Kalti Farm

Kalti Farm সুযোগের জন্য বসে থাকা একজন উদ্যোক্তার কাজ নয়। উদ্যোক্তা সে-ই যে সুযোগ করে নেয়।

অনেকে গরু মোটাতাজা করণের খামার করতে চাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে গরুর সারা দিনের পরিচর্যা করবেন। এবং কোন সময় খাবার দিবেন এটা ব...
24/06/2024

অনেকে গরু মোটাতাজা করণের খামার করতে চাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে গরুর সারা দিনের পরিচর্যা করবেন। এবং কোন সময় খাবার দিবেন এটা বুঝতে পারেন না। তাদের জন্যই এই পোস্ট টা লিখা, আশা করি পুরোটা পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর এবং সমস্যার সমাধান এখানে পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই বলি গরুর খাবারের বিষয়ে।
যে কোনো গরু মোটাতাজাকরণ করতে গরুকে দানাদার খাবার দিবেন ২ বেলা সকালে এবং বিকেলে বা সন্ধার আগে।
এর মাঝে দুপুর বেলা শুধু বিশুদ্ধ পরিষ্কার পানি খেতে দিবেন।
ষাঁড় গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কেজি ওজনে (ফুল শরিরের ওজন অনুযায়ী) গরুর জন্য গরুর সাস্থ অনুয়ায়ী দের থেকে দুই কেজি খাবার দিবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন। অদাত এবং কম বয়সি ছোট গরুর খাবার কিন্তু বেশি লাগে। কারন বয়স বাড়ার সাথে সাথে গরু বড় হতে থাকে। এই সময় গরু প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়। যার কারনে গরুর খাবার থেকে যে পুষ্টির পায়, তার অনেকটা অংশ তার শরির বড় করতেই খরচ হয়ে যায়। তাই বড় হওয়ার পাশা-পাশি শরির মোটাতাজা করতে হলে তাদের বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়। তাই অদাত ও কম বয়সি গরুর খাবার একটু বেশি দিতে হয়।
ছোট গরুর ক্ষেত্রে গরুর বয়স যদি ২ দাত বা ২ বছরের বেশি হয়। এবং গরু ওজন ১০০ কেজির আশে-পাশে বা তার কম বেশি হয়। তাহলে তাকে লাইভ ওয়েটের ২-% খাবার দিবেন। মানে ১০০ কেজি ওজনের ছোট গরুকে ২ কেজি খাবার দিবেন।
আর গরু যদি অদাত বা কম বয়সি হয়। তাহলে ১০০ কেজি ওজনের গরুকে আরাই কেজি দানাদার খাবার দিবেন। সারা দিনে সকাল এবং বিকেল মিলে ২ বেলায় এই পরিমান খাবার টা ভাগ করে দিবেন। অর্থৎ ওজন হিসেবে ১ টা গরু ২ কেজি খাবার পেলে ১ কেজি খাবার সকালে দিবেন বাকি ১ কেজি খাবার বিকেল বা সন্ধা বেলা দিবেন।
২০০ কেজি বা এর বেশি ওজনের মাঝারি অদাত কম বয়সি গরুর গরুর জন্য লাইভ ওয়েটের ২% খাবার দিবেন। মানে গরুর ওজন যদি ২০০ কেজি বা তার বেশি হয় তাহলে। প্রতি ১০০ কেজি ওজনের জন্য ২ কেজি হিসেব করে দানাদার খাবার দিবেন।
দাতাল বা ২ বছরের বেশি বয়সের গরুকে লাইভ ওয়েটের ১.৫% দানাদার খাবার দিবেন। অর্থৎ গরুর ওজন ২০০ কেজি হলে সারা দিনে সকাল বিকেল মিলে তাকে ৩ কেজি খাবার দিবেন৷ আবার গরুর ওজন ৩০০ কেজি হলে সারা দিনে সারে চার কেজি খাবার দিবেন। মানে প্রতি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য সারা দিনে ২ বেলা মিলে দের কেজি করে হিসাব করে খাবার দিবেন।
শুকনো গাভী মোটাতাজাকরণ এর বেলায় খাবার বেশি দিবেন শরিরের সাইজ অনুযায়ী। কারন গাভী অতিরিক্ত শুকনো হওয়ার ফলে ওজন কম হলেও, শরিরের সাইজ বড় হওয়ার জন্য মোটা হবার সাথে সাথে অনেক ওজন হয়।
যেহেতু হাড্ডি গাভীর শরির সাভাবিক সাস্থের থেকে বেশি শুকনো থাকে তাই তার খাবার সাভাবিক এর থেকে একটু বেশি হবে।
তবে গাভী, ষাঁড় বা ছোট গরু যেটাই হোক, হাট থেকে আনার পর প্রথম অবস্থায় কয়েক দিন খাবার কম দিবেন।
গরু আনার পর প্রতিদিন একটু একটু খাদ্য বাড়িয়ে ১০-১৫ দিন যাওয়ার পর প্রয়োজন অনুয়ায়ী খাবার বাড়িয়ে দিবেন। এতে করে গরুর হজম নিয়ে সমস্যা হবে না। আস্তে আস্তে খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
শুকনো গাভী মোটাতাজা করতে গরু আনার ১ মাস পর থেকেই তার চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিবেন যতটুকু সে খেতে পারে।
দানাদার খাবারটা হাল্কা পানি দিয়ে নরম করে নিয়ে খেতে দিবেন। যাতে করে সহজে গরু খাবার টা খেতে পারে।
গরু যদি অল্প পানি দিয়ে খেতে না চায় তাহলে পানি বাড়িয়ে দিতে পারেন।
খাবার কোনো প্রকার রান্না বা সেদ্ধ করে দেওয়া যাবে না। কারন রান্না করে খাওয়া গরুর সভাব নয়। এতে উল্টো গরু গ্যাস বা পেট ফুলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
গরুর দানাদার খাওয়া শেষ হলে খাওয়ার পর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি খেতে দিবেন তার চাহিদা অনুযায়ী।
গরুকে সব সময় পরিষ্কার পানি খেতে দিবেন, খাবারের সাথে বেশি পানি না দেওয়াই উত্তম। খাবারের সাথে পানি বেশি দিলে গরু খাবারের লোভে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি খায়। যার ফলে গরুর পেট বড় হয়ে যায়।
তবে কিছু কিছু গরু অতিরিক্ত পানি খেয়ে পেট অনেক বড় করে ফেলে। তাই যে গরু গুলোর পেট অনেক বড় সেগুলোকে পানি একটু কম দিবেন অন্য গরুর তুলনায়। যাতে গরুর পেট একটু ছোট দেখা যায়।

২ বেলা দানাদার খাবার দেওয়ার পর বাকি সময় যে টা থাকে। সেই সময় টাতে গরুকে খর-বিচালি বা ঘাস যেটা আছে সেগুলো খেতে দিবেন।
উদাহরণ সরূপ সকালে ঘুম থেকে উঠে গরুকে গরুর ঘড় বা সেড পরিষ্কার করে। গরুকে অল্প করে খর-বিচালি বা ঘাস খেতে দিয়ে আপনি একটু বিশ্রাম নিলেন।
খড়-বিচালি বা ঘাস খাওয়া শেষ হলে, ৮ টা বা ৯ টার দিক গরুকে সকালের দানাদার খাবার টা দিয়ে দিলেন।
দানাদার খাবার শেষ হলে, গরুকে আবার খড়-বিচালি বা ঘাস যেটা আছে সেই খাবার টা দিয়ে দিলেন। যাতে গরু বাকি সয়ম ইচ্ছে হলে সেগুলো খেতে পারে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরু সেই খাবার গুলো খাবে বা খাবারের মাঝে তার বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে হলে শুয়ে বিশ্রাম করবে।
এই সময়টাতে আপনিও অন্যান্য কাজ থাকলে সেটা করতে পারেন বা বিশ্রাম নিতে পারেন।
এর পর দুপুর বেলা বা সারে বারোটা থেকে দের টার মাঝে, খাবার চাড়িতে খাবার থাকলে। সেগুলো সরিয়ে নিয়ে খাবার চাড়ি পরিষ্কার করে গরুকে গোসল দিতে পারেন।
গরুকে নিয়মিত গোসল দিলে গরু সুস্থ সবল ও রোগ মুক্ত থাকে।
বর্তমান তীর্ব গরমে গরুকে অবশ্যই ১ বেলা গোসল করাতে হবে। সমস্যা না হলে শীত কালেও গরুকে প্রতিদিন গোসল দিতে পারেন।
তবে অতিরিক্ত শীতে বা যে কোনো সময় গরুর শরিরে জ্বর থাকলে গোসল বন্ধ রাখতে হবে।
গোসলের পর গরুকে এক দের ঘন্টা বিশ্রাম এর সময় দিতে পারেন। বা গোসলের পর আবার খড়-বিচালি বা ঘাস খেতে দিতে পারেন।
সেই খাবার টা সে বিকেল পর্যন্ত খাবে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন ঘাস না থাকলে মোটাতাজায় কোনো সমস্যা হবে নাকি?
তাদের জন্য বলি, গরু মোটাতাজা হয় মূলত দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করে। আপনার দানাদার খাদ্য যত ভালো মানের হবে গরু তত দ্রুত মোটাতাজা হবে।
তাই গরুর দানাদার খাদ্যের পাশা-পাশি গরুকে ঘাস না থাকলে খড়-বিচালি দিয়েও মোটাতাজা করতে পারবেন।
গরু মোটাতাজা করতে ঘাস না থাকলে গরু মোটাতাজা করতে কোনো সমস্যা হয় না।
যারা গরুর খাদ্য তৈরী করতে পারেন না বা জননেন না গরুকে কি ধরনের দানাদার খাবার দিবেন। তাঁরা আমার প্রফাইলে খাদ্য তৈরীর পোস্ট গুলো অথবা ইউটুবে Nadim Agro লিখে সার্চ করে, ইউটুবে আমার খাদ্য তৈরীর ভিডিও গুলো দেখে আসতে পারেন।
এর পর বিকেল বা সন্ধার আগে গরুকে আবার ২য় বারের মত দানাদার খাবারটা দিয়ে দিতে দিবেন। পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী।
গরুর দানাদার খাবার খাওয়া শেষ হলে একটু রেষ্ট দিয়ে সন্ধায় বা রাতে আবার একটু খড়-বিচালি বা ঘাস দিলেন। এবং গরুর ঘর বা সেড এর মেঝের গোবর টেনে পরিষ্কার করে দিয়ে আপনি আবার একটু বিশ্রাম নিতে পারেন।
গরুর মশার কারনে যাতে বিশ্রাম এর সমস্যা না হয় তাই সন্ধা থেকে মশার কয়েল দিয়ে রাখতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে যাতে আগুন লেগে দূর্ঘটনা না ঘটে।
রাতে আপনি ঘুমানোর আগে গরুর খাবার চাড়িতে অল্প পরিমান খড়-বিচালি দিয়ে রাখতে পারেন। যাতে গরুর ক্ষুধা লাগলে গরু সেগুলো খেতে পারে।
তবে চাড়িতে খড়-বিচালি বেশি দেওয়া যাবে না। কারন অনেক গরু রাতে না ঘুমিয়ে উঠে খাবার খায়। এতে গরু পর্যাপ্ত ঘুমোনোর সুযোগ পায় না। আর গরুকে অবশ্যই ঘুমানোর সুযগ করে দিতে হবে।
এভাবে আপনি সারা দিনের গরুর পরিচর্যা করতে পারেন।
আশা করি এই রুটিনে গরু পালন করলে আপনি সারাদিনে খুব সহজে গরুর খামার পরিচালনা করতে পারবেন।

পোল্ট্রি ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই- 😰😰ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোল্ট্রি ও জেনারেল পোল্ট্রি - দুই জাগায় উৎপাদন খরচ ভিন্ন, অথচ সবাই ডি...
07/06/2024

পোল্ট্রি ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই- 😰😰

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোল্ট্রি ও জেনারেল পোল্ট্রি - দুই জাগায় উৎপাদন খরচ ভিন্ন, অথচ সবাই ডিম বা মুরগী বিক্রি করে একই মার্কেট প্লেসে সমান দামে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোল্ট্রিতে প্রতি ডিম বা প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগীতে উৎপাদন খরচ,জেনারেল পোল্ট্রি থেকে কিছুটা কম হয়।

জেনারেল পোল্ট্রি বলতে ছোট মাঝারি পোল্ট্রি খামারিদের উৎপাদন ব্যবস্থা কে বুঝানো হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ছোট মাঝারি জেনারেল পোল্ট্রির খামারিদের পোল্ট্রি ম্যানেজমেন্ট এর উন্নয়ন ঘটাতে হবে,আমি অন্য কোন বিকল্প দেখি না।

চিকিৎসা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে,বায়ো সিকিউরিটি,পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ,লাইটিং,ভেন্টিলেশন (বায়ু চলাচল) লিটার ব্যবস্থাপনায় ও টিকা,কৃমি,উকুন দমনে গুরুত্ব দিন।মুরগির খাবার পানি বিশুদ্ধ,জীবানুমুক্ত ও ফার্ম সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।
ভাল থাকবেন।।

পোল্ট্রি পালন হল সায়েন্স/বিজ্ঞান নির্ভর, আপনি যদি এটা অনুধাবন না করেন এবং পোল্ট্রি পালনের প্রকৃত রূল ফলো না করেন, জেনে নিন আগামী দিন গুলো ছোট মাঝারিদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে।

05/03/2024
29/02/2024
25/02/2024

* কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা, অপকারিতা এবং খাবার নিয়ম *

পৃথিবীতে যত ধরণের ডিম খাদ্য উপোযোগী রয়েছে তার মধ্যে গুণে মানে পুষ্টিতে ভরপুর হলো কোয়েল পাখির ডিম। সাধারণত বয়স ৪০ পার হলেই ডিম পরিহার করতে বলা হয় । কেননা ব্রয়লারের ডিমগুলো খেলে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেড়ে যায় কিন্তু তার পরিবর্তে কোয়েল পাখির ডিম যেকোনো বয়সের মানুষেরা সহজেই নিসঃকোচে খেতে পারবেন।

আমাদের দেশে ইদানিং খাবার হিসেবে কোয়েল পাখির ডিমের বেশ জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। গড়ে উঠছে অনেক কোয়েল পাখির খামার। তাই এ ডিমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারের কথা জানতে চান অনেকে।

* কোয়েলের ডিমে পুষ্টি *

আসুন জেনে নিই একটি কোয়েলের ডিমে কতটা পুষ্টি উপাদান থাকে।

ক্যালরিঃ ১৪

ফ্যাটঃ ১ গ্রাম

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ ৪ মিলিগ্রাম

ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডঃ ৮৪ মিলিগ্রাম

প্রোটিনঃ ১.২ গ্রাম

কোলেস্টেরলঃ ৭৬ মিলিগ্রাম

ভিটামিন ও মিনারেল

ভিটামিন এঃ ১%

রিবোফ্লাভিনঃ ৪%

ভিটামিন বি১২ঃ ২%

প্যানথোনিক এসিডঃ ২%

আয়রনঃ ২%

সেলেনিয়ামঃ ৪%

ফসসরাসঃ ২%

* কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা *

কোয়েল পাখির ডিম আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতার কোন অভাব নেই। কোয়েল পাখির ডিমের স্বাস্থ্য গুনাগুণ:

* শক্তি বর্ধক

কোয়েলের ডিম আমাদের শরীরের জন্য বেশ ভালো একটি শক্তির উৎস হতে পারে। কোয়েলের ডিম প্রোটিন ও আয়রনে সমৃদ্ধ, যা শরীরের এনার্জি লেভেল বাড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সব ধরণের প্রোটিনই বহু অ্যামিনো এসিড অণুর দ্বারা তৈরি চেইন দিয়ে গঠিত হয়। কোয়েলের ডিমের অ্যামিনো এসিড প্রোফাইল তৈরি করে দেখা যায়, এতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ্যামিনো এসিড বিদ্যমান।

শরীরের ব্লাড শুগার নিয়ন্ত্রণে এদের মধ্যে কয়েকটি অ্যামিনো এসিড বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অন্য কয়েকটি অ্যামিনো এসিড রয়েছে যারা টিস্যুর ক্ষয়রোধ ও নতুন টিস্যু গঠন করে। এছাড়াও কোয়েল পাখির ডিমে পাওয়া যায় লাইসিন নামক অ্যামিনো এসিড,

যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে এবং হরমোন, কোলাজেন ও এনজাইম উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। নতুন রক্ত তৈরিতে আয়রনের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যবহ। শরীরে আয়রনের অভাব হলে অ্যানেমিয়া বা রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়, যার ফলে ঘন ঘন ক্লান্তি ও শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা দেখা যায়।

* ক্যান্সার প্রতিরোধে

কোয়েলের ডিমে প্রাপ্ত খণিজ উপাদানগুলোর একটি হলো সেলেনিয়াম। এই খণিজ দ্রব্যটি প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সেলেনিয়ামে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকোষকে ক্ষয় হয়ে যাওয়া ও জারণ থেকে রক্ষা করে।

এইচ আই ভি ও ক্রন’স ডিজিজ আক্রান্ত মানুষের দেহে সেলেনিয়ামের অভাব লক্ষ্য করা যায়। স্বাভাবিক মানুষের শরীরে সেলেনিয়ামের তেমন ঘাটতি পরিলক্ষিত না হলেও প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সেলেনিয়ামযুক্ত খাদ্য রাখাটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। সেক্ষেত্রে কোয়েলের ডিম অনেক সহায়তা করতে পারে।

* যকৃত, ত্বক, চুল ও চোখের সুরক্ষায়

রিবোফ্লাভিন, যা মূলত ভিটামিন বি ২ নামে পরিচিত, দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়ার জন্য খুবই দরকারী। সাধারণত ভিটামিন বি ২ সহ অন্যান্য বি শ্রেণীর ভিটামিন আমাদের লিভার, ত্বক, চুল ও চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করে।

শরীরে লোহিত রক্ত কণিলা উৎপাদনেও রিবোফ্লাভিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোয়েলের ডিমে আকারের অনুপাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রিবোফ্লাভিন, একের অধিক কোয়েলের ডিম নিয়মিত খেলে তা আমাদের লিভার, ত্বক, চুল, চোখের সুস্থতার জন্য যথেষ্ট!

* মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিতে

আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি১২, থাইমিন ভিটামিন বি১ ও ভিটামিন বি২ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন বি১২ আমাদের স্মৃতিশক্তির ক্ষয় রোধ করতে সহায়ক। কোয়েলের ডিম ভিটামিন বি১২ এবং রিবোফ্লাভিন ভিটামিন বি১২ এর একটি ভালো উৎস। কিছু পরিমাণ থাইমিনও ভিটামিন বি১ এতে বিদ্যমান।

* অ্যালার্জিজনিত রোগ প্রতিরোধ করে

পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কোয়েলের ডিম এসব সর্দি ও কাশির বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

এতে রয়েছে অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী উপাদান। গবেষণায় দেখা যায় কোয়েলের কাঁচা ডিম অ্যালার্জির লক্ষ্মণ ও মাত্রা উভয়ই কমিয়ে দিতে পারে।

* হাঁপানি শিথিল করে

কোয়েলের ডিমের অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী উপাদান হাঁপানির বিরুদ্ধেও কাজ করে। ধুলোবালির জীবাণুতে আক্রান্ত ১৮০ জন হাঁপানি আক্রান্ত শিশু নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা কোয়েল পাখির ডিম খেয়েছে তাদের হাঁপানির তীব্রতা ও অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যহারে কম।

* ত্বক কোমল রাখে

কোয়েলের ডিমের সাদা অংশে লাইসিন-৮ নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। ত্বকে কোলাজেন গঠনে লাইসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোলাজেন হলো একটি প্রোটিনের নাম যা ত্বক কোমল রাখে ও ত্বকের প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের শরীর এ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে না। তাই এর ঘাটতি পূরণে কোয়েল পাখির ডিম খাওয়া প্রয়োজন।

* রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ও চোখ ভালো রাখে

এই ডিম ভিটামিন ‘এ’ এর ভালো উৎস। যা চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ভিটামিন ‘এ’ অল্প আলোয় চোখকে দেখতে সাহায্য করে ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ চোখের কর্নিয়া ও অন্য অংশে পুষ্টি দেয়। এর অভাবে বাচ্চাদের রাতকানা রোগ হয়।

* ডায়াবেটিস মোকাবিলা করে

ডায়াবেটিস একটি বিপদজনক অবস্থা যা কেবল বাড়তেই থাকে। ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধে খাবার তালিকায় কোয়েলের ডিমের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয়।


* কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর দিক *

কোয়েল পাখির ডিমের যেমন উপকারিত রয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে এর ক্ষতিকর কিছু দিক রয়েছে। চলুন কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর কিছু দিক দেখে নেই।

* ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের সমস্যার কারণ

যারা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ আছে তাদের যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে হয়,তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কোয়েলের ডিম এডিয়ে চলা উচিত। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট আছে। এই ফ্যাট ডায়াবেটিকস ও হৃদরোগীদের সমস্যার কারণ হতে পারে।

* কোলেস্টেরল এর সমস্যা বাড়ায়

কোয়েল পাখির ১০০গ্রাম ডিমে থাকে ৮৪৪ গ্রাম কোলেস্টেরল। যা অন্যান্য ডিম থেকে বেশি। তাই যাদের কোলেস্টেরল এর সমস্যা বেশি তাদের উচিত এই ডিম অতিরিক্ত খাওয়া পরিহার করা।

* কোয়েল পাখির ডিম খাওয়ার নিয়ম *

কোয়েলের ডিম প্রাণীজ খাদ্যদ্রব্য হলেও এর মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম এবং অ্যামাইনো এসিড এমন মাত্রায় থাকে যে এই ডিম খেলে শরীরে সব ধরণের পুষ্টির অভাব পূরন হয় এবং শরীরের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।

* কোয়েল পাখির ডিম খেলে কি হয়

কোয়েলের ডিমে ভিটামিন বি-১ এর পরিমান মুরগীর ডিম থেকে ছয়গুণ বেশী, আয়রন ও ফসফরাস পাঁচ গুণ বেশী, ভিটামিন বি-২ পনেরো গুণ বেশী। বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে থাকে কোয়েলের ডিম। চীনারা কোয়েলের ডিমকে টিবি, অ্যাজমা, এবং ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

* মুরগির ডিম ও কোয়েলের ডিমের পার্থক্য

কোয়েলের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে ছোট কিন্তু ওজনে বেশি চর্বি, প্রোটিন, আয়রন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি১২ থাকে। যাইহোক, এগুলি আরও ব্যয়বহুল এবং মুরগির ডিমের চেয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

* একটি মুরগির ডিম সমান কতটি কোয়েল পাখির ডিম

প্রায় তিনটি কোয়েলের ডিম একটি মুরগির ডিমের সমান। তবে আপনাকে বোকা বানাতে দেবেন না যে তারা একটি ভাল পছন্দ নয়। আপনি এগুলিকে এক কামড়ে খেতে পারেন যাতে সমস্ত জায়গায় কুসুম প্রবাহিত না হয় এবং আপনি তাদের সাথে যা তৈরি করতে চান তার সাথে আপনার অনেক বেশি নমনীয়তা রয়েছে।

* কোয়েল পাখির ডিম দিনে কয়টি খাওয়া যায়

দৃষ্টিশক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আপনি সেদ্ধ, ভাজা বা কাঁচা আকারে সেবন করতে পারেন। কোয়েলের ডিম বেশি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কম এবং রক্তচাপ হতে পারে। আপনি আপনার খাদ্যের অংশ হিসাবে প্রতিদিন 3 থেকে 5টি কোয়েল ডিম খেতে পারেন।

আমাদের দেশে কোয়েল পালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি পালন করে অনেক বেকার যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করছেন। অনেকে কোয়েল পালন...
25/02/2024

আমাদের দেশে কোয়েল পালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি পালন করে অনেক বেকার যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করছেন। অনেকে কোয়েল পালন করে উদ্যোক্তা হতে চান। তবে কোয়েলের খামার করতে গেলে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে।

কোয়েল পালন করতে গেলে প্রথমে এর আবাসন, খাবার, কোয়েলের সুস্থতা ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। শুরুতে জানা যাক কোয়েল পাখির আবাসন নিয়ে। কোয়েল পাখি অবশ্যই খাঁচায় পালতে হবে। প্রতি বর্গফুটে ৮টি পাখি পালন করা যায়।

সবাই বলে কোয়েল পাখির কোনো রোগ নেই। শুধু ডিম পাড়ার জন্য মাদি কিনে আনলেই হয়। আসলে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পাখি পালনে পানির পাত্র আর খাবারের পাত্র লাগবে। সময় মতো খাবার এবং পানি দিতে হবে। কোয়েল পালনে অল্প বিনিয়োগ অনেক লাভ।

কোয়েল পালনে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তবে সেটি সঠিক নিয়মে করতে হবে। লিটার পদ্ধতিতে কোয়েল পালনের অসুবিধা ও খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধাগুলো জানতে হবে।

লিটার পদ্ধতিতে কোয়েল পালন করলে কোয়েলের অনেক রোগ হয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রোগ হলো আসিরিটিভ এনটিরিটিস বা কোয়েল ডিজিজ। অনেক সময় বোঝা যায় না কিভাবে এ রোগটি হলো। এ রোগ হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব কোয়েল পাখি মরে যাবে।

দ্বিতীয়টি হলো কৃমি। এতে আক্রান্ত হলে কোয়েল পাখি মরবে না। তবে ডিম দেওয়া কমে যাবে। ধীরে ধীরে পাখি অসুস্থ হয়ে পড়বে। কিছুদিন পর মারা যাবে। আরেকটি সমস্যা হলো পাখির আমাশয়। যেহেতু পাখি সবসময় লিটার বা নিজেদের বিষ্ঠার উপর থাকবে সেহেতু আমাশয় হবে। ওষুধ খাওয়ালে ভালো হবে কিন্তু ততক্ষণে ডিম দেওয়া কমে যাবে।

চতুর্থ সমস্যা হলো চোখ ফুলে যাওয়া। পাখির বিষ্ঠা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বের হয় এর ফলে অনেক সময় চোখ ফুলে যায়। বাতাস ঠিক মতো চলাচল করলে ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু ততক্ষণে ডিম দেওয়া কমে যাবে। লিটারে ফাঙ্গাস হতে পারে- যা খেলে কোয়েল বাঁচবে না।

এ ছাড়া কোয়েল পাখি উড়ে। উড়তে গিয়ে কখনও ডিমের উপর গিয়ে পড়ে, ফলে ডিম ভেঙে যায়। এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। পক্ষান্তরে যদি কোয়েল পাখি খাঁচায় পালন করা হয় তাহলে কোনো রোগ হবে না বলা যায়, এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বার্ডফ্লু দেখা দিলেই পাখি মারা যাবে।

তবে খাঁচায়তেও কোয়েল মারা যায়, তবে সেটা রোগে নয়, খাঁচার নেটে ভেতর মাথা ঢুকিয়ে ও খুঁচিয়ে নেট এর ফাঁকে পা আটকে যায় এসব কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাখি মারা যায়। তবে সেটা খুবই নগণ্য। খাঁচায় কোয়েল পাখি পালন করলে ব্যবসা শুরুকালীন বিনিয়োগ বেশি হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, পাখির ঘর বা খাঁচা স্থাপন করতে হবে উঁচু স্থানে। খাঁচার ছাউনি এবং চারপাশে নেট যাতে বাতাস চলাচলে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়।

কোয়েল পাখির খাবার বিষয়ে বেশ যত্নবার হতে হবে। যদি পাখিকে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয় তাহলে খাঁচায় পালন করলেও কোয়েলের আমাশয় বা পেটে সমস্যা দেখা দেবে। ভ্যাকসিন দিলে হয়তো সুস্থ হবে কিন্তু ততক্ষণে পাখির ডিম দেওয়া কমে যাবে। তাই খাবার কেনা সময়ে যাচাই-বাছাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কোয়েল পালনে পাখির সুস্থতার প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। পাখি যদি অসুস্থ থাকে তাহলে পাখি সাধারণত ডিম পাড়ে না। লিটারে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাই খাঁচায় পালন করা ভালো।

Address

Gabtoli, Bogura
Dhaka
5820

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kalti Farm posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Kalti Farm:

Share

Category