13/07/2026
আপনি ভালো বেতন চান। সুন্দর একটা ঘর চান। ব্যবসা বড় করতে চান। সন্তান ভালো স্কুলে পড়ুক চান। গাড়ি, ভ্রমণ, আরাম—এসবের প্রতিও আপনার আকর্ষণ আছে।
একটু থামুন।
এসব চাওয়ার কারণে কি আপনি দুনিয়াপ্রেমী হয়ে গেলেন?
না। ইসলাম আমাদেরকে কাজ ছেড়ে দিতে বলেনি, সম্পদ হারাম বলেনি, সুন্দর জীবনকেও নিষিদ্ধ করেনি।
কিন্তু আসল প্রশ্ন অন্য জায়গায়—
দুনিয়া আর আখিরাত যখন আপনার সামনে মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন আপনি কাকে বেছে নেন?
এই জায়গাতেই অন্তরের আসল পরিচয় বের হয়ে আসে।
উহুদের যুদ্ধের এক কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা সাহাবিদের একটি দলের ভুলের কথা উল্লেখ করে বলেন—
“তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া কামনা করেছিল এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আখিরাত কামনা করেছিল।”
—সূরা আলে ইমরান: ১৫২
আয়াতটির প্রেক্ষাপট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ তীরন্দাজদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে গেলে তাঁদের একটি অংশ গনীমতের দিকে অগ্রসর হন এবং নির্ধারিত স্থান ছেড়ে দেন। সেই ঘটনার মধ্যেই আল্লাহ মানুষের অন্তরের চাওয়া ও সিদ্ধান্তের পার্থক্য সামনে তুলে ধরলেন।
একটু চিন্তা করুন—একজন মানুষ মুখে কী বলে, সেটা সবসময় তার অন্তরের শেষ পরিচয় নয়। সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সে কাকে অগ্রাধিকার দেয়, সেটাই অনেক কিছু প্রকাশ করে।
আমাদের জীবনেও প্রতিদিন ছোট ছোট “নির্বাচনের মুহূর্ত” আসে।
ফজরের সময় ঘুম আর সালাত—কোনটা জেতে?
ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভ আর হালাল-হারামের সীমা—কোনটা জেতে?
কেউ অপমান করলে নফসের প্রতিশোধ আর আল্লাহর সন্তুষ্টি—কোনটা জেতে?
বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্য-টাকা-স্ট্যাটাস আর দ্বীন-আখলাক—কোনটা বেশি গুরুত্ব পায়?
ব্যস্ততার মধ্যে কুরআনের জন্য দশ মিনিট আর উদ্দেশ্যহীন scrolling—কাকে সময় দেওয়া হয়?
এখানে নিজের কাছে সৎ হওয়া দরকার।
আমরা অনেকেই বলি, “আখিরাতই আসল।” কিন্তু আমাদের সময়ের হিসাব, টাকার হিসাব, ভয়, দুশ্চিন্তা এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত দেখলে কখনো কখনো প্রশ্ন জাগে—সত্যিই কি আখিরাত আমাদের কাছে আসল?
দুনিয়ার ছোট একটা ক্ষতি হলে রাতের ঘুম চলে যায়। অথচ সপ্তাহের পর সপ্তাহ কুরআন না খুললেও অন্তর অস্থির হয় না।
ব্যাংক ব্যালেন্স কমলে সঙ্গে সঙ্গে হিসাব করি। কিন্তু নামাজে কত ওয়াক্ত গাফিলতি হয়েছে—তার হিসাব করি না।
মানুষ আমাদের সম্পর্কে কী বলল, সেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবি। কিন্তু আল্লাহ আমার এই কাজটির ব্যাপারে সন্তুষ্ট কি না