01/05/2026
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে কিছু এলিট জাতের গরু আমদানি হয়েছিলো, সেগুলোর দাম শুনে বাঙ্গালীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছিলো।
বর্তমানে মিডিয়াতে খামারীদের একটি চমকপ্রদ খবর ভাইরাল হয়েছে।
ব্রাজিলের এই গাভী ৪.৮ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৫৬ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে। এর প্রতিটি ডিম্বাণুর দাম ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার।
গাভীটির নাম ভিয়াটিনা-১৯ (Viatina-19)। ক্রেতারা মূলত এর ডিএনএ (DNA) পেতে আগ্রহী। গবেষণাগারে এই গাভীর একটি ডিম্বাণুর সঙ্গে একটি উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু মিশ্রিত করা হয়। এরপর তৈরি হওয়া ভ্রূণটি অন্য একটি সাধারণ গাভীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, যা গর্ভধারণের দায়িত্ব পালন করে।
২০২৪ সালের বাজার দর অনুযায়ী, ব্রাজিলের একটি সাধারণ বাছুরের দাম ছিল ৪০৩ ডলার। একই জাতের একটি সাধারণ ষাঁড়ের দাম প্রায় ২,০০০ ডলার। অর্থাৎ, ভিয়াটিনা-১৯-এর একটি ডিম্বাণুর মূল্য ৬০০টি সাধারণ বাছুর বা ১২৫টি সাধারণ ষাঁড়ের সমান।
১,১০১ কেজি (প্রায় ২,৪০০ পাউন্ড) ওজনের ভিয়াটিনা-১৯ তার স্বজাতীয় অন্য গাভীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড়। এটি খুব দ্রুত অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম এবং এই বৈশিষ্ট্যটি সে তার সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়। খামারিরা মূলত এই গুণটির জন্যই অর্থ খরচ করেন। টেক্সাস ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক গবাদি পশু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সে 'মিস দক্ষিণ আমেরিকা' খেতাবও জিতেছে।
সে একটি নেলোর (Nelore) জাতের গাভী; যার গায়ের রঙ সাদা, পিঠে কুঁজ এবং গলায় ঝুলে থাকা চামড়া রয়েছে। ১৮৬৮ সালে ভারত থেকে প্রথম নেলোর গরু ব্রাজিলে নেওয়া হয়। ভারতে হাজার হাজার বছর ধরে এদের প্রচণ্ড তাপ সহ্য করার উপযোগী করে প্রজনন করা হয়েছিল। বর্তমানে ব্রাজিলের ২৩০ মিলিয়ন গবাদি পশুর প্রায় ৮০ শতাংশই নেলোর জাতের।
ভিয়াটিনা-১৯-এর মতো গাভী এককভাবে কেনা কোনো ব্যক্তির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। নেই পেরেইরা নামে একজন ইন্টারনেট নির্বাহী ২০২২ সালে ৮ লক্ষ ডলারে এর ৫০ শতাংশ মালিকানা কেনেন। দুই বছর পর তার সেই অংশের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২.১৫ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তিনটি ব্রাজিলীয় কোম্পানি যৌথভাবে এর মালিক এবং প্রতিটি ডিম্বাণু বিক্রির টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
ভিয়াটিনা-১৯-এর জীবনযাপন কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে কম নয়। তার চারপাশে সবসময় ক্যামেরা থাকে, পাহারায় থাকে সশস্ত্র রক্ষী এবং সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য একজন পশুচিকিৎসক নিয়োজিত আছেন। তার খামারের অদূরেই 'জেনেয়াল' (Geneal) নামে একটি গবেষণাগারে ৫০০টি 'সারোগেট' গাভী রয়েছে, যারা বিভিন্ন চ্যাম্পিয়ন গরুর ক্লোন করা বাছুর বহন করছে। এই ক্লোন করা ভ্রূণগুলোর মধ্যে প্রতি তিনটির একটি শেষ পর্যন্ত জীবিত বাছুর হিসেবে জন্ম নেয়।
২০২৫ সালে ব্রাজিল ১৭ বিলিয়ন ডলারের গরুর মাংস রপ্তানি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ভিয়াটিনা-১৯-এর মতো গবাদি পশুরাই হলো ব্রাজিলের সেই লক্ষ্য ধরে রাখার হাতিয়ার—একটি করে ডিম্বাণুর মাধ্যমে।