08/10/2023
-আসুন পানি বিশুদ্ধকরণ নিয়ে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখি:
*পানি বিশুদ্ধ কেন করতে হবে?
*বিশুদ্ধ পানির উপকারিতা কি?
*বিশুদ্ধকরণের জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার কেন ব্যবহার করা জরুরী?
‘টিপ টিপ টুপ টাপ নির্ঝর নির্মল’ এভাবে বলাই যায়। তারপর অনেক বিশেষণও যোগ করা যায়। যা-ই করি না কেন, ‘বিশুদ্ধ’ বা ‘নিরাপদ’ শব্দটি উচ্চারণ না করলে পানি বিষয়টিকে ঠিকভাবে ব্যাখ্যাই করা যায় না। কারণ বিশুদ্ধ পানি জীবনের জন্য প্রয়োজন। বিশুদ্ধ পানিই নিরাপদ রাখে জীবন। খুব সহজ ও সরল কথা। এর মধ্যে কোনো সমস্যাই নেই। কিন্তু সমস্যা বাধে যখন পানি বিশুদ্ধ করার কথা ওঠে।
বিশুদ্ধ পানির জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রাচীন ও বড় শহরে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এই ঢাকা শহরেও ওয়াটার ওয়ার্কসের কাজ প্রথম শুরু হয় ১৭৭৪ সালে। এর কাজ শেষ হয় ১৮৭৮ সালে। এতে ঢাকার নবাব দান করেছিলেন প্রায় দুই লাখ টাকা। এবার ভাবুন তো, বর্তমানে সেই টাকার মূল্য কত? এখন সহজে পানি বিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া আমাদের হাতের মুঠোয়।
শুধু তা-ই নয়, এই আধুনিক সময়ে পানি বিশুদ্ধ করে পান করা আমাদের জীবন যাপনেরই অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ ফুটিয়ে তো কেউ বিভিন্ন গ্যাজেট ব্যবহার করে সে কাজটাই আমরা করছি প্রতিদিন।
কেন বিশুদ্ধ পানি
এখন এটা সবাই জানে যে পানি বিশুদ্ধ করে না খেলে টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া ও জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া পেটের রোগেও ভুগতে হয় প্রায়ই। তাই এসব রোগ-বালাই দূরে রেখে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে পানি বিশুদ্ধ করতেই হয় যেকোনো উপায়ে হোক না কেন।
বদলের গল্প
একটা সময় ছিল যখন পানি বিশুদ্ধ করার নিয়ম বড় বড় করে বিলবোর্ডে ছাপা হতো কিংবা বিজ্ঞাপন আকারে ছাপা হতো পত্রিকার পাতায়। ফিটকিরি, ক্লোরিন ট্যাবলেট কিংবা পাতন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় একসময় পানি বিশুদ্ধ করার চেষ্টা হতো। এই সেদিনও আমরা পানি ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করে পান করতাম। এখন সেদিন নেই। দুর্গম জায়গা ছাড়া এখন কেউ আর ফিটকিরি বা ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করে না। এ জন্য এসেছে
সহজ প্রযুক্তি।
পানি বিশুদ্ধকরণের সহজ দুটি উপায় হলো ওয়াটার ফিল্টার ও ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা। এই দুটির কাজের ধরন ভিন্ন। এখন সাধারণত এসব দিয়েই পানি বিশুদ্ধ করা হয়।
ওয়াটার ফিল্টার
পানিতে থাকা ক্লোরিনের গন্ধ, দুর্গন্ধ, ময়লা, পলি, গাদ, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দূর করে ওয়াটার ফিল্টার। তবে ভারী খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থ দূর করার ক্ষেত্রে সাধারণ ফিল্টারের সক্ষমতা কম। ফিল্টারের মধ্যে থাকে অ্যাকটিভেটেড কার্বন। ফিল্টারেশনের সময় এই কার্বন পানিতে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের অস্তিত্ব দূর করে। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দূষিত কণা শুষে
নিয়ে পরিশোধিত পানি পানের সুযোগ দেয়।
ওয়াটার পিউরিফায়ার
পানি যে পাইপের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছায়, তাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মরিচা পড়ে। পানি থেকে ভারী খনিজ পদার্থ, পানিতে মিশে যাওয়া ধাতু, আর্সেনিক, পারদ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দূর করতে ভালো মানের পিউরিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। পানির সাধারণ ফিল্টার এই রাসায়নিকগুলো দূর করতে পারে না।
পানিতে টোটাল ডিসলভড সলিডের (টিডিএস) মাত্রা কম হলে সাধারণ পিউরিফায়ার দিয়েই কাজ চালানো যাবে।নোনতা স্বাদ দূর করার ক্ষেত্রে পিউরিফায়ার নির্মাতা ব্র্যান্ডগুলো রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তিসংবলিত ওয়াটার পিউরিফায়ার কেনার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাদের দাবি, ইলেকট্রিক পিউরিফায়ার পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম যোগ করে থাকে। ইলেকট্রিক ওয়াটার পিউরিফায়ারে পানি ঢালার কোনো প্রয়োজন হয় না। বাটন অন করলেই বিশুদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এগুলোতে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য রিভার্স অসমোসিস বা আরও এবং ইউভি প্রযুক্তি যুক্ত থাকে।
এখনকার স্মার্ট ওয়াটার পিউরিফায়ারে রিভার্স অসমোসিস (আরও), অতিবেগুনি রশ্মি ও মাইক্রো ফিল্টারেশন প্রযুক্তি থাকে। ব্র্যান্ডভেদে এসব পিউরিফায়ার কিনতে ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পিউরিফায়ার পাওয়া যায়। এগুলো বেশ কয়েকটি ধাপে পানি বিশুদ্ধ করে।
ইলেকট্রিক পিউরিফায়ারের (আরও, ইউভি, ইউ এফ , মিনারেল, জিংক ,কপার অ্যালকলাইন প্রযুক্তিসংবলিত) । এগুলো পিউরিফায়ারের সুবিধাটা হচ্ছে :
১).পানিটা অটোমেটিক বিশুদ্ধ হয়ে রিজার্ভ ট্যাংকে সংরক্ষিত থাকে।
২). ঢেলে দেওয়ার কোন ঝামেলা থাকেনা।
৩). পানি ফুটাইতে হয় না।
এছাড়াও অনেক সুবিধা রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে পানিকে সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ করে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে।
পানির ফিল্টারের কার্যকারিতা সম্পর্কে ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শুভাগত চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ জীবনের জন্য এগুলো নিরাপদ বটে। আমরা যে ধরনের পানি পাই, তাতে ফিল্টার ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই। পৃথিবীতে অসংখ্য সূক্ষ্ম ভাইরাস আছে। কোনো ফিল্টারই এগুলো শতভাগ মারতে পারে না। যতটুকু পরিশোধিত হয়, ততটুকুই নিরাপদ ধরে সাধারণ জীবন যাপন করতে হবে। এমনিতে কলের পানির চেয়ে ফিল্টারগুলো ভালো কাজ করে। ফুটিয়েও সব সময় পানি পান করা সম্ভব নয়। তাই ফিল্টার ব্যবহার করা সুবিধাজনক।’পানি নিরাপদ হোক, জীবন নিরাপদ হোক।
পানি ও ওয়াটার ফিল্টার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৩২১১২২৬৮৬.
drinkcAn এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।