18/08/2026
: SRS Express-কে চেনে না এমন সেলার বোধহয় চট্টগ্রাম সিটিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাদের রাইডার সংখ্যা বেশি,বড় পরিসরে কাজ করে।এই কারণেই আমরাও ভেবেছিলাম নিয়মিত ডেলিভারির জন্য তাদের ওপর ভরসা করা যাবে।
The Noor's Kitchen -এর ৬ বছরের যাত্রায় হাতে গোনা ২/৩ জন ক্লায়েন্ট ছাড়া কেউ বলতে পারবে না যে আমরা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে পার্সেল পাঠিয়েছি। কারণ সময়মতো খাবার তৈরি করে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। কিন্তু ডেলিভারির ক্ষেত্রে যেহেতু আমাদের থার্ড-পার্টি এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হয়, তারা সময়মতো রাইডার না পাঠালে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই রেপুটেশন নষ্ট হয়।
আমরা আগে CARRY with CARE 2.0 -এর সঙ্গে কাজ করেছি। টানা ৬ বছর তারা আমাদের ক্লায়েন্টদের জন্য বেস্ট সার্ভিসটাই দিয়ে গেছে। তারা কাজ ছেড়ে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আমাদের নতুন কিছু ট্রাস্টেড ডেলিভারি এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
CWC এজেন্সির Owner মিঠু ভাই এবং আমাদের পরিচিত একজন আপুর রেফারেন্সে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করি। দুজনেই SRS-এর ব্যাপারে যথেষ্ট প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আজ পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে যতগুলো ডেলিভারি হয়েছে, হাতে গোনা ১/২টা ছাড়া প্রায় কোনো পিকআপই সময়মতো হয় নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়, কোনো আপডেট থাকে না। বারবার কল করে রাইডার পাঠাতে বলতে হয়। তারপরও এতদিন আমরা ধৈর্য ধরেছি। এমনকি একবারও নেগেটিভ রিভিউ দেওয়ার কথা মাথায় আনি নি।
কিন্তু গতকালকের ঘটনাটা সত্যিই আমাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।গতকাল সকাল ১০টায় একটি পিকআপ ছিল আর ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল সকাল ১০:৩০ টার মধ্যে। ১০টা পার হওয়ার পরও রাইডারের কোনো খবর নেই। মেসেজ দিয়েই যাচ্ছিলাম, কোনো রেসপন্স নেই। শেষ পর্যন্ত সকাল ১১:২৪ মিনিটে কল দিলে তাদের Owner সাগর কল রিসিভ করেন এবং বলেন “১০টায় তো রাইডার গিয়েছিল।”
অথচ তখন পর্যন্ত আমাদের ঠিকানায় কোনো রাইডার আসেনি।
এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার কল করলে যে ধরনের ব্যবহার পেয়েছি, সেটাই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে। আমাদের অপরাধ ছিল শুধু এটুকু বলা যে, আমরা মিঠু ভাইয়ের রেফারেন্সে কাজ করছি কিন্তু কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল পাচ্ছি না।
শেষ পর্যন্ত যে ডেলিভারি সকাল ১০:৩০টার মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, সেটি করা হয় দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে।
হ্যাঁ গতকাল বৃষ্টি হওয়ায়, রাস্তায় পানি উঠেছিলো। তাই কিছুটা দেরি হতেই পারে। আমরা বাস্তবতা বুঝি। বৃষ্টির সময় রাইডার আসতে পারবে না কিংবা আসতে দেরি হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন রাইডার আদৌ আসছে কি না কিংবা আসবে নাকি আসবে না এটা যদি একটি ডেলিভারি সার্ভিসের Owner বা Management-এর কেউই নিশ্চিতভাবে না জানেন, তাহলে বিষয়টি সত্যিই হাস্যকর এবং একইসঙ্গে দুঃখজনক। অন্তত একজন ক্লায়েন্টকে সঠিক তথ্য দেওয়ার মতো যোগাযোগ তো থাকা উচিত।
সেক্ষেত্রে অন্তত আমাদের একবার জানানো হয়েছিল কি?
এই ঘটনা এক বার নয়,
২-১ বার বাদে প্রতিবার এমন হয়েছে।
কখনো ইচ্ছা হলে “Sorry” বলেছে কখনো সেটুকুও বলে নি । একই ভুল যদি বারবার করতে থাকে তাহলে Sorry শব্দটার কোনো মূল্যই থাকে না।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এখন আমরা নাকি তাদের “অপমান” করেছি।
মানে কোনো সার্ভিসে সমস্যা হলেও সেটা বলা যাবে না। শুধু ভালো ভালো রিভিউ দিতে হবে। কাজ ভালো না হলেও চুপ থাকতে হবে।
আমরা কোনো এজেন্সির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কাজ করি না। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়, দায়িত্ববোধ এবং ক্লায়েন্টের প্রতি কমিটমেন্ট।
একজন খাবারের ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিটা ডেলিভারি সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার পরিশ্রম, ক্লায়েন্টের বিশ্বাস এবং বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা রেপুটেশন।
তাই কোনো ডেলিভারি এজেন্সির সার্ভিসের কারণে যখন আমাদের ক্লায়েন্টের কাছে জবাবদিহি করতে হয় তখন বিষয়টি আমাদের জন্য সত্যিই হতাশাজনক।
আমরা কারও সঙ্গে ঝামেলা করতে চাই না, কাউকে ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। শুধু নিজেদের অভিজ্ঞতাটা পরিষ্কারভাবে জানালাম। যাতে নতুন সেলাররা তাদের চমকপ্রদ পোস্ট দেখে কাজ করার আগে দু'বার ভাবেন।
কারণ ভালো সার্ভিসের প্রশংসা করার অধিকার যেমন আমাদের আছে, তেমনি খারাপ সার্ভিস নিয়ে কথা বলার অধিকারও থাকা উচিত।