Blooming Twinkels

Blooming Twinkels Enduring & Hopeful

22/07/2026

হুজুর যখন গোপাল ভাড় 😂
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়। শয়তান চায় মানুষ গুনাহ করার পর ভাবুক, “আমার আর মাফ নেই।” কিন্তু আল্লাহ চান ব...
19/07/2026

গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়। শয়তান চায় মানুষ গুনাহ করার পর ভাবুক, “আমার আর মাফ নেই।” কিন্তু আল্লাহ চান বান্দা ফিরে আসুক, কাঁদুক, ক্ষমা চাইুক, নতুনভাবে শুরু করুক।

তাওবা মানে শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়, তাওবা মানে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। যে মানুষ সত্যি মন থেকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে ফিরিয়ে দেন না। বরং আল্লাহ তাওবাকারী বান্দাকে ভালোবাসেন।

কেউ যদি বছরের পর বছর গুনাহে ডুবে থাকে, তবুও তার জন্য রহমতের দরজা বন্ধ নয়। কেউ যদি বারবার ভুল করে ফেলে, তবুও সে যেন হতাশ না হয়। কারণ আল্লাহর দরজা খোলা থাকে, যতক্ষণ বান্দা বেঁচে আছে এবং মৃত্যুর আগে আন্তরিকভাবে ফিরে আসে।

তাওবা করার সহজ পদ্ধতি হলো, প্রথমে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। তারপর মন থেকে অনুতপ্ত হওয়া যে, “আমি ভুল করেছি।” এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দৃঢ় নিয়ত করা, “আমি আর এই গুনাহে ফিরে যাব না।” যদি কারও হক নষ্ট করে থাকি, তাহলে সম্ভব হলে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

আমরা কেউই নিষ্পাপ নই। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর মানুষ সে, যে ভুল বুঝে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। আজই ফিরে আসি। আজই বলি, “হে আল্লাহ, আমি দুর্বল, আমি ভুল করেছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে আপনার পথে ফিরিয়ে নিন।”

মনে রাখবেন, গুনাহ আমাদের শেষ পরিচয় নয়। যদি আমরা তাওবা করি, আল্লাহর রহমত আমাদের নতুন শুরু দিতে পারে।

আজ অফিস থেকে ফেরার পথে বাসে এক ভাইকে দেখলাম, সারাদিনের ক্লান্তি চোখে-মুখে স্পষ্ট। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন, বললেন, “স...
19/07/2026

আজ অফিস থেকে ফেরার পথে বাসে এক ভাইকে দেখলাম, সারাদিনের ক্লান্তি চোখে-মুখে স্পষ্ট। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন, বললেন, “সব দিক থেকে চাপ, মনে হয় আর পারছি না।”

কথাটা শুনে মনে হলো, আমাদের অনেকের জীবনই এখন এমন। বাইরে থেকে হাসি, ভেতরে অস্থিরতা। কাজ আছে, ব্যস্ততা আছে, মানুষ আছে, কিন্তু অন্তরের শান্তিটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।

অথচ আল্লাহ আমাদের খুব কাছে। আমরা যখন দুনিয়ার দরজায় দরজায় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখনও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। আমরা ভুল করি, গুনাহ করি, নামাজে অবহেলা করি, তবুও তিনি আমাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন।

ইসলাম আমাদের শেখায়, শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, শান্তি আসে আল্লাহর স্মরণে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।”

তাই আজ যদি মনে হয় জীবন ভারী হয়ে গেছে, একটু থামুন। ওজু করুন। দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। আল্লাহকে নিজের ভাষায় বলুন, “ইয়া আল্লাহ, আমি দুর্বল, আমাকে আপনি সামলে নিন।”

মানুষ সবসময় বুঝবে না, কিন্তু আল্লাহ বোঝেন। মানুষ ছেড়ে যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহ কখনো বান্দাকে একা ফেলে দেন না। আপনি এক কদম এগোলে, আল্লাহর রহমত আপনার দিকে আরও বেশি এগিয়ে আসে।

ফিরে আসুন আল্লাহর দিকে। সব ঠিক হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা হয়তো দুনিয়া দেয় না। কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক হয়ে গেলে, ভাঙা মনেও এক ধরনের প্রশান্তি নেমে আসে।

ইয়া আল্লাহ, আমাদের ক্লান্ত অন্তরগুলোকে আপনার স্মরণে শান্ত করুন। আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করুন। আমাদের এমন বানিয়ে দিন, যারা দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও আপনাকে ভুলে যায় না। আমিন।

আজ একটু নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি সত্যিই আল্লাহর দিকে ফিরছি, নাকি শুধু দুঃখের সময়েই তাঁকে খুঁজছি?

হৃদয় নরম করার শিক্ষামানুষের হৃদয় একদিনে কঠিন হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে হয়। যখন গুনাহকে ছোট মনে হয়, চোখের সামনে অন্যায়ের দৃশ্...
18/07/2026

হৃদয় নরম করার শিক্ষা

মানুষের হৃদয় একদিনে কঠিন হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে হয়। যখন গুনাহকে ছোট মনে হয়, চোখের সামনে অন্যায়ের দৃশ্য দেখেও মন কাঁপে না, কুরআন শুনেও অন্তর নড়ে না, কারও কষ্ট দেখেও চোখে পানি আসে না, তখন বুঝতে হবে হৃদয়ের ভেতর কিছু একটা বদলে যাচ্ছে।

হৃদয় কঠিন হওয়ার বড় কারণ হলো আল্লাহকে ভুলে যাওয়া। দুনিয়ার ব্যস্ততা, অহংকার, হিংসা, বেশি বেশি গুনাহ, অশ্লীলতা, অন্যের দোষ খোঁজা, হারাম রিজিক, এবং তওবা থেকে দূরে থাকা, এগুলো ধীরে ধীরে অন্তরের নূর কমিয়ে দেয়। তখন মানুষ নামাজ পড়ে, কিন্তু স্বাদ পায় না। দোয়া করে, কিন্তু কান্না আসে না। ভালো কথা শুনে, কিন্তু নিজের জীবনে বদল আনে না।

কিন্তু আশার কথা হলো, হৃদয় যতই কঠিন হোক, আল্লাহ চাইলে তা আবার নরম হতে পারে। কারণ হৃদয়ের মালিক আল্লাহ। তিনি যার অন্তর চান, হিদায়াতের দিকে ফিরিয়ে দেন।

হৃদয় নরম করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো কুরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা। শুধু তিলাওয়াত নয়, অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা। কুরআনের আয়াতগুলো নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে ভাবা। আল্লাহ কী বলছেন, আমাকে কী সতর্ক করছেন, কোথায় আশা দিচ্ছেন, কোথায় ক্ষমার দরজা খুলে দিচ্ছেন, এসব নিয়ে চিন্তা করা। কুরআন হৃদয়ের রোগের শিফা।

এরপর হলো বেশি বেশি যিকির করা। “সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার”, “আস্তাগফিরুল্লাহ”, এগুলো শুধু মুখের কথা নয়, এগুলো অন্তরকে জাগিয়ে তোলার উপায়। যে হৃদয় আল্লাহর যিকিরে অভ্যস্ত হয়, সে হৃদয় ধীরে ধীরে শান্ত হয়, নরম হয়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

দোয়া হৃদয় বদলে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে বলুন, “হে আল্লাহ, আমার হৃদয় নরম করে দিন। আমার চোখে আপনার ভয় ও ভালোবাসার অশ্রু দিন। আমাকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনুন। আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যে স্থির রাখুন।”

রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়া করতেন, “ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত ক্বালবি আলা দীনিক।” অর্থ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর স্থির রাখুন।

হৃদয় নরম করতে হলে কিছু অভ্যাসও বদলাতে হবে। গুনাহকে হালকা মনে করা বন্ধ করতে হবে। একা থাকলেও আল্লাহ দেখছেন, এই অনুভূতি জাগাতে হবে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করতে হবে। ভালো মানুষের সঙ্গ নিতে হবে। কবর, আখিরাত, হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নাম নিয়ে ভাবতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ অন্যের কষ্ট বুঝতে শিখলে নিজের হৃদয়ও নরম হয়।

মনে রাখবেন, নরম হৃদয় দুর্বলতার লক্ষণ নয়। নরম হৃদয় আল্লাহর রহমতের একটি নিদর্শন। যে হৃদয় আল্লাহর কথা শুনে কেঁপে ওঠে, গুনাহের পর অনুতপ্ত হয়, মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়, এবং ক্ষমা চাইতে লজ্জা পায় না, সেই হৃদয়ই সবচেয়ে মূল্যবান।

আজ থেকেই শুরু করুন। অল্প হলেও কুরআন পড়ুন। কিছু সময় যিকির করুন। রাতে একান্তে আল্লাহর কাছে হৃদয়ের কথা বলুন। হয়তো আপনার একটি সত্যিকারের দোয়া, একটি অশ্রু, একটি আন্তরিক তওবা, আপনার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

হে আল্লাহ, আমাদের হৃদয়কে কঠিন হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমাদের অন্তরকে কুরআনের নূরে আলোকিত করুন, যিকিরে শান্ত করুন, দোয়ায় আপনার দিকে ফিরিয়ে নিন। আমিন।

মৃত্যুর কথা ভাবা মানে হতাশ হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটা জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতাকে মনে রাখা, যেন আমরা বাকি সময়টা আরও সচে...
18/07/2026

মৃত্যুর কথা ভাবা মানে হতাশ হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটা জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতাকে মনে রাখা, যেন আমরা বাকি সময়টা আরও সচেতনভাবে ব্যবহার করতে পারি।

আমরা সবাই অনেক পরিকল্পনা করি, পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা, পরিবার, ভবিষ্যৎ। কিন্তু যে সফরটি নিশ্চিত, তার প্রস্তুতি নিয়ে আমরা অনেক সময় সবচেয়ে কম ভাবি। অথচ মৃত্যু কোনো দূরের বিষয় নয়, এটি এমন এক দরজা, যেটা একদিন আমাদের প্রত্যেককেই অতিক্রম করতে হবে।

মৃত্যুর প্রস্তুতি মানে দুনিয়া ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং দুনিয়ার কাজগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঠিকভাবে করা। নামাজে যত্নবান হওয়া, হালাল উপার্জন করা, মানুষের হক আদায় করা, বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়া, কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা, গুনাহ থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসা, এগুলোই প্রস্তুতির অংশ।

আমরা অনেকেই ভাবি, “আরেকটু পরে বদলাবো।” কিন্তু সত্যি হলো, ভালো হওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ সময় আজ। আজকের একটি তাওবা, আজকের একটি সৎ কাজ, আজকের একটি ক্ষমা, আজকের একটি নামাজ, এগুলোই হয়তো আখিরাতে আমাদের জন্য আলো হয়ে দাঁড়াবে।

জীবন যতই ব্যস্ত হোক, প্রতিদিন একটু করে নিজের হিসাব নেওয়া দরকার। আজ আমি কাকে উপকার করলাম? কার হক নষ্ট করলাম কি না? আমার রবের সাথে সম্পর্কটা কেমন? আমার আমলনামায় আজ কী যোগ হলো?

মৃত্যু আমাদের ভয় দেখানোর জন্য নয়, আমাদের জাগিয়ে দেওয়ার জন্য। যে মানুষ আখিরাতের প্রস্তুতি নিয়ে বাঁচে, তার জীবনও সুন্দর হয়, মনও শান্ত হয়, সম্পর্কও পরিশুদ্ধ হয়।

আসুন, আমরা আজ থেকেই শুরু করি। ছোট একটি ভালো কাজ, আন্তরিক একটি তাওবা, নিয়মিত একটি নামাজ, কারও মুখে একটি হাসি, এগুলোই হতে পারে আমাদের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভালো মৃত্যু, ক্ষমা এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুত জীবন দান করুন। আমিন।

আজকের সহিহ হাদিসরাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।”সহিহ বুখারি, হাদিস: 6035আমরা ...
17/07/2026

আজকের সহিহ হাদিস

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।”

সহিহ বুখারি, হাদিস: 6035

আমরা অনেক সময় ভালো মানুষ বলতে শুধু নামাজ, রোজা, দান-সদকার কথা ভাবি। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন মুমিনের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার চরিত্রে।

ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে নরমভাবে কথা বলা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, সন্তানের ভুলে ধৈর্য ধরা, প্রতিবেশীর কষ্ট না দেওয়া, অফিসে কারও হক নষ্ট না করা, দোকানে মিথ্যা না বলা, রাস্তায় কাউকে কষ্ট না দেওয়া, এগুলোই সুন্দর চরিত্রের বাস্তব উদাহরণ।

আজ আমরা নিজের কাছে ছোট করে একটি প্রশ্ন করতে পারি, আমার আচরণে মানুষ স্বস্তি পায়, নাকি কষ্ট পায়?

সুন্দর চরিত্র শুধু মানুষের কাছে সম্মান বাড়ায় না, আল্লাহর কাছেও মর্যাদা বাড়ায়। তাই আজকের চেষ্টা হোক, কম কথা বলি, ভালো কথা বলি, রাগ উঠলে চুপ থাকি, আর কারও মনে কষ্ট দিয়ে ফেললে ক্ষমা চাইতে দেরি না করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী বানিয়ে দিন। আমিন।

দোয়া আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের একটি দরজা। তবে কিছু সময় আছে, যেগুলোতে সহিহ সূত্র অনুযায়ী দোয়া কবুল হও...
17/07/2026

দোয়া আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের একটি দরজা। তবে কিছু সময় আছে, যেগুলোতে সহিহ সূত্র অনুযায়ী দোয়া কবুল হওয়ার আশা বেশি। এসব সময়কে সুযোগ হিসেবে নেওয়া যায়, তবে মনে রাখতে হবে, কবুল করা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের ওপর নির্ভরশীল।

১. ফরজ নামাজের পর

নামাজের পরের সময়টি দোয়ার জন্য মূল্যবান। বিশেষ করে সালাম ফেরানোর পর আল্লাহর জিকির করা, প্রশংসা করা এবং নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা সুন্দর আমল। নামাজ মানুষকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়, তাই নামাজের পর মনও বেশি নরম থাকে।

২. সিজদার সময়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার অবস্থায়, তাই সেখানে বেশি দোয়া করো। সিজদায় নিজের ভাষায় দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া যায়, বিশেষ করে নফল নামাজে দীর্ঘ সিজদা করে দোয়া করা যায়।

৩. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে

রাতের শেষ ভাগ ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ সময়। হাদিসে এসেছে, এই সময়ে আল্লাহ বান্দাদের দিকে বিশেষ রহমত নিয়ে মনোযোগ দেন এবং ডাকার আহ্বান করেন। তাই ফজরের আগে কিছু সময় উঠতে পারলে, দুই রাকাত নামাজ পড়ে চোখের পানি নিয়ে দোয়া করা বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

৪. আজান ও ইকামতের মাঝের সময়

সহিহ হাদিসে এসেছে, আজান ও ইকামতের মাঝের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। মসজিদে গিয়ে নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকা শুধু অপেক্ষা নয়, এটি দোয়ার সুযোগও।

৫. জুমার দিনের একটি বিশেষ সময়

জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে চাইলে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। আলেমদের মধ্যে এই সময় নিয়ে মতভেদ আছে, অনেকেই আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই জুমার দিনকে শুধু ছুটি হিসেবে নয়, দোয়ার দিন হিসেবে নিলে ভালো।

৬. রোজা অবস্থায় এবং ইফতারের সময়

রোজাদারের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা আছে। বিশেষ করে ইফতারের আগে মন ভাঙা থাকে, শরীর দুর্বল থাকে, আর বান্দা আল্লাহর জন্য নিজের হালাল চাহিদাও আটকে রাখে। এই সময় নিজের জন্য, পরিবার, উম্মাহ এবং আখিরাতের জন্য দোয়া করা উচিত।

৭. বৃষ্টির সময়

বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের একটি নিদর্শন। হাদিসে বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের আশার কথা এসেছে। তাই বৃষ্টি দেখলে শুধু ছবি তোলা নয়, একটু থেমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে পারি।

৮. সফরের সময়, অসহায় অবস্থায়, মজলুমের দোয়া

সফরকারীর দোয়া, মজলুমের দোয়া এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের দোয়া বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মজলুম হওয়ার আগে অন্যের ওপর জুলুম না করি, কারণ কারও চোখের পানির দোয়া খুব ভয়ংকর হতে পারে।

দোয়া করার সময় কিছু আদব মনে রাখা ভালো। আগে আল্লাহর প্রশংসা করা, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়া, হালাল উপার্জনে থাকা, গুনাহ থেকে ফিরে আসা, তাড়াহুড়া করে “আমার দোয়া কবুল হয় না” না বলা, এবং ভালো ধারণা নিয়ে বারবার চাওয়া।

দোয়া কখনো হারায় না। আল্লাহ চাইলে দুনিয়াতেই দেন, চাইলে কোনো বিপদ সরিয়ে দেন, চাইলে আখিরাতের জন্য জমা রাখেন। তাই দেরি মানেই প্রত্যাখ্যান নয়, নীরবতা মানেই অবহেলা নয়।

আজ থেকেই ছোট ছোট সময়গুলোকে দোয়ার সময়ে বদলে দিই। হয়তো কোনো এক সিজদা, কোনো এক ফজরের আগে, কোনো এক জুমার বিকেল, অথবা কোনো এক ইফতারের মুহূর্তে আল্লাহ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দরজাটি খুলে দেবেন।

আয়াত থেকে শিক্ষাقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।” সূরা ইখলাস, আয়াত ১এই ছোট আয়াতটি আমাদের খুব বড় একটি শিক্...
16/07/2026

আয়াত থেকে শিক্ষা

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।”
সূরা ইখলাস, আয়াত ১

এই ছোট আয়াতটি আমাদের খুব বড় একটি শিক্ষা দেয়, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা যাকে ডাকব, যার ওপর ভরসা করব, যার কাছে সাহায্য চাইব, তিনি একমাত্র আল্লাহ।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় মানুষ, টাকা, চাকরি, সম্পর্ক বা নিজের বুদ্ধির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করে ফেলি। এগুলো প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু এগুলোর ক্ষমতা সীমিত। আসল ভরসা হওয়া উচিত আল্লাহর ওপর।

যেমন, কোনো পরীক্ষা সামনে থাকলে আমরা পড়াশোনা করব, সময় মেনে প্রস্তুতি নেব, কিন্তু ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করব। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাব, ওষুধ খাব, কিন্তু সুস্থতা চাইব আল্লাহর কাছেই। কোনো বিপদে পড়লে মানুষের সাহায্য নেব, তবে মনে রাখব, চূড়ান্ত সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সব অবস্থায় আল্লাহকে এক ও একমাত্র রব হিসেবে মানা, তাঁর ওপর নির্ভর করা এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের পথ।

ছোট আয়াত, কিন্তু শিক্ষা অনেক গভীর। আল্লাহ এক, তাই আমাদের ভরসা, আশা ও ইবাদতও একমাত্র তাঁর জন্যই হওয়া উচিত।

নবী ﷺ-এর একটি ছোট সুন্নাহ: হাসিমুখে কথা বলা।আমরা অনেক সময় ভাবি, সুন্নাহ মানে শুধু বড় বড় আমল। অথচ নবী ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন,...
16/07/2026

নবী ﷺ-এর একটি ছোট সুন্নাহ: হাসিমুখে কথা বলা।

আমরা অনেক সময় ভাবি, সুন্নাহ মানে শুধু বড় বড় আমল। অথচ নবী ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও সাদাকাহ। কত সহজ একটি আমল, কিন্তু কত গভীর তার প্রভাব!

একটা হাসি কারও ক্লান্ত দিনকে একটু হালকা করে দিতে পারে। পরিবারের মানুষের সঙ্গে নরম মুখে কথা বলা, রাস্তায় পরিচিত কাউকে সুন্দরভাবে সালাম দেওয়া, দোকানদার বা সহকর্মীর সঙ্গে রাগী চেহারা না করে ভদ্রভাবে কথা বলা, এগুলোও সুন্নাহর সৌন্দর্য।

আজ আমরা চাইলে খুব সহজে এই সুন্নাহটি পালন করতে পারি। বাসায় মা-বাবার সঙ্গে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে, সন্তানদের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে, এমনকি অপরিচিত মানুষের সঙ্গেও। মুখের হাসি ছোট, কিন্তু এতে থাকে দয়া, বিনয় আর ভালোবাসার প্রকাশ।

নবী ﷺ ছিলেন সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে সুন্দর আচরণের মানুষ। আমরা যদি তাঁর উম্মত হয়ে তাঁর মতো হতে চাই, তাহলে শুরুটা এমন ছোট সুন্নাহ দিয়েই হতে পারে।

আজ থেকে চেষ্টা করি, কারও সঙ্গে দেখা হলে অন্তত মুখটা কঠিন না রাখি। সালাম দিই, হাসিমুখে কথা বলি। হয়তো এই ছোট আমলটাই আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় হয়ে যাবে।

একটি হাসি, একটি সুন্নাহ, একটি সাদাকাহ।

সেদিন এক ভাইয়ের সাথে চায়ের দোকানে বসে কথা হচ্ছিল। খুব সাধারণ আড্ডা, অফিসের চাপ, বাসার খবর, বাজারদর, এসব নিয়েই কথা চলছিল।...
15/07/2026

সেদিন এক ভাইয়ের সাথে চায়ের দোকানে বসে কথা হচ্ছিল। খুব সাধারণ আড্ডা, অফিসের চাপ, বাসার খবর, বাজারদর, এসব নিয়েই কথা চলছিল। হঠাৎ কথার মাঝে একজনের নাম চলে এলো। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আমরা তার একটা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম।

কথা শেষ হওয়ার পর ভাইটা একটু চুপ হয়ে গেলেন। তারপর আস্তে করে বললেন, “আমরা কি একটু আগে গিবত করে ফেললাম?”

কথাটা শুনে বুকের ভেতর কেমন যেন লাগলো।

কারণ সত্যি বলতে, গিবত এমন এক হারাম কাজ, যেটা অনেক সময় আমরা হারাম মনে করেই করি না। আড্ডায়, ফোনকলে, অফিসে, আত্মীয়দের সাথে বসে, এমনকি দ্বীনি আলোচনার মাঝেও কখন যে অন্যের অনুপস্থিতিতে তার অপছন্দের কথা বলে ফেলি, টেরও পাই না।

গিবত মানে শুধু মিথ্যা অপবাদ না। কারো মধ্যে কোনো দোষ সত্যিই থাকলেও, সে অনুপস্থিত থাকলে এবং সে কথা শুনলে কষ্ট পেত, তাহলে সেটাও গিবত হতে পারে।

আমরা অনেক সময় বলি, “আমি তো সত্য কথাই বলছি।”

কিন্তু সব সত্য কথা সব জায়গায় বলা জরুরি নয়। সত্য কথা যদি কারো সম্মান নষ্ট করে, সম্পর্ক খারাপ করে, মনে অহংকার আনে বা অন্তরকে কঠিন করে দেয়, তাহলে সেটি বলা থেকে চুপ থাকা অনেক বেশি সুন্দর।

ইসলাম আমাদের শুধু নামাজ-রোজার শিক্ষা দেয় না, মানুষকে সম্মান করতে শেখায়। কারো ভুল থাকতেই পারে, আমাদেরও আছে। আজ আমি যার কথা বলছি, কাল হয়তো আমার কথাও কেউ বলবে। তাই অন্যের দোষ নিয়ে আলাপের আগে নিজের দোষগুলোর কথা মনে করলে জিহ্বা অনেক নরম হয়ে যায়।

গিবত থেকে বাঁচার সহজ কিছু উপায় আছে।

প্রথমত, কারো কথা উঠলে নিজেকে জিজ্ঞেস করা, এই কথাটা যদি সে সামনে থাকত, আমি কি বলতাম?

দ্বিতীয়ত, আড্ডার বিষয় বদলে দেওয়া। খুব কঠিন কিছু না, শুধু বলা যায়, “আচ্ছা বাদ দিই, অন্য কথা বলি।”

তৃতীয়ত, কেউ কারো দোষ বললে তাতে আগ্রহ না দেখানো। অনেক সময় শ্রোতা না থাকলে গিবতও থেমে যায়।

চতুর্থত, যার ভুল দেখছি, তার জন্য অন্তরে দোয়া করা। কারণ দোয়া করলে মানুষকে ছোট মনে হয় না, বরং নিজেরও সংশোধনের দরজা খুলে যায়।

পঞ্চমত, নিজের জিহ্বার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। কারণ অনেক পাপ হাত-পা দিয়ে হয়, আর অনেক পাপ শুধু কয়েকটা শব্দ দিয়ে হয়ে যায়।

হারাম থেকে বাঁচা সবসময় বড় কোনো যুদ্ধের মতো হয় না। কখনো কখনো হারাম থেকে বাঁচা মানে, একটা কথা না বলা। একটা আড্ডা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। একটা মেসেজ ফরওয়ার্ড না করা। কারো সম্মান রক্ষার জন্য চুপ থাকা।

আল্লাহ আমাদের এমন জিহ্বা দান করুন, যা মানুষকে কষ্ট না দিয়ে শান্তি দেয়। এমন অন্তর দিন, যা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় না, বরং নিজের সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

হয়তো এই ছোট ছোট সাবধানতাই আমাদের অনেক বড় হারাম থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Blooming Twinkels posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Blooming Twinkels:

Shortcuts

Share