05/11/2024
আসসালামু আলাইকুম,
গত মাসের দুই তারিখ হতে অক্টোবর ২৮ তারিখ পর্যন্ত শারীরিক ভাবে আমি অনেক বেশি অসুস্থ ছিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ ২৪ অক্টোবর আমার একটা অপারেশন হয়েছে গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিক নর্দা তে।
একের পর এক ভুল ডোজ হওয়ায় আমার ধকল টা অনেক মর্মান্তিক ছিলো।
এর আগে ওখানে আমার তিনটি সি সেকশন হয়েছিলো,( ওখানে আয়া থেকে শুধু করে ডাক্তারদের ব্যবহার অমায়িক মাশা আল্লাহ)। ওটি শেষে আমাকে কেবিনে আনা হয়, এনেস্থিসিয়ার নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেও আমার জ্ঞান ফিরছিলো না, অক্সিজেন লেবেল কমে আসায় আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়,কোনরকম রেসপন্স না পেয়ে বেশ কয়েকজন ডাক্তার আমার কেবিনে জড় হন। আমার বিপি চেক করা অক্সিজেন মাক্স মুখে দেয়া, হার্ট রেট কমে যাওয়াই ই,সি,জি থেকে বুকের বাম পাশে বারংবার পুশ করছিলো। ডাক্তার আমার হাজবেন্ড কে ডেকে আনেন বলেন ছোট বাচ্চাকে একটু ওর মায়ের কাছে দেন আর দোয়া করতে থাকেন ইনশা আল্লাহ ঠিক হয়ে আসবে।
প্রিয়জন হারানোর ভয়ে সেদিন আমার হাজবেন্ড এর চোখের অশ্রু, ভয়ে আর্তনাদে, দোয়ার মাধ্যমে ঝড়ে যাওয়ার গল্প আয়া খালার কাছ থেকে রিলিজের আগে শুনেছিলাম। বাসায় আসার পর সে আমাকে বলেছিলো আমি খারাপ কিংবা ভালো যাই হই না কেন আমাকে একা রেখে চলে যাওয়ার চিন্তা কোনভাবেই মাথায় আনা যাবেনা নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার দোয়া ফিরিয়ে দিবেন না। এত দ্রুত তোমাকে ছাড়বো আমি, এতটুকু পথ তো হতেই পারেনা, ফোকলা দাতের হাসিতে তোমাকে দেখতে চাই বুড়ো হওয়ার বাকি জীবনটুকু তে।
বিস্তারিত লিখতে চাইনা আর তবে হ্যা অনেকেই আমার জন্য দোয়া করেছেন তাদের দোয়া এবং দয়াময় আল্লাহর দয়ায় আমি একটু একটু করে রেসপন্স করতে থাকি। বাসায় আসার পরে, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক এর ডাক্তার খাইরুল ইসলাম স্যার ইকো সহ অনেক গুলো টেস্ট করে দেখলেন, এক সপ্তাহর জন্য ওষুধ দিয়ে দেন।
আলহামদুলিল্লাহ আমি এখন অনেকটাই সুস্থ তবে শারীরিক ভাবে দূর্বলতা কেটে উঠে নাই পরিপূর্ণভাবে।
যারা আমার পাশে ছিলেন যেভাবেই, দূর বা কাছ থেকে খোজ খবর নিয়েছেন সকলের প্রতি আমার অনেক অনেক দোয়া জাযাকাল্লাহু খইরান, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাদের কে উত্তম প্রতিদান দান করবেন আমিন।
আমার জন্য দোয়া করবেন