21/09/2026
স্বামীর ইনকামের সর্বপ্রথম হক থাকে স্ত্রীর, এরপর সন্তান, এরপর মা/বাবা/ভাই/বোন। এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিস কি বলে?
ইসলামে স্বামীর আয়ের খরচের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ আইনগত ও ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক (ফরজ), যা অন্য সবার ওপর অগ্রাধিকার পায়।
তবে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব এবং অন্যদের হকের বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
১. স্ত্রীর হক (সর্বপ্রথম বাধ্যতামূলক অধিকার)কুরআন: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "পিতার দায়িত্ব হলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের (মায়েদের) খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।" (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৩)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, "সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে।" (সুরা আত-তালাক, আয়াত ৭)।
হাদিস: বিদায় হজের ভাষণে ও বিভিন্ন হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের অন্ন ও বস্ত্রের অধিকারকে স্বামীর ওপর সবচেয়ে আবশ্যিক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেছেন।মূল কথা: স্ত্রী যেহেতু নিজের সব কিছু ছেড়ে স্বামীর সংসারে আসেন এবং স্বামী তার ভরণপোষণের পূর্ণ দায়িত্ব নেন, তাই ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী বিবাহিত অবস্থায় স্ত্রীর খোরপোশ (নাফাকাহ) দেওয়া স্বামীর ওপর অকাট্য ও প্রথম বাধ্যতামূলক হক। স্ত্রী সচ্ছল হলেও তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানো স্বামীর দায়িত্ব।
২. সন্তানের হকদায়িত্ব: স্ত্রী ছাড়াও স্বামীর উপার্জনের দ্বিতীয় বড় অংশীদার হলো তার সন্তান। সন্তানরা ছোট এবং নিজের উপার্জনে অক্ষম হলে তাদের খাওয়া, পরা, বাসস্থান ও শিক্ষার খরচ বহন করা পিতার ওপর ফরজ।নাবালক সন্তান কিংবা উপার্জনক্ষম না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণ স্ত্রীর পরেই স্বামীর আয়ে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার পায়।
৩. মা-বাবার হককুরআন: মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও তাদের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর তোমার পালনকর্তা নির্দেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো।" (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)।ভরণপোষণ: মা-বাবা যদি দরিদ্র হন এবং নিজেরা উপার্জন করতে না পারেন, আর ছেলের সামর্থ্য থাকে, তবে মা-বাবার ভরণপোষণ করাও সন্তানের ওপর ফরজ।পার্থক্য: স্ত্রীর ভরণপোষণ শর্তহীনভাবে ফরজ (স্ত্রী ধনী হলেও দিতে হয়), কিন্তু মা-বাবার ভরণপোষণ ফরজ হয় তখন, যখন তারা অভাবগ্রস্ত হন এবং সন্তান সামর্থ্যবান হয়। তবে মা-বাবার সেবা, সম্মান ও আনুগত্যের স্থান সবার উপরে।
৪. ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনভাই-বোন বা অন্যান্য আত্মীয়দের হক মূলত তখন আসে যখন তারা চরম দরিদ্র বা অসহায় হন এবং আপনার উপার্জনে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত থাকে। সাধারণ অবস্থায় ভাই-বোনের ভরণপোষণের সরাসরি আইনি দায়িত্ব স্বামীর ওপর থাকে না, তবে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা এবং একান্ত প্রয়োজনে সাহায্য করা ইসলামের নৈতিক শিক্ষা।সারসংক্ষেপইসলামে কে কার আগে বা পরে—এমন কোনো নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর সব পরিস্থিতির জন্য নির্ধারণ করা নেই।
তবে প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো:
১. স্ত্রী ও সন্তান: যাদের ভরণপোষণ দেওয়া আইনগত ও ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক ও চুক্তিবদ্ধ (ফজর্য় আইন)।
২. মা-বাবা: যারা অভাবগ্রস্ত হলে তাদের খরচ দেওয়া ফরজ এবং যাদের সেবা ও সম্মান সর্বাবস্থায় পালনীয়।
স্বামীকে তার উপার্জিত আয় থেকে প্রথমে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মা-বাবা বা পরিবারের অন্য হকদারদের প্রতিও দায়িত্ব পালন করে স্বামীর ইনকামের সর্বপ্রথম হকদার তার বউ। এরপর সন্তান,তারপরে হচ্ছে মা বাবা।
স্বামীর আয়ের প্রথম হকদার হলো তার স্ত্রী। এরপর আসে সন্তানদের অধিকার।