19/09/2026
আসসালামু আলাইকুম, সেফফুডে আজ থেকে শুরু হচ্ছে "সেফফুড ডেইলি স্টোরি " প্রতিদিন পর্ব আকারে প্রকাশিত হবে সেফফুড এর পেইজে অনুগ্রহ সেফফুড এর সাথেই থাকুন।
"আজগর সাহেবের দিনরাত্রি"
পর্ব–১ :
রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। পল্লবীর ৭ নম্বর রোডের একের পর এক দোকানের শাটার নামছে। শুধু ছোট্ট একটা মুদি দোকানের সামনে এখনো বাতিটা জ্বলছে। দোকানের নাম—মোহনা ভ্যারাইটিজ স্টোর। দোকানের মালিক আজগর হোসাইন চুপচাপ বসে আছেন কাঠের ছোট্ট টুলটার ওপর। সামনে খোলা হিসাবের খাতা। আজকের বিক্রি, বাকি, খরচ—সব মিলিয়ে আবারও হিসাবটা মিলছে না। আজগর সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে খাতাটা বন্ধ করে দিলেন। পঁচিশ বছর আগে বরিশালের গৌরনদী থেকে ঢাকায় এসেছিলেন খালি হাতে। তখনও তিনি জানতেন না, ঢাকার শহর মানুষকে স্বপ্ন দেখায় ঠিকই, কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ করে না।
এই পঁচিশ বছরে কম চেষ্টা করেননি তিনি। কখনো চাকরি, কখনো ছোটখাটো ব্যবসা, কখনো এদিক-সেদিক দৌড়ঝাঁপ—জীবন বদলানোর জন্য যা করা দরকার মনে হয়েছে, তাই করেছেন। কিন্তু ভাগ্য যেন প্রতিবারই একটু দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাকে দেখেছে। শেষ পর্যন্ত এই ছোট্ট দোকানটাই তার আশ্রয় হয়েছে। ষোলো বছর ছয় মাস আগে যখন দোকানটা শুরু করেছিলেন, তখন তার একমাত্র মেয়ে মোহনার বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। মেয়ের নামেই দোকানের নাম রেখেছিলেন—মোহনা ভ্যারাইটিজ স্টোর। সেদিন রেহেনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, “মেয়ের নামে দোকান রাখলে কি ভাগ্য বদলাবে?” আজগর হেসে বলেছিলেন, “দেখো, একদিন এই মেয়েটাই আমাদের ভাগ্য বদলাবে।”
আজগর সাহেবের সম্পদ বলতে বড় কিছু নেই। তিন রুমের একটা ভাড়া বাসা, ছোট্ট একটা দোকান আর তার তিন সন্তান—তাহসান, আহসান আর মোহনা। টাকা-পয়সার ভাগ্য তাকে খুব একটা সাহায্য না করলেও সন্তানদের ভাগ্যে তিনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে করেন। বড় ছেলে তাহসান নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, আহসান এখনো নিজের মতো করে জীবনকে বুঝতে শেখেনি, আর মোহনা—মেয়েটাকে নিয়ে আজগর সাহেবের স্বপ্নের শেষ নেই। মাঝে মাঝে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে তার মাথা ঘুরে যায়, বুক ধড়ফড় করে, চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে। কিন্তু সন্তানদের সামনে তিনি কখনো সেটা প্রকাশ করেন না।
সেদিনও দোকান বন্ধ করার জন্য শাটার নামাতে যাবেন, ঠিক তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোনটা রেহেনার। আজগর সাহেব ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে রেহেনার কাঁপা গলা—“তুমি কোথায়?” আজগর বললেন, “দোকানেই তো, কেন?” রেহেনা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল, “তুমি তাড়াতাড়ি বাসায় আসো... মোহনা এখনো বাসায় ফেরেনি।”
আজগর সাহেবের মুখটা মুহূর্তেই শুকিয়ে গেল।
চলবে...