Kosturi - The Explorer

Kosturi - The Explorer FireCrackers. Life is a mysterious journey, and I savor every moment—through thoughts or cooking. What I love, I don’t just see—I feel, share, and keep it alive.

I don’t just create content; I tell stories that stay with you, touch you, and make you feel.

কিছু ছবি চোখের সামনে এলেই বুকটা ধক করে ওঠে। ছবির মানুষটি কোনো কাল্পনিক ভূতের চরিত্র নন, তিনি আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হা...
20/08/2026

কিছু ছবি চোখের সামনে এলেই বুকটা ধক করে ওঠে। ছবির মানুষটি কোনো কাল্পনিক ভূতের চরিত্র নন, তিনি আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের শ্রদ্ধেয় প্রধান। অথচ আজ রক্তে ভেসে গেছে তাঁর মুখমণ্ডল, চোখের ভেতরে জমাট বেঁধে আছে গাঢ় রক্ত— আঘাতের ভয়াবহতা কতটা গভীরে ছিল, তা এই প্রতিচ্ছবিই বলে দেয়।
​ঘটনাটি ঘটেছিল যখন তিনি সিএনজি নিয়ে ফিরছিলেন। আচমকা কিছু দুর্বৃত্ত গাড়ি আটকে ড্রাইভারকে চাপ দেয় গেট খুলতে। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি কেবল জানতে চেয়েছিলেন ঝামেলার কারণ। জবাব এসেছিল, "আপনি ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।" কিন্তু সেটা ছিল কেবলই চক্রান্তের এক নির্মম নাটক। আসল অন্ধকার লুকিয়ে ছিল অন্য জায়গায়।
​কয়েকদিন আগে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এই ডাক্তারের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। নিজেকে এক "কথিত গ্যাং"-এর সদস্য পরিচয় দিয়ে ১৫ তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধের হুমকি দেওয়া হয়। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের মতো উনিও এটাকে সস্তা স্ক্যাম ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আর সেই 'অপরাধেই' ১৭ তারিখে তাঁর ওপর নামিয়ে আনা হয় এই পৈশাচিক হিংস্রতা। উপস্থিত জনতা একজন হামলাকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, সে কোনো রোগীর নাম বা তথাকথিত "ভুল চিকিৎসার" বিন্দুমাত্র প্রমাণ দিতে পারেনি।

​পশুতুল্য এই অপরাধীদের দুঃসাহস কতদূর, তা বোঝা যায় হামলার ঠিক এক ঘণ্টা পরের বার্তায়। সেই একই নম্বর থেকে ভেসে আসে চরমতম ঔদ্ধত্য— আপনি যাদের কাছে বিচার চাইতে যাবেন, তাদের সাথে আমাদের লিংক আছে। ওদের কাছে গেলে উল্টা আপনাকেই ফাঁসিয়ে দেবে।"
​যে দেশে একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত চিকিৎসককে দিনের আলোয় চাঁদার দাবিতে এভাবে রক্তাক্ত হতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যাদের হাতে মানুষ জীবন ফিরে পায়, তারা যদি নিজেরাই এভাবে রাজপথে পঙ্গু হওয়ার আতঙ্কে থাকেন, তবে এই দেশ কার জন্য বাসযোগ্য?
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারকে এখনই অপরাধের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। প্রশাসন যদি আজ কঠোরতম ব্যবস্থা না নেয়, তবে কাল এই অন্ধকারের ছায়া পৌঁছাবে আমাদের প্রত্যেকের ঘরে। আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে এভাবে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যায় না।
​আল্লাহ তাআলা আমাদের ডাক্তার সাহেবকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন এবং এই পথভ্রষ্ট, হিংস্র মানুষকে হেদায়েত দিন— নয়তো তাদের উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি করুন।

চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহা...
20/08/2026

চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ জুন অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ এনে একই আদালতে মামলাটি করেন ধীপ্রার আত্মীয় পরিচয়ে মশিউর রহমান শাহ। মামলায় ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক শিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে গত ২৯ জুলাই মশিউর রহমান মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তিনি মামলাটি করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই ধীপ্রার বাবা আলাউদ্দিন আদালতে মরদেহ উত্তোলনে অসম্মতি জানিয়ে একটি আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করার পর ধীপ্রার বাবা বাদীর সঙ্গে দেখা করে ঘটনার মূল বিষয় জানান। এরপর বাদী মামলার ঘটনায় তথ্যগত ভুলের বিষয়ে অবগত হন। মশিউর রহমান আরও উল্লেখ করেন, পরে বিভিন্ন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, ধীপ্রা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ কারণে মামলায় তথ্যগত ভুল থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা লজ্জার প্রলেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। অবশ্য নির্লজ্জের দেশে আবার কিসের লজ্জা? পেশায় চিকিৎসক, যিনি স্বামীর বাড়িতে প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হয়েছেন বলে নিজে মৃত্যুর আগে জানিয়ে গেছেন, তাঁর প্রশ্নবিদ্ধ মৃত‍্যুর কারণ আমরা জানতে পারলাম না। কারণ মারা যাওয়ার পর যারা তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি দাফন করে দেয়, তারা আর জানতেই দিলোনা যে কিভাবে নাফিসা মারা গিয়েছিলেন।

নাফিসার মা-বাবা — আপনারা যে মানুষরুপি কীট সেটা হয়তো বুঝতে পারার মতো সক্ষমতাও আপনাদের নেই, তবে কোন একদিন এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই তাদের প্রাপ্য কড়ায় গন্ডায় বুঝে পাবেন, ইনশাআল্লাহ।

আমি আমার স্বামীর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বউ!আমার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে আর কোনো বিয়ে...
18/08/2026

আমি আমার স্বামীর প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বউ!
আমার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে আর কোনো বিয়ে করার স্বম্ভাবনাও তাঁর নেই🤭
আমার সাথে পরিচয়ের আগে তিনি বিবাগী বিজ্ঞানী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সকল অতি পরিচিত, অল্প পরিচিত শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর বিয়ে দেয়ার নানা রূপ চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিতে শুরু করেছিলেন। আমি তাঁকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁর বৃহৎ মহৎ চিন্তা জগতে ক্ষুদ্র সাংসারিক স্বপ্ন বুনে দেই। ফলে বেচারা বিয়ে নামক জালে স্বেচ্ছায় লাফাতে লাফাতে আটকে গেলেন। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নানাবিধ কটুক্তি, উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ‍্যাচার, ট্রলিং আমার ভদ্রলোক স্বামীকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। লোকটা এতো সুন্দর করে পৃথিবীটা দেখে- চারপাশের সকল ক্ষুদ্রতা যেন লজ্জায় তাঁর পায়ের নিচে লুটিয়ে পরে। লোকটার আসলে এলেম আছে। নইলে কি আর আমাকে বিয়ে করে/ আমি তাকে বিয়ে করি!🤣

নিজের এলাকাতেই এমন ঘটবে কখনো কল্পনাও করিনি ১৮/০৮/২০২৬ তারিখে সন্ধ্যার একটু আগে   ধামইরহাট থানার আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের তালপ...
18/08/2026

নিজের এলাকাতেই এমন ঘটবে কখনো কল্পনাও করিনি ১৮/০৮/২০২৬ তারিখে সন্ধ্যার একটু আগে ধামইরহাট থানার আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর ও তেপুকুরিয়ার মাঝামাঝি একটি আমবাগান থেকে এক নারীর পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধামইরহাট থানা পুলিশ।

পৃথিবীর অনেক পুরুষই আসলে তলে তলে এই জামাল উদ্দিন! প্রবাসে হয়তো দুটো খেজুর আর এক মগ পানি  খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছে রাতটা, কয়েক...
18/08/2026

পৃথিবীর অনেক পুরুষই আসলে তলে তলে এই জামাল উদ্দিন!
প্রবাসে হয়তো দুটো খেজুর আর এক মগ পানি খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছে রাতটা, কয়েকটা টাকা বাঁচিয়েছে স্ত্রী-সন্তানের কাছে একটু বেশি টাকা পাঠানোর জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। একটা জামা দিয়েই চালিয়ে নিয়েছে বছরের পর বছর যেন ছেলে-মেয়েরা নতুন পোশাক পায়!

জামাল উদ্দিনের পরিণতি আমাদের জন্য সতর্ক সংকেত। এই স্বার্থপর আর নিষ্ঠুর পৃথিবীতে পরিবারের পাশাপাশি পুরুষের নিজেকে নিয়েও ভাবার সময় চলে এসেছে!

টাঙ্গাইলের সখীপুর গ্রাম। এই ব্যক্তিটির নাম জামাল উদ্দিন। বয়স ৫৫ বছর। দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরব থেকে, তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। বিদেশে যা আয় করেছেন, সবই স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর, তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে স্ত্রী-সন্তানেরা আগ্রহ দেখাননি।

এমনকি কিছুদিন আগে, স্ত্রী তাকে ঘরছাড়া করেন। অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যান। এরপর রাস্তা থেকে একপর্যায়ে তার ভাতিজি তাদের বাসায় নিয়ে যায়। আজ সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। স্ত্রী সন্তানেরা খোঁজ নেননি।

বসুন্ধরার মতো এইরকম একটি আবাসিক এলাকায় থেকে টেলিগ্রাম গ্রুপে এডাল্ট কন্টেন্ট বিক্রির দ্বায়ে সুমাইয়া সাঈদ নামের এক ইন্সট...
18/08/2026

বসুন্ধরার মতো এইরকম একটি আবাসিক এলাকায় থেকে টেলিগ্রাম গ্রুপে এডাল্ট কন্টেন্ট বিক্রির দ্বায়ে সুমাইয়া সাঈদ নামের এক ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি-সাইবার পুলিশ!! সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, সুমাইয়া সাঈদের আপন পিতা আবু সাঈদ ও এক্স বয়ফ্রেন্ড জড়িত এই অপকর্মে!! বহুদিন ধরেই, নিজেরা নিজেরা বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে, টেলিগ্রাম গ্রুপ সহ ইন্সটাগ্রামে সেগুলো বিক্রির প্রচারণা করে আসছিলো এই চক্র। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নামের বিভিন্ন গ্রুপে ভিডিও বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্যদের এসব ভিডিও সরবরাহ করতো এই সাঈদ চক্র!! ভাবা যায়?? টাকার জন্য, আপন বাবা-মেয়ে পর্নোগ্রাফিক ব্যবসা করতো!!

এখন পর্যন্ত যতজন নারী ড্রাইভারের সাক্ষাৎকার দেখলাম সবাই দেখি সেই মানের শিক্ষিত, মার্জিত ও ট‍্যালেন্টেড। এদের অনেকের কথাব...
18/08/2026

এখন পর্যন্ত যতজন নারী ড্রাইভারের সাক্ষাৎকার দেখলাম সবাই দেখি সেই মানের শিক্ষিত, মার্জিত ও ট‍্যালেন্টেড।

এদের অনেকের কথাবার্তা ও মিডিয়া ফেস করার ক‍্যাপাবিলিটি অনেক টকশো বক্তার চেয়ে কম মনে হল না।

মেইন রুটে অন‍্য বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ড্রাইভিং করার মত যথেষ্ট ক‍্যাপেবল বলেই তারা মনে করছেন এবং সাহস পাচ্ছেন, কারণ তারা প্রত‍্যেকে ছিলেন বিভিন্ন ড্রাইভিং স্কুলের ইনিস্ট্রাকটর। তারা হাতে কলমের পাশাপাশি রুটেও ড্রাইভিং ট্রেনিং করিয়ে আসছেন বহুদিন ধরে। পাশাপাশি, গত ১মাস যাবত বড় গাড়ি রুটে চালানোর ট্রেনিং নিয়েছেন।

অর্থাৎ, যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়েই তাদের ফিল্ডে নামানো হয়েছে, তারপরেও এক্সিডেন্ট হলে হতেও পারে, সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

এক শ্রেণী ইতিমধ্যেই এই নারী ড্রাইভিং এর বিরোধিতায় ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছে, হোক, তাদের কথায় তো আর দুনিয়া থেমে থাকে না। তাদের কথা মানলে দেশে এখনো টিকা দেওয়া, এলোপ‍্যাথি চিকিৎসা নেয়া, মুবাইল, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ব্যবহার সবই হারাম থাকতো, সবাই মিলে রোহিঙ্গাদের মত জীবন যাপন করতাম।

যাইহোক, এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছে, এই ড্রাইভিং নিয়ে মানুষের কটু কথাকে ভয় পান কিনা?

জবাবে সে বলছে, তাদের কথা শুনলে কি আর এতদিন ড্রাইভিং instructor হিসেবে কাজ করতে পারতাম? আজ, দুতালা বাসের মত বড় গাড়ি চালানোর সাহস করতে পারতাম?

পরকীয়া নিয়ে আমরা সাধারণত খুব দ্রুত একটি নৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাই—কে ভালো, কে খারাপ, কে দোষী, কে নির্দোষ। কিন্তু সামা...
18/08/2026

পরকীয়া নিয়ে আমরা সাধারণত খুব দ্রুত একটি নৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাই—কে ভালো, কে খারাপ, কে দোষী, কে নির্দোষ। কিন্তু সামাজিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, পরকীয়া শুধু দুজন মানুষের গোপন সম্পর্কের গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আকর্ষণ, আবেগ, সামাজিক অনুমোদন, তুলনা, আত্মপরিচয়, মানসিক নির্ভরতা, দাম্পত্যের দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস এবং মানুষের নিজের সিদ্ধান্তকে ন্যায্য প্রমাণ করার প্রবণতা।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা চোখে পড়ল, যেখানে একজন বিবাহিত পুরুষ নতুন একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত বর্তমান স্ত্রীকে ছেড়ে নতুন মানুষটিকে বিয়ে করতে চাইছেন। তার যুক্তি—নতুন মানুষটি তাকে ছাড়া থাকতে পারবে না, আর তাকে হারালে সেই মানুষটির জীবনে আর কেউ থাকবে না। কথাটা শুনতে খুব আবেগপূর্ণ। কিন্তু সামাজিক মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোনো সম্পর্কের তীব্রতা কি তার স্থায়িত্বের প্রমাণ? সব সময় নয়।

বরং অনেক সময় তীব্র আবেগ আমাদের বাস্তবতার চেয়ে সম্পর্কটিকে অনেক বেশি নিখুঁত বলে মনে করায়। এই ধরনের ঘটনা আমি নিজেও কাছ থেকে দেখেছি। এমন দুই জোড়া দম্পতির ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের স্বামীর বক্তব্য শুনেছি—বর্তমান স্ত্রীকে ছেড়ে নতুন সম্পর্কের মানুষটির কাছে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, এবং সেই মানুষটিকে ছাড়া নিজের জীবন অর্থহীন মনে হওয়া। দুটো ঘটনা আলাদা হলেও বক্তব্যের মধ্যে আশ্চর্য মিল ছিল। তখন একটা বিষয় খুব ভাবায়—মানুষ কীভাবে এমন অবস্থায় পৌঁছায়, যেখানে বহু বছরের একটি সম্পর্ক, সংসার, পরিচিত মানুষ, সামাজিক বন্ধন—সবকিছু হঠাৎ করে নতুন একজন মানুষের তুলনায় তুচ্ছ মনে হতে শুরু করে?

এর একটি বড় ব্যাখ্যা হতে পারে novelty effect—নতুনত্বের প্রভাব। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে মানুষ একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনে ফেলে। শুরুতে যে বিষয়গুলো নতুন ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে দৈনন্দিন হয়ে যায়। একজন সঙ্গীর হাসি, কথা বলার ধরন, অভ্যাস, দুর্বলতা—সবই পরিচিত হয়ে যায়। অন্যদিকে নতুন একজন মানুষকে ঘিরে থাকে অজানা অনেক কিছু। তার সঙ্গে প্রতিটি কথোপকথন নতুন, প্রতিটি দেখা নতুন, প্রতিটি মেসেজে উত্তেজনা থাকে।

এই নতুনত্ব অনেক সময় মস্তিষ্কে প্রবল আকর্ষণ তৈরি করে। তখন মানুষ ভুল করে ভাবতে পারে—“আমি এই মানুষটির সঙ্গে এতটা ভালো অনুভব করছি, নিশ্চয়ই এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা।” অথচ অনুভূতির তীব্রতা এবং সম্পর্কের গভীরতা সব সময় একই বিষয় নয়। নতুন সম্পর্কের উত্তেজনা কমে গেলে সেই মানুষটির সঙ্গে বাস্তব জীবনের সামঞ্জস্য কেমন হবে, সেটি তখনই বোঝা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো idealization—নতুন মানুষকে বাস্তবের চেয়ে বেশি নিখুঁত করে দেখা। একজন বিবাহিত মানুষ যখন নিজের বর্তমান সম্পর্কের সমস্যাগুলো নিয়ে হতাশ থাকেন এবং একই সময়ে নতুন কারও কাছ থেকে মনোযোগ, প্রশংসা, আকর্ষণ ও মানসিক উত্তেজনা পান, তখন নতুন মানুষটি তার কাছে খুব সহজেই “পারফেক্ট” হয়ে উঠতে পারেন। কারণ নতুন মানুষটির সঙ্গে তখনও দৈনন্দিন জীবনের চাপ ভাগ করে নিতে হয়নি।

তার সঙ্গে বাজারের হিসাব, সংসারের দায়িত্ব, অসুস্থতা, আর্থিক চাপ, পরিবার নিয়ে মতবিরোধ, দীর্ঘদিনের অভ্যাসের বিরক্তি—এসব বাস্তবতা সামনে আসেনি। ফলে একজন মানুষ অন্যজনের সুন্দর দিকগুলোই বেশি দেখতে পান। অন্যদিকে নিজের জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে তিনি দেখেন তার প্রতিটি দুর্বলতা, প্রতিটি অভ্যাস, প্রতিটি অসম্পূর্ণতা। ফলে তুলনাটা কখনোই সমান হয় না। একজনকে দেখা হচ্ছে বাস্তবতার আলোয়, আর অন্যজনকে দেখা হচ্ছে কল্পনার আলোয়।

এখানে সামাজিক মনোবিজ্ঞানের আরেকটি বিষয় কাজ করতে পারে—confirmation bias। মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আবেগগতভাবে ঝুঁকে পড়ে, তখন সে এমন তথ্য বেশি গ্রহণ করতে শুরু করে যা তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এবং বিপরীত তথ্যকে উপেক্ষা করে। ধরুন, একজন পুরুষ নতুন একজন নারীর প্রেমে পড়েছেন। তখন তিনি তার নতুন সঙ্গীর একটি ছোট ভালো কাজকে বিশাল প্রমাণ হিসেবে দেখবেন—

“দেখো, সে আমাকে কতটা বোঝে!” কিন্তু বর্তমান স্ত্রী বছরের পর বছর যে যত্ন করেছেন, সেটিকে হয়তো “স্বাভাবিক” বলে ধরে নেবেন। নতুন মানুষটির সঙ্গে একটি সুন্দর কথোপকথন হয়ে গেলে মনে হবে, “আমরা একে অপরকে অসাধারণ বুঝি।” অথচ বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে দশ বছরের সম্পর্কের মধ্যে হাজারো বোঝাপড়া এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে সেগুলো আর আলাদা করে চোখে পড়ে না। মানুষ অনেক সময় যা প্রতিদিন পায়, তার মূল্য কম অনুভব করে; আর যা নতুন করে পায়, তার মূল্য অতিরিক্ত অনুভব করে।

এই জায়গায় hedonic adaptation-এর ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ নতুন কোনো আনন্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। নতুন সম্পর্কের উত্তেজনা একসময় স্বাভাবিক হয়ে যায়। আজ যে মানুষটির একটি মেসেজে বুক ধড়ফড় করছে, কয়েক বছর পর তার সেই মেসেজও হয়তো দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যাবে। তখন সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে। কারণ প্রেমের প্রথম দিকের উত্তেজনা ধরে রাখা সহজ নয়; কিন্তু সম্মান, দায়িত্ব, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকা—এসবই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে।
এখানে আরও একটি বিষয় আছে—emotional dependency।

“ওকে ছাড়া আমার কেউ নেই”, “ও আমাকে ছাড়া বাঁচবে না”, “ওকে না পেলে আমার জীবন শেষ”—এই ধরনের বক্তব্য শুনতে গভীর ভালোবাসার মতো মনে হলেও এগুলো কখনো কখনো অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরতার লক্ষণও হতে পারে। একজন মানুষ অন্য একজনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন, কিন্তু “তাকে ছাড়া আমি অস্তিত্বহীন”—এই ধারণা সুস্থ সম্পর্কের জন্য সবসময় ভালো নয়। সুস্থ ভালোবাসা বলে—“তুমি আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।” অসুস্থ নির্ভরতা অনেক সময় বলে—“তুমি না থাকলে আমার কোনো জীবন নেই।” এই দুইয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। একজন সঙ্গীকে ভালোবাসা এবং নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় অন্য একজনের হাতে তুলে দেওয়া এক বিষয় নয়।

পরকীয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি সামাজিক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে—secrecy and shared intimacy। যখন দুজন মানুষ জানেন যে তাদের সম্পর্কটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বা গোপন রাখতে হবে, তখন তাদের মধ্যে একটি “আমরা বনাম পৃথিবী” ধরনের মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তারা মনে করতে পারেন, “কেউ আমাদের বোঝে না, শুধু আমরা দুজন দুজনকে বুঝি।” এই গোপনীয়তা সম্পর্কের আবেগকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। কারণ নিষিদ্ধ বা গোপন কোনো বিষয় অনেক সময় মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় মনে হয়।

দুজন মানুষ যখন নিজেদের একটি আলাদা পৃথিবী তৈরি করেন, তখন সেই পৃথিবীটাকে বাস্তব জীবনের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সুন্দর মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন প্রকাশ্য জীবনে আসে, তখন সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতা, দায়িত্ব এবং প্রত্যাশাগুলোও সঙ্গে আসে। তখন বোঝা যায়, গোপন সম্পর্কের আবেগ আর প্রকাশ্য জীবনের দায়িত্ব এক জিনিস নয়।

এখানে cognitive dissonance-এর কথাও আসে। একজন বিবাহিত মানুষ যদি একই সঙ্গে নিজেকে “ভালো মানুষ” মনে করেন এবং নিজের দাম্পত্যের বাইরে একটি সম্পর্ক তৈরি করেন, তাহলে তার নিজের পরিচয় ও আচরণের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। সেই অস্বস্তি কমানোর জন্য মানুষ নিজের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

তখন এমন চিন্তা আসতে পারে—“আমার স্ত্রী আমাকে বোঝে না”, “আমাদের সম্পর্ক আসলে অনেক আগেই শেষ”, “নতুন মানুষটিই আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসে”, “আমি এই সম্পর্কের জন্যই বেঁচে আছি।” এর কিছু সত্য হতে পারে, আবার কিছু হতে পারে নিজের সিদ্ধান্তকে মানসিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার উপায়। তাই কোনো পরকীয়ার গল্প শুনে শুধু কথাগুলোকে সত্যের সম্পূর্ণ ছবি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ মানুষ নিজের সিদ্ধান্তকে নিজের কাছেও যৌক্তিক করে তুলতে চায়।

তবে এখানে একটি ভারসাম্য খুব জরুরি। প্রতিটি বিবাহিত সম্পর্ক সুখী—এমন নয়। কেউ বছরের পর বছর মানসিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন, অবহেলা, অসম্মান বা গভীর অসামঞ্জস্যের মধ্যে থাকতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিবাহ থেকে বেরিয়ে আসা সম্পূর্ণ যৌক্তিক হতে পারে। কাউকে শুধু “সংসার আছে” বলে একটি ক্ষতিকর সম্পর্কে আটকে থাকতে বলা উচিত নয়। কিন্তু যদি নতুন সম্পর্কের কারণে পুরোনো সম্পর্কের ভেতরের সমস্যাগুলো হঠাৎ আবিষ্কার করা হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া দরকার। সম্পর্কটি সত্যিই শেষ হয়ে গেছে, নাকি নতুন মানুষের উপস্থিতি পুরোনো সম্পর্কটিকে আরও খারাপ মনে করাচ্ছে—এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।

আরেকটি সামাজিক বাস্তবতা হলো—আমরা অনেক সময় পুরুষের পরকীয়াকে রোমান্টিক করে দেখি। “ভালোবাসার জন্য সংসার ছেড়েছে”, “মনের মানুষকে পাওয়ার জন্য সবকিছু ছেড়ে দিয়েছে”—এই গল্পগুলো সিনেমায় সুন্দর লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তব জীবনে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অন্য একজন মানুষের মানসিক আঘাত, সন্তান থাকলে তাদের ওপর প্রভাব, দুই পরিবারের সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। তাই প্রেমের সিদ্ধান্ত শুধু দুজন মানুষের আবেগের বিষয় নয়; বিশেষ করে বিবাহিত অবস্থায় এটি একটি সামাজিক সিদ্ধান্তও হয়ে যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তার সিদ্ধান্তের সামাজিক ও সম্পর্কগত পরিণতিও থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাউকে ভালোবাসা আর কারও সঙ্গে জীবন কাটাতে পারা এক জিনিস নয়। প্রেমে আপনি একজন মানুষের আকর্ষণীয় দিকগুলো দেখতে পারেন। কিন্তু সংসারে আপনাকে তার দুর্বলতা, রাগ, ব্যর্থতা, অভ্যাস, আর্থিক বাস্তবতা, পারিবারিক দায়িত্ব—সবকিছুর সঙ্গে থাকতে হয়। তাই নতুন সম্পর্কের মানুষটি “আমার জীবনের সেরা” মনে হওয়া আর বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্গী হিসেবে উপযুক্ত হওয়া—এই দুটোকে এক করে দেখা উচিত নয়।

আমার নিজের চোখে দেখা ওই দুই জোড়া সম্পর্কের কথা মনে পড়লে একটা বিষয় বিশেষভাবে মনে হয়—মানুষ কখনো কখনো বর্তমানের মূল্য বুঝতে না পেরে ভবিষ্যতের একটি কল্পনাকে আঁকড়ে ধরে। নতুন মানুষটি হয়তো সত্যিই ভালো। হয়তো সম্পর্কটিও সত্যিকারের। কিন্তু সিদ্ধান্তটি কি সৎ পথে নেওয়া হচ্ছে? সেটিই আসল প্রশ্ন। যদি বর্তমান সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তাহলে আগে সেটিকে সম্মানের সঙ্গে শেষ করা উচিত। তারপর নতুন সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কারণ একজন মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও অন্য একজনের প্রতি দায়িত্বহীন হওয়ার অধিকার তৈরি হয় না।

দাম্পত্যে বছরের পর বছর পাশাপাশি থাকার কারণে আমরা অনেক সময় সঙ্গীর অবদানকে “স্বাভাবিক” ধরে নিই। তিনি অসুস্থ হলে পাশে থাকা, পরিবারের জন্য কাজ করা, কঠিন সময়ে সহযোগিতা করা, আপনার ভুল ক্ষমা করা, আপনার ব্যর্থতার সময় আপনাকে ধরে রাখা—এসব ধীরে ধীরে দৈনন্দিন হয়ে যায়। তখন নতুন একজন মানুষের সামান্য যত্নও অসাধারণ মনে হতে পারে। তাই দীর্ঘ সম্পর্কের মানুষের মূল্য বোঝার জন্য মাঝে মাঝে নিজের কাছে প্রশ্ন করা দরকার—“এই মানুষটি আমার জীবনে না থাকলে আমি কী কী হারাতাম?” কৃতজ্ঞতা সম্পর্ককে শুধু বাঁচায় না; সম্পর্ককে নতুন করে দেখতে শেখায়।

একই সঙ্গে সঙ্গীর প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে—নিজেকে এমনভাবে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে, “সে তো আমাকে ছেড়ে যাবে না।” কারণ কোনো মানুষই কারও সম্পত্তি নয়। ভালোবাসা পাওয়া অধিকার নয়; ভালোবাসার যত্ন নিতে হয়। একজন সঙ্গীকে অবহেলা করে, অসম্মান করে, বারবার তার আবেগকে অগ্রাহ্য করে তারপর আশা করা যে সে সারাজীবন একইভাবে থাকবে—এটিও বাস্তবসম্মত নয়। সম্পর্কের নিরাপত্তা তৈরি হয় দুজনের আচরণে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু “কে কাকে ছেড়ে গেল?” নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমরা সম্পর্কের মধ্যে মানুষটিকে কতটা মানুষ হিসেবে দেখেছি? তার অনুভূতি, আত্মসম্মান, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ—এসবের মূল্য কতটা দিয়েছি? নতুন সম্পর্কের উত্তেজনা যতই প্রবল হোক, একজন পরিণত মানুষ জানেন যে সিদ্ধান্তের সৌন্দর্য শুধু আবেগে নয়, তার নৈতিকতা এবং পরিণতিতেও। ভালোবাসা যদি সত্যিই এত গভীর হয়, তাহলে সেটিকে লুকিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে বা অন্য একজনের বিশ্বাস ভেঙে শুরু করার দরকার কেন হবে?

তাই আমার কাছে এই ধরনের ঘটনাগুলোর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—নতুন মানুষকে পাওয়ার আগে পুরোনো সম্পর্কের সত্যিটাকে পরিষ্কারভাবে দেখতে শিখুন। আপনি যদি কোনো সম্পর্কে সুখী না হন, বেরিয়ে আসুন; কিন্তু সৎভাবে বেরিয়ে আসুন। আপনি যদি নতুন কাউকে ভালোবাসেন, নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না; কিন্তু সেই ভালোবাসার নামে অন্যের জীবনকে অকারণে ধ্বংস করবেন না। কারণ সম্পর্কের সৌন্দর্য শুধু “আমি তোমাকে চাই” বলার মধ্যে নেই; বরং “তোমার কারণে অন্যায় করব না”—এই নৈতিক সীমারেখাটিও ভালোবাসার অংশ।

আর যে মানুষটি মনে করছেন, “ওকে ছাড়া আমার কেউ নেই”—তারও মনে রাখা উচিত, ভালোবাসা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু পুরো জীবন নয়। একজন মানুষ আপনাকে অসাধারণভাবে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু আপনার নিজের পরিচয়, আত্মসম্মান, বন্ধুত্ব, পরিবার, কাজ, স্বপ্ন এবং ব্যক্তিত্বও আপনার জীবনের অংশ। কাউকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজের পুরো পৃথিবীকে একজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলবেন না। কারণ সুস্থ ভালোবাসা মানুষকে পূর্ণ করে; নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে শেখায় না।

শেষ পর্যন্ত নতুন সম্পর্কও একদিন পুরোনো হবে। আজকের উত্তেজনা একদিন দৈনন্দিন জীবনে পরিণত হবে। তখনও যদি দুজন মানুষের মধ্যে সম্মান, সততা, দায়িত্ব, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক যত্ন থাকে—তবেই বোঝা যাবে সম্পর্কটি শুধু মোহ ছিল না, এর মধ্যে সত্যিকারের ভিত্তিও ছিল। আর যদি সেই ভিত্তি না থাকে, তাহলে মানুষ বুঝতে পারে—সে আসলে একজন মানুষকে নয়, একটি অনুভূতিকে ভালোবেসেছিল।

তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু “আমি কাকে চাই?” এই প্রশ্নটি নয়; “আমি কীভাবে তাকে চাইছি, এই সিদ্ধান্তে কার কতটা ক্ষতি হচ্ছে, এবং এই সম্পর্ক বাস্তব জীবনের পরীক্ষায় কতটা টিকবে?”—এই প্রশ্নগুলোও করা দরকার। কারণ ভালোবাসা শুধু হৃদয়ের ব্যাপার নয়; পরিণত ভালোবাসার সঙ্গে বিবেক, দায়িত্ব এবং সামাজিক সচেতনতাও জড়িয়ে থাকে।

©️Kosturi.

মারা যাওয়ার আগে বাচ্চাটার চোখ দুটো উপরের দিকে উঠে যায়। শেষবারের মতো সে তার মাকে একবার ডাকে—_মাম্মা। এরপরই পৃথিবীর মায়া ছ...
18/08/2026

মারা যাওয়ার আগে বাচ্চাটার চোখ দুটো উপরের দিকে উঠে যায়। শেষবারের মতো সে তার মাকে একবার ডাকে—_মাম্মা। এরপরই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যায় ১৮ মাসের ছোট্ট শিশু Aizal।

আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে পৃথিবীর কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের সন্তানকে কারও কাছে দিয়ে নিজের চোখের আড়াল করবেন না। কেউ যদি আপনার বাচ্চাকে আদর করতে চায়, আপনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকুন। আপনার উপস্থিতিতেই সে আদর করুক, তারপর সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে নিন।

পাকিস্তানে ১৮ মাস বয়সী একটি শিশুকে তিনজন তরুণ যৌন নির্যাতন করেছে—যে ঘটনার পর শিশুটির আর বেঁচে থাকা সম্ভব হয়নি। শিশুটির বয়স যখন মাত্র ১৬ দিন, তখন তার বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে শিশুটি তার নানির বাড়িতেই বড় হচ্ছিল।

ঘটনার দিন শিশুটির মা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যান এবং তাকে তার খালার কাছে রেখে যান। সেই সময় কথিত ভাইয়ের মতো পরিচিত একজন ছেলে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। ছেলেটি মাঝে মাঝেই শিশুটিকে নিয়ে হাঁটতে বের হতো, ঘুরত। তাই তাকে নিয়ে পরিবারেরও তেমন সন্দেহ হয়নি।

সে শিশুটিকে কিছু একটা কিনে দেওয়ার কথা বলে খালার কাছ থেকে বাইরে নিয়ে যায়। প্রায় ২৫ মিনিট পর শিশুটিকে আবার খালার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। খালা ভেবেছিলেন, হয়তো বাচ্চাটি ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই তাকে শুইয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা ফিরে এসে দেখেন, তার সন্তান বমি করছে এবং প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছে। ডায়াপার পরিবর্তন করতে গিয়ে তিনি ভয়াবহ অবস্থাটি দেখতে পান।
সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা না দিয়ে বলা হয়, শিশুটির শুধু হার্টবিট আছে, শ্বাস নেই। অনেক অনুরোধের পরও তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি, বরং অন্য একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ছোট্ট Aizal মারা যায়।

মৃত্যুর আগে তার চোখ দুটো উপরের দিকে উঠে যায়। শেষবারের মতো সে তার মাকে ডাকে—মাম্মা।
একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে ভয়াবহ আর কী হতে পারে?
যে মা তার সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন, পৃথিবীর সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, সেই মায়ের পৃথিবীটাই যেন মুহূর্তের মধ্যে শূন্য হয়ে গেল। তার সন্তান আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। তার কান্না, তার আর্তনাদ—সবকিছুই যেন মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

১৮ মাসের একটি শিশু কী অপরাধ করেছিল? তার কোমরের হাড় পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

©️Collected.

Perhaps happiness was never meant to be found in extraordinary moments. Perhaps it lives quietly in the ordinary the war...
16/08/2026

Perhaps happiness was never meant to be found in extraordinary moments. Perhaps it lives quietly in the ordinary the warmth of a familiar table, food made with care, and the people with whom we can simply exist without pretending. 🤎

©️Kosturi.

Address

Dhaka

Telephone

+8801714349618

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kosturi - The Explorer posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Kosturi - The Explorer:

Shortcuts

Share