10/09/2026
ডাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে!
ভালো কাজের প্রশংসা করার মতো সততা ও উদারতা আমার আছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বলতে দ্বিধা নেই—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষেরও বেশি ইতিহাসে এই ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রম আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে।
এই এক বছরে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করেনি, কাউকে সন্ত্রাসের সুযোগও দেয়নি। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখেছে, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি থেকে দূরে থেকেছে। হলের গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
খাবার, পানি, লাইব্রেরি, কমন রুম, চিকিৎসা, পরিবহন, আবাসন—শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছে। মেয়েদের জন্য আলাদা জিম, স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন, ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিংসহ নানা শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কার্যক্রমও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে একটি বিষয়—ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
মাত্র এক বছরে এতগুলো উদ্যোগ নেওয়া, বাস্তবায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
ডাকসুর ভিপি, জিএসসহ নির্বাচিত সকল নেতা-নেত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। 🌿
আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন, মেধাবী, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও ক্ষুদ্র স্বার্থের বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হলে রাষ্ট্রও এগোবে না।
ডাকসুর গত এক বছরের পথচলা অন্তত একটি আশার জায়গা তৈরি করেছে—শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারলে, নেতৃত্বের ইতিবাচক একটি নতুন মডেল তৈরি করা সম্ভব।
নেতৃত্ব মানে শুধু পদ নয়—
নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব, সততা, কাজ এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। ❤️