30/07/2026
কিছু শাশুড়ি ছেলেকে মানসিকভাবে আলাদা হতে দিতে চান না। ছেলের বিয়েকে নতুন একটি সম্পর্কের সূচনা হিসেবে না দেখে, সেটিকে নিজের জায়গা হারানোর আশঙ্কা হিসেবে দেখেন। ফলে শুরু হয় নিয়ন্ত্রণ, সমালোচনা এবং ক্রমাগত নেতিবাচক প্রভাব। জানিনা এর খারাপ প্রভাব সম্পর্কে তারা নিজেরা কতটুকু বোঝেন, কিন্তু এতে করে তারা নিজেরা যে কতটা বিষাক্ত হয়ে ওঠেন, একটু যদি বুঝতেন তারা।
বউমা কী পরবে, কোথায় যাবে, স্বামীর সঙ্গে কতটা সময় কাটাবে, কোথাও ঘুরতে যাবে কি না—সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও ছেলের কাছে অভিযোগ, বউমার ভুল খোঁজা, চরিত্র বা যোগ্যতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য—এসব ধীরে ধীরে একটি toxic family environment তৈরি করে।
সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন সেই নারীরা, যারা শান্ত স্বভাবের, অন্তর্মুখী বা Introverted, মুখে মুখে তর্ক করতে পারেন না, নিজের পক্ষে দাঁড়াতে পারেন না। তারা প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের আত্মসম্মান হারাতে থাকেন। আর ভিতরে ভিতরে নিঃশেষ হতে থাকেন।
আর যখন স্বামী—যিনি এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ—নীরব থাকেন, স্ত্রীকে সমর্থন তো করেনই না, উল্টে “মা তো এমনই” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান, তখন সেই নীরবতা একজন নারীর জন্য গভীর মানসিক আঘাতে পরিণত হয়। শেষ ভরসার জায়গাটিও হারিয়ে গেলে মানুষের তো নিজের অস্তিত্ব নিয়েই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় তাইনা?
ধীরে ধীরে শুরু হয়, সেই লড়াই এ টিকে থাকার সংগ্রাম, একা টিকে থাকার সংগ্রাম! প্রতিদিনকার অপমান, নিজের ছোট্ট একটি ভুলের জন্য সবার সামনে ছোট করে কথা বলা, বাবার বাড়ি নিয়ে নেগেটিভ কমেন্টস করা, কোথায় কোথায় অপূর্ণতা আছে সেসব নিয়ে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, এসব একজন নারী কে, তিলে তিলে শেষ করে দেয়। মানসিক আঘাত আরও প্রকট হয় যখন হাসব্যান্ড এর সামনে হাসি মুখে সুন্দর ব্যবহার করা হয়, মুরগীর লেগপিস টা পাতে তুলে দিয়ে বলা হয়, বউমা তুমি খাও তো, সারাদিন কতো কষ্ট করো!
আচরনের এই অদ্ভুত পরিবর্তনে হতবাক হয়ে, চুপচাপ শান্ত মেয়ে টা কিছু বলতেও পারে না! প্রচন্ড এক চিৎকার সে গিলে ফেলে!
আর তারপর? এর ফলাফল দেখি আমরা।
বছরের পর বছর মানসিক নির্যাতন, অপমান, একাকীত্ব ও এ আমরা শুধু একজন বিষণ্ন নারীকে দেখি না; আমরা দেখি বছরের পর বছর ধরে চলা এই নীরব মানসিক নির্যাতনের ফলাফল। আর সেই থেকে মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে! সেই প্রশ্ন গুলো হলো—আর কতজন নারীকে অসুস্থ হয়ে আমাদের কাছে আসতে হবে, তারপর আমরা পরিবারে healthy boundaries-এর গুরুত্ব বুঝতে শিখবো?
একজন শাশুড়ি যদি সত্যিই ছেলেকে ভালোবাসেন, তাহলে সেই ভালোবাসা কেন ছেলের দাম্পত্য জীবনকে ভেঙে দিয়েই প্রমাণ করতে হবে? নাকি ছেলের সুখের জন্য এক ধাপ পেছনে সরে দাঁড়ানোই প্রকৃত ভালোবাসা হতে পারতো?
আর সবশেষে, এই যে স্বপ্ন বিলাসী মেয়ে টা আজকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন : দায়ী কে?
আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম!