14/08/2026
ঘটনাস্থল: মিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে।
তাদের সম্ভাব্য টার্গেটেড এলাকা: বিবিরহাট ২ নম্বর থেকে বাসস্ট্যান্ড ও ১ নম্বর অবদি।
আজ রিকশাযোগে জুম‘আয় গমনকালে,
হঠাৎ পশ্চাৎদিক থেকে পাঞ্জাবির পকেটে ঘ্যাচাং করে মোবাইলটা হস্তগত করল এই ম্যাডাম।
প্রথমত অবশ্য কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। রিকশা হতে অবতরণের পর এদিক-সেদিক দৃষ্টিপাত করে ভাবছিলাম, মোবাইলটা গেল কোথায়!
কিছুক্ষণ পর দৃষ্টিগোচর হলেন ম্যাডাম। ততক্ষণে তিনি বেশ খানিকটা দূরত্ব অতিক্রম করে ফেলেছেন।
দূরত্বের পরিমাণ দেখে ভাবলাম, ঘটনার ইতিবৃত্ত বোধহয় এখানেই সমাপ্ত।
কিন্তু আল্লাহর কী অপার অনুগ্রহ! মোবাইলটা পকেট থেকে অপসারণের মুহূর্তটি দৃষ্টিগোচর হওয়া, অতঃপর যথাযথ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারা, এ যে নিছক সৌভাগ্য নয়, আল্লাহর বিশেষ করুণাই।
রিকশা হতে যখন অবতরণ করছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক পিচ্চি কন্যা গা ঘেঁষে লুসুর-লুসুর করে সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করে গেছে।
দৃষ্টি যখন অন্যদিকে ব্যস্ত, মাঝখানের অনেক কিছুই তখন নজর এড়িয়ে যায়।
তদ্রূপ, এই সেই দৃষ্টির অন্তরালে থেকে যাওয়া চরিত্র।
ইনিই হচ্ছেন তিনি!
যাই হোক,
অতঃপর গিয়ে ম্যাডামকে আটক করলাম। শুরু হলো যথারীতি খানা-তল্লাশি।
আর অনুসন্ধানের ফলাফল?
মোবাইল মহাশয় সসম্মানে তাঁর নিকট হতেই উদ্ধার!
ভাবা যায়!
উদর হতে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়ে, ঠিকমতো হাঁটা শেখার আগেই, মানুষের পরিধেয় বস্ত্রের পকেটের খোঁজখবর নেওয়ার বিদ্যা আয়ত্ত করে ফেলেছে!
এ বয়সে আমরা কেউ কিছু প্রদান করলে তা যথাযথভাবে গ্রহণ করতেও শিখিনি,
আর ম্যাডাম ইতোমধ্যেই রপ্ত করে ফেলেছেন ঘ্যাচাং বিদ্যা!
এ যে একেবারে ‘কচি বাঁশে ঘুন ধরা।’
বয়স কচি, কিন্তু হস্তক্ষেপ বেশ সেয়ানা!
ঘ্যাচাং বিদ্যায় এমন পারদর্শিতা দেখে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের অভিমুখও ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে! এখন অবশিষ্ট শুধু শিক্ষকতার সূচনা!
‘ধান না হতেই কুঁড়ো, পুত না হতেই বুড়ো।’