20/05/2026
গরুর পাঁচটি বিশেষ অংশ — যা আপনার পরিবারের জন্য অমূল্য
বাংলাদেশের রান্নাঘরে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে এক অমূল্য পুষ্টির উৎস। পায়া। নলা। ভুঁড়ি। মাথার মাংস। মগজ। একসময় এই পাঁচটি উপাদান বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে নিয়মিত জায়গা পেত। আজ সেগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে।
পায়াঃ গরুর পায়ায় রয়েছে কোলাজেন ও জিলেটিন। দীর্ঘক্ষণ পায়া সিদ্ধ করলে হাড় থেকে এই উপাদানগুলো ঝোলে মিশে যায়। কোলাজেন ত্বক, হাড় ও জয়েন্টের জন্য উপকারী এটা পুষ্টিবিজ্ঞানে স্বীকৃত তথ্য। আমাদের দাদি-নানিরা হাঁটুর ব্যথায় বা শরীর দুর্বল হলে পায়ার ঝোল খাওয়াতেন। তারা বিজ্ঞান জানতেন না। কিন্তু অভিজ্ঞতায় জানতেন পায়ার ঝোল শরীর ভালো রাখে।
নলাঃ গরুর নলার ভেতরে থাকে বোন ম্যারো।বোন ম্যারোতে রয়েছে আয়রন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফ্যাট সলিউবল ভিটামিন।বিশেষত গর্ভবতী মায়েদের আয়রনের চাহিদা পূরণে নলার ঝোল উপকারী।অসুস্থতা বা অপারেশনের পর দ্রুত শক্তি ফিরে পেতেও নলার স্যুপ বহু পরিবারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
ভুঁড়িঃ গরুর ভুঁড়িতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও জিংক। হজমশক্তি উন্নয়নে ভুঁড়ির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ভুঁড়ি একটি উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নার অংশ। ভুঁড়ির ভুনা বা খিচুড়ি স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য।
মাথার মাংসঃ গরুর মাথার মাংসে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটি গরুর শরীরের অন্যান্য অংশের মতোই পুষ্টিকর। নরম ও রসালো এই মাংস রান্না করা সহজ। শিশু থেকে বয়স্ক পরিবারের সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী।
মগজঃ গরুর মগজে রয়েছে — Omega-3 Fatty Acid, Phosphorus ও Vitamin B12। এই তিনটি উপাদান স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এটি পুষ্টিবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত। তবে মগজ খেলেই বুদ্ধি বাড়বে এমন সরল দাবি করা সঠিক হবে না। বলা যায় মগজ একটি পুষ্টিকর খাবার যা সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
একটাই শর্ত
এই পুষ্টিগুণ পেতে হলে গরুটি হতে হবে সত্যিকার অর্থেই সুস্থ। হরমোনমুক্ত। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা।