22/08/2026
ইউরোপ আমেরিকায় যা নিষিদ্ধ বাংলাদেশে তার মহা উৎসব!
প্রসঙ্গ: ভিয়েতনামি শোল🇻🇳
🇺🇸 আমেরিকা:
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য যেমন- আরাকানসাস, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়াসহ প্রায় ১৩টিরও বেশি রাজ্যে ভিয়েতনামি শোল মাছ বা স্নেকহেড (Snakehead) প্রজাতির জীবন্ত মাছ রাখা, আমদানি এবং চাষ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🇪🇺 ইউরোপ:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশের সবকটিতেই ভিয়েতনামি শোল বা স্নেকহেড (Snakehead) মাছের আমদানি, বাণিজ্যিক চাষ এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন এই মাছটিকে পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি বা "আক্রমণাত্মক বিদেশি প্রজাতি" (Invasive Alien Species) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ইউরোপের যে সকল প্রধান দেশে এই নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়, সেগুলো হলো:
জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, চেক প্রজাতন্ত্র (Czechia), স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড ইত্যাদি।
🇬🇧UK-তেও নিষিদ্ধ:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্য (UK)-তেও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে এই মাছের বাণিজ্যিক আমদানি ও চাষের ওপর কঠোর আইনি বিধি-নিষেধ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার মূল কারণসমূহ:
১. আক্রমণাত্মক স্বভাব: ভিয়েতনামি শোল মাছ অত্যন্ত রাক্ষুসে প্রকৃতির, প্রচণ্ড খাদক এবং জলজ পরিবেশের শীর্ষ শিকারী।
২. স্থানীয় প্রজাতির ক্ষতি: এরা স্থানীয় অন্যান্য মাছ, ডিম, পোনা, উভচর প্রাণী ও জলজ জীব খেয়ে ফেলে এবং তাদের বংশ বিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
৩. টিকতে পারার ক্ষমতা: এরা ফুলকার পাশাপাশি বাতাস থেকেও অক্সিজেন নিতে পারে এবং ডাঙায় শুষ্ক পরিবেশেও কিছুদিন বেঁচে থেকে অন্য জলাশয়ে চলে যেতে পারে।
৪. ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় টিকে থাকার ক্ষমতা: ভিয়েতনামি শোল তীব্র শীতের মধ্যেও ঠাণ্ডা পানিতে খুব সহজেই বেঁচে থাকতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
৫. জীববৈচিত্র্যের হুমকি: ইউরোপের স্থানীয় নদী ও লেকের বাস্তুসংস্থান (Ecosystem) এবং অন্যান্য দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকট।
এসব কারণেই ইউরোপ, আমেরিকা এবং UK-তে ভিয়েতনামি শোল আমদানি, চাষ, ক্রয়-বিক্রয় এমনকি সখের অ্যাকোয়ারিয়ামে পোষার উপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
🇧🇩বাংলাদেশ পরিস্থিতি:
ইউরোপ, আমেরিকা এবং UK-তে ভিয়েতনামি শোল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও ময়মনসিংহ, বগুড়া, যশোর এবং কুমিল্লা জেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সরকারি গবেষণা ও বেসরকারি বাণিজ্যিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ভিয়েতনামি শোল মাছের চাষ ও পোনা উৎপাদন হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজনন ও কমার্শিয়াল ফিড (ভাসমান খাবার) খাওয়ানোর সুবিধার কারণে এই জেলাগুলোর হ্যাচারি ও খামারগুলোতে এটি বেশ জনপ্রিয়।
ফলাফল:
মূলত এখান থেকেই সারা বাংলাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে এই ভিয়েতনামি শোলের পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। দ্রুত বৃদ্ধি, মৃত্যু হার কম, আকারে দেশি শোলের চেয়ে অনেক বড় হওয়ায় লাভ বেশি। তাই চাষীরা এর দিকেই ছুটছে। আর প্রতি বছরই বন্যা প্লাবনে পুকুর ঘের তলিয়ে যাওয়ায় এই ভিয়েতনামি রাক্ষস আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চেঙ্গিস খানের মতো দখল নেয় আমাদের এতিম ও অসহায় "প্রাকৃতিক জলাশয় তথা প্রকৃতির"।
কিন্তু কেনো? এর কৈফিয়ৎ কে দেবে?
#ভিয়েতনামী_শোল_মাছ