19/06/2026
কিছু লোক আছে সবকিছুতে তাদের নেগেটিভিটি। আমার আগের অফিসের কলিগ ছিল এরকম। বর্ষাকালে বৃষ্টি হইত আজ এত বৃষ্টি ভালো লাগতেছে না আবার যখন বৃষ্টি হইত না, সেদিন বলতাছেন বর্ষাকালে বৃষ্টি না হলে কি ভালো লাগে!
এই কারণে তাদের সাথে কথা বলে, গল্প করে মজা পেতাম না। এই নেগেটিভিটি আসলে সংক্রামক একজন থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায়।
কিছু লোক আছে তারা সমাধানের চেয়ে গেয়ে বেড়াতে পছন্দ করে বেশি। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিবে না। আবার কেউ কেউ আছে পুরোপুরি বাইনারিতে চলে যাবে। করলে পুরোটা শতভাগ করবো, না করলে মোটেও করবো না!
খাবারে ভেজাল নিয়ে দেখবেন সারাদেশেই মানুষ যেরকম গসিপ করে, কিন্তু তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তেমন কোন পদক্ষেপ নিবে না। সরকারের জন্য বসে থাকবে। সরকার আমলারা কেমন, সেটা তো আমরা জানি।
কেউ ৬ মাসের মাত্র ৩ থেকে ৪ দিন সময় দিলে সে তার খাবারের অলমস্ট ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নিজেই সংগ্রহ করতে পারে ভেজাল মুক্ত। এটা কয়জনে করে দেখেন।
আর কেউ আছে করলে পুরোপুরি অর্গানিক করতে চাইবে না হলে করবেই না। সেই বাইনারী আরকি।
এখন আম লিচুর সিজন যাচ্ছে। আম লিচুতে কি পরিমাণ কীটনাশক প্রয়োগ করে, সেটা আমি ২০০৮ সালে রাবিতে থাকা অবস্থায় রাজশাহীর ঐদিকে দেখে আসতেছি, এখন হয়তো বহুগুণ বেড়েছে। আর এগুলো হারভেস্ট করার পরে কেউ দেয়, কেউ দেয় না, সেটা তো আলাদা হিসাব। নতুন যোগ হয়েছে গ্লাইফোসেট নামক ঘাস মারার বিষ। যা কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
কিছু দিন আগে আমি লিখেছিলাম কিছু বাগানি এবং ব্যবসায়ীর উচিত ট্রায়াল বেসিসে হলেও PHI মেইনটেইন করা। প্রানীর ক্ষেত্রে WDI মেইনটেইন করা। যা নিরাপদ খাবারের একদম বেসিক।
তখন একজন বললেন, "যতদিন হেভিমেটাল এবং রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস মুক্ত কীটনাশক আমদানি ও তার ব্যবহার বন্ধ না হবে, ততদিন পিএইচআই শতভাগ মেইনটেইন করা হলেও ফসল থেকে হেভিমেটাল এবং রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস যাবে না।"
জ্বী সেটা ঠিক। তবে সেটা তো আমাদের হাতে নেই। এটা রাজনৈতিক ও সরকারি পলিসির বিষয়। কিন্তুু সেইজন্য তো ততদিন আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না, বা অন্যদের মতো বলতে পারছি না, দেশ ছেড়ে চলে যাবো।
এখন আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব আপাতত ততটুকুই করতে পারি। অন্ততপক্ষে কৃষক ও ভোক্তাদের প্রাকটিস হোক, বিষয় গুলো জানুক। গত ৪০/৫০ বছরের খারাপ প্রাকটিস তো আর একদিনে ঠিক হবে না। আর জনমত ও তৈরি হতে থাকবে।
কয়েক জন আম চাষি ও ব্যবসায়ীকে বলেছিলাম আপনারা অল্প কিছু হলে ও দুই একটা বাগানে ট্রায়াল হিসেবে আম PHI মেইনটেইন করে, হারভেস্ট করেন। করেছে কিনা জানি না, জানাতে বলেছিলাম, জানায়নি।
কৃষিবিদ মাহমুদ সে যেখানে থাকে, ছোট একটা বাগান আছে, সেখানে PHI মেইনটেইন করতে। গ্লাইফোসেট নামক ঘাস মারার বিষ না দিতে। ডকুমেন্টস আকারে তথ্য রাখার জন্য একটা ফরম্যাট ও করে দিয়েছিলাম। সে ডকুমেন্টস মেইনটেইন করেছে। আর প্রাকটিকালি ও এখন থেকে ৪০ দিন আগে শেষ কীটনাশক স্প্রে করেছে, এরপর আর কীটনাশক স্প্রে করেনি। আজ খেয়ে দেখলাম টেস্ট ভালোই।
আসলে অন্যরা কে কি করবে, বা করবে না, এসব না ভেবে বসে থাকার চেয়ে, আপনি আপনার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই আপাতত শুরু করেন। এক পা হলে, এক পাই আগান!
সারাদেশ নিয়ে সবার চিন্তা করা দরকার নেই। সেই জন্য আলাদা মানুষ আছে, তারা হয়তো আমার লিস্টে নেই। আপনার পরিবারের জন্য করেন। আত্মীয় স্বজনের জন্য করেন, আপনার ৩০০-৪০০ কাস্টমারের কথা চিন্তা করে করেন।