23/08/2025
আজকে দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কার ইউটার্ণ নেওয়ার সময় অপজিট থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান উপরে আঁচড়ে পড়লে একই পরিবারের ৪ জন মারা যায়। যেখানে Bank Asia PLC. এর রূপনগর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার & তার পরিবার ছিলো।
খবরটি শোনার পর ধারণা করছিলাম সম্ভবত কাভার্ড ভ্যান চালক গতি নিয়ন্ত্রণ না-করতে পেরে চাপা দেয় কারটিকে।
সব মিডিয়াতেও দেখলাম এরকম ধারণা দিয়ে নিউজ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে দূর্ঘটনাটির কয়েক সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসায় বুঝলাম এই দূর্ঘটনায় মূল দায়টা রং সাইড দিয়ে আসা একটা হানিফ বাসের। অথচ বাসটির কথা সারাদিনে নিউজে আলোচনার বাইরে ছিল।
কারটি খুব দ্রুতগতিতে ইউটার্ণ নিচ্ছিলো চট্টগ্রামমুখী রাস্তা থেকে ঢাকামুখী রাস্তায়, ঠিক একই সময়ে মুহূর্তের মধ্যেই রং সাইড দিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাস হাজির হয়ে যায়। কাভার্ড ভ্যান তখনো অনেক দূরে ছিল, কারটি পার হয়ে যেতে পারতো। বাট হানিফের সঙ্গে দূর্ঘটনা এড়াতে কারটি ইউটার্ণ নিতে গিয়ে ব্রেক করে ফেলে, একইসময়ে দ্রুতগতিতে চট্টগ্রাম দিক থেকে ঢাকামুখী কাভার্ড ভ্যানটি সংঘর্ষ এড়াতে ব্রেক কষে সাইড কেটে যেতে যাইতে চাইলে প্রথমে কারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, বাট গতি বেশি প্লাস ব্রেক চেপে অল্প জায়গায় ঘুরতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি উল্টে পড়ে যায় কারের উপর। কার চালকের এত দ্রুত ইউটার্ণ নেওয়া ঠিক ছিল না বাট কাভার্ড ভ্যান আসতে আসতে হয়ত পার হয়ে যেত। রং সাইডে হানিফ বাসটি চলে আসায় ব্রেক করে থেমে যাওয়ার ফলে এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।
ভেতর থাকা যাত্রীরা কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে পিষ্ট হয়ে যায়। আশেপাশে কারো পক্ষে সম্ভবও ছিল না কাভার্ড ভ্যানটিকে সরিয়ে কারের ভেতরে থাকা মানুষগুলোকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা। কাভার্ড ভ্যানটি পুরো লোড ছিল।
যখনি কাভার্ড ভ্যান উপরে গিয়ে পড়ে কারের, তখন সাইড কেটে দ্রুত চলে যায় হানিফ বাসটি।
এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা হয়ত ঘটতো না, যদি না হানিফ বাসটি রং সাইড দিয়ে যাত্রা করতো।
এদেশে যত দূর্ঘটনা ঘটে তার যতখানি প্রাকৃতিকভাবে ঘটে, তারচেয়ে বেশি ঘটে আমাদের খামখেয়ালির কারণে।
অনুমোদন নিবে ৫ তলার বিল্ডিংয়ের, করবে ৮ তলা; ড্রয়িং করাবে অফিস স্পেসের কথা বলে, ভাড়া দেবে রেস্টুরেন্টে; তারপর আগুন লেগে মানুষের মৃত্যু ঘটলে আলোচনা হবে অনুমোদন ছিল এত তলার, করছে এত তলা। কথা ছিল অফিস স্পেস করার, ভাড়া দিয়েছে রেস্টুরেন্ট হিসেবে!
আগে যাওয়ার জন্য ট্রাফিক সিগনাল মানবে না, রাস্তার নিয়মকানুন অনুসরণ করে গাড়ি চালাবে না, তারপর দূর্ঘটনা ঘটলে হায় হায় করতে হবে।
আজকের ঘটনাটি স্রেফ হত্যাকাণ্ড। কার চালক দ্রতগতিতে ইউটার্ণ নেওয়াটা ঠিক ছিল না, একইসঙ্গে রং সাইড দিয়ে চালিয়ে যাওয়া হানিফ বাসের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর দায়ভার হানিফ পরিবহনকে নিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সেই হানিফ বাসের চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন।
একটি পরিবারের ৪ জন মানুষের জীবন চলে গেল, আরও ৩ জন মানুষ মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে,
কাঁদার জন্যও লোক নাই পরিবারে -- এমন বেদনার মৃত্যুর কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায়?