকে পরিত্যাগও করা হয় না।
*[মাআরেফুল কুরআন, মুফতী শফী রহঃ কৃত]*
(*সমতা না বজায় রাখার পরিণতি*)
একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা বজায় রাখা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি এতে অবহেলা করা হয়, তাহলে আখেরাতে এর জন্য কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
*عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ*
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের নিকট দু’জন স্ত্রী আছে সে লোক যদি তাদের মাঝে ইনসাফের সঙ্গে সমব্যবহার না করে, তবে সে তার এক পার্শ্ব ভগ্ন অবস্থায় কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে।
* [ *সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং:১১৪১,*)
(*সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং:১৯৬৯]*
এ হাদীস একাধিক বিয়েকারী ব্যক্তিদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা। জযবায় একাধিক বিয়ে করে যারা স্ত্রীদের মাঝে সমতা বজায় রাখে না, এক স্ত্রী পেয়ে আরেক স্ত্রীর হক আদায়ে গরিমসি করে, তাদের ভয়াবহ পরিণাম হবে আখেরাতে।
(*একাধিক বিয়েকে খারাপ মনে করা*)
বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে সমাজ বাস্তবতায় একাধিক বিয়ে করাকে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়। নোংরা এবং বাজে শব্দে বিষয়টিকে উপস্থাপন করা হয়। যিনি কোন কারণে একাধিক বিয়ে করে থাকেন, তাকে নিয়ে নানা ধরণের কটু মন্তব্য ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।
আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, এমন কি অনেক ধার্মিক এবং উলামায়ে কেরামকেও এ বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়।
অথচ একাধিক বিয়ে করা *কুরআনের আয়াতের আলোকে বৈধ*। যে বিষয় কুরআন বৈধতা দিয়েছে, সেই বিষয়ে কটু মন্তব্য করা কতটা ভয়ানক জিনিস একবার ভাবার ও চিন্তা করার প্রয়োজনও অনেকে অনুভব করেন না।
ফুক্বাহায়ে কেরাম দ্বিতীয় বিবাহকে যারা তিরস্কার করে, তাদের কাফের হয়ে যাবার ফাতওয়া প্রদান করেছেন।
[ *ফাতাওয়ায়ে শামী, জাকারিয়া:৪/১৪১, পৃষ্ঠা*]
তবে যদি কেউ দ্বিতীয় বিয়েটাকে তিরস্কার করছে না, বরং যিনি বিয়ে করেছেন, তার মাঝে ইনসাফ বজায় না রাখার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ায়, উক্ত ব্যক্তির তিরস্কার করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফের হবে না।
[ *ফাতাওয়া শামী:৪/১৪১, পৃষ্ঠা*]
(*প্রথম স্ত্রীকে খুশি রাখতে দ্বিতীয় বিয়ে না করা উত্তম*)
যদি কোন স্বামী প্রথম স্ত্রী যেন দুঃখিত না হয়, এজন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা পরিত্যাগ করে, তাহলে এর জন্য স্বামী সওয়াবের অধিকারী হবে।
[ *ফাতাওয়ায়ে শামী:৪/১৪১, পৃষ্ঠা*]
(*একাধিক বিয়েকারী ব্যক্তি কি সর্বোত্তম❓*)
*বুখারীতে বর্ণিত* একটি হাদীস দিয়ে অনেকে দলীল দিয়ে থাকেন যে, একাধিক বিয়েকারী ব্যক্তি এক বিয়েকারীর চেয়ে উত্তম।
*হাদীসটি হল,:*
*عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: قَالَ لِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هَلْ تَزَوَّجْتَ؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَتَزَوَّجْ؛ فَإِنَّ خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَكْثَرُهَا نِسَاءً*
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র রহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনে ‘আব্বাস রাঃ আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছ❓ আমি বললাম, না। তিনি বললেন, বিয়ে কর। কারণ, এই উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির অধিক সংখ্যক স্ত্রী ছিল।
[ *সহীহ বুখারী, হাদীস নং:৫০৬৯]*
এক নাম্বার বিষয় হল, এটি সরাসরি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস নয়। বরং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এর কথা।
*দ্বিতীয় বিষয় হল,:* আমভাবে একাধিক বিয়েকারীকে এখানে উত্তম বলা হয়নি, বরং মূল বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে উম্মতের মধ্যে যিনি সবচে’ শ্রেষ্ঠ তিনি শুধু বিয়েই করেননি, বরং একাধিক বিয়ে করেছেন, সুতরাং বিয়ে করাটা উচিত বলে ইবনে আব্বাস রাঃ বিয়ে করতে উদ্ভুদ্ধ করেছেন।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু একাধিক বিয়ে করার কারণে উত্তম নন, বরং তিনি উত্তম হবার অসংখ্য অগণিত গুণাগুণ তার মাঝে বিদ্যমান ছিল।
এ হাদীসে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য, সেটি আরো স্পষ্ট হয় অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হাদীসের শব্দের দিকে তাকালে। যেমন-
*মুসনাদে আহমাদের ২০৮৪ নং হাদীসে*)
*كَانَ أَكْثَرَهَا نِسَاءً*
পরিস্কার শব্দে كان সহ উক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া *মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৫১০৯,* *আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস নং-১২৩১৩* এর মাঝে একই শব্দে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
তবে একাধিক স্ত্রী থাকলে তিনি সর্বোত্তম ব্যক্তি এমন ব্যাখ্যাও বাতিল নয়।
একাধিক বিয়েকারী যদি শরয়ী সকল শর্ত মেনে বিয়ে করে শরয়ী বিধান অনুপাতে সংসার করে থাকেন, তাহলে তিনি শ্রেষ্ঠ হতে পারবেন। কারণ,
১ তিনি একাধিক পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন।
২ ন্যায়নিষ্ঠতা ও সমতা রক্ষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন।
৩ নিজের নফস ও খাহেশাত হেফাজতে অন্যদের তুলনায় অধিক সতর্ক থাকতে পারেন।
ইত্যাদি কারণে একাধিক বিবাহকারী উত্তম হতে পারেন। কিন্তু যদি শরয়ী নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে না পারেন। তাহলে তিনি কোনভাবেই এক বিয়েকারীর চেয়ে উত্তম হতে পারেন না।
দ্বিতীয় বিবাহ করা, একাধিক বিবাহ করা জরুরী কোন বিষয় নয়। সুন্নত ও নয়।
তবে কুরআন ও হাদীস অনুপাতে শরীয়তে জায়েজ একটি বিষয়। তাই এটাকে মন্দ বলা, সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
*واللہ اعلم بالصواب*
(*প্রচারে: Qari Ahmadullah Ishaati