01/03/2024
নীমতলী, চুড়িহাট্টার পর ঢাকার ট্রাজেডির খাতায় নাম লেখালো বেইলিরোড।।
বহুতল ভবনের ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিলো ৪৬টি নিরীহ প্রাণ। চিকিৎসাধীন সবার অবস্থা আশংকাজনক। ...
এরকম রেস্টুরেন্ট ভরা বিল্ডিং এই শহরে, এই দেশে প্রচুর আছে। তার ৯৮% ই নিয়ম মেনে করা হয় না। সেটা করতে গেলে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়, দুটো পয়সা বাড়তি খরচ করতে হয়। এই আগ্রহটা আমাদের নেই। আজ ধরেন এই ভবনে যদি রাজউক বা আইনপ্রয়োগকারী কারো অভিযান চলত, আমরাই বলতাম টাকার জন্য চলে এসেছে, ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলত- হয়রানি করতে এসেছে। কেউ যদি বলত সিড়িতে সিলিন্ডার কেন? বলত - পাশ দিয়ে যাওয়ার জায়গা তো রাখছি! কেউ যদি বলত ফায়ার এক্সটিংগুইশার নাই কেন? বলত কিনতে এখনই লোক পাঠাচ্ছি, মেয়াদ না থাকলে বলত- খেয়াল করা হয়নি। এই যারা হতাহত হল, বলতে খারাপ লাগে, এমনকি আমরাও যখন কেউ ৮ তলা বাড়ি করব, অনুরোধ করবে রাজউককে টাকা পয়সা দিয়ে ফায়ার এক্সিট টা বাদ দিয়ে একটা রুম করা যায় কি না? ফায়ার ড্রিল করাতে চাইলে ভবনের লোকজন বলবে- হুদা কামে কামে মাসে আইসা সময় নষ্ট৷ আজ এই সময়ের অভাবটাই অর্ধশত মানুষের জীবনের সময় স্থবির করে দিল। বহু নিউজের নিচে যেয়ে দেখেন ফায়ার সার্ভিস নিয়ে কথা, দেশে যদি একটা ইমার্জেন্সি সার্ভিস থাকে তবে সেটা ফায়ার সার্ভিস, কিন্তু তাদের কাজ করার সুযোগ, পৌছানোর সময়, পৌছানোর রাস্তাটা পর্যন্ত আমরা রাখি না।
এইযে এই কথাগুলো আজই বললাম একটা দূর্ঘটনার পর, যদি কাল আবার ভুলে যাই!
বেইলি রোডের এই সেই হতভাগ্য ভবন, যেখানে ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪-এর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো ভবনটিই পুড়ে যায় এবং প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে..! নিউজফিডে, টিভিতে, সবখানেই শুধু মৃত্যুর সংবাদ! এমন ২৯ ফেব্রুয়ারি আর কখনো ফিরে না আসুক! আহ জীবন! কত জীবনের গল্প একসাথে, একই সময়, সেকেন্ডে শেষ হয়ে গেলো!
মরহুম, মরহুমাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি! আহতরা সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক পরিবারের কাছে। এই শুক্রবারে আমার, আপনার সকলের প্রার্থনায় থাকুক কেবল তারা!
#বেইলিরোড_অগ্নিকাণ্ড