02/03/2026
তখন মনে হয় ফাইভ কিংবা সিক্সে পড়ি আইডিয়াল স্কুলে।
রমজান মাসে স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা চলে। স্কাউটের সদস্য হিসেবে রোযা রেখেই ভলান্টিয়ারি ডিউটি দেই। ডিউটি শেষে এক বক্স খাবার পাই ভাতা হিসেবে, তাতে থাকে আপেল, মিস্টি, সিংগারা প্রভৃতি নাস্তা জাতীয় আইটেম।
১ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার দিন সম্মানীর সিনারিও চেঞ্জ। যেহেতু আইডিয়াল স্কুলে ১ম শ্রেণির ফর্ম সর্বাধিক বিক্রি হয় সেহেতু ঐদিন ভালো মন্দ খাবারের আয়োজন থাকে। রমজান মাস উপলক্ষে ওইদিন দিছে বিরিয়ানীর প্যাকেট৷ ডিউটি শেষে প্যাকেট পেয়ে দেখি সেটা থেকে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমি তো রোযা, কোনভাবেই ভাংগা যাবে না।
বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র সব প্যাকেট খুলেই বিরিয়ানী দিয়ে ইফতার করছে যোহরের টাইমে। কিন্তু আমি তো রোযা, কোনভাবেই ভাংগা যাবে না।
প্যাকেট নিয়ে আসলাম বাসায়। অনেকক্ষণ নফসের সাথে যুদ্ধ চললো। অবশেষে আড়াইটা/তিনটার দিকে বিরিয়ানির ঘ্রানে টিকতে না পেরে রোযা ভেংগেই ফেললাম 😁😁
আমার ৫ বছরের ছেলে ওইদিন রোযা রাখছে (সবাই বলেন মা শা আল্লাহ লা ক্বুওয়াত্বা ইল্লা বিল্লাহ)।। ৩টার দিকে রোযা ভেংগে ফেলবে। বিরিয়ানীর লোভ দিয়ে পটাইলাম। রাজি হইলো। আসরের পরে বিরিয়ানীর প্যাকেট পেয়ে ১৫ মিনিট আগেই সে রোযা ভেংগে ফেলবে 😁😁। বহুৎ পটানোর পরে ইফতার পর্যন্ত বিরিয়ানির প্যাকেট অক্ষত রাখতে সক্ষম হইলাম।।
ইদানিং দেখলাম একটা এপ ডেভলপ করছে কোন মসজিদে বিরিয়ানি দেবে তার লোকেশন নাকি জানানো হবে সেই এপে। পাবলিক ধুমায়া জানাম দিচ্ছে সেই এপের ব্যাপারে। পোলাপান পারে ও!!
পিক ফর এটেনশন।।
ছবিতে ঘি এর ডিব্বা দেখে যদি মনে করেন চামে চিকনে বিরিয়ানির কথা বইলা ঘি এর বিজ্ঞাপন হিসেবে ছবিখানা চালায়া দিলাম তাহলে আপনি ভুল ভাবেন নাই 🤣।
আপনার মস্তিস্ক চাচা চৌধূরীর কম্পিউটারের চাইতেও প্রখর।