09/06/2026
বিপ্লবী যারা একটু পড়ে দেখতে পারেন,,
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর বিভিন্ন সময় হামলা—এগুলো সব সাজানো নাটক ও পরিকল্পনার অংশ বলে আমি মনে করি। বিশেষ কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সরকারের বিশেষ সংশ্লিষ্টতায় জামাতকে ঠেকানোর জন্য এনসিপি নেতাদের হাইপ তোলার উদ্দেশ্যে এ ধরনের হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ হতে পারে বলে আমি মনে করি। এমনকি মাঝে মাঝে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাহেবের বিভিন্ন বক্তব্যও কারো না কারো মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অংশ হিসেবে হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।
বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ এখন জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতকেই ক্ষমতায় আনতে হবে—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু বিশেষ একটি গোষ্ঠী জামাতের এই উত্থান ঠেকাতে চায়। আর উত্থান ঠেকাতে হলে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে অন্য আরেকটি গোষ্ঠীকে সাহায্য করে উপরে তুলে ধরা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই মুহূর্তে অন্য আরেকটি বলতে তাদের হাতে এনসিপি ছাড়া আর কিছু নেই। তাই এনসিপির কিছু কিছু নেতার মাধ্যমে বেশ কৌশলে এগোতে চায় সেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য কিংবা সরকারের সেই গোপন মহলটি।
আর সে কারণেই নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকেই তারা বেছে নিয়েছে, যাতে করে জনগণ সহজেই আবেগপ্রবণ হয় এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তার সভা-সমাবেশগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে। একদিকে দেখা যায় তার সমাবেশের প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়, অন্যদিকে আবার পুলিশ প্রটেকশনে তাকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আবার কখনো দেখা যায় তার গাড়িবহরে হামলা হচ্ছে, কিন্তু জনাব নাসির উদ্দিন সাহেব থাকছেন সুরক্ষিত।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন—এজন্য নয় যে তিনি খুব জামায়াতে ইসলামীকে উপকার করছেন। তিনি মির্জা আব্বাস সাহেবের আসনটিতে জামাতের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার মাধ্যমে একটি ভোটব্যাংক তৈরি করেছেন। তবে তিনি জামাতের পক্ষে কোনো বক্তব্য আজও খুব বেশি দেননি। বরং শুধু মির্জা সাহেবকে বিতর্কিত করা কিংবা মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের চটকদার আলোচনা মাঠে এনে ফিল্ডের নেতাকর্মীদের ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছেন বলে আমার বিশ্বাস। সে কারণে দেখবেন, মাঝে মাঝে তার পোস্টে দুই-একবার প্রকাশ পেয়ে যায় তার মনের আসল ভাবনা।
আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি এবং জামাতের কার্যক্রমকে নিষ্ক্রিয় রাখার জন্য তৎকালীন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকার গণঅধিকার প্রতিষ্ঠা করে এবং নুরুল হক নূরকে বেশ স্পেস দেয়। কখনো জনগণের সামনে নুরুল হক নূরকে আক্রমণ করে, কখনো জামাত-শিবিরের ভোট নিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত করে, আবার কখনো ভিপি নুরুল হক নূরকে শেখ হাসিনার সামনে নিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনাকে ‘মা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ানোর মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্নভাবে খেলেছে।
এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়েছিল যে, এই দেশে একমাত্র ভিপি নুরের দল ছাড়া আর সবাই পঙ্গু। তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ না থাকলে তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। আর জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য ভিপি নুরের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, অনুষ্ঠানে টাকা-পয়সাও সরকার দিত, আবার ডানপন্থী ভাব সাজিয়ে জামাত-শিবির ও অন্যান্য মতাদর্শের মানুষদের তাদের সমাবেশে আকৃষ্ট করে উপস্থিত করানো হতো।
এসব ছিল শুধুমাত্র বিএনপি-জামাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি উপকরণ মাত্র। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। বিএনপি এবং জামাত বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিক দল। তাদেরকে কেউ তখন বাদ দিতে পারেনি।
আজ আবার নতুন করে জামাতকে একঘরে করে দেওয়ার জন্য নতুন নতুন অনেককেই অনেক স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। যে এনসিপি স্বাধীনভাবে নির্বাচন করলে কোনো আসনে ৫০০-এর বেশি ভোট পাবে না, সেই এনসিপিকেই গোপনে শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে—‘তোমরাই সব, তোমাদেরকে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় বানিয়ে দেব।’ আর তাতে করে অনেকে সেই টোপ গিলে ওই পথেই হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে।
ডানপন্থীদের কিছু সমস্যার কথা বলি। আর সে সমস্যা হলো, কেউ একটু ডানপন্থী সাজলেই আমরা মনে করি তিনি ‘আমার পিপল’। আসলে তারা আমার পিপল কি না, সেটা বুঝতে হবে। যেমন আম তারেক, বিকাশ রাশেদ—এরাও এক সময় এমন ভাব তুলত, মনে হতো তাদের চেয়ে বড় জামাতি আর এই দেশে নেই। কিন্তু আজ মুরগির ঝুঁটা নেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন দরজায় দরজায় নক করছে।
আমি বলছি না, এনসিপিকে নিয়ে আমার এখনই এত কথা বলার সময় হয়েছে কি না। তবে এটা সত্য, চোখ খোলা রেখে পথ না চললে সামনে জামাতকে বড় ধরনের হোঁচট খেতে হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এবং সেই হোঁচটটি জামাতের ভালোবাসা নিয়ে তৈরি করা দল কিংবা ব্যক্তিদের মাধ্যমেই আবার জামাতকে ফিরিয়ে দেবে ওই সকল কুচক্রী মহল।
সময় থাকতে সাবধান না হলে, অসময়ে সাধন মিলবে না।
— ড. ফয়জুল হক