27/01/2022
ইয়াম ইয়াম ট্রি রেস্টুরেন্ট, একটি স্বপ্নের নাম, একটি সম্ভাবনার নাম। একটা লড়াইয়ের নাম, একটা ভালোবাসার নাম। হার না মানা দুজন মানুষের গল্পগাঁথা ইয়াম ইয়াম ট্রি রেস্টুরেন্ট।
জনাব এপিজে আব্দুল কালামের স্বপ্ন নিয়ে সেই বিখ্যাত উক্তি আমরা সবাই মুটামুটি জানি। সেই উক্তির আলোকেই কিছু কথা বলতে এলাম। ইয়াম ইয়াম ট্রি রেস্টুরেন্ট সম্পুর্ণ Nafizএর স্বপ্ন। রেস্টুরেন্টে মজার মজার খাওয়ার বাইরে রেস্টুরেন্ট নিয়ে আমার কোন স্বপ্ন কখনোই ছিল না এটা সত্য। কিন্তু গত ১৫ বছরের বেশি সময় নাফিজের সাথে বাস করে কখন যে রেস্টুরেন্ট আমার রক্তের শিরা উপশিরায় প্রবেশ করেছে আমি নিজেও টের পাইনি। আমাদের সংসারে পোশাক ছাড়া কোন কিছুই তোমার আমার আলাদা না। স্বপ্নও আলাদা না।
সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের জুনে রানার প্লাজায় ছোট করে শুরু করি সেটা আপনারা মুটামুটি সবাই জানেন। সেখান থেকে জ্বলেশ্বরীতলা রাখি ম্যানশনে শিফট করা, বৈশ্বিক ম-হা-মা-রী আসা, আমাদের রেস্টুরেন্টে চুরি হওয়া তারপর রেস্টুরেন্ট ছেড়ে দিয়ে বাসা থেকে ডেলিভারি দেয়া পর্যন্তও অনেকেই জানেন। জানেন না এর পিছনে আমাদের কষ্ট, মন ভেঙে যাওয়া, সকল পুঁজি শেষ করা, পাওনাদারদের অকথ্য ভাষা, চতুর্দিকে টাকার জন্য অপমান হতে হতে নাফিজের আত্নহত্যার চেষ্টা করা - এসব আপনাদের অজানা।
আমাদের মনোবল, আত্নবিশ্বাস সব যখন তলানীতে তখনও আমি হাল ছাড়িনি আল্লাহর ভরসায়। আল্লাহকে দিনের পর দিন বলেছি আল্লাহ যা হারিয়েছি তা তুমি আমাদের আবারও দিবা, কিভাবে দিবা তুমি জানো কিন্তু তুমি দিবা সেই ভরসা আমার আছে। আলহামদুলিল্লাহ এক মুহুর্তের জন্যও আল্লাহর রহমতের উপর বিশ্বাস থেকে এক চুলও সরিনি। আল্লাহ সেই ভরসার প্রতিদান দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। একজন ফেরেশতা পাঠিয়েছেন আমাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য।
আমাদের স্বপ্ন দালান তুলে গাড়ি হাঁকানো নয়, আমাদের স্বপ্ন তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা, মেয়েটাকে মানুষ করে একটা সৎ হাতে তুলে দেয়া এতোটুকুই। আর যদি আল্লাহ আমাদের মতো নাদান বান্দাদের উনার ঘর দেখার সুযোগ দেন তাহলে জীবনে আর কিছু অপূর্ণ থাকেনা। নাফিজের প্রথম থেকেই ইচ্ছে নিজ জেলার, নিজ শহরের মানুষের জন্য ব্যুফের মতো একটা সিস্টেমে অভ্যস্ত করা। যেখানে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিময় মূল্যে একজন মানুষ অনেক আইটেমের খাবার উপভোগ করতে পারবে। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের অনেকেই ভোজন রসিক থাকেন, যারা বিভিন্ন খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে চান কিন্তু একার পক্ষে ৩০/৪০ আইটেম করে খেতে গেলে প্রচুর বাজার করতে হয়। অনেক সময় তা হয়ে উঠে না। কিন্তু ব্যুফেতে সেটা সম্ভব। ব্যুফেতে খাওয়ায় তাড়াহুড়োর কিছু নেই, ধীরে সুস্থে একটা একটা করে আইটেমের স্বাদ উপভোগ করা যায় নিজের মতো করে।
সাধারণত উন্নত বিশ্বে ব্যুফের কিছু নিয়ম থাকে যেমন একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয় খাবার খাওয়ার জন্য। আমরা তা করছিনা। আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা খাবার খেতে পারবেন। আমরা খাবার রিফিল করছি শেষ হবার আগেই। আমরা একদিনের বেঁচে যাওয়া খাবার পরদিন দিচ্ছিনা। যেদিন যতটুকু বেঁচে গেল সেটা ছিন্নমূল মানুষ ও স্টাফদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দিচ্ছি কিন্তু আপনাদের দিচ্ছিনা। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ আমাদের খাবারের স্বাদ, মান বা পরিমাণ নিয়ে কেউ কোন অভিযোগ করতে পারে নাই। জানেন তো খাবারের স্বাদ বাড়াতে সকল উপকরণ সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হয়। কোন উপকরণ কম হলেই স্বাদটা ঠিক থাকেনা। সুতরাং স্বাদ ধরে রাখতে এসবও খেয়াল রাখতে হয়।
হ্যাঁ আমরা পারতাম শসা, টমেটো, গাজর, লেবু এমন টাইপ স্বাদবর্ধক দিয়ে আইটেম সংখ্যা বাড়াতে। কিন্তু আমরা আপনাদের ৪০+ আইটেম জানিয়েছি মেইন আইটেম গুলো দিয়ে। এগুলোর নাম বললে ৭০+/৮০+ অনায়াসে বলতে পারতাম। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। আমরা quantityর চেয়ে প্রাধান্য দেই quality 😊
আমরা খুব কষ্ট পাই যখন আপনারা অমুক জায়গা তমুক জায়গার সাথে আমাদের তুলনা করেন। একটা কথা ভাবুনতো আপনাদের মা-বাবা যখন বলেন পাশের বাড়ির অমুক তোর চেয়ে ভালো তখন কষ্ট পাননা? সবাই পান। কারণ আল্লাহর দুনিয়ায় সেম বলে কিছু নেই। প্রত্যেকের নিজস্বতা আছে, স্বকীয়তা আছে। কারো সাথে তুলনা না করে আমাদের মতো করেই আগাইতে দেন না প্লিজ। ঠকবেন না কথা দিচ্ছি। একদিন আপনারাই অন্য জেলায় গিয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন - "আমাদের বগুড়ায় গিয়ে ব্যুফে খেয়ে আসেন। দেখবেন পয়সা উসুল হবে, মন ভরবে।" ইনশাআল্লাহ সেই দিন দূরে না। শুধু আপনারা সাথে থাকুন।
আমরাও চাই, মনেপ্রাণে চাই আপনাদের আরো কমের মধ্যে ব্যুফে দিতে। কিন্তু কিভাবে দেব বলুন? বাজারের অবস্থা দিনের পর দিন বেহাল হচ্ছে। প্রতিটা জিনিসের দামে আগুন। আমরা যদি মানের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে পারতাম তাহলে হয়তো আপনাদের আরো কমে দিতে পারতাম। কিন্তু তখন দেখা যেত আমার নিজের সন্তানকে বা নিজের লোকদেরই আমাদের রেস্টুরেন্টে খেতে দিতে পারতাম না। সেটা কি ঠিক হত বলুন? যে খাবার আমার সন্তানসহ আরো মায়ের সন্তানেরা খায় সেখানে কম্প্রোমাইজ কি সম্ভব মানের প্রশ্নে? সম্ভব না কিন্তু।
সবশেষে আপনাদের কাছে সবিনয়ে অনুরোধ প্লিজ প্লিজ প্লিজ নেগেটিভ কিছু বলে আমাদের মনোবল ভাংবেন না প্লিজ। আপনাদের জন্য অনেক কিছুই প্ল্যান করছি। সাথে থাকুন, আপনাদের খাইয়ে আমরাও তিনবেলা খেয়ে বাঁচতে চাই এই অনুরোধ টুকু রাখুন প্লিজ। আপনাদের ভালোবাসায় টিকে থাকতে চাই অনেক দিন ইনশাআল্লাহ।