01/08/2026
২ আগস্ট জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী ; প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মৃতি সংসদের স্মারকলিপি প্রদান
প্রতিদিনের পাইকগাছা ডেস্ক।।
২ আগস্ট রোববার জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা কর্মসূচি। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন। অন্যদিকে খুবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণ সহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ ১ আগস্ট শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর ৪ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট পাইকগাছা উপজেলার রাডুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি ছিলেন রসায়নের মৌলিক গবেষক, সফল আবিষ্কারক, আদর্শ শিক্ষক, শিল্পোদ্যোক্তা, সাহিত্যিক ও মানবহিতৈষী। ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইটসহ একাধিক রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯০১ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া নিজ গ্রাম রাডুলীতে সমবায় ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় শুধু বিজ্ঞানীই নন, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও সমাজসংস্কারক। দেশের স্বাধীনতা, শিল্পায়ন, কৃষি, শিক্ষা ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে তাঁর চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিতে রাষ্ট্রের উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপির মাধ্যমে পাইকগাছায় নির্মাণাধীন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নাম "বিজ্ঞানী পি. সি. রায় কৃষি ইনস্টিটিউট" রাখা, রাডুলীতে তাঁর ঐতিহাসিক বসতভিটা সংরক্ষণ ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করা, তাঁর জীবনী ও কর্ম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে উন্নীত ও জাতীয়করণ করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
এসময় স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদের সভাপতি ডা. মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর অশোক কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এ. কে. এম. গোলাম আযম, সহ-সভাপতি কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল আলম সরদারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা বুলবুল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর আমির ডা. আসাদুল হক, অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, মাস্টার আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র (পিসি) রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জন্মগ্রহণ এবং ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন পরলোকগমন করেন।