24/06/2024
অনেকে গরু মোটাতাজা করণের খামার করতে চাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে গরুর সারা দিনের পরিচর্যা করবেন। এবং কোন সময় খাবার দিবেন এটা বুঝতে পারেন না। তাদের জন্যই এই পোস্ট টা লিখা, আশা করি পুরোটা পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর এবং সমস্যার সমাধান এখানে পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই বলি গরুর খাবারের বিষয়ে।
যে কোনো গরু মোটাতাজাকরণ করতে গরুকে দানাদার খাবার দিবেন ২ বেলা সকালে এবং বিকেলে বা সন্ধার আগে।
এর মাঝে দুপুর বেলা শুধু বিশুদ্ধ পরিষ্কার পানি খেতে দিবেন।
ষাঁড় গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কেজি ওজনে (ফুল শরিরের ওজন অনুযায়ী) গরুর জন্য গরুর সাস্থ অনুয়ায়ী দের থেকে দুই কেজি খাবার দিবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন। অদাত এবং কম বয়সি ছোট গরুর খাবার কিন্তু বেশি লাগে। কারন বয়স বাড়ার সাথে সাথে গরু বড় হতে থাকে। এই সময় গরু প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়। যার কারনে গরুর খাবার থেকে যে পুষ্টির পায়, তার অনেকটা অংশ তার শরির বড় করতেই খরচ হয়ে যায়। তাই বড় হওয়ার পাশা-পাশি শরির মোটাতাজা করতে হলে তাদের বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়। তাই অদাত ও কম বয়সি গরুর খাবার একটু বেশি দিতে হয়।
ছোট গরুর ক্ষেত্রে গরুর বয়স যদি ২ দাত বা ২ বছরের বেশি হয়। এবং গরু ওজন ১০০ কেজির আশে-পাশে বা তার কম বেশি হয়। তাহলে তাকে লাইভ ওয়েটের ২-% খাবার দিবেন। মানে ১০০ কেজি ওজনের ছোট গরুকে ২ কেজি খাবার দিবেন।
আর গরু যদি অদাত বা কম বয়সি হয়। তাহলে ১০০ কেজি ওজনের গরুকে আরাই কেজি দানাদার খাবার দিবেন। সারা দিনে সকাল এবং বিকেল মিলে ২ বেলায় এই পরিমান খাবার টা ভাগ করে দিবেন। অর্থৎ ওজন হিসেবে ১ টা গরু ২ কেজি খাবার পেলে ১ কেজি খাবার সকালে দিবেন বাকি ১ কেজি খাবার বিকেল বা সন্ধা বেলা দিবেন।
২০০ কেজি বা এর বেশি ওজনের মাঝারি অদাত কম বয়সি গরুর গরুর জন্য লাইভ ওয়েটের ২% খাবার দিবেন। মানে গরুর ওজন যদি ২০০ কেজি বা তার বেশি হয় তাহলে। প্রতি ১০০ কেজি ওজনের জন্য ২ কেজি হিসেব করে দানাদার খাবার দিবেন।
দাতাল বা ২ বছরের বেশি বয়সের গরুকে লাইভ ওয়েটের ১.৫% দানাদার খাবার দিবেন। অর্থৎ গরুর ওজন ২০০ কেজি হলে সারা দিনে সকাল বিকেল মিলে তাকে ৩ কেজি খাবার দিবেন৷ আবার গরুর ওজন ৩০০ কেজি হলে সারা দিনে সারে চার কেজি খাবার দিবেন। মানে প্রতি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য সারা দিনে ২ বেলা মিলে দের কেজি করে হিসাব করে খাবার দিবেন।
শুকনো গাভী মোটাতাজাকরণ এর বেলায় খাবার বেশি দিবেন শরিরের সাইজ অনুযায়ী। কারন গাভী অতিরিক্ত শুকনো হওয়ার ফলে ওজন কম হলেও, শরিরের সাইজ বড় হওয়ার জন্য মোটা হবার সাথে সাথে অনেক ওজন হয়।
যেহেতু হাড্ডি গাভীর শরির সাভাবিক সাস্থের থেকে বেশি শুকনো থাকে তাই তার খাবার সাভাবিক এর থেকে একটু বেশি হবে।
তবে গাভী, ষাঁড় বা ছোট গরু যেটাই হোক, হাট থেকে আনার পর প্রথম অবস্থায় কয়েক দিন খাবার কম দিবেন।
গরু আনার পর প্রতিদিন একটু একটু খাদ্য বাড়িয়ে ১০-১৫ দিন যাওয়ার পর প্রয়োজন অনুয়ায়ী খাবার বাড়িয়ে দিবেন। এতে করে গরুর হজম নিয়ে সমস্যা হবে না। আস্তে আস্তে খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
শুকনো গাভী মোটাতাজা করতে গরু আনার ১ মাস পর থেকেই তার চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিবেন যতটুকু সে খেতে পারে।
দানাদার খাবারটা হাল্কা পানি দিয়ে নরম করে নিয়ে খেতে দিবেন। যাতে করে সহজে গরু খাবার টা খেতে পারে।
গরু যদি অল্প পানি দিয়ে খেতে না চায় তাহলে পানি বাড়িয়ে দিতে পারেন।
খাবার কোনো প্রকার রান্না বা সেদ্ধ করে দেওয়া যাবে না। কারন রান্না করে খাওয়া গরুর সভাব নয়। এতে উল্টো গরু গ্যাস বা পেট ফুলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
গরুর দানাদার খাওয়া শেষ হলে খাওয়ার পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি খেতে দিবেন তার চাহিদা অনুযায়ী।
গরুকে সব সময় পরিষ্কার পানি খেতে দিবেন, খাবারের সাথে বেশি পানি না দেওয়াই উত্তম। খাবারের সাথে পানি বেশি দিলে গরু খাবারের লোভে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি খায়। যার ফলে গরুর পেট বড় হয়ে যায়।
তবে কিছু কিছু গরু অতিরিক্ত পানি খেয়ে পেট অনেক বড় করে ফেলে। তাই যে গরু গুলোর পেট অনেক বড় সেগুলোকে পানি একটু কম দিবেন অন্য গরুর তুলনায়। যাতে গরুর পেট একটু ছোট দেখা যায়।
২ বেলা দানাদার খাবার দেওয়ার পর বাকি সময় যে টা থাকে। সেই সময় টাতে গরুকে খর-বিচালি বা ঘাস যেটা আছে সেগুলো খেতে দিবেন।
উদাহরণ সরূপ সকালে ঘুম থেকে উঠে গরুকে গরুর ঘড় বা সেড পরিষ্কার করে। গরুকে অল্প করে খর-বিচালি বা ঘাস খেতে দিয়ে আপনি একটু বিশ্রাম নিলেন।
খড়-বিচালি বা ঘাস খাওয়া শেষ হলে, ৮ টা বা ৯ টার দিক গরুকে সকালের দানাদার খাবার টা দিয়ে দিলেন।
দানাদার খাবার শেষ হলে, গরুকে আবার খড়-বিচালি বা ঘাস যেটা আছে সেই খাবার টা দিয়ে দিলেন। যাতে গরু বাকি সয়ম ইচ্ছে হলে সেগুলো খেতে পারে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরু সেই খাবার গুলো খাবে বা খাবারের মাঝে তার বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে হলে শুয়ে বিশ্রাম করবে।
এই সময়টাতে আপনিও অন্যান্য কাজ থাকলে সেটা করতে পারেন বা বিশ্রাম নিতে পারেন।
এর পর দুপুর বেলা বা সারে বারোটা থেকে দের টার মাঝে, খাবার চাড়িতে খাবার থাকলে। সেগুলো সরিয়ে নিয়ে খাবার চাড়ি পরিষ্কার করে গরুকে গোসল দিতে পারেন।
গরুকে নিয়মিত গোসল দিলে গরু সুস্থ সবল ও রোগ মুক্ত থাকে।
বর্তমান তীর্ব গরমে গরুকে অবশ্যই ১ বেলা গোসল করাতে হবে। সমস্যা না হলে শীত কালেও গরুকে প্রতিদিন গোসল দিতে পারেন।
তবে অতিরিক্ত শীতে বা যে কোনো সময় গরুর শরিরে জ্বর থাকলে গোসল বন্ধ রাখতে হবে।
গোসলের পর গরুকে এক দের ঘন্টা বিশ্রাম এর সময় দিতে পারেন। বা গোসলের পর আবার খড়-বিচালি বা ঘাস খেতে দিতে পারেন।
সেই খাবার টা সে বিকেল পর্যন্ত খাবে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন ঘাস না থাকলে মোটাতাজায় কোনো সমস্যা হবে নাকি?
তাদের জন্য বলি, গরু মোটাতাজা হয় মূলত দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করে। আপনার দানাদার খাদ্য যত ভালো মানের হবে গরু তত দ্রুত মোটাতাজা হবে।
তাই গরুর দানাদার খাদ্যের পাশা-পাশি গরুকে ঘাস না থাকলে খড়-বিচালি দিয়েও মোটাতাজা করতে পারবেন।
গরু মোটাতাজা করতে ঘাস না থাকলে গরু মোটাতাজা করতে কোনো সমস্যা হয় না।
যারা গরুর খাদ্য তৈরী করতে পারেন না বা জননেন না গরুকে কি ধরনের দানাদার খাবার দিবেন। তাঁরা আমার প্রফাইলে খাদ্য তৈরীর পোস্ট গুলো অথবা ইউটুবে Nadim Agro লিখে সার্চ করে, ইউটুবে আমার খাদ্য তৈরীর ভিডিও গুলো দেখে আসতে পারেন।
এর পর বিকেল বা সন্ধার আগে গরুকে আবার ২য় বারের মত দানাদার খাবারটা দিয়ে দিতে দিবেন। পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী।
গরুর দানাদার খাবার খাওয়া শেষ হলে একটু রেষ্ট দিয়ে সন্ধায় বা রাতে আবার একটু খড়-বিচালি বা ঘাস দিলেন। এবং গরুর ঘর বা সেড এর মেঝের গোবর টেনে পরিষ্কার করে দিয়ে আপনি আবার একটু বিশ্রাম নিতে পারেন।
গরুর মশার কারনে যাতে বিশ্রাম এর সমস্যা না হয় তাই সন্ধা থেকে মশার কয়েল দিয়ে রাখতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে যাতে আগুন লেগে দূর্ঘটনা না ঘটে।
রাতে আপনি ঘুমানোর আগে গরুর খাবার চাড়িতে অল্প পরিমান খড়-বিচালি দিয়ে রাখতে পারেন। যাতে গরুর ক্ষুধা লাগলে গরু সেগুলো খেতে পারে।
তবে চাড়িতে খড়-বিচালি বেশি দেওয়া যাবে না। কারন অনেক গরু রাতে না ঘুমিয়ে উঠে খাবার খায়। এতে গরু পর্যাপ্ত ঘুমোনোর সুযোগ পায় না। আর গরুকে অবশ্যই ঘুমানোর সুযগ করে দিতে হবে।
এভাবে আপনি সারা দিনের গরুর পরিচর্যা করতে পারেন।
আশা করি এই রুটিনে গরু পালন করলে আপনি সারাদিনে খুব সহজে গরুর খামার পরিচালনা করতে পারবেন।