23/09/2026
স্মৃতির পাতায় সেন্ট মিশেল দ্য ভালোয়া- সাঝের বেলা
(Saint-Michel-de-Maurienne)
প্রায় চার-পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ হঠাৎ খুব মনে পড়ছে ফ্রান্সের রোন-আল্পস অঞ্চলের সাবোয়া এলাকার সেই ছোট্ট, শান্ত শহর সেন্ট মিশেল দ্য ভালোয়ার কথা—যেখানে জীবনের সুন্দর দুটি বছর কাটানোর সুযোগ হয়েছিল।
চারিদিকে উঁচু উঁচু আকাশছোঁয়া পাহাড়ে ঘেরা অসম্ভব সুন্দর ও শান্ত এক জনপদ। কোনো কোলাহল নেই, নেই শহুরে ব্যস্ততা—চারপাশে শুধুই বিশুদ্ধ বাতাস আর প্রকৃতির অপার নীরবতা।
গ্রীষ্ম ও বসন্তে এই পাহাড়গুলো ঢেকে যেত ঘন সবুজের চাদরে। আর শীত এলে? প্রকৃতি যেন তার রূপ পুরোপুরি বদলে ফেলত! পুরো শহরটা নিমেষেই পরিণত হতো এক রূপকথার 'হোয়াইট সিটি'-তে। হাঁটু সমান বরফ জমে থাকা পথ ধরে আমি বের হয়ে পড়তাম—পায়ে হেঁটে বরফের সৌন্দর্য উপভোগ করা, ছবি তোলা আর প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়াটা ছিল আমার অন্যতম প্রিয় অনুভূতি।
বিশেষ করে বিকেল কিংবা সন্ধ্যার সময়গুলো ছিল আমার সবচেয়ে পছন্দের। মন চাইলেই বের হয়ে যেতাম হাঁটতে। বনের পথে হেঁটে যাওয়ার সময় চারপাশে নাম না জানা কত ফুল আর স্বাবলম্বী গাছের ফল ধরে থাকত, যার কোনো নির্দিষ্ট মালিকানা ছিল না! কুড়িয়ে আর ছিঁড়ে সেই মিষ্টি ফল খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা।
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নিচ থেকে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা সারি সারি ঘরবাড়িগুলোর মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে একদম উপরে উঠে যেতাম। সেখান থেকে যখন নিচে তাকাতাম, পুরো উপত্যকাটাকে অপূর্ব মনে হতো। সন্ধ্যা নামলেই প্রতিটি বাড়িতে একটা একটা করে সোডিয়াম আলো জ্বলে উঠত। আর পাহাড়ি নিঃশব্দতায় সেই আলোর রোশনাই তৈরি করত এক অলৌকিক দৃশ্য।
প্রকৃতির প্রতি আমার যে গভীর আকর্ষণ, তা যেন এই সেন্ট মিশেল দ্য ভালোয়াতেই সবচেয়ে বেশি রূপ পেয়েছিল। স্মৃতির পাতায় সেই দিনগুলো আজ এত বছর পরেও একদম অমলিন। মনটা আজও চায়, আবার একবার ছুটে যাই সেই বরফে ঢাকা শান্ত পাহাড়ের কোলে! 🏔️❄️✨