18/09/2026
শারমিন আক্তার থেকে শারমিন চাকমা—ভালোবাসার কাছে পরিচয় কি এতটাই ছোট?
একজন মুসলিম পরিবারের মেয়ে শারমিন আক্তার।
ভালোবাসার মানুষ হিসেবে বেছে নিয়েছেন চাকমা সম্প্রদায়ের এক তরুণকে। আজ তারা স্বামী–স্ত্রী, তাদের রয়েছে একটি সন্তান।
কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিয়ে নয়—
আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শারমিন নিজেই।
কারণ, তিনি একজন চাকমা তরুণকে ভালোবেসেছেন।
একজন নারী যখন নিজের পছন্দে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতির কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন, তখন প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
সে কি সুখী?
সে কি নিরাপদ?
তার নিজের সিদ্ধান্তকে কি সম্মান করা হচ্ছে?
শারমিনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন। আমাদের সমাজে আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসম্প্রদায়িক বিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই নানা ধরনের সামাজিক চাপ, আপত্তি ও দ্বৈত মানদণ্ডের কথা শোনা যায়। কিন্তু কোনো একটি সম্প্রদায়ের সব মানুষকে একসঙ্গে দায়ী করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ভালোবাসার কারণে একজন নারীকে অপমান বা আক্রমণ করাও গ্রহণযোগ্য নয়। আর একটা বিষয়ও মনে রাখা দরকার—চাকমা কোনো ব্যক্তির পরিচয়, মুসলিম কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়—কিন্তু ভালোবাসা, পরিবার ও মানবিক সম্পর্ক তার চেয়েও বড় বাস্তবতা। শারমিন যদি নিজের ইচ্ছায়, নিজের পছন্দে এই সংসার বেছে নিয়ে থাকেন, তাহলে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করাই কি আমাদের দায়িত্ব নয়?
আজ তার নাম শারমিন চাকমা—কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত, সে একজন মানুষ। সে একজন স্ত্রী। সে একজন মা। তার সন্তানেরও অধিকার আছে এমন একটি পরিবারে বড় হওয়ার, যেখানে বাবা-মায়ের ভালোবাসাকে সমাজের বিদ্বেষ দিয়ে বিচার করা হবে না। শারমিনকে নিয়ে মত থাকতে পারে—কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপমান করার অধিকার কারও নেই। ভালোবাসা যদি দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিতে একটি পরিবার তৈরি করে, তাহলে আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত—
“তারা কেমন আছে?” “কে কোন সম্প্রদায়ের?”—এটা নয়।
আপনি শারমিনের সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন?
মতামত লিখুন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।