16/09/2026
একবার আমার এক ছোটো বোন নক করলো।
সে বললো — আপু, কিছুদিন আগে যে বিরিয়ানির ডালা সহ কয়েক বয়াম আচার অর্ডার করলাম, মনে আছে আপনার?
আমি বললাম,
— হ্যাঁ, আছে। কিন্তু কেন?
সে বললো,
— ওটার পেছনে আমি আর আমার এক ভোজনরসিক বান্ধবীর মজার একটা কাহিনী আছে। শুনবেন আপু?
আমি বললাম,
— অবশ্যই শুনবো! কী কাহিনী বলো তো?
তারপর সে বলতে শুরু করলো—
আপু, আমাদের কলেজের পরীক্ষা শেষ হওয়াতে ঠিক করলাম আজ হেঁটে বাড়ি ফিরবো। একটু ভয় হচ্ছিলো, কারণ ও প্রচুর ভোজনরসিক। রাস্তায় বা যেকোনো জায়গায় কেউ যদি ওর পছন্দের কোনো খাবার খায়, তবে ও তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
ওইদিনও ঘটলো এমনই এক ঘটনা।
প্রচুর বকবক করছে আর হাঁটছে। আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিচ্ছে না। হুট করে মনে হলো, ভাঙা রেকর্ডারটা বন্ধ হয়ে গেছে! পাশে তাকাতেই দেখি, এই মেয়ে দাঁড়িয়ে একটা লোকের দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে।
আমি বললাম,
— কী হলো?
ও বললো,
— দেখ না, ওই লোকটার হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট। ওটা দেখে আমারও না খুব বিরিয়ানি খেতে মন চাচ্ছে!
আমার মেজাজ চড়ে গেলো। রাস্তায় একটা মানুষ বিরিয়ানি নিয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখে ওরও খেতে মন চাচ্ছে আর সে জন্য এমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে! এর কোনো মানে হয়?
আমি বললাম,
আর একটা কথাও না বলে চুপচাপ যে পথে হাঁটছিলি, সেই পথে হাঁটা শুরু কর। নয়তো খুব খারাপ হবে কিন্তু!
বেচারি মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে হাঁটা শুরু করলো। বড়জোর এক মিনিট চুপ ছিলো। তারপর আবার শুরু হয়ে গেলো তার বকবকানি। আমিও আবার শুনতে শুনতে হাঁটতে লাগলাম। কথার তালে তালে যাতে অন্যদের দিকে তাকাতে না পারে সেজন্য মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনতে লাগলাম।
ওমা! কিছুক্ষণ হাঁটার পর আবার এই মেয়ে থেমে গেলো।
এবার জিজ্ঞেস করলাম,
— কিরে, আবার থামলি কেন?
ও বললো,
— দেখ না নুসরাত, ওই ছেলেটা ঠান্ডা কোক খাচ্ছে। আমারও না খুব ঠান্ডা কোক খেতে ইচ্ছে করছে!
এইবার আর ওর ওপর মেজাজ গরম হয়নি। এইবার আমার খুব কান্না পাচ্ছে। এই মেয়ে কোন ধাতুর তৈরি আর এ আমার ফ্রেন্ড হলো কীভাবে—সেই মুহূর্তে এটা ভাবাই আমার দুনিয়ার সবচেয়ে জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়ালো।
হঠাৎ দেখি, সেই ছেলেটাও অদ্ভুতভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা আমার বান্ধবীর এমন ফ্যালফ্যাল করে তাকানো দেখে ইতস্তত বোধ করছে।
এই পর্যায়ে আমার কান্নারা যেন চিৎকার করে বেরিয়ে আসতে চাইলো লজ্জায়!
আমি ওর হাত ধরে টানতে টানতে বললাম,
— প্লিজ, চল এখান থেকে। তুই আমার বান্ধবী না, তুই আমার একমাত্র ভাই! ভাই হয়ে বোনের মান-সম্মানটা এভাবে কেজি দরে সস্তায় বিক্রি করে দিস না প্লিজ। আমি একটা ব্যবস্থা করতেছি। চল এখান থেকে। আমি আর তোকে সাথে নিয়ে কোনোদিন হাঁটবো না। এবারের মতো মাফ কর, পরানের ভাই আমার!
এবার তার আমার ওপর একটু করুণা হলো কি হলো না, ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারলাম না। তবে সে আর ওদিকে তাকালো না। হাঁটতে হাঁটতে বললো,
— কী ব্যবস্থা করবি?
আমি বললাম,
— চিন্তা নেই। মেহফিল পেজের ইচ্ছে পূরণ বিরিয়ানি ডালা দিয়ে তোর ইচ্ছে পূরণ করে দিচ্ছি। আর সাথে কোকও এনে দিচ্ছি।
শুনেই খুশিতে তার চোখ চকচক করে উঠলো। কিন্তু পরক্ষণেই মুখ গোমড়া করে বললো,
— অত টাকা নেই আমার কাছে।
আমি বললাম,
— সমস্যা নেই। যা আছে তাতেই হবে। তুই অর্ধেক দিবি, আমি অর্ধেক দেবো। আর বাসায় গিয়ে আন্টিকে বলবি, পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো হয়েছে। সেই খুশিতে আজকে সবাই বিরিয়ানি খাবো।
তো সে গিয়ে আন্টিকে বলার পর আন্টি আমাদের জন্য গরুর মাংসের কালাভুনা + পোলাও রান্না করলো, সাথে সালাদ। আর সাথে মেহফিলের সুস্বাদু বিরিয়ানি তো থাকছেই। 😋
কিন্তু আন্টির করুণ অবস্থা রান্না করতে গিয়ে! প্রচণ্ড গরমে রান্না করে ঘেমে নেয়ে একাকার।— ঠিক আছে। তবে আমি আপনাকে একটা সহজ উপায় বলে দিচ্ছি। এই যে এতগুলো টাকা দিয়ে মাংস কিনলেন, তারপর তিনগুণ খাটুনি খেটে রান্না করলেন—এত ঝামেলা না করে যখনই গরুর মাংসের কালাভুনা খেতে মন চাইবে, ডিরেক্ট মেহফিল থেকে অর্ডার করে ফেলবেন। ওনারা একেবারে আপনার ঘরে পাঠিয়ে দিবে।
আন্টি বললো,
— মাহাফিল? সেটা আবার কী গো?
আমি বললাম,
— আহহা আন্টি, মাহাফিল নয়—মেহফিল! এটা একটা পেজ। এখানে আপনি বিভিন্ন রকম আচার, বিভিন্ন রকম খাবার, বিরিয়ানি, গরুর মাংসের ভুনা, গরুর মাংসের আচার, মুরগির মাংসের আচারসহ আরও যা যা দরকার, সব পেয়ে যাবেন।
সব শুনে আন্টি তো মহাখুশি!
খুশিতে গদগদ হয়ে এক বয়াম মুরগি ও গরুর মাংসের আচার, এক বয়াম নাগা মরিচের আচার আর এক বয়াম কালোজিরার আচার অর্ডার করে ফেললো। 😍
এবার আন্টি তো মহাখুশি আচার পেয়ে, তার মেয়েও খুশি বিরিয়ানি পেয়ে, আর তাদের খুশি দেখে আমিও খুশি। আমাদের সবার খুশি দেখে মেহফিলও খুশি! 😊
ছোটো বোনটার কাছ থেকে ঘটনাটা শুনে সত্যি ই খুব খুশি লাগছিলো।
আল্লাহ সবাইকে এভাবে খুশি হওয়ার তৌফিক দান করুন। সবাই বলি—আমিন, আমিন, আমিন। সুম্মা আমিন। 🤲❤️
আর হ্যাঁ, আমার সেই ছোটো বোনের বান্ধবীর মত কার কার পেটুক বান্ধবী আছে কমেন্টে জানিয়ে দিন। পারলে তাকে মেনশন দিয়ে হালকা করে অপমানসসস করে দিন। 😁