মিসির আলি, আপনি কী খাচ্ছেন?

মিসির আলি, আপনি কী খাচ্ছেন? মিসির আলির খাদ্যগল্পের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

পাঁটাকবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)​রসভরা রসময়, রসের ছাগল।তোমার কারণে আমি, হয়েছি পাগল।।................................
23/09/2026

পাঁটা
কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)

​রসভরা রসময়, রসের ছাগল।
তোমার কারণে আমি, হয়েছি পাগল।।..........................................

ঝাল দিতে কাল যায়, লাল পড়ে গালে।
কাটনা কামাই হয়, বাটনার কালে ॥
ইচ্ছা করে কাঁচা খাই, সমুদয় লয়ে।
হাড়শুদ্ধ গিলে ফেলি, হাড়গিলে হয়ে ॥
মজাদাতা অজা তোর কি লিখিব যশ?
যত চুষি তত খুশি হাড়ে হাড়ে রস ॥
গিলে গিলে ঝোল খায় আস্বাদনহত।
তাদের জীবন বৃথা দাঁতপড়া যত ॥.............................................
হোটেলে বিক্রয় হয় নাম ধরে হ্যাম্।
পচা গন্ধে প্রাণ যায় ড্যাম্ ড্যাম্ ড্যাম্ ॥.............................................
পাত্র হয়ে পাত্র লয়ে তোলে মারি চাটি।
ঝোলমাখা মাস নিয়া চাট করে চাঁটি ॥
টুকি টাকি টুক্ টুক্ মুখে দিই মেটে।
যত পাই তত খাই সাধ নাহি মেটে ॥
ঝোল্যের সহিত দিলে গোটা গোটা আলু।
লক্ লক্ লোলো লোলো জিব হয় লালু ॥
সাবাস সাবাস রে সাবাসী তোরে অজা।
ত্রিভুবনে তোর কাছে কিছু নাই মজা ॥

⭕পুনশ্চঃ
আজ থেকে ২০০ বছর আগে ছাগ মাংসের স্তুতি নিয়ে লেখা উপরের এই মজার এই কবিতাংশটির রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের যুগ সন্ধিক্ষণের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

তবে পাঠকদের উদ্দেশ্যে এই কবিতাংশটি তুলে ধরার একটা কারণ আছে। খেয়াল করে দেখেন ঝোলের সাথে আলু দিয়ে মাংস রান্নার কথা বলা হয়েছে। সময়কাল কবে? ১৮৫৯ সালের আগে অবশ্যই। তার মানে বাঙালির ঘরে প্রচলিত রান্নায় বিদেশি এই সব্জি আলুর চল তখন ছিলো।

উল্লেখ্য যে পর্তুগীজরা ভারতববর্ষকে আলুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেও, বাঙালিদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে ইংরেজরাই, তাও এই ১৮০০ সালের মাঝামাঝি। কবির সৌভাগ্য যে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় মাংসের আলু ঝোল চেখে যেতে পেরেছিলেন।

দানবাকৃতির এক বাঁশের চাঁই প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু নদীর বুকে কালো অন্ধকার নামার। গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যে নামলো। চারদিকে নদীর...
20/09/2026

দানবাকৃতির এক বাঁশের চাঁই প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু নদীর বুকে কালো অন্ধকার নামার। গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যে নামলো। চারদিকে নদীর ঢেউ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। সেই সুরেলা ঢেউয়ের মৃদু শব্দ ভেঙে কর্কশ আওয়াজে এগিয়ে চললো ইঞ্জিনচালিত এক নৌকা। একদল লোক বিশাল সেই চাঁই বিশেষ কায়দায় ফেলে দিলো নদীতে। ১ ফুট ২ ফুট করে নেমে গেলো ৫০ ফুট গভীরে। এভাবে নদীর বিভিন্ন জায়গায় এই বাঁশের চাঁইয়ের ফাঁদ পাতা হলো। কোন জায়গায় চাঁই ফেলা হয়েছে মনে রাখার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের লাইভ লোকেশন সেট করা হলো। এবার অপেক্ষার পালা। ১ ঘন্টা....২ ঘন্টা....৩ ঘন্টা....
টানা ৬ ঘন্টা পর চাঁইগুলো তোলা শুরু হলো। চাঁই ভর্তি হাজার হাজার পাঙাসের পোনা। যেই পোনাগুলো বড় হলে ১০ কেজি, ২০ কেজি, ২০০ কেজির উপরের ওজনেরও হয়ে যেতে পারতো। এই পোনাগুলো হতে পারতো তেল চকচকে গোলাপী ন্যাজার আরাধ্য সেই বিশাল সাইজের নদীর পাঙাস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পাঙাসের পোনা দিয়ে কী করা হবে? উত্তর - বাজারে ট্যাংরা বলে কম দামে বিক্রি হবে। পাঙাসের পোনা দেখতে অনেকটা আমাদের নদীর ট্যাংরার মতই। ট্যাংরা সদৃশ এই পাঙাসের পোনা অসাবধানী ক্রেতার প্লেটে শোভা পাবে। কিংবা শহরের ছোটো বড় হোটেলগুলোতে ট্যাংরা হিসেবে টমেটোর ঝোল আর আলু দিয়ে রান্না হবে। অথচ দুইটা সম্পূর্ণ দুই জাতের মাছ।

⭕পুনশ্চঃ
১/ দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড আর প্রথম আলো তে এ ব্যাপারে দুই তিনবার ফিচার প্রকাশ হয়। বরগুনার বিষখালী-বলেশ্বর-পায়রা মোহনা,বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনা,তেঁতুলিয়া, আঁড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা, বুড়াগৌরাঙ্গসহ অনেক নদীতে এভাবে নির্বিচারে পাঙাসের পোনা নিধন হয়।

২/ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাকেবুল উল ইসলাম এ নিয়ে গবেষণা করেন। স্যাম্পল হিসেবে বিভিন্ন হোটেলের ট্যাংরা নিয়ে গবেষনার পরে উপরের ঘটনার সত্যতা পান।

প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীকে চেনা আছে তো? রন্ধনশাস্ত্রের অনন্যসাধারণ এক বই 'আমিষ ও নিরামিষ আহার' এর রচয়িতা তিনি। শত শত রেসিপিতে...
16/09/2026

প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীকে চেনা আছে তো? রন্ধনশাস্ত্রের অনন্যসাধারণ এক বই 'আমিষ ও নিরামিষ আহার' এর রচয়িতা তিনি। শত শত রেসিপিতে ঠাসা এই কুকবুকের প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে, যা আজো ভোজনরসিক কোটি কোটি বাঙালির রসুইঘরের এক খোরাক।
প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাতিজি। তো, আজ সেই বই থেকেই আপনাদের জন্য নিবেদন করছি ১০০ বছর আগেকার ভাপা ইলিশের রেসিপি।

ভাপা ইলিশ

🟠​উপকরণ : বড় ইলিশ মাছ একটি, নুন প্রায় ১.৫ চা চামচ, সরিষা বাটা ১.৫ চা চামচ, হলুদ বাটা ১ চা চামচ (কেহ কেহ ইহাতে হলুদ দেয় না), কাঁচালঙ্কা তিন-চারিটা, খাঁটি সরিষা তেল ৩ বড় চামচ।

🟠​প্রণালী : এই ভাপাতে গাঁতের অপেক্ষা পেটির মাছ লইবে। বড় করিয়া কাটিবে। মাছে সরিষা বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, হলুদ বাটা (ইচ্ছেমত হলুদ নাও দিতে পার), এবং নুন মাখ। একটি চেপটা বাসনে সাজাইয়া তাহার উপরে সরিষাতেল ছড়াইয়া দাও। শুধু মাছের ভাপা খাইতে চাও তো মাছের উপরে কলাপাতা ঢাকিয়া তাহার উপরে ফেন ঝরাইয়া তখনি সেই গরম ভাত ঢালিয়া দিতে হইবে। এই ভাতের উপরে একখানি বড় গামছা বা থালা ঢাকিয়া দিবে। মিনিট দশ পরে গামছা বা থালা তুলিয়া ভাতগুলি হাঁড়িতে উঠাইয়া ফেল। মাছের উপরের কলাপাতা সরাইয়া এখন উহা খাইতে দাও। ইহাই “শুধু ভাপা”।

​যদি মাছ ভাপার সহিত ভাত খাইতে চাও তো মাছের উপরে আর কলা পাতাখানা ঢাকা দিবে না; ঐ মাছের উপরেই একে বারে ভাত ঢালিয়া দিবে এবং থালা দিয়া ঢাকিয়া দিবে। তারপরে মাছ সিদ্ধ হইয়া গেলে উপরের ভাল ভাত সব উঠাইয়া ফেলিবে; যেগুলিতে তেল হলুদ লাগিবে রাখিয়া দিবে। এখন এই ভাতগুলি সব টানিয়া লইয়া ঐ মাছের উপরেই সাজাইয়া দিবে। এই মাছের তেলে ভাতগুলি পর্যন্ত খাইতে বড়ই রুচিকর হইবে।

ফাইভ স্টার বাদে ঢাকায় আমি প্রথম মিড রেঞ্জের বুফে খাই গুলশান ক্লাবের উল্টোপাশে Flambe তে। তখনো ধানমন্ডিতে ব্যাঙের ছাতার ম...
15/09/2026

ফাইভ স্টার বাদে ঢাকায় আমি প্রথম মিড রেঞ্জের বুফে খাই গুলশান ক্লাবের উল্টোপাশে Flambe তে। তখনো ধানমন্ডিতে ব্যাঙের ছাতার মত বুফে রেস্ট্রন্টগুলো গজিয়ে উঠেনি।
Flambe তে খুবই আরামদায়ক পরিবেশ ছিলো।ভিতরে ছিলো ছোট্ট একটা গার্ডেন।সাউন্ড সিস্টেমে বাজতো মৃদু পিয়ানোর সুর।
কন্টিনেন্টাল কুইজিনের জন্য এটি ছিলো ঢাকার মধ্যে অন্যতম সেরা জায়গা। Kobe Beef এর স্টেক ঢাকায় সর্বপ্রথম আমার জানামতে এরাই আনে। বিশেষ ফেস্টিভ্যালগুলোতে আস্ত রোস্টেড টার্কি ছিলো এদের আরেক আকর্ষণ। স্টিম্ড হোল কোরাল, ফিশ ফিলে, চিকেন স্যাটায়, কয়েকধরনের স্যুপ, লেমন ড্রেসিং দেয়া রিফ্রেশিং সালাদ খেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সাথে সাবকন্টিনেন্টের চেনা জানা খাবার তো আছেই।
খুব বেশি আইটেম হয়ত ছিলোনা, কিন্তু এরেঞ্জমেন্ট ছিলো টপনচ্। তবে এই Flambe এখন আর এক্সিস্ট করে কিনা জানা নেই। আর থাকলেও দাম আর মান কই গিয়ে ঠেকেছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

⭕পুনশ্চঃ মিড রেঞ্জের বুফের রেস্ট্রন্টগুলো এখন গরুর খামার। সব জায়গায় একইরকম টেস্ট। সেইম আইটেম, সেইম সেটাপ। সয়াসস, কেচাপ, কর্ণফ্লাওয়ার আর টেস্টিং সল্টের ওভারডোজ। আর এক কমন দৃশ্য- গরুর মাংসের চ্যাফিং ডিশের সামনে মানুষের হুড়োহুড়ি! যেন জীবনে প্রথম গরুর মাংস গিলছে।

পর্তুগীজরা সর্বপ্রথম বাংলায় আসে ১৫১৭ সালে। তখনও উপমহাদেশে মুঘল শাসন শুরু হয়নি। চট্টগ্রাম ছিলো তখন বাংলার প্রধান বন্দর। ত...
14/09/2026

পর্তুগীজরা সর্বপ্রথম বাংলায় আসে ১৫১৭ সালে। তখনও উপমহাদেশে মুঘল শাসন শুরু হয়নি। চট্টগ্রাম ছিলো তখন বাংলার প্রধান বন্দর। তারা বাংলায় বেশ আয়েশী জীবনযাপন করতো।খাবারদাবারেও ছিলো দারুণ শৌখিন। তখন দাসপ্রথার জনপ্রিয়তা ছিলো তুংগে। তাই স্থানীয় অসংখ্য বাঙালিদের ভৃত্য হিসেবে নিয়োগ দেয় তারা।পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশে বসবাসরত আরাকানী ও মগ জনগোষ্ঠীদের নিয়ে গড়ে তুলে জলদস্যু বাহিনী। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মগ জাতিগোষ্ঠী আরব বনিকদের জাহাজে জাহাজি এবং বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতো৷ তাই বাংলায় পর্তুগীজদের অন্দরমহলে খানসামা কিংবা বাবুর্চি হিসেবে মগ জনগোষ্ঠী ছিলো অটোচয়েস। এই মগ বাবুর্চিগণ পর্তুগীজদের থেকে খুব দ্রুতই অনেক ইউরোপীয় খাবার তৈরির কৌশল রপ্ত করে।

⭕বাঙালি কুইজিনে পর্তুগীজদের থেকে কোন কোন খাবার ঢুকে?

১/ আম, কমলা, লেবু, আদা,টমেটো, আনারস ইত্যাদি দিয়ে টক মিষ্টি চাটনি বানানো শিখিয়ে গিয়েছিলো পর্তুগীজরা।

২/পর্তুগীজরা বেকারিতে খুবই দক্ষ ছিলো।রুটি, কেক কিংবা বিভিন্ন ধরনের পেস্ট্রিকে ফ্লেভারফুল করে উপস্থাপন করতে এরা অসাধারণ পারদর্শী ছিলো। মগ খানসামারা এগুলো বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে ফেলে আর ছড়িয়ে দেয় বাংলা কুইজিনে।

৩/ আলু, টমেটো, মরিচ এগুলোর সাথে বাংলাকে পর্তুগীজরাই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়।

(নিচে আরো লিস্ট দেয়া হলো যেখানে বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে।)

৪/ শুক্তো,পোস্ত, ছেঁচকিতে আলু দেয়া পর্তুগীজ প্রভাবের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

৫/মাছ এবং মাংসের তরকারিতে আলু দেয়া, লাউ চিংড়ির তরকারি কিংবা নারকেলের দুধ দেয়া মালাই কারি,তরকারিতে ঢেঁড়স খাওয়া এসবই পর্তুগীজদের কাছ থেকে শেখা বলে অনেক বর্ণনায় পাওয়া যায়।

৬/ পর্তুগীজ বেকাররাই আটার বদলে ময়দা দিয়ে ফুলকো লুচি বানানো শিখিয়েছিলো বাঙালিদের।

৭/ লেবুর রস কিংবা টক দই এর সাহায্যে দুধ থেকে ছানা বানানোর পদ্ধতি পর্তুগীজরা শিখিয়েছিলো। আর্য সভ্যতার শুরু থেকেই এটি ট্যাবু হিসেবেই ছিলো, তাই কুলীন হিন্দু পন্ডিতদের বারণ থাকায় ঘোষেরা মিষ্টি বানাতে ছানা ব্যবহার করতে পারতোনা, যা পর্তুগীজরা এসে দূর করে।মজার মজার রসগোল্লা,চমচম,ছানা,সন্দেশ, রসমালাই বাঙালি কুইজিনে আজ এত জনপ্রিয়।

৮/ উপরের পদ্ধতিতে গরুর দুধের মোলায়েম চীজ বানাতো পর্তুগীজরা। এই যেমন Bandel Cheese বানানো শেখানোর কারিগর তারাই।

৯/ ব্রেডক্রাম্ব দিয়ে আলুর চপ কিংবা উপমহাদেশীয় স্টাইলে কাটলেট বানানো জনপ্রিয় করে এই পর্তুগীজদের মগ খানসামাগণ।

১০/ ডিম,বাটার,ক্রিম, কাজু বাদাম, কিসমিস, এলাচ, দারুচিনি, জায়ফল, শুকনো ফল দিয়ে বিশালাকার ক্রিসমাস কেক বানানোর দক্ষতা পর্তুগীজ বেকারদের থেকেই বাঙালিরা পেয়েছিলো।

⭕যেসব ফল এবং সবজি যেগুলো পর্তুগীজদের হাত ধরে বাংলায় এসেছে কিংবা জনপ্রিয় হয়েছে

১/কাজুবাদাম (ব্রাজিলের স্থানীয় এই গাছটিকে ভূমিক্ষয় রোধে ভারতবর্ষের দক্ষিণ উপকূলে লাগানো হয়েছিলো)

২/ আনারস (১৫৯৪ সালে ব্রাজিল থেকে বাংলায় আনা হয়)

৩/ পেঁপে (মধ্য আমেরিকায় জন্ম। ফিলিপিন এবং মালয়েশিয়াতে স্প্যানিশরা নিয়ে আসে আর ওইখান থেকে পর্তুগীজরা ভারতবর্ষে নিয়ে আসে)

৪/ চীনাবাদাম (আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় প্রথম চীনাবাদাম আসে। বাংলা নাম চীনাবাদাম থেকে ধারণা করা হয় চীন কিংবা ম্যানিলা থেকে পর্তুগীজরা আমদানি করে।)

৫/ ম্যাংগোস্টিন ফল (মালাক্কা থেকে আমদানি করা হয়)

৬/ মিষ্টি আলু ( আফ্রিকা বা ব্রাজিল থেকে থেকে আনা হয়)

৭/ আলু ( স্প্যানিশরা ১৫৭০ সালে প্রথম ইউরোপে আনে। ১৭৮০ সালে কোলকাতায় ওয়ারেন হেস্টিংস এর সামনে এক ঝুড়ি আলু উপহার হিসেবে আনা হয়। ১৮৩০ সাল নাগাদ হিমালয়ের পাদদেশের অঞ্চলগুলোতে আলু চাষের বিবরণ পাওয়া যায়।১৮৬০ সাল নাগাদ বাংলায় মূলত জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই আলু।)

৮/ টমেটো ( মেক্সিকো বা পেরুতে আবিষ্কৃত এই টমেটো ইংল্যান্ডের ভায়া হয়ে ১৮৫০ সালের দিকে ভারতবর্ষে আসে। তবে কারো কারো মতে টমেটো তারও আগে ১৬০০ সালের দিকে আসে কিন্তু সবজি হিসেবে তখন খাওয়া হতোনা)

৯/ মরিচ (মধ্য আমেরিকান আর এজটেকদের একান্ত নিজস্ব এই মরিচ ইউরোপকে প্রথম চেনান কলম্বাস। এরপর পর্তুগীজরা প্রথম ভারতবর্ষে নিয়ে আসে)

১০/ আতা ফল (দক্ষিণ আমেরিকান এই ফলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে কেপ অব গুড হোপ বা ফিলিপিন হয়ে ভারতবর্ষে পর্তুগীজদের হাত ধরে ঢুকে)

১১/ তামাক (১৬০০ শতকে দক্ষিণ ভারতে প্রথম আনা হয়)

১২/ পেয়ারা ( পেরুর এই ফলটি ১৫৫০ সালে পর্তুগীজরা নিয়ে আসে)

১৩/ ভুট্টা ( ১৭ শ শতকে পর্তুগীজরা প্রথম ভারতবর্ষে নিয়ে আসে)

১৪/ লিচু (চীনের স্থানীয় এই ফলটিকে ১৭শ শতকে বাংলার সাথে পর্তুগীজরা পরিচয় করিয়ে দেয়)

১৫/ চিকু বা সফেদা ফল ( এজটেকদের এই ফল মোজাম্বিক থেকে গোয়াতে আমদানি করা হয়৷ কোনো কোনো সূত্রমতে ফিলিপিন থেকে মালয়েশিয়া এবং মালয়শিয়া থেকে ভারতবর্ষের পূর্ব উপকূলে আনা হয়)

১৬/ ঢেঁড়স ( আফ্রিকা থেকে আরব বণিকদের হাত ধরে ভারতবর্ষে প্রথম এটি এলেও পর্তুগীজরা প্রচুর পরিমাণে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করে সবজি হিসেবে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় করে তোলে।

⭕পুনশ্চঃ তথ্যসূত্র কমেন্টে দেয়া হলো।

তো, সেদিন ইচ্ছে হলো জাতীয় গ্রন্থাগারে বসে একটু বই পড়ি। যাওয়ার পথে শাহবাগের টেনিস ফেডারেশনের পাশে টেনিস ডেন নামে একটা ছোট...
13/09/2026

তো, সেদিন ইচ্ছে হলো জাতীয় গ্রন্থাগারে বসে একটু বই পড়ি। যাওয়ার পথে শাহবাগের টেনিস ফেডারেশনের পাশে টেনিস ডেন নামে একটা ছোট্ট খাবার হোটেল আছে। নিলাম গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি। দুই পিস সন্দেহজনক কাটের গরুর মাংসের পিস, দু খানা আলু আর পাতলা ঝোল। লো গ্রেডের পোলাওয়ের চালের সাথে ভাতের চাল আর ডাল মিশিয়ে রান্না করা খিচুড়ি। ১৫০ টাকা নিলো। মন ভরলোনা।

এরপর দ্বিচক্রযানটি নিয়ে চলে গেলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশনের দিকে। IEB এর উপরে ১৩ তালায় জাতীয় গ্রন্থাগারের রিডিং রুম সাময়িকভাবে প্রতিস্থাপিত। বেশ গোছানো নিরিবিলি পরিবেশ। কিন্তু বইয়ের কালেকশন দেখে হতাশ হলাম। একটা দেশের জাতীয় গ্রন্থাগারের কালেকশন এরকম হতে পারেনা। অনেক বই শেলফে না রেখে টেবিলে স্তুপ করে রাখা।
মুঠোফোনের এই যুগে বই পড়া হয়তবা আদিখ্যেতা, তাই যতটুকু পেরেছে,ঠেসে বুক শেলফে ঢুকিয়েছে। এতটুকুই তো শহুরে বই পড়ুয়া আঁতেলদের জন্য অনেক,তাই না!

সেদিন পেইজের এক পোস্টে একটা 'লাইক' দেখে চমকে উঠেছিলাম। হাশেম সূফী সাহেব মিসির আলির মত নাদান আদমির পোস্টে লাইক দিয়েছেন! হ...
12/09/2026

সেদিন পেইজের এক পোস্টে একটা 'লাইক' দেখে চমকে উঠেছিলাম। হাশেম সূফী সাহেব মিসির আলির মত নাদান আদমির পোস্টে লাইক দিয়েছেন! হ্যাপি মোমেন্ট যাকে বলে। যারা তাকে চিনেন না, তাদের জন্য নিচে লিখছি।

আপনারা হয়তবা খেয়াল করেছেন যে আমি প্রায় লেখাতেই 'ঢাকা পাঁচাস বারাস পেহেলে' নামক একটা বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে থাকি। বইটির মূল লেখক হেকিম হাবিবুর রহমান। ১৮০০ সালের শেষ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেকার সময়ের ঢাকার খাবার দাবার, সংস্কৃতি, পেশা ইত্যাদি নিয়ে লেখা এই বই।

যদি ভুল না করে থাকি ১৯৯৩ সালে উর্দু ভাষায় লিখিত এই বই বাংলায় প্রথম অনুবাদ করেন বিশিষ্ট ঢাকা-গবেষক হাশেম সূফী। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে অগাধ জ্ঞান রাখেন এমন প্রাজ্ঞ জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন। অসম্ভব মেধাবী আর পরিশ্রমী এই লেখক-গবেষকের আজ ৮০ তম জন্মদিন ছিলো।

ধন্যবাদ, হাশেম সূফী সাহেবকে 'ঢাকা পাঁচাস বারাস পেহেলে' এর মত অসামান্য একটি বইকে তিনটি প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

11/09/2026

মিসির আলির প্রথম পডকাস্ট। চাইলে দেখতে পারেন।
Kazi Sajidul Haque-bloodyfoodie এর সাথে দারুণ আড্ডা হলো।

হড়বড় করে অনেক কথা বলেছি৷ সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

11/09/2026

সেই শেষবার। মাঝখানে সকালে উঠে আর খাওয়া হয়নি। এখন আপনাদের কেমন লাগে এই হাজি মাখন?

ঢাকার লালবাগের মদিনা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মত মিষ্টির এত ভ্যারিয়েশন পুরো ঢাকায় খুব কম দেখেছি আমি। দামের মেজাজ মর্জিও চড়া, ...
09/09/2026

ঢাকার লালবাগের মদিনা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মত মিষ্টির এত ভ্যারিয়েশন পুরো ঢাকায় খুব কম দেখেছি আমি। দামের মেজাজ মর্জিও চড়া, হুটহাট আকাশের দিকে রওনা দেয়।

মিষ্টি ৯৯% ই লাইনে আছে, শুধু ময়রা মশাই প্যাকেটের গুড়ো দুধ মারে- এই আর কি! 🙃

ছবিতে সন্ধ্যার নাস্তায় মালাই চপ, জর্দা, দই,পনির সমুচা আর দুধ চা।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মিসির আলি, আপনি কী খাচ্ছেন? posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category