08/03/2024
#গোবর_কম্পোস্ট_সার তৈরী পদ্ধতি
অনেকেই প্রশ্ন করেন ঠিক কি ভাবে বাড়িতেই সর্বোত্তম কোয়ালিটির জৈব সার তৈরী করবো, তাদের জন্য এই পোস্ট।
়
দেশী গরুর কাঁচা গোবর দুই থেকে তিন ফুট চওড়া করে পিরামিড শেপে ম্যাক্সিমাম দুই আড়াই ফুট উচ্চতায় যতোটা খুশি লম্বা করে ছাওয়া জায়গায় রাখতে হবে। এবার একটা বাঁশ নিয়ে ঐ গোবরের স্তুপে গর্ত করে দিন এক দেড় ফুট ছাড়া ছাড়া। ঐ গর্তেই গোমূত্র, জল, কম্পোস্টিং ব্যকটেরিয়া কালচার বা ভালো গুড় গোলানো জল ঢালুন। গোবর টা সবসময়ই ভেজা ভেজা অবস্থায় রাখবেন। প্রয়োজনে এই গোবরের স্তুপের উপর হালকা করে খড় চাপিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়াও এই গোবরের উপর কুইন্টাল প্রতি চার পাঁচ কেজি সরিষার/ তিল/ বাদাম খোল ছড়িয়ে দিতে পারেন, এর সাথে মিশিয়ে নিন কুইন্টাল প্রতি দুই তিন কেজি সৈন্ধব লবন, এক দুই কেজি ফিটকিরি, এক কেজি চুন। এর সাথে মেশাতে পারেন যেকোনো মিস্টি ফলের এনজাইম এটাকে আরো সুন্দর আর তাড়াতাড়ি বানাতে।
দিন পনেরো পর এই গোবর স্তুপ কে কোদাল দিয়ে নাড়াচাড়া করে আবার একই রকম ভাবে রেখে দিন। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ঝুরো ঝুরো কম্পোস্ট সার তৈরী হয়ে যাবে, যদি কোনো কারণে কম্পোস্ট দেরীও হয় ম্যাক্সিমাম তিন মাস সময় লাগবে।
এই প্রসেসের গোবর সার সর্বোত্তম কোয়ালিটির হয় কারন এটি কোল্ড প্রসেসে তৈরী হয়, এতে অর্গানিক কার্বনের পরিমাণ প্রায় 56% অবধি হতে পারে, কোল্ড প্রসেসে তৈরী হয়ে থাকে বলে সমস্ত ভালো ব্যকটেরিয়া এতে জীবন্ত অবস্থায় থাকে। এই সার গরম হয়ে থাকবে না, বরফ শীতল সার পাবেন বাড়িতেই।
মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে এই সার খুব কার্যকরী 😊। বাড়িতে গরু থাকলে গর্তে গোবর ফেলে না রেখে এভাবে কম্পোস্ট করে ব্যবহার করুন, গর্তের গোবর বছরের শেষে তুলে জমিতে ফেলার যে ট্র্যাডিশন আছে ভারতে সেটা ভারতের জমির বহু ক্ষতি করেছে আগামীতেও করবে হয়তো যদি এটা বন্ধ না করা হয়। কারণ এই গর্তের গোবরে অনেক ধরনের ক্ষতিকর ফাঙ্গি ও ব্যকটেরিয়া, লাল মাথার কেঁচো, হোয়াইট গ্রাফ ( শেকড় কুরে কুরে খায় এরা) আরো অনেক ক্ষতিকর পোকা থাকে, যেটা চাষীরা নিজের হাতে নিজের জমিতে ছড়িয়ে দিয়ে আনন্দে থাকে।
ধন্যবাদ 🙏🙏!
#কম্পোস্ট #রিপোস্ট